খুঁজুন
                               
, ,
           

সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর একসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম (এসআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে গঠন করা হয়েছে ২০ সদস্যের পৃথক বিশেষ রেসকিউ টিম। ঢাকার আশপাশের আরও ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

  • ৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম
  • পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম
  • ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই জনবল, সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক জায়গায় সব সরঞ্জাম নয়

ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্ধার সরঞ্জামও আটকে পড়তে পারে। এতে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।

পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম

বড় ভূমিকম্পে সাধারণ ফায়ার স্টেশনের জনবল দিয়ে একসঙ্গে সব এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হতে পারে। এ জন্য পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম (এসআরটি) মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে ২০ সদস্যের করে এসআরটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলকে ধসে পড়া ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ স্টেশন

ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে ‘এয়ারমার্ক’ করা হয়েছে। রাজধানীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হলে এসব স্টেশন থেকে দ্রুত জনবল ও সরঞ্জাম এনে ঢাকার উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হবে।

তবে বড় ভূমিকম্পে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কীভাবে এসব জনবল ও সরঞ্জাম ঢাকায় আনা হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে রেসকিউ টিম ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ে বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে কমান্ড সচল রাখার প্রস্তুতি

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে কমান্ড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরান ঢাকার সদর দপ্তর কোনো বড় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে নেতৃত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকে, সে অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিরপুরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর

পুরান ঢাকার সদর দপ্তরের ঝুঁকি বিবেচনায় মিরপুর-১০-এ নির্মাণ করা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের নতুন বহুতল সদর দপ্তর। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটির মাধ্যমে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়া থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিচ্ছিন্ন হলেও সচল থাকবে যোগাযোগ

বড় ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, মোবাইল টাওয়ার ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় আয়োজিত ওই মহড়ায় বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ডফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে বিকল্প ব্যবস্থায় ফায়ার স্টেশনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার অনুশীলন করা হয়।

বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে বহু বিপর্যয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষ্য, ভবনধসের পাশাপাশি গ্যাসলাইন থেকে আগুন, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও মানুষের আটকে পড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ঢাকার সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকারীদের প্রবেশ করানোও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়ন, আটকে পড়াদের শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, প্রস্তুতিই ভরসা

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, বড় ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে জানানোর মতো প্রযুক্তি এখনো নেই। তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে; বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। তার মতে, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

বড় ভূমিকম্প উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকেও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।

সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ

ভূমিকম্প ও বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে ফায়ার সার্ভিস। এসব বৈঠকে মেগা ডিজাস্টার মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ভূমিকম্প কখন হবে তা আগাম বলা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই একক সদর দপ্তরনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে জনবল, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও কমান্ড কাঠামোকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ মাদকসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শাড়ির আড়ালে ট্রলিতে লুকিয়ে এসব মাদক আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) শাহজালাল বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের TG321 ফ্লাইটে আসা যাত্রী অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

পরে সাক্ষী ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিনটি ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ২ হাজার ১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ, একটি স্মার্টফোন, তিনটি ভারতীয় শাড়ি ও একটি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। তিনি বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ করেন বলে জানা গেছে।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় একটি মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করছে। চক্রটি প্রথমে তাদের কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তাদের মাধ্যমে মাদক বাংলাদেশে আনা হয়। বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে চক্রটি কাজ করছে বলেও প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করে মাদকের চালান হস্তান্তরের পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল অভিজিৎ দাসের।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএনসির উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিমানের নতুন সচিব ড. নুরুন্নাহার

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

 

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি