খুঁজুন
                               
, ,
           

লটারিতে বদলি, দক্ষতা দেখে পদায়ন ঢাকায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
লটারিতে বদলি, দক্ষতা দেখে পদায়ন ঢাকায়

ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হলেও কর্মকর্তাদের দক্ষতা, কাজের ধরন এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকায় কাজের চাপ বেশি, তাই দক্ষতাকে গুরুত্ব

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজের চাপ সমান নয়। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে তুলনামূলক বেশি চাপ থাকে। ফলে লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৩১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কাজের চাপ বিবেচনা করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজের চাপ বেশি। তাই লটারিতে যেসব কর্মকর্তার নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ ও বেশি কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

লটারির মাধ্যমে বদলি, ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে লটারির এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োগ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়াটি কেবল শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও এভাবে সমস্যার সমাধানের পথ বের করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো না কোনো জায়গা থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। সেই শুরুটি তারা করেছেন এবং এটি পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, লটারিতে যাদের নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজের ধরন ও চাপ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে লটারির কারণে কোনো অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

ঢাকায় আগে দায়িত্ব পালন

সীমান্তের বেড়ায় বিপন্ন গারো পাহাড়ের হাতিরা

শেরপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তের বেড়ায় বিপন্ন গারো পাহাড়ের হাতিরা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর পানিহাটা সীমান্তে গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে খাবার ও পানির সন্ধানে বেরিয়ে আসছে বন্য হাতির দল। ছোট-বড় মিলিয়ে একেক দলে দেখা মিলছে বহু হাতির। কেউ কাদাপানিতে শরীর ভেজাচ্ছে, কেউ শুঁড় দিয়ে পানি তুলছে, আবার মা হাতির পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে শাবক। দূর থেকে দৃশ্যটি শান্ত মনে হলেও এসব হাতির জীবন এখন নানা ঝুঁকিতে ঘেরা।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এ বনাঞ্চলে প্রায় ১৩০ থেকে ১৩৫টি বন্য হাতি আটকে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় যেসব হাতি দুই দেশের বনভূমিতে নিয়মিত যাতায়াত করত, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও গেট নির্মাণের কারণে তাদের চলাচল এখন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশে বনভূমি সংকুচিত হওয়া, খাবারের অভাব এবং কৃষিজমি ও বসতি বাড়তে থাকায় হাতিরা লোকালয়ে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে। এতে মানুষ ও হাতি—উভয়ের জন্যই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা।

জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে শেরপুর হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথ রয়েছে। এসব পথ ধরে একসময় বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বনাঞ্চলে যাতায়াত করত হাতির দল। সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে তাদের চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং নদী বা ছড়া পার হওয়ার ১১টি পথ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেঘালয় অংশের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া ও গেট নির্মাণের ফলে হাতির চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হাতির পুরোনো বিচরণক্ষেত্রের কিছু এলাকায় কাজুবাদামের চাষ শুরু হওয়ায় খাবার সংগ্রহের জায়গাও কমেছে। ফলে বাংলাদেশে প্রবেশের পর অনেক হাতির পক্ষে আগের পথে ভারতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এ অঞ্চলে ৫০টির মতো হাতির বিচরণ ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু হাতির সংখ্যা বাড়লেও তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাবারের জোগান একই অনুপাতে বাড়েনি। একটি এশীয় হাতির প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার প্রয়োজন হয়। বিপুল পরিমাণ খাবার ও পানি সংগ্রহের জন্য হাতিকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে খাবার ও পানির সংকট দেখা দিলে হাতিরা জঙ্গল ছেড়ে ফসলের মাঠ ও লোকালয়ে চলে আসে। শুষ্ক মৌসুমে এ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।

পানিহাটা সীমান্তের বনেও হাতির দলকে আকাশমণি গাছের বাকল খেতে দেখা গেছে। বনের ভেতরে ছোট ছোট নালায় পানি থাকলেও খাবারের সংকট স্পষ্ট। বনাঞ্চলের ভেতরে ও আশপাশে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ এবং মানুষের বসতি বাড়ায় হাতির বিচরণের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বন্য হাতির আগমন স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের আঁধারে হাতির দল ধানক্ষেত ও অন্যান্য ফসলের জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে। কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়িঘরও। কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এক রাতেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা জমির চারপাশে তারের বেড়া দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শেরপুরের এক কৃষক জানান, হাতির হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য তিনি জমির চারপাশে বৈদ্যুতিক তার বসিয়েছেন। হাতি এলে বিদ্যুতের শক খেয়ে সরে যায় বলে তার ধারণা। অন্য কৃষকেরাও হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালান, পটকা ফোটান কিংবা চিৎকার করে ভয় দেখান। কখনো হাতির দলকে তাড়াতে ধারালো অস্ত্র নিয়েও জড়ো হন স্থানীয় লোকজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। ফসল রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষের পাশাপাশি বন্য প্রাণীর জীবনও বিপন্ন হচ্ছে।

হাতির চলাচলের পথ বন্ধ হওয়া ও বনভূমি সংকুচিত হওয়ার প্রভাব পড়ছে মানুষ ও প্রাণী—উভয়ের ওপর। লোকালয়ে ঢুকে হাতি ফসল নষ্ট করছে, বাড়িঘর ভাঙছে; অন্যদিকে মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদ ও হামলায় হাতির মৃত্যু হচ্ছে। কখনো হাতির আক্রমণেও প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো কারণ রয়েছে। মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে এসব দল। তবে শুধু হাতি তাড়ানো কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

গবেষকদের মতে, হাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে হলে হাতির আবাসস্থল রক্ষা, বনের ভেতরে খাবার ও পানির জোগান বাড়ানো এবং নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদ বন্ধ, ফসল রক্ষায় নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাতির আগমন সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন। বনাঞ্চল ও হাতির বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশের প্রবণতা কমতে পারে। এতে কৃষকের ফসল ও বসতবাড়ি রক্ষার পাশাপাশি হাতির জীবনও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

সীমান্তে আটকে পড়া হাতির সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি ভারতের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথগুলো আবারও উন্মুক্ত করা হবে, যাতে প্রাণীগুলো দুই দেশের বনাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের পক্ষ থেকে উদ্যোগ না নেওয়া হলে এ সংকটের সমাধান কঠিন হবে। দুই দেশের মধ্যে বাঘের চলাচলের উদাহরণ টেনে তিনি হাতির ক্ষেত্রেও সীমান্তের পথ উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। গারো পাহাড়ের হাতিরা শুধু বাংলাদেশের বনাঞ্চলের প্রাণী নয়; তাদের জীবনযাত্রা ও বিচরণ দুই দেশের বনভূমির সঙ্গে যুক্ত। তাই সীমান্তের পথ বন্ধ রেখে কিংবা শুধু বাংলাদেশের ভেতরে তাদের আটকে রেখে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাতির নিরাপদ চলাচলের পথ পুনরায় চালু করা এবং বাংলাদেশ অংশের বনভূমিকে তাদের জন্য উপযোগী করে তুলতে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাপান সফরে রয়েছেন।

আইজিপির বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার সঙ্গে যুক্ত করলেন তথ্য উপদেষ্টা। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অন্যায়ের পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তার মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষ কখনোই পছন্দ করে না। যারা এমন অপকর্ম করেন, তারা সমাজে চূড়ান্তভাবে নিন্দিত হবেন এবং তাদের এই কর্মকাণ্ডের পক্ষে কোনো সমর্থন পাওয়া যাবে না।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সরকারের অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি এ ধরনের আচরণকে অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন। একই ব্রিফিংয়ে আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা জানানো হয়। তবে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

শীতের আগেই অতিথি পাখির মেলায় মুখর চলনবিল

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
শীতের আগেই অতিথি পাখির মেলায় মুখর চলনবিল

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনাজুড়ে বিস্তৃত চলনবিলে আসতে শুরু করেছে হাজারো অতিথি পাখি। বিলের অল্প পানিতে সাদা বক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক ও শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছে জলাভূমি। সারাদিন পানিতে খাবার খোঁজার পর সন্ধ্যা নামলে ঝাঁক বেঁধে গাছের ডালে আশ্রয় নিচ্ছে তারা। পাখিদের ডানা ঝাপটানো, উড়ে বেড়ানো আর কোলাহলে মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে চলনবিলজুড়ে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলনবিলের বিভিন্ন অংশে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চোখে পড়ছে অতিথি পাখির আনাগোনা। বিশেষ করে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে পাখিদের বিচরণ প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে চলনবিল। এর বড় একটি অংশ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অবস্থিত। বিলের নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশ এবং সিংড়া-বারুহাস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কের আশপাশে দেখা যাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি।

কাকডাকা ভোরে দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে বের হয় পাখিরা। অল্প পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরা, জলাশয়ের ওপর দিয়ে ডানা মেলে উড়ে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে গাছের ডালে বসার দৃশ্য বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। সাদা বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল ও বালিহাঁসের পাশাপাশি দেখা মিলছে নাম না জানা বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরও। শীতের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই পাখিদের এমন উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ তৈরি করেছে। তবে পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শিকারিদের তৎপরতা ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলনবিলের পাখিদের মধ্যে সাদা বক কৃষকের উপকারী বন্ধু হিসেবে পরিচিত। মাগুড়া গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম ও তাজপুর গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, এ বছর বিলে অতিথি পাখির সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। সাদা বক ও শামুকখোলের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে।কৃষকদের ভাষ্য, জমিতে হালচাষের সময় সাদা বক দল বেঁধে কৃষকের পেছনে পেছনে ঘোরে। এ সময় মাটি থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলের উপকার করে পাখিগুলো। ফলে পাখির উপস্থিতি শুধু বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, কৃষিকাজেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, তারা চলনবিলের পাখি শিকার করতে দেন না। পাখি ও প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা থেকেই এসব প্রাণী রক্ষায় সচেতন থাকার চেষ্টা করেন তারা। অতিথি পাখির আগমনে চলনবিল প্রাণবন্ত হয়ে উঠলেও কিছু শিকারির তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে পরিবেশবাদীদের। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলে আসে। তাদের বিচরণে জলাভূমিতে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে কিছু অসাধু শিকারি ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করে বলে জানান তিনি। পাখি শিকার বন্ধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংগঠনটির সদস্যরা ২০১২ সাল থেকে কাজ করছেন। তারা শিকারের ঘটনা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। চলনবিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনও তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি