খুঁজুন
                               
, ,
           

কওমী ধারার ৭ দল নিয়ে নতুন জোট

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
কওমী ধারার ৭ দল নিয়ে নতুন জোট

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দল ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত নতুন একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

দলগুলো হলো–জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অপরদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। তারাও নতুন জোটে যাবে বলে জানিয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেছেন, সাতটি ইসলামি দল কওমি ধারার। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক দল রয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতটি দলের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা হলেও দলটি শেষ পর্যন্ত আটটি আসনে এককভাবে নির্বাচন করে।

অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চারটি আসনে সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন ভাগাভাগির বিরোধে জামায়াত জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।

নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়া কয়েকটি দলের সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একাংশের দূরত্ব তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক চট্টগ্রামে গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ছিল।

কওমীপন্থী দলগুলোর নেতারা বলছেন, হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসুক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠক হবে। তখন সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।

নতুন জোটের বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘কওমীপন্থী সাতটি দল একত্রে পথ চলতে চায়। এ থেকেই তো বোঝা যায় জোট হতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখনো কিছু হয়নি। আশা করি কীভাবে কী হবে, সাত দল তা আগামী ৩ আগস্ট প্রস্তাব করবে। এরপর বসে নতুন জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এম/এএইচ

সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে ঢিল, হামলার অভিযোগ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে ঢিল, হামলার অভিযোগ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গাড়িটির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর এমপি আইনুল হককে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানগড়া বাজার এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি ভিপি আইনুল হক। সভা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় কয়েকজন তার গাড়ি ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে গাড়ি চলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ঢিল ছোড়া হলে গাড়িটির কাচ ভেঙে যায়।

এমপির সঙ্গে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, জামায়াত-শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গাড়িতে হামলা করেছেন।

এমপির ভাতিজা মাহমুদুল হাসান ফারুকও অভিযোগ করেন, গাড়ি ঘিরে লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত ও পাথর ছোড়া হয়। পরে এমপিকে চান্দাইকোনা হয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মর্তুজা বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, টিটিসির স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি ছিল এবং এমপির গাড়ি থেকেই লোকজনের ওপর গাড়ি তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, একটি মিটিং শেষে ফেরার পথে আইনুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ডিএমপির অভিযানে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫৫৯

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৩, ওয়ারীতে ৮৭, মতিঝিলে ৬৫, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ১১৮, গুলশানে ১০৫, উত্তরা বিভাগে ৩৭ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু ও একটি শার্প ব্লেড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ১৭টি মোবাইল ফোন, ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭১০ পিস ইয়াবা, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ বোতল দেশি মদ, এক লিটার বিদেশি মদ এবং নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেইঃ কৃষি সচিব

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেইঃ কৃষি সচিব

দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কৃত্রিম সংকট  তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মাঠ পর্যায়ের সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

কৃষি সচিব বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। কোনোভাবেই যেন এই তথ্য না আসে যে, কোনো কৃষি কর্মকর্তা কৃত্রিম সংকট তৈরির সাথে জড়িত।

সারের পর্যাপ্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সরকারি গুদামে সারের মজুত পর্যাপ্ত, সিন্ডিকেট দমনে সরকার কঠোর। দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা সরকারি গোডাউন এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে মজুতের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যদি কোনো এলাকায় সারের বাড়তি চাহিদা থাকে, তবে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভতুর্কির বিষয়ে আলোকপাত করে সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার চাপ থাকা সত্ত্বেও কৃষকের কল্যাণে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রতি কেজি ডিএসপি সারে সরকার ৮৯ টাকা এবং ইউরিয়া সারে ৩৫ টাকা ভভর্তুকি প্রদান করছে।

ডিলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনকল্যাণের জন্য কাজ করে এবং ব্যবসায়ীদের উচিত সরকারকে এই কাজে সহায়তা করা, যাতে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানান, ডিলারদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে তাদের কমিশন ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষি সচিব বলেন, প্রশাসন, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আব্দুর রহিম। সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত  জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা, বিসিআইসি ও বিএডিসির কেন্দ্রীয় ও জেলার প্রতিনিধি এবং সার ডিলার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি