খুঁজুন
                               
, ,
           

গাছে পেঁপে, কৃষকের চোখে লোকসানের পানি

ঝালকাঠি সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
গাছে পেঁপে, কৃষকের চোখে লোকসানের পানি

ঝালকাঠিতে পেঁপের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও ক্ষেত থেকে পাইকাররা কিনতে চাইছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক। ফলে গাছের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। গাছে পেকে ও মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পেঁপে। লোকসান সামলাতে না পেরে কোনো কোনো চাষি গাছ কেটেও ফেলছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ১১৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শাহী জাতসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ করেছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় এবং একই সময়ে বিপুল পরিমাণ পেঁপে বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। এ মৌসুমে জেলায় পেঁপে উৎপাদিত হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই বাজারে দাম কমেছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেঁপের দাম কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক গাছের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে। গাছে পাকা পেঁপে ঝুলে থাকার পাশাপাশি মাটিতে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজার, আড়ত ও পাইকারদের কাছে কম দামে পেঁপে বিক্রি করছেন তাঁরা।

সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে তাঁর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ক্ষেত থেকে পাইকাররা প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনতে চাইছেন। এ দামে বিক্রি করলে শ্রমিকের মজুরি ও ভ্যানভাড়াও উঠবে না। তাই চোখের সামনে পেঁপে নষ্ট হতে দেখলেও তাঁর কিছু করার নেই।

উত্তর বাউকাঠি গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন ছয় বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, দাম এতটাই কম যে ক্ষেতের পরিচর্যা করতেও আর আগ্রহ পান না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পেঁপেগাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হবেন।

কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি করে তাঁকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়ে দুই বিঘা জমির পেঁপেগাছ কেটে ফেলেছেন তিনি। বাকি দেড় বিঘা জমিতে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় সাথি ফসল চাষ করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক, বীজ ও সেচের খরচ। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পেঁপের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

চাষিরা জানান, এলাকায় পেঁপে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বা উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। পচনশীল ফল হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে পেঁপে সংরক্ষণ করাও কঠিন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে বাজারে দাম কম থাকার সময় পেঁপে রেখে পরে বিক্রি করা যেত। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ও লোকসান কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আলম মামুন বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমেছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে পেঁপে চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকে। তাঁদের দাবি, কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বাম্পার ফলনও কৃষকের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

বিশ্ববাজারের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও কমেছে সোনা ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দরে সোনা ও রুপা বিক্রি কার্যকর হয়েছে। বাজুসের জুয়েলারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক সভায় সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৯ হাজার ৪০৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৮ হাজার ৫৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১৫ হাজার ৯২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫ টাকা।

রুপার দামও কমেছে
সোনার পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ২৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১৫ টাকা।

দামের সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাট ও মজুরি
বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। পাশাপাশি অলংকারের নকশা অনুযায়ী বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রযোজ্য হবে।তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সোনা ও রুপার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলংকার তৈরির মজুরি নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

পুরোনো অলংকার কেনা ও বিনিময়ে যে নিয়ম
পুরোনো সোনা বা রুপার অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে। অন্যদিকে, পুরোনো অলংকার কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম জানিয়েছে বাজুস। এ ছাড়া অলংকার বিনিময় কিংবা পুরোনো অলংকার কেনার সময় আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে। তাই সোনা বা রুপার অলংকার কেনার আগে ক্রেতাদের নতুন মূল্যতালিকা, প্রযোজ্য মজুরি এবং ভ্যাটের বিষয়টি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,সন্ধানী বার্তা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক কথোপকথন নজর কেড়েছে। চট্টগ্রাম সফরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অভ্যর্থনা জানাতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এসপি মাসুদ আলমকে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে মাসুদ আলমও ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন। তাঁদের এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের দৃশ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম সফরে যান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বিনিময়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী সামরিক বিমানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। বিমান থেকে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিও নজর কাড়ে। করমর্দনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত’।

এসপি মাসুদকে দেখে প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর
শুভেচ্ছা বিনিময়ের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। এ সময় তাঁর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে এসপি মাসুদ আলম ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সফরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তবে তাঁদের কথোপকথনের বাইরে কোনো বিশেষ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আলোচনায় এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়
মাসুদ আলম এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সে সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আলোচনায় আসে। ২৮তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৬ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে যান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সফরসূচিতে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। চট্টগ্রাম সফরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এসপি মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নজর কাড়ছে পর্যটক ও পথচারীদের। বড় বড় সবুজ পাতার ফাঁকে লম্বা মঞ্জরিতে ফুটে থাকা বেগুনি রঙের ফুলে সেজেছে সড়কের পাশের বনাঞ্চল। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। উদ্ভিদটির নাম কুডজু। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ফুলের দেখা মেলে। শরতের শেষভাগ থেকে শীতের আগমনী সময়ে লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটা বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি কিংবা লালচে-বেগুনি ফুল প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। লাউয়াছড়া ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও মুগ্ধ হচ্ছেন এ ফুলের সৌন্দর্যে।

সড়কের পাশে নজর কাড়ছে কুডজু ফুল
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পথে ব্যাপকভাবে এ ফুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে বছর দুয়েক আগে। এর আগে অনেকের কাছেই উদ্ভিদটি তেমন পরিচিত ছিল না। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে থাকা বেগুনি ফুল সহজেই নজর কাড়ছে। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ধারণ করছেন ভিডিও। বনাঞ্চলের সবুজ পরিবেশের সঙ্গে বেগুনি ফুলের রঙিন সমাহার পথচারীদের জন্য তৈরি করছে মনোরম দৃশ্য।

কুডজু কেমন উদ্ভিদ
বৃক্ষ গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কুডজু শিম বা মটরশুঁটি পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী লতা। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস কিউয়ের ‘প্ল্যান্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড অনলাইন’ তথ্যভান্ডারে এ উদ্ভিদের বিস্তৃতি এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশও এর স্বাভাবিক বিস্তৃতির অন্তর্ভুক্ত।

কুডজুর ফুল সাধারণত লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের পাপড়ি বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি অথবা লালচে-বেগুনি রঙের হতে পারে। ওপরের বড় পাপড়ির গোড়ায় হলুদ অংশও দেখা যায়। শিমজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফুলগুলোর আকৃতি অনেকটা প্রজাপতির মতো। ফুলে সাধারণত মিষ্টি সুবাসও থাকে।

দ্রুত বেড়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়
ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকৃতিবিষয়ক লেখক-গবেষক চয়ন বিকাশ ভদ্রের মতে, কুডজু দ্রুতবর্ধনশীল একটি বহুবর্ষজীবী লতা। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও উপযুক্ত মাটি পেলে এটি দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।

এর কাণ্ড লম্বা ও নমনীয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাণ্ড কিছুটা কাষ্ঠল হয়ে ওঠে। উপযুক্ত পরিবেশে লতাগুলো প্রায় ১০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। মাটির ওপর ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অন্য গাছের কাণ্ড ও বিভিন্ন অবলম্বন আঁকড়ে ধরে ওপরের দিকে উঠে যায়।

কুডজুর পাতা সাধারণত তিনটি প্রশস্ত পত্রক নিয়ে গঠিত। পত্রকগুলো ডিম্বাকার থেকে হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির হতে পারে। ফুল ফোটার পর চ্যাপ্টা শুঁটির মতো ফল তৈরি হয়, যার ভেতরে থাকে বীজ। তবে শুধু বীজ নয়, মাটিতে ছড়িয়ে পড়া কাণ্ড ও শিকড়ের মাধ্যমেও উদ্ভিদটি নতুন জায়গায় বিস্তার লাভ করতে পারে।

উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে পরিবেশগত ঝুঁকি
কুডজুর রয়েছে নানা ব্যবহারিক গুরুত্ব। বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবাদি জমি আচ্ছাদন এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর শিকড় থেকে শ্বেতসারসমৃদ্ধ উপাদান সংগ্রহ করা হয়, যা পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খাবার তৈরি ও ঘন করতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এর লতা থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বস্ত্র, কাগজ ও ঝুড়ি তৈরির নজির রয়েছে।

তবে দ্রুত বিস্তারের কারণে উদ্ভিদটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। ঘন পাতার আচ্ছাদন ছোট গাছ, গুল্ম ও অন্যান্য উদ্ভিদের ওপর সূর্যালোক পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় কুডজুর আচ্ছাদনে থাকলে স্থানীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ উদ্ভিদের ব্যাপক বিস্তারকে এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে বাড়ছে আগ্রহ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা কুডজু ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের বাড়তি আকর্ষণ। সবুজ বনভূমির পাশে বেগুনি ফুলের এই সমাহার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করছে বাড়তি আনন্দ।

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্ভিদটির বিস্তার ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সচেতন থাকা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি