খুঁজুন
                               
, ,
           

জুলাই মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্তে অগ্রগতি নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
জুলাই মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্তে অগ্রগতি নেই

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মোট মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্ত এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি। মূলত সাত কারণে মামলার তদন্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা।

কারণগুলো হলো: এজাহারের দুর্বলতা, ভুল বর্ণনা, শত্রুতামূলক মামলা, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন, মামলা বাণিজ্য, বাদী ও ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ না পাওয়া এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৬২টি। এরমধ্যে ২৫৪টি মামলার প্রতিবেদন হয়েছে।

তদন্ত শেষ হয়নি ১ হাজার ৬০৮ মামলার। ১৯৯টি মামলার অভিযোগপত্র হয়েছে। প্রমাণ হয়নি ৫৫টি মামলা। এখন পর্যন্ত কোনো মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হয়নি। তথ্য বলছে, মোট হত্যা মামলা হয়েছে ৭৯৯টি। আসামি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৪১ জন। এরমধ্যে ৬৫ হাজার ২১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি। সন্দেহভাজন আসামি ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১ জন।

অভিযোগপত্র হয়েছে ৬৩টি মামলার। আসামি ৫ হাজার ৭৯৩ জন। প্রমাণ হয়নি ৩৭টি মামলা। পিবিআই তদন্ত করছে ২৭৮টি, এরমধ্যে হত্যা মামলা ৮৯টি। সিআইডি তদন্ত করছে ১১৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৬৫টি। গোয়েন্দা পুলিশ –তদন্ত করছে ৫৯টি মামলা। এটিইউ তদন্ত করছে ৫৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৫২টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় আহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি। মোট আসামি ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৮৯ হাজার ১২১ জন। সন্দেহভাজন আসামি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫৮ জন। অভিযোগপত্র হয়েছে ১৫৪টি মামলা। আসামির সংখ্যা ১০ হাজার ২০২ জন।

পিবিআই ও বিভিন্ন থানার থানার পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) মামলাগুলোর তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবিতে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। প্রায় ৪০ জিবি ডাটা পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্ত করছি।’ প্রতিটি ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিলো, কে কোথায় অবস্থান করেছিলেন, কার বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপাত্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’ পিবিআই (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এর পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, ২৭৮টির তদন্তের ভার পিবিআইয়ের হাতে। এর মধ্যে ২০২টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে সংস্থাটি।

নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিছু মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে ভিকটিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যে স্থানে আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে আসলে ভিকটিম যাননি। অথবা ভিকটিম সেখানে গেলেও আহত হননি। এসব কারণে তদন্ত পরিস্থিতি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশই হত্যা মামলা, সে কারণে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যাপার আছে। এসব করতেও সময়ের প্রয়োজন হয়। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতির বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকায় নিম্ন আদালত ও বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া প্রায় সাড়ে ৮শ’ মামলা থেকে মাত্র ৪২টির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে বলে জানান, ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে কয়েকটি মামলা বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসেছে। দুটি মামলার চার্জ শুনানিও শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে মামলায় নির্দোষ ব্যক্তি যেমন আসামি হয়েছেন, তেমনি দোষী ব্যক্তিও বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ সমন্বয়হীনতা ছিলো। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিশাল ক্ষমতা। সঠিক তদন্তে তিনি সবকিছু বের করতে পারবেন।’

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের ১৮০ দিন

সংস্কার, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের পথে নতুন বাংলাদেশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
সংস্কার, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের পথে নতুন বাংলাদেশ

টানা দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও একদলীয় শাসনের অবসানের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্য—একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ। ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে ‘সহনশীলতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফাকে সামনে রেখে গত ছয় মাসে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক সংস্কার কর্মসূচি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। সভায় ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক একটি ই-বুকের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান, প্রশাসনে স্বচ্ছতার বার্তা
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অন্যতম দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে। ব্যক্তিপূজার অবসানে সরকারি-বেসরকারি ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিও বন্ধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে সাধারণ নাগরিকের মতো ট্রাফিক আইন মেনে চলার নজির স্থাপন করেছেন। ছয়জন ছাড়া অন্য সব মন্ত্রী ও উপদেষ্টার পুলিশি প্রটোকল বাতিল করা হয়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি কেনা, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে ‘৩-আর’ কৌশল, বাজেটে মানুষের জীবনবাস্তবতা
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার গ্রহণ করেছে ‘৩-আর’—রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন কৌশল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ‘জীবনবাস্তব’ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৩টি দেশে পাঠানো হয়েছে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর)।

নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ‘ব্লু ইকোনমি’ কাজে লাগিয়ে ১ বিলিয়ন ডলারের মৎস্য রপ্তানির লক্ষ্য সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুতের রেকর্ড গড়েছে সরকার।

‘ফ্যামিলি কার্ডে’ প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ন
সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘প্রবাসী কার্ড’। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারের নারী প্রধানের ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ১৮০ দিনে ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সার ও বীজ সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার ৪৮৩ জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: মানবসম্পদে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত
মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ বা ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি করে মোট ৬০০টি সরকারি আবাসিক মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ দর্শনকে গুরুত্ব দিয়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি ৫ হাজার নতুন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ এবং নাগরিকদের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এর অন্যতম লক্ষ্য বিদেশে চিকিৎসার পেছনে বছরে ব্যয় হওয়া বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমানো।

সবুজ বাংলাদেশ ও অবকাঠামোয় গতি
পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম ১৮০ দিনেই ২ কোটি ২২ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে মাত্র ১৫ দিনে দেশজুড়ে ২ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সড়ক ও সেতুতে সমন্বিত ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য রেলে ২৫ শতাংশ ছাড়ও কার্যকর করা হয়েছে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’: ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার অনুসরণ করছে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। দীর্ঘ চার দশক পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম নারী মহাসচিব আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং চীন সফরে ২১টির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কার
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। ‘জুলাই শহীদ ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে শহীদদের আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ৪৬ লাখ মামলার জট নিরসনের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।

সামনে আরও বড় পথ
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো এবং বিচারিক সংস্কারের যে রূপরেখা উঠে এসেছে, তা আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার। সংস্কারের এই যাত্রা কতটা টেকসই ও জনকল্যাণমুখী হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের সাফল্য। তবে প্রথম ১৮০ দিনের উদ্যোগগুলো স্পষ্ট করেছে—উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোর নির্মাণে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান, অধিকার, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

আরও এক বছর জনপ্রশাসনে সিনিয়র সচিব থাকছেন মো. এহছানুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
আরও এক বছর জনপ্রশাসনে সিনিয়র সচিব থাকছেন মো. এহছানুল হক

চুক্তিতে আরও এক বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব থাকছেন মো. এহছানুল হক। তাকে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

১৯৮২ বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. এহছানুল হক। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর এই পদে নিযুক্ত হন তিনি।

চার দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি সহকারী কমিশনার, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ঝালকাঠি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক (ডিসি)-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নেতৃত্বদানকারী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার বিস্তৃত কর্মজীবনের মধ্যে অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং জননিরাপত্তা বিভাগের মতো মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. নাসিমুল গনিকে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পুনঃচুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাকে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত আগের চুক্তির মতোই বহাল থাকবে।

ড. নাসিমুল গনি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বিভাগের সিনিয়র সচিব পদে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন।

নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ওই ব্যাচের ১৪২ জনের মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল চতুর্থ। দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি