খুঁজুন
                               
, ,
           

ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস 

বাংলাদেশে একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত চার দিনে অন্তত ৬ দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মনে কাজ করছে বড় ধরনের আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন এই ছোট ছোট কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।

সোমবার (২২ জুন) ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ। এই ঘটনা আবারও দেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তিও দীর্ঘদিন ধরে জমা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে অতীতে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ১৭৬২ সালের গ্রেট আরাকান ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫। ১৮৯৭ সালে আসামে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এছাড়া ১৯১৮ সালে সিলেট এবং ১৯৩০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা রয়েছে।

চলতি বছরে দেশে আরও কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিত ধারাবাহিক কম্পন নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো এই ফল্ট লাইনটি বর্তমানে পুরোপুরি ‘লকড’ বা আটকে আছে। কোনো স্লিপ বা ছোটখাটো মুভমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এই শক্তি অবমুক্ত হচ্ছে না। শক্তি বের না হয়ে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকাটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ঙ্কর অবস্থা। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশ নিজে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা না হলেও, এই লকড কন্ডিশনের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাই এখানে যখনই কোনো বড় ভাঙন হবে, তা প্রলয়ঙ্করী রূপ নেবে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে ভূগর্ভে শক্তি জমা হয়েছে। এই শক্তি একবারে বা ধাপে ধাপে বের হয়ে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল। বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং দুর্বল ভবন বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জানিয়েছে, নির্মাণবিধি না মেনে তৈরি হওয়া অনেক ভবন ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এর পেছনের কারণ হিসেবে বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জরুরি সেবার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এর জন্য দরকার বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, সিসমিক ম্যাপিং, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা ইত্যাদি। এ এমন এক বিপর্যয় যা মোকাবিলা করা কঠিন। কিন্তু কিছু জরুরি বিষয় আছে যেগুলো অনুসরণে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা এড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা।  ঢাকার অধিকাংশ ভবন রাজউক ও সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী নির্মিত নয়। এর ফলে এসব ভবন বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হলে সহজেই ধসে পড়বে। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও অনেক ভবন সহ্য করতে পারবে না। ফলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় অনেক পুরনো ভবন রয়েছে, যেগুলোর নির্মাণকাল অনেক আগের। এ ধরনের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনে অত্যন্ত অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং কোনো শক্তিশালী কম্পনে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেশি। আমাদের দেশের ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতার অভাবও ব্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জিল্লুর রহমান বলেন, মিয়ানমান বা নেপালের মতো অত বেশি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকি আমাদের নেই। ওদের ওখানে সর্বশেষ ১৯৪৬ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে ৮০ বছরের মধ্যে সেখানে আবারো বড় ভূমিকম্প হয়ে গেল। আমাদের এখানে কিন্তু সর্বশেষ ১৯১৮ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। এক শ’ বছরের বেশি হয়ে গেছে। এখানে দেড় শ’ বা ২০০ বছর পরপর ওই ধরনের ভূমিকম্প হয়। সে হিসাবে আমরাও ঝুকির মধ্যে আছি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ও মাঝারি ভূকম্পনে বড় শক্তি বের হওয়ার একটা প্রবণতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তার মানে, যেকোনো সময় একটি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বড়মাত্রার ভূকম্পন হলে কি ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে যদি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে সারা দেশে ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে। ১১ লাখ ৯ হাজার পাকা ভবন, ২১ লাখ ১৪ হাজার সেমিপাকা স্থাপনা, ৪০২টি খাদ্যগুদাম, ১৪টি গ্যাসফিল্ড, ১৯৫টি হাসপাতাল। এক হাজার আটটি কল্যাণকেন্দ্র, দুই হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয়, এক হাজার ৯০০ মাদ্রাসা, ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয় হাজার ৮০০ পুলিশ স্টেশন, এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, সাত হাজার ৪০০ কিলোমিটার স্থানীয় সড়ক, ২০ হাজার ব্রিজ, এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে যে ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে তাও স্বীকার করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে ঢিল, হামলার অভিযোগ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে ঢিল, হামলার অভিযোগ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গাড়িটির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর এমপি আইনুল হককে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানগড়া বাজার এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি ভিপি আইনুল হক। সভা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় কয়েকজন তার গাড়ি ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে গাড়ি চলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ঢিল ছোড়া হলে গাড়িটির কাচ ভেঙে যায়।

এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, জামায়াত-শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গাড়িতে হামলা করেছেন।

এমপির ভাতিজা মাহমুদুল হাসান ফারুকও অভিযোগ করেন, গাড়ি ঘিরে লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত ও পাথর ছোড়া হয়। পরে এমপিকে চান্দাইকোনা হয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মর্তুজা বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, টিটিসির স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি ছিল এবং এমপির গাড়ি থেকেই লোকজনের ওপর গাড়ি তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, একটি মিটিং শেষে ফেরার পথে আইনুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ডিএমপির অভিযানে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫৫৯

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৩, ওয়ারীতে ৮৭, মতিঝিলে ৬৫, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ১১৮, গুলশানে ১০৫, উত্তরা বিভাগে ৩৭ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু ও একটি শার্প ব্লেড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ১৭টি মোবাইল ফোন, ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭১০ পিস ইয়াবা, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ বোতল দেশি মদ, এক লিটার বিদেশি মদ এবং নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেইঃ কৃষি সচিব

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেইঃ কৃষি সচিব

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কৃত্রিম সংকট  তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মাঠ পর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

কৃষি সচিব বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। কোনোভাবেই যেন এই তথ্য না আসে যে, কোনো কৃষি কর্মকর্তা কৃত্রিম সংকট তৈরির সাথে জড়িত।

সারের পর্যাপ্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সরকারি গুদামে সারের মজুত পর্যাপ্ত, সিন্ডিকেট দমনে সরকার কঠোর। দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা সরকারি গোডাউন এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে মজুতের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যদি কোনো এলাকায় সারের বাড়তি চাহিদা থাকে, তবে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভতুর্কির বিষয়ে আলোকপাত করে সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চাপ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কল্যাণে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি কেজি ডিএসপি সারে সরকার ৮৯ টাকা এবং ইউরিয়া সারে ৩৫ টাকা ভভর্তুকি প্রদান করছে।

ডিলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণের জন্য কাজ করে এবং ব্যবসায়ীদের উচিত সরকারকে এই কাজে সহায়তা করা, যাতে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানান, ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে তাদের কমিশন ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষি সচিব বলেন, প্রশাসন, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিম। সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত  জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা, বিসিআইসি ও বিএডিসির কেন্দ্রীয় ও জেলার প্রতিনিধি এবং সার ডিলার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি