খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

বাংলাদেশে একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত চার দিনে অন্তত ৬ দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মনে কাজ করছে বড় ধরনের আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন এই ছোট ছোট কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।

সোমবার (২২ জুন) ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ। এই ঘটনা আবারও দেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তিও দীর্ঘদিন ধরে জমা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে অতীতে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ১৭৬২ সালের গ্রেট আরাকান ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫। ১৮৯৭ সালে আসামে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এছাড়া ১৯১৮ সালে সিলেট এবং ১৯৩০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা রয়েছে।

চলতি বছরে দেশে আরও কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিত ধারাবাহিক কম্পন নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে পুরোপুরি ‘লকড’ বা আটকে আছে। কোনো স্লিপ বা ছোটখাটো মুভমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এই শক্তি অবমুক্ত হচ্ছে না। শক্তি বের না হয়ে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকাটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ঙ্কর অবস্থা। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশ নিজে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা না হলেও, এই লকড কন্ডিশনের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাই এখানে যখনই কোনো বড় ভাঙন হবে, তা প্রলয়ঙ্করী রূপ নেবে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে ভূগর্ভে শক্তি জমা হয়েছে। এই শক্তি একবারে বা ধাপে ধাপে বের হয়ে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল। বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং দুর্বল ভবন বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জানিয়েছে, নির্মাণবিধি না মেনে তৈরি হওয়া অনেক ভবন ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এর পেছনের কারণ হিসেবে বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জরুরি সেবার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এর জন্য দরকার বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, সিসমিক ম্যাপিং, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা ইত্যাদি। এ এমন এক বিপর্যয় যা মোকাবিলা করা কঠিন। কিন্তু কিছু জরুরি বিষয় আছে যেগুলো অনুসরণে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা এড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা।  ঢাকার অধিকাংশ ভবন রাজউক ও সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী নির্মিত নয়। এর ফলে এসব ভবন বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হলে সহজেই ধসে পড়বে। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও অনেক ভবন সহ্য করতে পারবে না। ফলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় অনেক পুরনো ভবন রয়েছে, যেগুলোর নির্মাণকাল অনেক আগের। এ ধরনের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনে অত্যন্ত অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং কোনো শক্তিশালী কম্পনে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেশি। আমাদের দেশের ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতার অভাবও ব্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জিল্লুর রহমান বলেন, মিয়ানমান বা নেপালের মতো অত বেশি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি আমাদের নেই। ওদের ওখানে সর্বশেষ ১৯৪৬ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে ৮০ বছরের মধ্যে সেখানে আবারো বড় ভূমিকম্প হয়ে গেল। আমাদের এখানে কিন্তু সর্বশেষ ১৯১৮ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। এক শ’ বছরের বেশি হয়ে গেছে। এখানে দেড় শ’ বা ২০০ বছর পরপর ওই ধরনের ভূমিকম্প হয়। সে হিসাবে আমরাও ঝুকির মধ্যে আছি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ও মাঝারি ভূকম্পনে বড় শক্তি বের হওয়ার একটা প্রবণতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তার মানে, যেকোনো সময় একটি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বড়মাত্রার ভূকম্পন হলে কি ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে যদি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে সারা দেশে ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে। ১১ লাখ ৯ হাজার পাকা ভবন, ২১ লাখ ১৪ হাজার সেমিপাকা স্থাপনা, ৪০২টি খাদ্যগুদাম, ১৪টি গ্যাসফিল্ড, ১৯৫টি হাসপাতাল। এক হাজার আটটি কল্যাণকেন্দ্র, দুই হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয়, এক হাজার ৯০০ মাদ্রাসা, ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয় হাজার ৮০০ পুলিশ স্টেশন, এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, সাত হাজার ৪০০ কিলোমিটার স্থানীয় সড়ক, ২০ হাজার ব্রিজ, এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে যে ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে তাও স্বীকার করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৯ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইসকাফ সিরাপ ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে বিশেষ মাদকবিরোধী টিম, মতিহার থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মঙ্গলবার রাতে এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মতিহার থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের ছেলে সাগর আলী, মোয়াজ্জেম আলীর ছেলে রাজিব আলী এবং মৃত সাঈদের ছেলে শিহাব আলী। এ মামলার পলাতক আসামি হলেন মতিহার থানাধীন চরসাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাহার আলীর ছেলে কামরুল ইসলাম এবং ইব্রাহিম আলী।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মতিহার থানার জাহাজঘাট-দাশমারী এলাকা থেকে সাগর আলীকে এবং চরসাতবাড়িয়া এলাকা থেকে রাজিব আলী ও শিহাব আলীকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুই আসামির বাড়িতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আসামিদের দেহ তল্লাশি এবং পলাতক আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৯ বোতল ভারতীয় ইসকাফ সিরাপ ও তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আরএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

অনিয়মিত পথে ইউরোপ যেতে ইচ্ছুক ১৭০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটযোগে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন এই ১৭০ বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথ খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া বক্তৃতায় এই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন অবস্থান করছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। আমরা প্রতিদিন অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছি।’

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে এ বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের (যাদের ভোটার আইডি, আধার কার্ড ও অন্যান্য বৈধ নথি রয়েছে) উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের, তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন, চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই রাজ্য সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত।’

যারা স্বেচ্ছায় ভারত ছাড়তে চান, হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেক অভিবাসী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়েছেন। যারা স্বেচ্ছায় যেতে চান, তারা যেতে পারেন।’

বিজেপি সরকারের এই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে তারের বেড়া নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মাত্র দেড় মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধীকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের চালু করা “শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং নির্বাসন” নীতির অংশ হিসেবে নথিপত্রহীন মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে পুশইন ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে গভীর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মূলত, বিজেপি সরকার রাজ্যের নথিপত্রহীন মুসলিম অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। এই অভিযানটি শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলমানদের একাংশের মধ্যেও এই আশঙ্কা জাগিয়েছে যে, তারাও এমন একটি অভিযানের শিকার হতে পারেন, যে অভিযানটি তার লক্ষ্যবস্তুদের আইনি মর্যাদার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেও সমানভাবে পরিচালিত বলে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অনৈতিক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বিজেপির এই নিপীড়ন, সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশকে জাতিগত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশটির ২০ কোটি মুসলমানকে প্রান্তিকীকরণ ও নিপীড়নের বৃহত্তর নীতিরই অংশ।

বিশ্বের অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

এই নির্বাসনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা ‍দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, সেইসব আটককৃতদেরও আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিককে অন্যায়ভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয়।’

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ