খুঁজুন
                               
, ,
           

কর্মীদের বাড়ি ও ভাড়া ঘরেই চলছে রাজারহাটের ডাকঘর

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
কর্মীদের বাড়ি ও ভাড়া ঘরেই চলছে রাজারহাটের ডাকঘর

একসময় গ্রামের মানুষের খবর আদান-প্রদানের অন্যতম ভরসা ছিল ডাকঘর। সময়ের পরিবর্তনে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমেছে, তবে সরকারি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের ভূমিকা এখনো রয়েছে। অথচ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার অনেক শাখা ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই। কোথাও কর্মীদের ব্যক্তিগত বাড়িতে, আবার কোথাও ভাড়া করা ঘরে চলছে ডাকসেবার কার্যক্রম।

নিজস্ব ভবন না থাকায় ডাক বিভাগের কর্মীদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। কোথাও কর্মীরা মিলে ঘর ভাড়া নিয়েছেন, আবার কোথাও ব্যক্তিগত জমিতে ডাকঘর চালু থাকলেও ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ মেলেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি শাখা ডাকঘরের কর্মীরা সবাই মিলে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রত্যেকে মাসে ১০০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা ভাড়া দেন। অফিসের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনার জন্যও তাঁরা নিজেদের পকেট থেকে প্রায় সাত হাজার টাকা ব্যয় করেছেন।

ডাংরারহাট পোস্ট অফিসের চিত্রও প্রায় একই। ইডিএ জোৎস্না আক্তার জানান, আগে বাজারে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ডাকঘরের কার্যক্রম চালানো হতো। এর জন্য মাসে ৬০০ টাকা ভাড়া নিজেদের অর্থে পরিশোধ করতে হতো। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁর বাড়িতেই চলছে পোস্ট অফিসটি। সেখানে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন মো. পেয়ারুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী।

জোৎস্না আক্তার বলেন, ‘আগে সিমেন্টের দোকানের পাশে অফিস ছিল। প্রতিদিন ট্রাক আসা-যাওয়া করত। তাই বাড়িতে পোস্ট অফিস করেছি। পোস্ট অফিসের জন্য আমার শ্বশুর তিন শতাংশ জমি দিয়েছেন। কিন্তু অফিসের ভবনের জন্য কোনো বাজেট এখনো হয়নি।’

এদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাকঘরের সেবার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় ব্যক্তিগত চিঠির জন্য ডাকঘরে মানুষের আনাগোনা থাকলেও এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ইডিডিএ মোজাফফর হোসেন বলেন, আগের মতো মানুষ আর চিঠি লেখেন না। ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা কমেছে। তবে ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত চিঠি এখন বেশি আসে।

রাজারহাট উপজেলা ডাকঘরে পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিনসহ চারজন কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে নাজিমখান সাব পোস্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন পোস্টমাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম ও একজন পোস্টম্যান।

শাখা পোস্ট অফিসগুলোর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিন বলেন, ‘আমার দায়িত্ব শুধু হিসাব গ্রহণ করা। এর বাইরে শাখা অফিস সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট প্রধান ডাকঘরের পোস্ট অফিস পরিদর্শক ও রাজারহাট উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসের পরিদর্শক মোকলেছুর রহমান জানান, শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। অফিসের জমি ও ভবনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘এ বছর দক্ষিণাঞ্চলে বাজেট হয়েছে। হয়তো পরবর্তী বছর উত্তরাঞ্চলে বাজেট আসবে। বাজেট আসলেই ভবনের কাজ শুরু করা হবে।’

একসময় গ্রামের মানুষের খবর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল যে ডাকঘর, সেই ডাকঘরেরই অনেক শাখার এখন স্থায়ী ঠিকানা নেই। কর্মীদের ব্যক্তিগত বাড়ি ও ভাড়া করা ঘরে চলছে সরকারি সেবা। যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছে, কমেছে চিঠির ব্যবহার; কিন্তু মানুষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি নথি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এখনো রয়ে গেছে। এ অবস্থায় রাজারহাটের শাখা ডাকঘরগুলো কবে নিজস্ব ভবন পাবে, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভয়াবহ ভিড়, কলকাতায় ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভয়াবহ ভিড়, কলকাতায় ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় জমে। এ সময় ভিড়ের চাপে পদদলনের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল সরু। ঘটনার পর উদ্ধারকাজে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে তথ্য জানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১৮০০-৩৪৫-৫৬৭৮ এবং ০৩৩-২২১৪১৩১০ নম্বরে হেল্পলাইন চালু রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

১২ বছর ধরে শিকলে বন্দি বকুল, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই পরিবারের

নওগাঁ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
১২ বছর ধরে শিকলে বন্দি বকুল, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই পরিবারের

নওগাঁর আত্রাইয়ে বকুল শাখিদার (১৮) নামের এক তরুণের জীবন কাটছে শিকলে বাঁধা অবস্থায়। পরিবারের দাবি, মানসিক বিকাশজনিত সমস্যার কারণে প্রায় ১২ বছর ধরে বাড়ির পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে তাকে। দরিদ্রতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তার চিকিৎসা। সন্তানের এমন দুর্দশায় অসহায় হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। বকুলের উন্নত চিকিৎসা ও শিকলমুক্ত স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।

বকুল উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বামনি গ্রামের দিনমজুর আতিকুল শাখিদারের ছেলে।

বকুলের মা ববিতা বিবি জানান, বকুল তাঁদের প্রথম সন্তান। প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে নৌকাযোগে তাঁকে আত্রাই হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই নৌকার মধ্যে বকুলের জন্ম হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চলাফেরা ও আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এরপর রাজশাহীতে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে প্রসবের সময় মাথায় চাপ লাগার কারণে এমন সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক বছর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।

ববিতা বিবি বলেন, ধারদেনা করে এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন বছর বকুলের চিকিৎসা করিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পরে আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকুলের আচরণেও পরিবর্তন আসে। ছয় বছর বয়সের পর থেকে সে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করত এবং মানুষের সঙ্গে অসংগত আচরণ করত। কখনো কখনো লোকজনের মারধরের শিকারও হয়েছে সে।

পরিবারের দাবি, এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন সকালে বাড়ির পাশের সড়কের ধারে একটি আমগাছের সঙ্গে বকুলকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেখানেই তাকে সকাল ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয় বলে জানান তার মা। তাঁর ভাষ্য, সকালে বকুল ঘুম থেকে ওঠার আগেই পায়ে শিকল পরিয়ে দিতে হয়, না হলে সে দৌড়ে চলে যায়।

ছেলের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে ববিতা বিবি বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টি, শীত—সবই আমার সন্তানের গায়ে লাগে। ঘরের ভেতর থেকে ছেলের এমন অবস্থা দেখতে হয়। বুকের কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারি না। আমি চাই, আমার সন্তান যেন চিকিৎসা পায় এবং শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পায়।’

বকুলের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও নাজুক। বাড়িতে তাঁদের জমি বলতে মাত্র আড়াই শতক জায়গা রয়েছে। বকুলের বাবা অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। বকুলসহ তাঁদের তিন সন্তান। দিনমজুরির সামান্য আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। ফলে বকুলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

ববিতা বিবি জানান, ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই বকুলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আবেদন পেলে খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হবে।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সড়ক পেরিয়েও উন্নয়নের আলো পৌঁছায়নি কুরুকপাতায়

বান্দরবান সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
সড়ক পেরিয়েও উন্নয়নের আলো পৌঁছায়নি কুরুকপাতায়

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হলেও মানুষের মৌলিক নাগরিক সুবিধার সংকট কাটেনি। বিদ্যুৎ, উন্নত চিকিৎসাসেবা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের। জরুরি রোগীকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে নিতে হয়। অন্যদিকে, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন জুমচাষিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুরুকপাতা বাজার ও পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের পরও বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে ইউনিয়নটি। সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হয় কুপির আলোয়। কিছু পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেককে এখনো কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্থানীয় খামলাই ম্রো বলেন, ‘সড়ক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক এখনো পৌঁছায়নি। কিছু ঘরে সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভর করতে হয়।’

স্বাস্থ্যসেবার সংকটও প্রকট। স্থানীয় বাসিন্দা মেনদন ম্রো ও পোয়ামুহুরীর অঞ্জনা ত্রিপুরা জানান, রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। চিকিৎসকের কাছে যেতে কিংবা সাধারণ পরীক্ষা করাতে অনেক সময় সারাদিন লেগে যায়। জন্মনিবন্ধনের মতো নাগরিক সেবা নিতে যাতায়াতেই একটি পরিবারের এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে কুরুকপাতা। ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার পাশাপাশি সরকারি সেবা গ্রহণেও সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, কুরুকপাতা ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১১ হাজার ২১৬। পাহাড়ের ১৪২টি পাড়ায় প্রধানত ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও সমস্যা হচ্ছে। কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আলীকদম সদর এলাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিষদের প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম বাধা জমি ও বনাঞ্চলসংক্রান্ত জটিলতা। ১৮৮০ সালে মাতামুহুরী নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট’ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশিত হলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা ও আইনি অবস্থানের কারণে স্থায়ী ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে জটিলতা রয়েছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, ‘রিজার্ভ ফরেস্টের কারণে বন বিভাগের আপত্তিতে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণে আইনি জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

ইউএনও আরও জানান, কুরুকপাতায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের পরও কুরুকপাতার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে। বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণের আইনি জটিলতা নিরসন না হলে পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটানো কঠিন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি