খুঁজুন
                               
, ,
           

দিগন্তজোড়া সবুজ ধানখেত, সমৃদ্ধির স্বপ্ন কৃষকের

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
দিগন্তজোড়া সবুজ ধানখেত, সমৃদ্ধির স্বপ্ন কৃষকের

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যতদূর চোখ যায়, দেখা মিলছে দিগন্তজোড়া আমন ধানখেত। মৃদু বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের শীষ। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সবুজ ধানে ভরে উঠেছে। কৃষকদের দাবি, রোপণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হলে এবার গতবারের তুলনায় ফলন বাড়তে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন।

পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক মরম আলী ও সাজু মিয়া জানান, তারা এক একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এবার ধানের অবস্থা ভালো। গতবারের তুলনায় বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ মণ বেশি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ধান বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের ঋণ পরিশোধের প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

আমন ধান কমলগঞ্জের কৃষকদের অন্যতম প্রধান মৌসুমি ফসল। এ ফসলের ওপর অনেক কৃষক পরিবারের সারা বছরের আয়-রোজগার ও খাদ্যচাহিদা নির্ভরশীল। তাই রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা করে সময়মতো ঘরে তোলাই এখন কৃষকদের প্রধান লক্ষ্য।

তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকদের একটি অংশ। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি ধান ক্রয় এবং উপজেলা পর্যায়ে হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, এ বছর আমনের বাম্পার ফলন উপজেলার কৃষিতে নতুন গতি আনবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মাঠজুড়ে বেড়ে ওঠা সবুজ ধানের শীষ এখন কৃষকের ঘরে সমৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্যভাণ্ডারে নতুন আশার বার্তা বয়ে আনছে।

সরকারি খরচে হজ ও মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি খরচে হজ ও মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

সরকারি খরচে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশের মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামালের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রমও ছিল।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, জনবল, বাজেট, দপ্তর-সংস্থার ভিশন ও মিশন, উল্লেখযোগ্য অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অবহিত করা হয়।

আলোচনা শেষে কমিটির সদস্যরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেন। এর মধ্যে দেশের মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া সরকারি খরচে যেসব ব্যক্তি হজে যান, তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

সাধারণ মানুষের সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল ও মিশনে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত বদলিরও সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মো. জাহিদুর রহমান, নুরুল আমিন, সুবর্ণা সিকদার, মো. নুরুল আমীন, মোহাম্মদ আবুল হাসান ও মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক অংশ নেন।

এ সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাংলা একাডেমির জন্য তৈরি হলো মুদ্রণ উপযোগী ইউনিকোড ফন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
বাংলা একাডেমির জন্য তৈরি হলো মুদ্রণ উপযোগী ইউনিকোড ফন্ট

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে তৈরি করা ইউনিকোড ‘বাংলা একাডেমি’ ফন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের কাছে ফন্টটি হস্তান্তর করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বাংলা একাডেমি বই ও পত্রিকা প্রকাশে ফন্টটি ব্যবহার করেছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ফন্টটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাকে একটি নেতৃস্থানীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং ওয়েব, মোবাইল ও কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দুই যুগের বেশি সময় ধরে কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ব্যবহৃত হলেও ইউনিকোড মান অনুসরণের পরও এনকোডিং, ভাষাগত ও ভিজ্যুয়াল নানা সমস্যা রয়ে গেছে। বিদ্যমান বাংলা ইউনিকোড ফন্ট বিশ্লেষণ করে এসব সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের মাধ্যমে ‘বাংলা একাডেমি’ ফন্টটি তৈরি করা হয়েছে।

ফন্টটিতে বাংলা ও ইংরেজি বর্ণের সম-আকৃতি, উপযুক্ত বিরামচিহ্ন, য-ফলা ও র-ফলা ব্যবহারের সুবিধা, স্বয়ংক্রিয় পৃষ্ঠা নম্বর, বুলেট ও ফুটনোট, শিশু উপযোগী যুক্তবর্ণসহ মুদ্রণ ও ডিজিটাল প্রকাশনার বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোসফট অফিস ও অ্যাডোবির পেশাদার প্রকাশনা সফটওয়্যারে ব্যবহারের উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ফন্টটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বের দিক থেকে কোনো বাধা তৈরি করা হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এর উন্নয়নকাজ চলছে এবং ব্যবহারের সময় তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোও সমাধান করা হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডাকে রাষ্ট্রপতির অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডাকে রাষ্ট্রপতির অনুরোধ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে কানাডার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ অনুরোধ জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি কানাডার দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কানাডার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি। এ বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তিনি কানাডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, তথ্যপ্রযুক্তি ও আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন খাতে কানাডার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাইকমিশনার জানান, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডার কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিসও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি