খুঁজুন
                               
, ,
           

অনন্ত আম্বানিকে অধ্যাপক নিয়োগে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
অনন্ত আম্বানিকে অধ্যাপক নিয়োগে প্রশ্ন

ভারতের শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য, প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ এবং রিলায়েন্স গ্রুপের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে অনন্ত আম্বানির প্রতিষ্ঠিত গুজরাটের বন্য প্রাণী সংরক্ষণকেন্দ্র ভান্তারায় প্রাণী সংগ্রহ ও আমদানি নিয়ে আগে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের কারণে এই নিয়োগ নিয়ে পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সংরক্ষণকাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিয়োগ

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্ত আম্বানিকে দেওয়া ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস ইন সাসটেইনেবিলিটি’ তাঁর প্রচলিত একাডেমিক গবেষণার পদ নয়; বরং বাস্তব ক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অনন্তের ভান্তারা উদ্যোগের কাজ তাদের বৈশ্বিক সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভান্তারা আহত, নির্যাতিত ও বিপন্ন প্রাণীর উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় কাজ করে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

অনন্ত আম্বানি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভান্তারায় দেড় লাখের বেশি প্রাণী

৩১ বছর বয়সী অনন্ত আম্বানি রিলায়েন্স গ্রুপের নির্বাহী পর্ষদে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভান্তারা ভারতের গুজরাটের জামনগরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ একর এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভান্তারায় ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, চিতাবাঘ, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। ভান্তারা নিজেদের বন্য প্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচয় দেয়।

তবে বিপুলসংখ্যক প্রাণী বিভিন্ন দেশ থেকে ভান্তারায় আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাণী আমদানি নিয়ে কী প্রশ্ন

জার্মান সংবাদপত্র সুড্ডয়চে সাইটুং-এর ২০২৫ সালের এক অনুসন্ধানে ভান্তারায় প্রাণী আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের রুট ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর প্রাণী আমদানির নথিপত্র ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

পরবর্তী সময়ে বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সাইটিস (CITES) ভান্তারায় প্রাণী আমদানির বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে। প্রতিবেদনে কিছু আমদানির অনুমতিপত্র নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয় এবং বিপুলসংখ্যক প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে বিষয়টির আইনগত অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হওয়া তদন্তে ভান্তারার পরিচালকদের কোনো অনিয়মের জন্য দায়ী করা হয়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে CITES-সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়েও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আপত্তি ছিল।

অর্থাৎ প্রাণী আমদানি নিয়ে প্রশ্ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্বেগ থাকলেও ভান্তারার বিরুদ্ধে অবৈধ বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগ আদালতের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিয়োগ নিয়ে শিক্ষাবিদদের আপত্তি

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পর কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভারতের ইতিহাসবিদ ও পরিবেশবিষয়ক লেখক রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আরও অনেক গবেষক ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যাঁদের অবদানও এমন স্বীকৃতির যোগ্য।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি অনন্ত আম্বানিকে নিয়োগের আগে কতটা যাচাই-বাছাই করেছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁর মতে, সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেও আপত্তি

শুধু বাইরের পরিবেশবিদ বা শিক্ষাবিদ নন, নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যেও এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তির কথা উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি জানিয়েছেন, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মী নিয়োগটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লা মেহতাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থায়ন কমে যাওয়ার সময়ে ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য কী

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, অনন্ত আম্বানিকে দেওয়া অধ্যাপক পদটি তাঁর বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার কাজের স্বীকৃতি।

এ ছাড়া রিলায়েন্স গ্রুপের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে তাঁর কাজও এই স্বীকৃতির বিবেচনায় ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানি বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই অধ্যাপক পদ দেওয়ার বিনিময়ে অনুদান নেওয়া হয়নি।

ভান্তারার নতুন পদক্ষেপ

প্রাণী আমদানি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভান্তারা গত আগস্টে তাদের কার্যক্রমে নতুন করে পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি সাবেক এক CITES প্রধানকে কার্যক্রম তদারকির সঙ্গে যুক্ত করে এবং আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বন্য প্রাণী আমদানি বন্ধ রাখার কথা জানায়।

ভান্তারা ও আম্বানি পরিবার এর আগে বন্য প্রাণী পাচার বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রাণীদের উদ্ধার, পুনর্বাসন ও যত্ন নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

নতুন করে আলোচনায় একাডেমিক স্বীকৃতি

অনন্ত আম্বানির অধ্যাপক নিয়োগের ঘটনাটি তাই একদিকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে ভান্তারার প্রাণী সংগ্রহ ও আমদানি নিয়ে আগে ওঠা প্রশ্নগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

গত এপ্রিল অনন্ত আম্বানি ‘ভান্তারা ইউনিভার্সিটি’ চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পশুচিকিৎসাবিজ্ঞানে বৈশ্বিক পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের উদ্যোগকে তুলে ধরছে।

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চললেও বিশ্ববিদ্যালয়টি বলছে, সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে অনন্ত আম্বানির কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা নিয়োগের মানদণ্ড, যাচাই-বাছাই এবং ভান্তারাকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোর বিষয়টি সামনে আনছেন।

কালের আলো/এসএ

 

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়: আটক ২৪৯ জন মুক্ত, হেফাজতে ২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়: আটক ২৪৯ জন মুক্ত, হেফাজতে ২৯

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের পরিচয় যাচাই চলছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।

তিনি জানান, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নেতা-কর্মীদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের বিষয়ে এসি সাকিবুল আলম বলেন, তাদের পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাদের নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

এখনো মামলা হয়নি

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচি পালনের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাসদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেখানে মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জাসদ কার্যালয় দখলের কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যালয় দখলের কোনো সুযোগ নেই। কার্যালয়টি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

যেভাবে অভিযান

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড় এলাকায় জাসদের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক চলছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে পল্টন থানা পুলিশ জাসদ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে একত্রিত হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, জাসদ এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তিন ক্যাটাগরির পদে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। রাজস্ব খাতভুক্ত এসব পদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ৯ম বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে বেতন স্কেল উল্লেখ করে নতুন এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

যে তিন পদে নিয়োগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন ক্যাটাগরির মোট ১৬টি পদে জনবল নেওয়া হবে। এর মধ্যে—সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর-৪ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক- ৪ জন, অফিস সহায়ক-৮ জন

সব মিলিয়ে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

এই পদে চারজন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ১৩তম গ্রেডের। এ পদের বেতন স্কেল ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা।

আবেদনের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

এই পদে চারজন নিয়োগ পাবেন। পদটি ১৬তম গ্রেডের। এ পদে বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

প্রার্থীকে স্বীকৃত বোর্ড থেকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এ ছাড়া কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে দক্ষতাও থাকতে হবে। বাংলায় প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দ লেখার গতি থাকতে হবে।

অফিস সহায়ক পদে ৮ নিয়োগ

অফিস সহায়ক পদে সবচেয়ে বেশি আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ২০তম গ্রেডের। এ পদের বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বোর্ড থেকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

আবেদনের বয়সসীমা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরে কোনো প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ১৭ অক্টোবর ২০২৬।

আবেদন ফি কত

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ ও ২ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা। এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ১২ টাকা যোগ হয়ে মোট আবেদন ফি দাঁড়াবে ১১২ টাকা।

তবে অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য ফি কম। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের আবেদন ফি ৫০ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ ৬ টাকা। অর্থাৎ তাঁদের মোট ৫৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষার ধরন ও অন্যান্য শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সব নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে আয়ারল্যান্ড, কালো বাহুবন্ধনী

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে আয়ারল্যান্ড, কালো বাহুবন্ধনী

গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে ম্যাচ খেলার পক্ষে মত দেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড়।

ফলে সূচি অনুযায়ী আজ রাতে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামছে আয়ারল্যান্ড। তবে ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিহত সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো বাহুবন্ধনী পরে খেলবেন।

বাজুনুর আপত্তিতে শুরু হয় আলোচনা

ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি সামনে আসে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুর অবস্থানকে কেন্দ্র করে। ইংলিশ ক্লাব বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের এই ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে জানান, তিনি ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিতে চান না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বাজুনু বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির বিরুদ্ধে তাঁর নীতিগত অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

বাজুনুর এই অবস্থানের পর আয়ারল্যান্ড দলের অনুশীলন ও নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। এরপর দলের হোটেলে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়।

ভোটাভুটিতে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত

আলোচনার সময় দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন বলে জানা যায়। পরে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।

এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কারেল জানান, খেলোয়াড়দের ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় মাঠে নামার পক্ষে মত দেন।

আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক ডারা ও’শি বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করা এবং মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবে দল

ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত হলেও মানবিক সংকটের বিষয়টি দলটি পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবেন।

এর মাধ্যমে ম্যাচে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অবস্থান তুলে ধরতে চায় দলটি।

কোচের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল আগেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হলগ্রিমসন বলেছিলেন, তাঁদের দল ‘গণহত্যার পক্ষে’ খেলছে না, বরং ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে’ খেলছে।

কোচের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) উয়েফার কাছে অভিযোগ করার হুমকি দেয়।

এরপর বিষয়টি দুই দেশের ফুটবল অঙ্গন ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

আয়ারল্যান্ডে বয়কটের আহ্বান

ম্যাচটি বয়কটের দাবিতে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদও হয়েছে। ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে শতাধিক অ্যাথলেটের স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

প্রতিবাদকারীদের একটি অংশ ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরীণ ভোটে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফিরতি ম্যাচ সার্বিয়ায়

নেশনস লিগের নিয়ম অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রথম ম্যাচটি হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামী ৪ অক্টোবর ফিরতি ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের মাঠে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেশটিতে আয়োজন করা হচ্ছে না। নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ম্যাচটি সার্বিয়ায় দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ড দলের ভেতরের মতপার্থক্য, খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং মাঠের বাইরের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে নেশনস লিগের এই দ্বৈরথ ইতিমধ্যেই আলাদা মাত্রা পেয়েছে।

কালের আলো/এসএ