খুঁজুন
                               
, ,
           

ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

বাংলাদেশে একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত চার দিনে অন্তত ৬ দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মনে কাজ করছে বড় ধরনের আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন এই ছোট ছোট কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।

সোমবার (২২ জুন) ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ। এই ঘটনা আবারও দেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তিও দীর্ঘদিন ধরে জমা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে অতীতে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ১৭৬২ সালের গ্রেট আরাকান ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫। ১৮৯৭ সালে আসামে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এছাড়া ১৯১৮ সালে সিলেট এবং ১৯৩০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা রয়েছে।

চলতি বছরে দেশে আরও কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিত ধারাবাহিক কম্পন নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে পুরোপুরি ‘লকড’ বা আটকে আছে। কোনো স্লিপ বা ছোটখাটো মুভমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এই শক্তি অবমুক্ত হচ্ছে না। শক্তি বের না হয়ে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকাটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ঙ্কর অবস্থা। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশ নিজে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা না হলেও, এই লকড কন্ডিশনের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাই এখানে যখনই কোনো বড় ভাঙন হবে, তা প্রলয়ঙ্করী রূপ নেবে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে ভূগর্ভে শক্তি জমা হয়েছে। এই শক্তি একবারে বা ধাপে ধাপে বের হয়ে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল। বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং দুর্বল ভবন বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জানিয়েছে, নির্মাণবিধি না মেনে তৈরি হওয়া অনেক ভবন ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এর পেছনের কারণ হিসেবে বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জরুরি সেবার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এর জন্য দরকার বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, সিসমিক ম্যাপিং, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা ইত্যাদি। এ এমন এক বিপর্যয় যা মোকাবিলা করা কঠিন। কিন্তু কিছু জরুরি বিষয় আছে যেগুলো অনুসরণে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা এড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা।  ঢাকার অধিকাংশ ভবন রাজউক ও সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী নির্মিত নয়। এর ফলে এসব ভবন বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হলে সহজেই ধসে পড়বে। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও অনেক ভবন সহ্য করতে পারবে না। ফলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় অনেক পুরনো ভবন রয়েছে, যেগুলোর নির্মাণকাল অনেক আগের। এ ধরনের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনে অত্যন্ত অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং কোনো শক্তিশালী কম্পনে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেশি। আমাদের দেশের ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতার অভাবও ব্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জিল্লুর রহমান বলেন, মিয়ানমান বা নেপালের মতো অত বেশি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি আমাদের নেই। ওদের ওখানে সর্বশেষ ১৯৪৬ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে ৮০ বছরের মধ্যে সেখানে আবারো বড় ভূমিকম্প হয়ে গেল। আমাদের এখানে কিন্তু সর্বশেষ ১৯১৮ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। এক শ’ বছরের বেশি হয়ে গেছে। এখানে দেড় শ’ বা ২০০ বছর পরপর ওই ধরনের ভূমিকম্প হয়। সে হিসাবে আমরাও ঝুকির মধ্যে আছি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ও মাঝারি ভূকম্পনে বড় শক্তি বের হওয়ার একটা প্রবণতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তার মানে, যেকোনো সময় একটি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বড়মাত্রার ভূকম্পন হলে কি ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে যদি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে সারা দেশে ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে। ১১ লাখ ৯ হাজার পাকা ভবন, ২১ লাখ ১৪ হাজার সেমিপাকা স্থাপনা, ৪০২টি খাদ্যগুদাম, ১৪টি গ্যাসফিল্ড, ১৯৫টি হাসপাতাল। এক হাজার আটটি কল্যাণকেন্দ্র, দুই হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয়, এক হাজার ৯০০ মাদ্রাসা, ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয় হাজার ৮০০ পুলিশ স্টেশন, এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, সাত হাজার ৪০০ কিলোমিটার স্থানীয় সড়ক, ২০ হাজার ব্রিজ, এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে যে ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে তাও স্বীকার করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডিআইজিসহ পুলিশের আরও ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
ডিআইজিসহ পুলিশের আরও ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বাংলাদেশ পুলিশের এক ডিআইজিসহ বিভিন্ন পদের আরও ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুল, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিলেটের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ৮ এপিবিএন, উখিয়া, কক্সবাজারের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবং রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার এবং ঢাকা জেলার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) শহিদুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এসব প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময়। এক বুক আশা আর ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল লাখ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিকতার খাতিরে সেদিন সীমান্ত খুলে দিলেও, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ভারে আজ রীতিমতো হাঁসফাঁস করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমন এক দমবন্ধ করা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, যে সংকটের জন্ম মিয়ানমারে, তার সমাধানও সেখানেই হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক জোরালো ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দেন। বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার কথা।

ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’

শুধুমাত্র প্রত্যাবাসনই নয়, যতদিন না এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধান হচ্ছে, ততদিন রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনেন তিনি।

বিশ্ববিবেকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি এক মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নতুন দায়িত্বে জাইমা রহমান

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নতুন দায়িত্বে জাইমা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমানকে বাংলাদেশ থেকে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তার দায়িত্বের মধ্যে কার্যালয়ের আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করা রয়েছে। জাতিসংঘের প্রোফাইলে তাকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৪০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ছয়জন। জাইমা রহমান ছাড়া অন্য পাঁচজন হলেন—আব্দুল আলিম, মোয়াজ্জেম হোসেন, মাফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে আব্দুল আলিম দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট হিসেবে। মোয়াজ্জেম হোসেন রয়েছেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে। মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোর বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।

জাইমা যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ২ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘ সচিবালয়ের নিয়মিত কর্মী নন। সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়মিত বাজেটের পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে একটি ট্রাস্ট ফান্ডও রয়েছে।

জাতিসংঘের ট্রাস্ট ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১০টি সদস্যরাষ্ট্র মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৭ মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থ সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ, প্রতিনিধিত্ব ও যোগাযোগ এবং ৮১তম অধিবেশনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করে।

কালের আলো/জেএন