খুঁজুন
                               
, ,
           

ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

বাংলাদেশে একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত চার দিনে অন্তত ৬ দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মনে কাজ করছে বড় ধরনের আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন এই ছোট ছোট কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।

সোমবার (২২ জুন) ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ। এই ঘটনা আবারও দেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তিও দীর্ঘদিন ধরে জমা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে অতীতে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ১৭৬২ সালের গ্রেট আরাকান ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫। ১৮৯৭ সালে আসামে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এছাড়া ১৯১৮ সালে সিলেট এবং ১৯৩০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা রয়েছে।

চলতি বছরে দেশে আরও কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিত ধারাবাহিক কম্পন নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে পুরোপুরি ‘লকড’ বা আটকে আছে। কোনো স্লিপ বা ছোটখাটো মুভমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এই শক্তি অবমুক্ত হচ্ছে না। শক্তি বের না হয়ে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকাটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ঙ্কর অবস্থা। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশ নিজে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা না হলেও, এই লকড কন্ডিশনের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাই এখানে যখনই কোনো বড় ভাঙন হবে, তা প্রলয়ঙ্করী রূপ নেবে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে ভূগর্ভে শক্তি জমা হয়েছে। এই শক্তি একবারে বা ধাপে ধাপে বের হয়ে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল। বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং দুর্বল ভবন বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জানিয়েছে, নির্মাণবিধি না মেনে তৈরি হওয়া অনেক ভবন ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এর পেছনের কারণ হিসেবে বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জরুরি সেবার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এর জন্য দরকার বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, সিসমিক ম্যাপিং, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা ইত্যাদি। এ এমন এক বিপর্যয় যা মোকাবিলা করা কঠিন। কিন্তু কিছু জরুরি বিষয় আছে যেগুলো অনুসরণে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা এড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা।  ঢাকার অধিকাংশ ভবন রাজউক ও সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী নির্মিত নয়। এর ফলে এসব ভবন বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হলে সহজেই ধসে পড়বে। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও অনেক ভবন সহ্য করতে পারবে না। ফলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় অনেক পুরনো ভবন রয়েছে, যেগুলোর নির্মাণকাল অনেক আগের। এ ধরনের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনে অত্যন্ত অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং কোনো শক্তিশালী কম্পনে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেশি। আমাদের দেশের ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতার অভাবও ব্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জিল্লুর রহমান বলেন, মিয়ানমান বা নেপালের মতো অত বেশি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি আমাদের নেই। ওদের ওখানে সর্বশেষ ১৯৪৬ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে ৮০ বছরের মধ্যে সেখানে আবারো বড় ভূমিকম্প হয়ে গেল। আমাদের এখানে কিন্তু সর্বশেষ ১৯১৮ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। এক শ’ বছরের বেশি হয়ে গেছে। এখানে দেড় শ’ বা ২০০ বছর পরপর ওই ধরনের ভূমিকম্প হয়। সে হিসাবে আমরাও ঝুকির মধ্যে আছি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ও মাঝারি ভূকম্পনে বড় শক্তি বের হওয়ার একটা প্রবণতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তার মানে, যেকোনো সময় একটি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বড়মাত্রার ভূকম্পন হলে কি ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে যদি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে সারা দেশে ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে। ১১ লাখ ৯ হাজার পাকা ভবন, ২১ লাখ ১৪ হাজার সেমিপাকা স্থাপনা, ৪০২টি খাদ্যগুদাম, ১৪টি গ্যাসফিল্ড, ১৯৫টি হাসপাতাল। এক হাজার আটটি কল্যাণকেন্দ্র, দুই হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয়, এক হাজার ৯০০ মাদ্রাসা, ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয় হাজার ৮০০ পুলিশ স্টেশন, এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, সাত হাজার ৪০০ কিলোমিটার স্থানীয় সড়ক, ২০ হাজার ব্রিজ, এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে যে ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে তাও স্বীকার করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এলাকায় মাদক বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, আটক ছয়

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে স্প্যানিশ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে স্প্যানিশ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে

ছদ্মনামে লেখা উপন্যাসের জন্য স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার ‘প্রেমিও প্লানেতা’ জিতেছেন চিলি-আমেরিকান প্রখ্যাত লেখক ইসাবেল আলেন্দে। তাঁর উপন্যাস লা ওরা আন্তেস দেল আলবা (La hora antes del alba)-এর জন্য তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ ইউরো। সাহিত্যের জগতে দীর্ঘদিনের অবদানের পাশাপাশি এবার নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর গল্পের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেও আলোচনায় এসেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুরস্কারটির ৭৫তম আসরে বিজয়ী হিসেবে আলেন্দের নাম ঘোষণা করা হয়। বার্সেলোনায় আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়া উপস্থিত ছিলেন। ১০ লাখ ইউরোর এই পুরস্কারটি স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যে অন্যতম বড় আর্থিক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত। ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে এই সম্মাননা অর্জন করায় আলেন্দের নতুন বই এবং এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে পাঠক ও সাহিত্যাঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস’-এর গল্পে ফিরলেন আলেন্দে
ইসাবেল আলেন্দের নতুন উপন্যাসটি তাঁর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত বই দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর ধারাবাহিকতা। আগের উপন্যাসের পরিচিত চরিত্রগুলোর জীবন ও অভিজ্ঞতাকে আবারও সামনে এনেছেন তিনি। কয়েক দশক ধরে পাঠকেরা জানতে চেয়েছেন, সেই উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আলবার জীবনে পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল। পাঠকদের সেই কৌতূহলই নতুন বইটি লেখার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলবা এস্তেবান ত্রুয়েবা। সে ক্লারা দেল ভায়ের নাতনি। চিলিতে স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের শাসনামলে কারাবন্দি হওয়া ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আলবার জীবন এগিয়ে যায়। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা তার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আলেন্দে জানিয়েছেন, নতুন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর গল্পের জগৎকে পূর্ণতা দিতে চান। পুরোনো চরিত্রের পরবর্তী জীবন তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিহাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

পুরস্কার জিতে ‘নোবেল পাওয়ার মতো’ অনুভূতি
পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় আলেন্দে বলেন, ‘এটি যেন নোবেল পুরস্কার জেতার মতো।’ তাঁর বক্তব্যে এই সম্মাননার গুরুত্ব এবং নিজের দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। কারণ, প্রতিযোগিতায় সবার শেষে থাকার বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে চেয়েছেন। তবে বয়সের এই পর্যায়ে এসে হারানোর মতো খুব বেশি কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলেন্দের এই বক্তব্য তাঁর স্বভাবসুলভ রসবোধের পরিচয় দেয়। দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি অর্জন করলেও প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অনীহার কথা আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। এবার ছদ্মনামে লেখা উপন্যাসের জন্য পুরস্কার অর্জন তাঁর কর্মজীবনে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।

ছদ্মনামে লেখার আড়ালে ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্মৃতি
নতুন উপন্যাসটি ছদ্মনামে লেখা হলেও এর বিষয়বস্তু আলেন্দের পরিচিত সাহিত্যিক জগতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে চিলির রাজনৈতিক ইতিহাস, কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিমানুষের জীবনে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রভাব তাঁর লেখায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলবার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কারাবন্দিত্ব, নির্যাতন এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম উঠে এসেছে। এ ধরনের কাহিনি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ নয়; বরং রাজনৈতিক সহিংসতা কীভাবে পরিবার, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, সেটিও তুলে ধরে।

দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস প্রকাশের পর থেকেই আলেন্দের সাহিত্যকর্মে ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নতুন উপন্যাসে পুরোনো চরিত্রের গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি সেই ধারাকে আবারও সামনে এনেছেন।

গণতন্ত্রের সংকট ও কর্তৃত্ববাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ
আলেন্দে তাঁর নতুন উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিরও মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি, কর্তৃত্ববাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং ফ্যাসিবাদের উত্থান তাঁকে অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। লেখকের নিজের জীবনও চিলির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৭৩ সালে অগাস্তো পিনোশের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের সরকার উৎখাত হয়। এরপর ইসাবেল আলেন্দে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। সালভাদর আলেন্দে ছিলেন তাঁর বাবার চাচাতো ভাই।

পিনোশের শাসনামলে চিলিতে ব্যাপক রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা আলেন্দের ব্যক্তিগত জীবন ও সাহিত্যকর্মে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাসনের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্বসাহিত্যে প্রতিষ্ঠা
চিলির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা আলেন্দের জীবনকে নতুন পথে পরিচালিত করে। নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর লেখালেখির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে।

১৯৮২ সালে প্রকাশিত দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস তাঁকে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। উপন্যাসটিতে পারিবারিক ইতিহাস, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন একসঙ্গে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যকর্মও বিশ্বজুড়ে পাঠকের কাছে পরিচিতি লাভ করে। নতুন উপন্যাসের মাধ্যমে সেই পরিচিত জগতে ফিরে গিয়ে আলেন্দে একদিকে পুরোনো পাঠকদের দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতির সম্পর্কও সামনে এনেছেন।

প্রেমিও প্লানেতা জয়ে নতুন করে আলোচনায় আলেন্দে
বার্সেলোনায় আয়োজিত ৭৫তম প্রেমিও প্লানেতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আলেন্দের বিজয় ঘোষণা আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১০ লাখ ইউরোর পুরস্কারটি আর্থিক মূল্য ও মর্যাদার দিক থেকে স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই অর্জনের তাৎপর্য শুধু অর্থমূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত উপন্যাসের ধারাবাহিকতা লেখা, রাজনৈতিক ইতিহাসকে সাহিত্যে রূপ দেওয়া এবং বর্তমান বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ—সব মিলিয়ে আলেন্দের নতুন বইটি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ

মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের পথে ট্রাকচাপায় নিহত ১৫ তীর্থযাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের পথে ট্রাকচাপায় নিহত ১৫ তীর্থযাত্রী

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে গেছে ধানবোঝাই একটি ট্রাক। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

খাড়া ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধানবোঝাই ট্রাকটি চিনোর দিক থেকে গোয়ালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরের দিকে আসছিল। মন্দিরে যাওয়ার পথে একটি খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকেও ধাক্কা লাগে।

নবরাত্রি উপলক্ষে ওই মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়েছিল। তাঁদের অনেকে মন্দিরে যাওয়ার পথে সড়কে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় দ্রুতগতিতে নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি তাঁদের ওপর উঠে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

নিহত ১৫, আহত প্রায় ২৯ জন
গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন পাঠানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং প্রায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর ছিল।

গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। এ সময় সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীরা ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, তবু কীভাবে গেল ট্রাক
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নবরাত্রি উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার পাশাপাশি সড়কে প্রতিবন্ধক ও পুলিশের তল্লাশিচৌকিও স্থাপন করা হয়েছিল। এরপরও ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড অতিক্রম করে মন্দিরের কাছে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং কী কারণে সেটি বাঁ দিকে ঘুরে চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা খতিয়ে দেখতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, ট্রাকটির চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অমান্য করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীর
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ট্রাকটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের একজন তাঁর ভাই বলেও জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের উদ্ধার এবং হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজও জরুরি হয়ে পড়ে। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত
নবরাত্রির মতো ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশের ব্যারিকেড থাকার পরও এমন দুর্ঘটনা ঘটায় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে ট্রাকটির যান্ত্রিক অবস্থা, অতিরিক্ত বোঝাইয়ের অভিযোগ এবং সড়কে স্থাপিত ব্যারিকেড অতিক্রমের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/জেএন/এসএ