কর্মীদের বাড়ি ও ভাড়া ঘরেই চলছে রাজারহাটের ডাকঘর
একসময় গ্রামের মানুষের খবর আদান-প্রদানের অন্যতম ভরসা ছিল ডাকঘর। সময়ের পরিবর্তনে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমেছে, তবে সরকারি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের ভূমিকা এখনো রয়েছে। অথচ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার অনেক শাখা ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই। কোথাও কর্মীদের ব্যক্তিগত বাড়িতে, আবার কোথাও ভাড়া করা ঘরে চলছে ডাকসেবার কার্যক্রম।
নিজস্ব ভবন না থাকায় ডাক বিভাগের কর্মীদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। কোথাও কর্মীরা মিলে ঘর ভাড়া নিয়েছেন, আবার কোথাও ব্যক্তিগত জমিতে ডাকঘর চালু থাকলেও ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি শাখা ডাকঘরের কর্মীরা সবাই মিলে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রত্যেকে মাসে ১০০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা ভাড়া দেন। অফিসের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনার জন্যও তাঁরা নিজেদের পকেট থেকে প্রায় সাত হাজার টাকা ব্যয় করেছেন।
ডাংরারহাট পোস্ট অফিসের চিত্রও প্রায় একই। ইডিএ জোৎস্না আক্তার জানান, আগে বাজারে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ডাকঘরের কার্যক্রম চালানো হতো। এর জন্য মাসে ৬০০ টাকা ভাড়া নিজেদের অর্থে পরিশোধ করতে হতো। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁর বাড়িতেই চলছে পোস্ট অফিসটি। সেখানে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন মো. পেয়ারুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী।
জোৎস্না আক্তার বলেন, ‘আগে সিমেন্টের দোকানের পাশে অফিস ছিল। প্রতিদিন ট্রাক আসা-যাওয়া করত। তাই বাড়িতে পোস্ট অফিস করেছি। পোস্ট অফিসের জন্য আমার শ্বশুর তিন শতাংশ জমি দিয়েছেন। কিন্তু অফিসের ভবনের জন্য কোনো বাজেট এখনো হয়নি।’
এদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাকঘরের সেবার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় ব্যক্তিগত চিঠির জন্য ডাকঘরে মানুষের আনাগোনা থাকলেও এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ইডিডিএ মোজাফফর হোসেন বলেন, আগের মতো মানুষ আর চিঠি লেখেন না। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা কমেছে। তবে ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত চিঠি এখন বেশি আসে।
রাজারহাট উপজেলা ডাকঘরে পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিনসহ চারজন কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে নাজিমখান সাব পোস্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন পোস্টমাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম ও একজন পোস্টম্যান।
শাখা পোস্ট অফিসগুলোর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিন বলেন, ‘আমার দায়িত্ব শুধু হিসাব গ্রহণ করা। এর বাইরে শাখা অফিস সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে লালমনিরহাট প্রধান ডাকঘরের পোস্ট অফিস পরিদর্শক ও রাজারহাট উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসের পরিদর্শক মোকলেছুর রহমান জানান, শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। অফিসের জমি ও ভবনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘এ বছর দক্ষিণাঞ্চলে বাজেট হয়েছে। হয়তো পরবর্তী বছর উত্তরাঞ্চলে বাজেট আসবে। বাজেট আসলেই ভবনের কাজ শুরু করা হবে।’
একসময় গ্রামের মানুষের খবর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল যে ডাকঘর, সেই ডাকঘরেরই অনেক শাখার এখন স্থায়ী ঠিকানা নেই। কর্মীদের ব্যক্তিগত বাড়ি ও ভাড়া করা ঘরে চলছে সরকারি সেবা। যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছে, কমেছে চিঠির ব্যবহার; কিন্তু মানুষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি নথি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এখনো রয়ে গেছে। এ অবস্থায় রাজারহাটের শাখা ডাকঘরগুলো কবে নিজস্ব ভবন পাবে, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]