খুঁজুন
                               
, ,
           

উদ্বেগজনক মোড় নিতে পারে ডেঙ্গু

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
উদ্বেগজনক মোড় নিতে পারে ডেঙ্গু

সারা দেশে মশা নিধন কার্যক্রমের দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মোড় নিতে পারে। গত মাসের তুলনায় চলতি জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়েছে।চলতি বছরের মে মাসের ২৫ দিনে যেখানে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬০৯ জন সেখানে জুন মাসের ২৫ দিনে ভর্তি হয় ২ হাজার ৩১৮ জন। এক মাসের ব্যবধানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এডিস মশার বিস্তার এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পাঁচগুণ এবং আগস্টে দশগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার মশা নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত ফগিং বা ধোঁয়া দেওয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের উচিত মশার লার্ভা ধ্বংস করা এবং উৎপত্তিস্থল নির্মূলের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। শুধু যেখানে ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, সেই নির্দিষ্ট স্থানগুলোতেই ফগিং করা উচিত। ঢালাওভাবে ফগিং করে কোনো লাভ হচ্ছে না, অথচ এটিই এখন মশা নিধনের প্রধান পদ্ধতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

গত বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসের ২৫ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৪০০ জন। আর জুন মাসের ২৫ দিনে ভর্তি হয় ৪ হাজার ৫২৫ জন। বৃদ্ধির হার ছিল ২২৩ শতাংশ। আর মে মাসের ২৫ থেকে জুনের ২৫ তারিখ পর্যন্ত এক মাসে ভর্তি হয় ৪ হাজার ৮৯৮ জন। বৃদ্ধির হার ছিল ২৫০ শতাংশ। গত বছর পুরো মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসের রোগী ভর্তি ৬০ শতাংশ রোগী কম। ২০২৫ সালের মে মাসে ভর্তি হয় ১ হাজার ৭৭৩ জন। এবার ভর্তি হয়েছে ৭১৪ জন।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে গত ২৩ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভা হয়েছে। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চলতি মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। করোনার সময়ের মতো সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল মালিক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু কীভাবে প্রতিরোধ করতে হয় তা আমাদের সবারই জানা আছে। এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা যদি মশার বিস্তার আটকাতে না পারি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমানো যাবে না। এখন যেখানে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তা দেখে দেখে সেই সব জায়গা ব্যাপকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এবার এখন পর্যন্ত যা দেখছি সরকার আন্তরিক। সরকারপ্রধান নিজেই এটা নিয়ে কথা বলছেন, কাজ করছেন। এটা ভালো দিক। তবে আমাদের আর বেশি সতর্ক হতে হবে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নগরের সদরঘাট থানায় দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মো.আকতার সর্দার (২৪) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

মো.আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির মো.সাত্তার সর্দারের ছেলে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নগরের সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুর পিতা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।

অভিযুক্ত মো.আকতার সর্দার প্রতিবেশী হওয়ায় প্রায়ই বাসায় যাতায়াত করতো এবং শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো। ২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে গেলে বিকেল দিকে বাসায় একা থাকা শিশুটির কাছে যায় অভিযুক্ত।

এ সময় সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার পর ভয়ভীতির কারণে শিশুটি কাউকে কিছু জানায়নি। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। শিশুটি তখন মাকে জানায়, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের আলামত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুর বাবা মনির হোসেন সদরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বাংলানিউজকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো.আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও বিক্ষোভের বিষয়ে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় দেখেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিকভাবে সবার কথা বলার ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা রয়েছে।

তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সরকারের আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য নেই।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক কারণ দেখিয়ে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রে বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে এবং সাংবিধানিক বিধান অনুসারে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

স্পিকার তা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ) ও দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ভোগ করেন।

দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তবে দায়িত্বের বাইরের কোনো বিষয়ে কেউ অভিযোগ বা বক্তব্য দিলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতির একটি কথিত অডিও রেকর্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তারা শুধু পত্রিকায় দেখেছেন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তিনি বলেন, কোনো পত্রিকা যদি এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে, তাহলে তাদের কাছে কী তথ্যপ্রমাণ আছে, সেটি তাদেরই জিজ্ঞেস করতে হবে। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।

সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে যদি কোনো বিষয় থেকে থাকে, তা সে সময়কার আইন ও বিধি অনুযায়ী বিবেচিত হবে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলো তিনি পাবেন।

তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জন্য আইন অনুযায়ী ছয় মাস পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে। এ সময় তিনি এসএসএফ, পিজিআরসহ নির্ধারিত নিরাপত্তা পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সরকার এক সপ্তাহের বেশি টিকবে না, এক বিরোধী নেতার এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক সপ্তাহ পরে কী হয়, সেটার জন্য অপেক্ষা করি। সব বিষয়ে মন্তব্য করার মতো যোগ্য আমি নই।

রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের চাওয়া তথ্য সরকার দ্রুত পাঠাচ্ছে। প্রথম দফায় ৩০ দিনের মধ্যে যেসব নথি চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো তিন দিনের মধ্যেই পাঠানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আদালত আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। সেগুলোর জবাবও এক-দুদিনের মধ্যে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

জুলাই-আগস্টের ঘটনায় স্নাইপার রাইফেল ও ৭ দশমিক ৬২ ক্যালিবারের গুলি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য দেখে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৬ জুলাই) সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এ সময় দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে সেনাবাহিনী সদর দফতরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল হতে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন তারেক রহমান।  এছাড়াও, তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে সব আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদের।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনানীদের জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি