খুঁজুন
                               
, ,
           

অপ্রতিম হত্যা

হাজিরা খাতায় এখনও আছে অপ্রতিমের নাম, নেই শুধু সে

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হাজিরা খাতায় এখনও আছে অপ্রতিমের নাম, নেই শুধু সে

কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ‘ক’ শাখার শিক্ষার্থী এশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। হাজিরা খাতায় তার নাম এখনও রয়েছে, রোল নম্বর ২৯। তবে আর কোনোদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ডাকবেন না সেই রোল নম্বর। সহপাঠীদের কোলাহলের মাঝেও থাকবে না অপ্রতিমের পরিচিত মুখ। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল অপ্রতিম। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সে স্কুলে এসেছিল। ওই দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবলও খেলেছিল। এরপর শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে।

অপ্রতিমের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানান্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিদ্যালয় খোলার পর যথারীতি হাজিরা নেওয়া হয়। তখন হাজিরা খাতায় অপ্রতিমের নামের পাশে লেখা হয় অনুপস্থিত। কিন্তু সহপাঠীরা জানে, এই অনুপস্থিতি আর কোনোদিন কাটবে না।

অপ্রতিমের সহপাঠী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে বন্ধুর নিখোঁজ হওয়ার খবর দেখে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। তার ভাষ্য, নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলেও তারা একসঙ্গে ফুটবল খেলেছেন। তখন বুঝতে পারেননি সেটিই হবে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের শেষ দেখা।

আরেক সহপাঠী মো. সিয়াম বলেন, অপ্রতিমকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে এসে বুক কেঁপে উঠছে। এত দ্রুত তাকে বিদায় দিতে হবে, তা কখনও ভাবেননি। তার ভাষায়, ক্লাসে অপ্রতিমের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোদিন পূরণ হবে না।

অপ্রতিমের শ্রেণিশিক্ষক মহিবুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবারই সর্বশেষ বিদ্যালয়ে এসেছিল অপ্রতিম। শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর শিক্ষক ও সহপাঠীরা তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সুরতহালকারী এসআই সাইফুল ইসলাম। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।

এদিকে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা রোববার রাতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। প্রিয় সহপাঠীকে হারিয়ে তাই শোকের ভারে নীরব তার স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। হাজিরা খাতায় রোল নম্বর ২৯ থাকলেও সেই বেঞ্চে আর ফিরবে না অপ্রতিম।

কালের আলো/এমএসআইপি 

শতবর্ষে নূরজাহান: শিশুশিল্পী থেকে ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
শতবর্ষে নূরজাহান: শিশুশিল্পী থেকে ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’

একসময় তাঁর কণ্ঠ শুনে পরিবারের একজন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—এই মেয়েই একদিন পরিবারের ভাগ্য বদলে দেবে। কথাটি যে এত দ্রুত সত্যি হবে, তখন হয়তো কেউ ভাবেননি। মাত্র ছয় বছর বয়সে সংগীতের তালিম নেওয়া সেই মেয়েটিই কয়েক বছরের মধ্যে মঞ্চে উঠলেন, শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে এলেন, পরে হয়ে উঠলেন জনপ্রিয় নায়িকা। মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতে এমন সাফল্য পেলেন যে দেশভাগের সময় ভারত ছাড়ার সময় পেছনে রেখে গেলেন প্রতিষ্ঠিত এক তারকার জীবন।

কিন্তু তাঁর গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় তখনো বাকি ছিল।

নতুন দেশ পাকিস্তানে গিয়ে তাঁকে আবার শুরু করতে হয়েছিল। দেশটি তখন নিজস্ব চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলার সংগ্রামে। নূরজাহান সেখানে শুধু গান গাওয়া কিংবা অভিনয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রযোজনা করেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হয়েছেন, পরিচালনায় এসেছেন, নিজের পারিশ্রমিক নিজেই নির্ধারণ করেছেন। পরে অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি মন দেন সংগীতে।

আর সেই সংগীতই তাঁকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’—সুরের রানি।

আজ নূরজাহানের জন্মের ১০০ বছর। ১৯২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের কাসুরে জন্মেছিলেন তিনি। সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী পরবর্তী সময়ে শুধু পাকিস্তানের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ও চলচ্চিত্র ইতিহাসে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন।

ছয় বছর বয়সে সংগীতের হাতেখড়ি

নূরজাহানের জন্ম এমন একটি পরিবারে, যেখানে গান ছিল দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। তাঁর বাবা মাদাদ আলী সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের আরও কয়েকজন নারী মঞ্চে কাজ করতেন। ছোট বয়সেই নূরজাহানের কণ্ঠে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

মাত্র ছয় বছর বয়সে শুরু হয় তাঁর সংগীতের তালিম। পরে কলকাতায় গিয়ে সংগীতের আরও বড় পরিসর পান তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে তখনই পরিচিতি তৈরি হয় ‘বেবি নূরজাহান’ নামে।

মঞ্চ ও চলচ্চিত্র—দুই জায়গাতেই অল্প বয়সে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৩৫ সালের পিন্ড দি কুড়ি চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। এরপর পাঞ্জাবি ও উর্দু চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ বাড়তে থাকে।

যে বয়সে অন্য শিশুরা স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সেই নূরজাহান স্টুডিও, মঞ্চ, রেকর্ডিং ও ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করেছিলেন।

১৯৩৮ সালে গুল বাকাওলি ছবির জন্য গান রেকর্ড করেন তিনি। চলচ্চিত্রের জন্য তাঁর শুরুর দিককার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

মুম্বাইয়ে তারকা হয়ে ওঠা

কলকাতার পর নূরজাহানের ক্যারিয়ার তাঁকে নিয়ে যায় লাহোর ও মুম্বাইয়ে। চল্লিশের দশকে মুম্বাই ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে গিয়ে আর শিশুশিল্পী হিসেবে থেমে থাকেননি তিনি; হয়ে ওঠেন পূর্ণাঙ্গ নায়িকা ও গায়িকা।

১৯৪২ সালের খানদান তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর গানের জনপ্রিয়তাও তাঁকে দ্রুত বড় তারকায় পরিণত করে।

এরপর একে একে আসে জিনাত, আনমোল ঘড়িজুগনু-এর মতো চলচ্চিত্র।

১৯৪৫ সালের জিনাত-এর ‘বুলবুলো মাত রো’ গানটি তাঁকে বিশেষভাবে আলোচনায় নিয়ে আসে। অন্যদিকে আনমোল ঘড়িতে অভিনয় ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি দর্শকের নজর কাড়ে।

১৯৪৭ সালের জুগনুতে দিলীপ কুমারের বিপরীতে অভিনয় তাঁকে তৎকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম সারির নায়িকাদের একজন করে তোলে।

দেশভাগে বদলে গেল জীবন

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলো। লাখ লাখ মানুষের মতো নূরজাহানের জীবনও বদলে গেল রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

স্বামী ও চলচ্চিত্র পরিচালক শওকত হুসেইন রিজভিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান।

তখন পাকিস্তানের নিজস্ব চলচ্চিত্রশিল্প খুবই নবীন। দেশভাগের কারণে শিল্পী, প্রযুক্তিবিদ, প্রযোজক ও অর্থ—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। লাহোরকে চলচ্চিত্রের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চললেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছিল সীমিত।

নূরজাহান সেখানে গিয়ে আবার শুরু করলেন।

তবে এবার তিনি শুধু শিল্পী ছিলেন না। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছিল চলচ্চিত্র কীভাবে তৈরি হয়, তারকা কীভাবে গড়ে ওঠে এবং দর্শকের কাছে একটি চলচ্চিত্রকে কীভাবে পৌঁছে দিতে হয়।

১৯৫১ সালে মুক্তি পায় চানভে। এতে নূরজাহান অভিনয় ও সংগীতের পাশাপাশি পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রথম নারী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।

নায়িকা থেকে কণ্ঠের সম্রাজ্ঞী

চানভে-এর পর দুপাট্টা, পাতে খান, ইন্তেজার, আনারকলিকোয়েল-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নূরজাহান।

তবে পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি বুঝতে শুরু করেন, পর্দায় অভিনয়ের চেয়ে তাঁর কণ্ঠের জন্য মানুষের অপেক্ষা বেশি। শেষ পর্যন্ত অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি সংগীতে মন দেন।

১৯৫৯ সালের পর তাঁর অভিনয়জীবন কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন মূলত প্লেব্যাক ও গজলশিল্পী।

নায়িকার ঠোঁটে গান থাকলেও দর্শকের কাছে সেই গানের আবেগকে আলাদা মাত্রা দিত নূরজাহানের কণ্ঠ। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠই হয়ে ওঠে পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

নিজের পারিশ্রমিক নিজেই ঠিক করতেন

নূরজাহানের ব্যক্তিত্বের একটি দিক ছিল তাঁর আত্মবিশ্বাস। পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে যখন অনেক গায়িকা একটি গানের জন্য প্রায় ৩৫০ রুপি পারিশ্রমিক পেতেন, নূরজাহান দাবি করতেন প্রায় ২ হাজার রুপি।

অর্থাৎ অন্যদের তুলনায় তাঁর পারিশ্রমিক ছিল কয়েক গুণ বেশি।

তাঁর কাছে এটি শুধু জনপ্রিয়তার বিষয় ছিল না; নিজের শিল্পের মূল্য সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট ছিলেন। তিনি জানতেন, একটি চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠ দর্শক টানার অন্যতম কারণ হতে পারে।

নিজের স্টুডিও ও কাজের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা অন্য সহকর্মী—কাজের জায়গায় নিজের অবস্থান নিয়ে আপস করতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না তিনি।

ব্যক্তিজীবনেও ছিল নানা বাঁক

নূরজাহানের ব্যক্তিজীবনও ছিল ঘটনাবহুল।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্র পরিচালক শওকত হুসেইন রিজভিকে বিয়ে করেন তিনি। দুজনের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কও জড়িয়ে ছিল। তাঁদের সংসারে সন্তান আসে। পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

১৯৫৯ সালে অভিনেতা এজাজ দুররানিকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন নূরজাহান। এরপর তাঁর অভিনয়জীবনও শেষের দিকে চলে আসে।

তবে পর্দা থেকে সরে গেলেও সংগীত থেকে সরে যাননি তিনি। বরং এরপরই তাঁর কণ্ঠ আরও স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়।

ছয় সন্তানের মা হয়েও নিজের পেশাগত পরিচয়কে আলাদা করে রেখেছিলেন নূরজাহান। পরিবার ও কাজ—দুটিই নিজের মতো করে সামলানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

ফয়েজের কবিতা, নূরজাহানের কণ্ঠ

নূরজাহানের কণ্ঠের বড় শক্তি ছিল শুধু সুর নয়, শব্দের আবেগও তুলে ধরতে পারা। এ কারণেই কবিদের সঙ্গে তাঁর কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের ‘মুঝসে পেহলি সি মোহাব্বত’ তাঁর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পেয়েছিল। প্রেম, হতাশা ও সামাজিক বোধ—সবকিছুই তাঁর গায়কিতে আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল।

প্রেমের গান, বিরহ, গজল, লোকগীতি কিংবা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক গান—বিভিন্ন ধারায় নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন নূরজাহান।

যুদ্ধের সময় কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল জাতীয় আবেগের প্রতীক

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় নূরজাহানের কণ্ঠ নতুন এক ভূমিকা নেয়। রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান দিয়ে তিনি পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে যুদ্ধকালীন আবেগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ভূমিকা পালন করেন।

সেই সময় তাঁর গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সংগীত-ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

নূরজাহানের কণ্ঠ তখন আর শুধু চলচ্চিত্রের নায়িকার কণ্ঠ ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল জাতীয় আবেগ প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

লতা মঙ্গেশকরের আদর্শ

ভারত ও পাকিস্তানের সংগীত ইতিহাসে নূরজাহান ও লতা মঙ্গেশকরের নাম প্রায় পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে।

দুজনকে নিয়ে বহুবার তুলনা হলেও নূরজাহানের প্রতি লতা মঙ্গেশকরের শ্রদ্ধা ছিল প্রকাশ্য। লতা জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকে নূরজাহানের গান শুনে তিনি বড় হয়েছেন এবং নূরজাহান তাঁর আদর্শ ছিলেন।

দেশভাগের পর দুই শিল্পীর ক্যারিয়ার দুই দেশে আলাদা পথে এগোলেও একজনের শিল্প অন্যজনের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থেকেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ফেরেন

দেশভাগের কয়েক দশক পর ১৯৮২ সালে ভারতে গিয়েছিলেন নূরজাহান। এটি ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য সীমান্তপারের সফরগুলোর একটি।

তত দিনে পাকিস্তানে তিনি কিংবদন্তি। কিন্তু ভারতে তাঁর পুরোনো শ্রোতাদের স্মৃতিও তখনো অমলিন ছিল।

যে মুম্বাই একসময় তাঁকে তারকা বানিয়েছিল, যে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল সময় কাটিয়েছিলেন, কয়েক দশক পর সেই ভূখণ্ডে ফিরলেন তিনি অন্য পরিচয়ে—পাকিস্তানের ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’ হিসেবে।

প্রায় ১০ হাজার গানের কিংবদন্তি

নূরজাহানের মোট গানের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। কোথাও কয়েক হাজার, আবার কোথাও প্রায় ১০ হাজার গানের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানি সরকারি সূত্রেও প্রায় ১০ হাজার গানের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও তাঁর কণ্ঠের ব্যাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন নেই। উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি।

তাঁর বিশেষত্ব ছিল—তিনি শুধু গান গাইতেন না, গানের চরিত্র ও আবেগকেও নিজের কণ্ঠে ধারণ করতেন। এ কারণেই তাঁর বহু পুরোনো গান আজও নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে ফিরে আসে।

শেষ পর্যন্ত সংগীতের সঙ্গেই

জীবনের শেষ দশকেও সংগীত থেকে দূরে যাননি নূরজাহান। ১৯৯৬ সালে তাঁর শেষ রেকর্ডিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে।

অর্থাৎ ছয় বছর বয়সে যে সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল, জীবনের শেষ অধ্যায় পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।

২০০০ সালের ২৩ ডিসেম্বর করাচিতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নূরজাহান। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

একজন সংগীতশিল্পীর পরিবারের ছোট্ট মেয়ে থেকে শিশুশিল্পী, সেখান থেকে মুম্বাইয়ের নায়িকা; দেশভাগে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত; নতুন দেশে গিয়ে আবার নিজের সাম্রাজ্য তৈরি—নূরজাহানের জীবন যেন নিজেই একটি দীর্ঘ চলচ্চিত্র।

তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার কোনো একটি চলচ্চিত্র বা গান নয়। তাঁর কণ্ঠ, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সময়ের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার গল্পই তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

আজ জন্মের শতবর্ষে তাই নূরজাহান শুধু একটি নাম নন—তিনি উপমহাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রের এক দীর্ঘ ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক।

কালের আলো /এসএ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্প’: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্প’: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি।

তিনি বলেছেন, চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ‘কম্পন’ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন শেখ মোহাম্মদ। রোববার কাতার ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের আহ্বান

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না।

তাঁর ভাষায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে সংঘাতের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, কোনো রাষ্ট্রকে যদি দীর্ঘ সময় ধরে অনিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়, তাহলে কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। উত্তেজনার উৎসগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

জ্বালানি ও নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ

চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও পরে তা জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও বিনিয়োগের মতো অর্থনৈতিক বিষয়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

তাঁর মতে, এসব বিষয় আলাদা নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে পরস্পর সম্পর্কিত।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, সংকটের সময় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও বিনিয়োগের প্রশ্নে গিয়ে ঠেকে। এত কিছু যখন ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করা যায়—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

‘উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র’ এড়ানোর আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে উত্তেজনা বাড়ানোর চক্র থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সামরিক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বরং সংঘাতের উৎসগুলো সমাধান করা এবং দেশগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ভিত্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সংকটের সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, দেশটি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেন শেখ মোহাম্মদ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরুর চেষ্টা

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেসব বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

সূত্র: আল–জাজিরা

কালের আলো/এসএ

‘কাহিনি এখনো বাকি’ দিয়ে আলোচনায় মৌমিতা বড়ুয়া

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
‘কাহিনি এখনো বাকি’ দিয়ে আলোচনায় মৌমিতা বড়ুয়া

১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে কণ্ঠশিল্পী মৌমিতা বড়ুয়ার নতুন গান ‘কাহিনি এখনো বাকি’। নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া আর সেই সময়ের সংগীতের আবহকে সামনে রেখে তৈরি গানটির সুর ও মেজাজে স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে শাহরুখ খান–কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’-এর প্রভাব।

আসিফ জাহাঙ্গীর পরিচালিত ওয়েব সিনেমা ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর জন্য গানটি তৈরি করা হয়েছে। গানটির সুর করেছেন সৈয়দ নাফিস। মৌমিতা বড়ুয়ার সঙ্গে এতে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। গানটি প্রকাশের পর থেকেই নব্বইয়ের দশকের গান ও বলিউডের সেই সময়ের আবহে বেড়ে ওঠা শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।

বাবার ডায়েরিতে জমে থাকা গান

মৌমিতা বড়ুয়ার সংগীতজীবনের শুরুটা পরিবারের হাত ধরেই। তাঁর বাবা ত্রিদিব বড়ুয়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। ফলে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মৌমিতা ও তাঁর ছোট বোন।

বাবার হাতে লেখা গানের ডায়েরিই ছিল তাঁদের গানের খাতা। সেই ডায়েরিতে থাকা পুরোনো সিনেমার গান গাইতে গাইতেই ছোটবেলায় সংগীতের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত হন মৌমিতা।

বিশেষ করে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার গানগুলোর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও বাবার ডায়েরির মাধ্যমে। মৌমিতা বলেন, সিনেমাটি মুক্তির সময় হয়তো তাঁর জন্মই হয়নি। কিন্তু বাবার ডায়েরিতে গানগুলো পাওয়া যেত এবং ছোটবেলায় তিনি ও তাঁর বোন সেসব গান গাইতেন।

শাহরুখ খান ও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছিল তাঁর বাবা-মায়েরও পছন্দের। ফলে নব্বইয়ের দশকের শাহরুখের সিনেমা ও গান তাঁদের পারিবারিক স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

‘সেরাকণ্ঠ’ থেকে সংগীতের পথচলা

ছোটবেলা থেকেই পরিবারের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও আত্মীয়দের কাছ থেকেও সংগীতচর্চায় উৎসাহ পেয়েছেন মৌমিতা। বাবার কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। পরে সুব্রত দাস ও পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন তিনি।

২০১৭ সালে রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’-এ অংশ নিয়ে বড় পরিসরে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পান মৌমিতা। তাঁর ভাষায়, প্রতিযোগিতাটিতে বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে নিজেকে একজন ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন সেখানে।

ওয়েব সিরিজের গানেও পরিচিতি

রিয়েলিটি শোর পর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতাঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন মৌমিতা। ২০২৪ সালে জাহিদ প্রীতমের ওয়েব সিরিজ ‘ফ্রেঞ্জি’-এর ‘প্রেমের মতোন লাগে’ গানটি তাঁকে শ্রোতাদের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে।

এরপর বিভিন্ন ধরনের গান নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এ বছর ‘কর্ণফুলী দুলি দুলি’সহ একাধিক গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি বিশেষভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে জানান মৌমিতা।

গানটির প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি মানুষের জমি, ঘরবাড়ি ও ঠিকানা হারানোর যে অভিজ্ঞতা, তা সমতলের মানুষের পক্ষে পুরোপুরি অনুভব করা কঠিন। সেই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই গানটি তৈরি করা হয়েছে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের শেষদিকের কাজেও কণ্ঠ

প্রয়াত গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘একটি ছেলে’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা। গানটির সুর করেছেন অপু আমান। মৌমিতা জানান, মৃত্যুর আগে গাজী মাজহারুল আনোয়ার যে কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন, গানটি তার একটি। এমনকি তাঁকে সামনে বসিয়েই গানটির কথা লিখেছিলেন তিনি।

গানটির রেকর্ডিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই এটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ ইকবালের লেখা ও কুমার বিশ্বজিতের সুরে ‘তোমায় রেখেছিলাম এগিয়ে’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন মৌমিতা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ‘মেঘের দেখা’। গানটির কথা লিখেছেন সৈয়দ নাফিস এবং সুর করেছেন মিঠুন চক্র।

সংগীতের পথেই এগোতে চান

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মৌমিতা বড়ুয়ার বক্তব্যও বেশ সরল। সংগীতকে নিজের ইচ্ছামতো কোনো নির্দিষ্ট পথে পরিচালনা করার চেয়ে সংগীত যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

তাঁর কথায়, ‘মিউজিককে কখনো আমার হাত ধরে হাঁটাই না। আমি মিউজিকের হাত ধরে হাঁটি।’ ভবিষ্যতে ঠিক কী করবেন, সেটি এখনই নির্দিষ্ট করে বলতে চান না এই শিল্পী।

গান গাওয়ার পাশাপাশি শিশুদের সংগীত শেখান মৌমিতা। তাঁর কাছে এটিও সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে গান শেখা কয়েকজন শিশু যদি তাঁকে তাদের সংগীতজীবনের শুরুর মানুষ হিসেবে মনে রাখে, সেটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি।

চট্টগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মৌমিতা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। সংগীতের পাশাপাশি শিশুদের গান শেখানো এবং নতুন নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে তাঁর পথচলা। ‘কাহিনি এখনো বাকি’ সেই যাত্রায় যোগ করেছে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিমাখা এক নতুন অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ