খুঁজুন
                               
, ,
           

জুলাই মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্তে অগ্রগতি নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
জুলাই মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্তে অগ্রগতি নেই

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মোট মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্ত এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি। মূলত সাত কারণে মামলার তদন্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা।

কারণগুলো হলো: এজাহারের দুর্বলতা, ভুল বর্ণনা, শত্রুতামূলক মামলা, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন, মামলা বাণিজ্য, বাদী ও ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ না পাওয়া এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৬২টি। এরমধ্যে ২৫৪টি মামলার প্রতিবেদন হয়েছে।

তদন্ত শেষ হয়নি ১ হাজার ৬০৮ মামলার। ১৯৯টি মামলার অভিযোগপত্র হয়েছে। প্রমাণ হয়নি ৫৫টি মামলা। এখন পর্যন্ত কোনো মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হয়নি। তথ্য বলছে, মোট হত্যা মামলা হয়েছে ৭৯৯টি। আসামি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৪১ জন। এরমধ্যে ৬৫ হাজার ২১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি। সন্দেহভাজন আসামি ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১ জন।

অভিযোগপত্র হয়েছে ৬৩টি মামলার। আসামি ৫ হাজার ৭৯৩ জন। প্রমাণ হয়নি ৩৭টি মামলা। পিবিআই তদন্ত করছে ২৭৮টি, এরমধ্যে হত্যা মামলা ৮৯টি। সিআইডি তদন্ত করছে ১১৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৬৫টি। গোয়েন্দা পুলিশ –তদন্ত করছে ৫৯টি মামলা। এটিইউ তদন্ত করছে ৫৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৫২টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় আহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি। মোট আসামি ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৮৯ হাজার ১২১ জন। সন্দেহভাজন আসামি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫৮ জন। অভিযোগপত্র হয়েছে ১৫৪টি মামলা। আসামির সংখ্যা ১০ হাজার ২০২ জন।

পিবিআই ও বিভিন্ন থানার থানার পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) মামলাগুলোর তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবিতে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। প্রায় ৪০ জিবি ডাটা পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্ত করছি।’ প্রতিটি ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিলো, কে কোথায় অবস্থান করেছিলেন, কার বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপাত্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’ পিবিআই (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এর পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, ২৭৮টির তদন্তের ভার পিবিআইয়ের হাতে। এর মধ্যে ২০২টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে সংস্থাটি।

নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিছু মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে ভিকটিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যে স্থানে আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে আসলে ভিকটিম যাননি। অথবা ভিকটিম সেখানে গেলেও আহত হননি। এসব কারণে তদন্ত পরিস্থিতি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশই হত্যা মামলা, সে কারণে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যাপার আছে। এসব করতেও সময়ের প্রয়োজন হয়। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতির বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকায় নিম্ন আদালত ও বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া প্রায় সাড়ে ৮শ’ মামলা থেকে মাত্র ৪২টির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে বলে জানান, ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে কয়েকটি মামলা বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসেছে। দুটি মামলার চার্জ শুনানিও শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে মামলায় নির্দোষ ব্যক্তি যেমন আসামি হয়েছেন, তেমনি দোষী ব্যক্তিও বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ সমন্বয়হীনতা ছিলো। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিশাল ক্ষমতা। সঠিক তদন্তে তিনি সবকিছু বের করতে পারবেন।’

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরিকারকদের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর তৈরিকারকদের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

দেশিয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরিকারকদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও দেশিয়ও প্রযুক্তিতে তৈরি দুই মেশিন ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করতে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

এসময় দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি চিকিৎসা যন্ত্রের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

সভায় জানানো হয়, আলাদা দুইটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটর মেশিনটি গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম। তাই এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ সমস্যাজনিত রোগীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী। এই যন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।

সভায় সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুটি চিকিৎসা যন্ত্র সফলভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে।

কালের আলো/এসএকে

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই: মির্জা ফখরুল

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা দলমত নির্বিশেষে, সকল মানুষকে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যথাযথভাবে মাদক নিরসন করতে পারলে সমাজের বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মাদক নির্মূলে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশ থেকে চিরতরে মাদককে বিদায় করতে আন্তরিকতার সাথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ অনুষ্ঠিত মাদক বিরোধী সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রফিকুল হক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ৫০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাক হোসেন, জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ আরও অনেকে।

কালের আলো/এসএকে

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে যে বার্তা দিলেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে যে বার্তা দিলেন সিইসি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে লিখিতভাবে রেফার করা হলে ইসি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে স্পিকারের সাক্ষাতের তারিখ চেয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা একটি চিঠি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে