খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
সরকারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বিরোধী দলের বিভিন্ন দফা ও সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, দফা বাড়তে বাড়তে আট থেকে ১০, ১০ থেকে ১৬ দফা হবে; তাহলে এক দফা কেন হবে?

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী বারুনী ঘাটে করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জয়লাভের সাত মাসের মধ্যে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলের কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের কর্মসূচিতে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাত মাসের মাথায় কখনো আট দফা, আবার তা বাড়তে বাড়তে এক দফায় গিয়ে সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সরকারকে ভোট দিয়েছে। সরকারের কাজের দুর্বলতা, ত্রুটি, দুর্নীতি বা অনিয়ম থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরে সমালোচনা করা উচিত। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা কারণ ছাড়াই সাত মাসের মধ্যে সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের মানুষ বিভিন্ন বাধার মুখে ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারকে পাঁচ বছরের মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন থাকলে সংসদে আলোচনা করে ভুলত্রুটি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এসব করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাল খনন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশের পানি সংরক্ষণ ও পানির স্তর ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সেভাবে কাজ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পঞ্চগড়ে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ২০০ থেকে ২৫০ মিটার পর্যন্ত খনন করেও কোথাও কোথাও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির স্তর ধরে রাখতে খাল খনন ও পানি সংরক্ষণ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছে। পাঁচ বছর পর সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবে।

সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডে ভুলত্রুটি থাকলে তা সংসদে আলোচনা করে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ হুমায়ুন কবিরের

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ হুমায়ুন কবিরের

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত পরামর্শ এবং উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত চুক্তি সম্পন্নের প্রত্যাশা জানান হুমায়ুন কবির।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চমানের তৈরি পোশাক ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীদের জন্য কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কোরিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। রোহিঙ্গাদের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনেও কোরিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত কোর্সে কোরীয় সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ উদ্যোগে প্রযুক্তি, শিল্প সহযোগিতা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়াতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

কোরীয় পক্ষও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের প্রস্তুতির কথা জানায় তারা।

দুই বৈঠকেই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২০০৬ বিশ্বকাপের সেই ঘটনায় অনুতপ্ত নন জিদান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
২০০৬ বিশ্বকাপের সেই ঘটনায় অনুতপ্ত নন জিদান

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতোরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুঁশ মারার সেই বহুল আলোচিত ঘটনায় কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন জিনেদিন জিদান। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্যারিয়ারের সেই বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়ে কথা বলেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জিদান জানান, সেই রাতের স্মৃতি এখনো বারবার সামনে আসে। ফ্রান্স-২৪-এর বরাতে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেছে গোলডটকম।

‘ওটা আমার ক্যারিয়ারেরই অংশ’

জিদান বলেন, ২০০৬ সালে কী ঘটেছিল, তা মনে করিয়ে দিতে সেই ছবিগুলো ও ভিডিও সব সময়ই থাকবে। তবে ক্যারিয়ারের ওই একটি ঘটনাকেই নিজের পুরো পরিচয় হিসেবে দেখতে চান না তিনি।

ফরাসি এই কোচ বলেন, সৌভাগ্যবশত সেটিই তার ক্যারিয়ারের একমাত্র ঘটনা নয়। তার খেলোয়াড়ি জীবনে আরও অনেক সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি রয়েছে। তাই তিনি ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই বেশি ভাবতে চান।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জিদান বলেন, ওই ঘটনার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই, কারণ সেটি তার খেলোয়াড়ি জীবনেরই একটি অংশ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার জন্য তিনি গর্বিত নন।

মাতোরাজ্জির সঙ্গে আর কথা হয়নি

২০০৬ সালের সেই ফাইনালের পর মার্কো মাতোরাজ্জির সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি জিদানের। বার্লিনের সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করে ফ্রান্স।

জিদান জানান, ২০০৬ সালে তিনি জানতেন না ভবিষ্যতে কোচ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি ভেবেছিলেন, ওই ম্যাচের মধ্য দিয়েই তার ফুটবলজীবনের সবকিছুর সমাপ্তি ঘটেছে। ফলে সময়টি তার জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন।

এবার ফ্রান্সের কোচ জিদান

খেলোয়াড় হিসেবে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা জিদান এখন ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি দীর্ঘদিনের সতীর্থ দিদিয়ে দেশমের স্থলাভিষিক্ত হন। দেশম প্রায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর সরে দাঁড়ান।

কোচ হিসেবে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করেন জিদান। এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয় পায় তাঁর দল।

আবারও স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ফিরছেন

ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবারও স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ফিরছেন জিদান। এই স্টেডিয়ামেই ফরাসি ফুটবলপ্রেমীদের সামনে তার খেলোয়াড়ি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি হয়েছিল।

এবার অবশ্য খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে মাঠে ফিরছেন তিনি। প্রায় ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ঘিরে ফরাসি সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

কালের আলো/এসএ

শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের এজলাসে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে আদালতকক্ষে বিতর্ক তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একটি মামলায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই মামলার সূত্রপাত একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে। সে সময় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়।

নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ বলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আদালতকক্ষে আলোচনা শুরু হলে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চান।

শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আদালতকক্ষে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় এবং আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাও করতে পারত।

অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ও আদালতকক্ষে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য, আদালত নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জায়গা।

এদিকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী ও পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী বলেন, আদালতে বিচারক বা বিচারপ্রার্থীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা যায় না। পোশাক দেখে ওই স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, স্লোগানটি বিচারককে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন না বুঝেই ওই কথা বলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, অনেকে সম্ভাষণের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ বা এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন। এরপরও ঘটনার জন্য আদালতকক্ষেই তিনি ও তার পক্ষের অন্যরা ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে বিচারকের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য বা আদালতের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত আইনি পদক্ষেপের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি