দিগন্তজোড়া সবুজ ধানখেত, সমৃদ্ধির স্বপ্ন কৃষকের
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যতদূর চোখ যায়, দেখা মিলছে দিগন্তজোড়া আমন ধানখেত। মৃদু বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের শীষ। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সবুজ ধানে ভরে উঠেছে। কৃষকদের দাবি, রোপণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হলে এবার গতবারের তুলনায় ফলন বাড়তে পারে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন।
পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক মরম আলী ও সাজু মিয়া জানান, তারা এক একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এবার ধানের অবস্থা ভালো। গতবারের তুলনায় বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ মণ বেশি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ধান বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের ঋণ পরিশোধের প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
আমন ধান কমলগঞ্জের কৃষকদের অন্যতম প্রধান মৌসুমি ফসল। এ ফসলের ওপর অনেক কৃষক পরিবারের সারা বছরের আয়-রোজগার ও খাদ্যচাহিদা নির্ভরশীল। তাই রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা করে সময়মতো ঘরে তোলাই এখন কৃষকদের প্রধান লক্ষ্য।
তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকদের একটি অংশ। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি ধান ক্রয় এবং উপজেলা পর্যায়ে হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, এ বছর আমনের বাম্পার ফলন উপজেলার কৃষিতে নতুন গতি আনবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মাঠজুড়ে বেড়ে ওঠা সবুজ ধানের শীষ এখন কৃষকের ঘরে সমৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্যভাণ্ডারে নতুন আশার বার্তা বয়ে আনছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array