খুঁজুন
                               
, ,
           

সড়ক পেরিয়েও উন্নয়নের আলো পৌঁছায়নি কুরুকপাতায়

বান্দরবান সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
সড়ক পেরিয়েও উন্নয়নের আলো পৌঁছায়নি কুরুকপাতায়

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হলেও মানুষের মৌলিক নাগরিক সুবিধার সংকট কাটেনি। বিদ্যুৎ, উন্নত চিকিৎসাসেবা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের। জরুরি রোগীকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে নিতে হয়। অন্যদিকে, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন জুমচাষিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুরুকপাতা বাজার ও পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের পরও বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে ইউনিয়নটি। সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হয় কুপির আলোয়। কিছু পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেককে এখনো কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্থানীয় খামলাই ম্রো বলেন, ‘সড়ক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক এখনো পৌঁছায়নি। কিছু ঘরে সৌরবিদ্যুৎ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভর করতে হয়।’

স্বাস্থ্যসেবার সংকটও প্রকট। স্থানীয় বাসিন্দা মেনদন ম্রো ও পোয়ামুহুরীর অঞ্জনা ত্রিপুরা জানান, রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। চিকিৎসকের কাছে যেতে কিংবা সাধারণ পরীক্ষা করাতে অনেক সময় সারাদিন লেগে যায়। জন্মনিবন্ধনের মতো নাগরিক সেবা নিতে যাতায়াতেই একটি পরিবারের এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে কুরুকপাতা। ইউনিয়নে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। পর্যাপ্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার পাশাপাশি সরকারি সেবা গ্রহণেও সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, কুরুকপাতা ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১১ হাজার ২১৬। পাহাড়ের ১৪২টি পাড়ায় প্রধানত ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও সমস্যা হচ্ছে। কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আলীকদম সদর এলাকায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিষদের প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম বাধা জমি ও বনাঞ্চলসংক্রান্ত জটিলতা। ১৮৮০ সালে মাতামুহুরী নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট’ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশিত হলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা ও আইনি অবস্থানের কারণে স্থায়ী ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে জটিলতা রয়েছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, ‘রিজার্ভ ফরেস্টের কারণে বন বিভাগের আপত্তিতে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণে আইনি জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

ইউএনও আরও জানান, কুরুকপাতায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের পরও কুরুকপাতার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে। বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণের আইনি জটিলতা নিরসন না হলে পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটানো কঠিন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভয়াবহ ভিড়, কলকাতায় ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভয়াবহ ভিড়, কলকাতায় ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় জমে। এ সময় ভিড়ের চাপে পদদলনের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল সরু। ঘটনার পর উদ্ধারকাজে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে তথ্য জানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১৮০০-৩৪৫-৫৬৭৮ এবং ০৩৩-২২১৪১৩১০ নম্বরে হেল্পলাইন চালু রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

১২ বছর ধরে শিকলে বন্দি বকুল, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই পরিবারের

নওগাঁ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
১২ বছর ধরে শিকলে বন্দি বকুল, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই পরিবারের

নওগাঁর আত্রাইয়ে বকুল শাখিদার (১৮) নামের এক তরুণের জীবন কাটছে শিকলে বাঁধা অবস্থায়। পরিবারের দাবি, মানসিক বিকাশজনিত সমস্যার কারণে প্রায় ১২ বছর ধরে বাড়ির পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে তাকে। দরিদ্রতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তার চিকিৎসা। সন্তানের এমন দুর্দশায় অসহায় হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। বকুলের উন্নত চিকিৎসা ও শিকলমুক্ত স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।

বকুল উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বামনি গ্রামের দিনমজুর আতিকুল শাখিদারের ছেলে।

বকুলের মা ববিতা বিবি জানান, বকুল তাঁদের প্রথম সন্তান। প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে নৌকাযোগে তাঁকে আত্রাই হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই নৌকার মধ্যে বকুলের জন্ম হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চলাফেরা ও আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এরপর রাজশাহীতে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে প্রসবের সময় মাথায় চাপ লাগার কারণে এমন সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক বছর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।

ববিতা বিবি বলেন, ধারদেনা করে এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় তিন বছর বকুলের চিকিৎসা করিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পরে আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকুলের আচরণেও পরিবর্তন আসে। ছয় বছর বয়সের পর থেকে সে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করত এবং মানুষের সঙ্গে অসংগত আচরণ করত। কখনো কখনো লোকজনের মারধরের শিকারও হয়েছে সে।

পরিবারের দাবি, এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন সকালে বাড়ির পাশের সড়কের ধারে একটি আমগাছের সঙ্গে বকুলকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেখানেই তাকে সকাল ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয় বলে জানান তার মা। তাঁর ভাষ্য, সকালে বকুল ঘুম থেকে ওঠার আগেই পায়ে শিকল পরিয়ে দিতে হয়, না হলে সে দৌড়ে চলে যায়।

ছেলের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে ববিতা বিবি বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টি, শীত—সবই আমার সন্তানের গায়ে লাগে। ঘরের ভেতর থেকে ছেলের এমন অবস্থা দেখতে হয়। বুকের কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারি না। আমি চাই, আমার সন্তান যেন চিকিৎসা পায় এবং শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পায়।’

বকুলের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও নাজুক। বাড়িতে তাঁদের জমি বলতে মাত্র আড়াই শতক জায়গা রয়েছে। বকুলের বাবা অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। বকুলসহ তাঁদের তিন সন্তান। দিনমজুরির সামান্য আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। ফলে বকুলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

ববিতা বিবি জানান, ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই বকুলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আবেদন পেলে খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হবে।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দুর্গাপূজার শিক্ষা ধারণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার তাগিদ ড. মঈন খানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজার শিক্ষা ধারণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার তাগিদ ড. মঈন খানের

দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা ধারণ করে সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য বজায় রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

  • নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান মন্ত্রীর
  • নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বারোপ

মন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্গাপূজার ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি ন্যায়বিচার, মানবিকতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য হলো—ধর্মীয় উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনে নয়; বরং উৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত। তিনি নারায়ণগঞ্জের পাটশিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিচয় ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বও সামনে এনেছেন।

সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা
দুর্গাপূজাকে শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার বৃহত্তর সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বানে মন্ত্রী ধর্মীয় উৎসবের শিক্ষাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন। দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ‘পৃথিবীতে চিরন্তন দ্বন্দ্ব চলছে সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে। দুর্গাপূজার শিক্ষা হলো মিথ্যাকে অতিক্রম করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায়কে পরাজিত করা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই শিক্ষা ধারণ করতে পারলেই পূজা উদযাপন সার্থক হবে।’

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দুর্গাপূজার প্রতীকী তাৎপর্যকে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। দেবী দুর্গার পৌরাণিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দেবী দুর্গা অসুরকে দমন করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দুর্গাপূজার এই শিক্ষা ধারণ করে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান
নারায়ণগঞ্জের মতো ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান শুধু সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নয়, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্মিলিত অগ্রগতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে। এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

পাটশিল্পের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পাটশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নারায়ণগঞ্জ ছিল এই শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ অটুট রাখতে হবে।’

পূজা আয়োজকদের ধন্যবাদ, উৎসবের সাফল্য কামনা
পূজা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে