খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্যাতনের কথা বললে পরিবারকে গুমের হুমকি দেওয়া হয়: গাজী সালাউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
নির্যাতনের কথা বললে পরিবারকে গুমের হুমকি দেওয়া হয়: গাজী সালাউদ্দিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় মামলার পর কারাগারে পাঠানো হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। কারাগারে তাকে অপরিচ্ছন্ন এবং আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে এবং রিমান্ডে আমাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে- নির্যাতনের কথা বাইরে বললে আমার পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। এরপরও আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরতে এসেছি, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না, সত্য সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে ও সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের কালো ছায়া আগের মতোই হুবহু রয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জেলে গিয়ে তার প্রমাণ আমি পেয়েছি। জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও আমি এসব জাতির সামনে তুলে ধরতে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

এরপর অসুস্থতার কারণে কথা বলতে না পারায় তানভীরের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত।

লিখিত বক্তব্যে তানভীর বলেন, ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, অথচ ৫ আগস্ট বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিনে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচএস মাফুতুন আহমেদ খান এই মামলার বাদী। ৫ আগস্ট আমাকে বগুড়ায় কারাগারের এমন একটি সেলে নেওয়া হয়, যেটি চরম অপরিচ্ছন্ন এবং আলো-বাতাসহীন। বিদ্যুৎও নেই, একটা ফ্যানও নেই। কারাগারে পচা-বাসি খাবারদাবার দেওয়া হতো, খাওয়ার অযোগ্য। একপর্যায়ে আমার ডায়রিয়া হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় আমাকে। সেখানে যে ওষুধ লিখেছেন ডাক্তার- সেটা আমাকে দেওয়া হয়নি, অজানা ওষুধ আমাকে খেতে হয়েছে।

শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, এসব কীসের ইনজেকশন তা আমি জানি না। অন্তত ৭০/৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত। একদিন হাত-পা কাঁপছিল, ডাক্তার এসে ইনজেকশন দিলেন এবং আমার ডান হাত আর ডান পা অবশ হয়ে গেল, বাধ্য হয়ে শহীদ জিয়া মেডিকেলে নিয়ে গেল। ডাক্তার সেখানে বলেছেন, আমার স্ট্রোক হয়েছে কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ বললো না স্ট্রোক করেনি, কিছুই হয়নি।

‘পরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় আনা হলো। কেরানীগঞ্জে যেখানে রাখা হলো ওটাও খুবই খারাপ সেল। পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হলো, এদিক সেদিক ঘুরায় শুধু। এখানে ডাক্তার দেখিয়ে জেলে নেওয়ার সময় গাড়িতে হঠাৎ সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক উঠে আসে, তারা আমাকে টর্চার করে।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমার ওপর এতটাই নির্যাতন করা হয়েছে যে, বর্তমানে আমার প্রস্রাব-পায়খানা ব্যাগে ও প্যাডে করতে হচ্ছে। একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি আছি, আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে, জানি না চিকিৎসার কী হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি। আপনাদের কাছে দোয়া চাই এবং দোয়া করি, আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে আর কারও সঙ্গে যেন করা না হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসে কর্মদক্ষতায় নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসে কর্মদক্ষতায় নজর

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এক দিনেই বড় ধরনের রদবদল। একের পর এক ১০টি প্রজ্ঞাপনে বদলে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নেতৃত্বের বিন্যাস। কেউ পেয়েছেন নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, কেউ পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন সচিব, আবার কাউকে দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব। একজন সচিবকে সংযুক্ত করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এই পুনর্বিন্যাসে শুধু পদ বদলের হিসাব নয়, প্রশাসনের প্রতি সরকারের প্রত্যাশা ও অসন্তোষের বার্তাও খুঁজে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বার্তাটি স্পষ্ট—গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মানেই সেখানে বহাল থাকার নিশ্চয়তা নয়; কাজের গতি, দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে গতি ফেরানোর কথা বলে আসছে। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে, প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না সরকারি কার্যক্রম। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, কাজে অনীহা এবং ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা আদায়ে কর্মকর্তাদের বেশি মনোযোগ দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে কর্মকর্তাদের আগ্রহের বিষয়টিও এ আলোচনার বাইরে নয়।

  • এক দিনে ১০ প্রজ্ঞাপনে সচিব পর্যায়ে বড় পরিবর্তন
  • পদোন্নতি, বদলি ও ভারপ্রাপ্ত নিয়োগে নতুন নেতৃত্ব
  • প্রশাসনিক গতি, জবাবদিহি ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাড়তি প্রত্যাশা

গত রবিবারের (১৮ অক্টোবর) রদবদলকে এই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাবেন। দায়িত্বে থেকে প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে পদ আঁকড়ে থাকার সুযোগ সীমিত হতে পারে—এমন বার্তাও রয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এই পুনর্বিন্যাসে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বেও বদলের নজির
দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারেন—এমন বার্তা শুধু প্রশাসনের জন্যই নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আলোচনায় এনেছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনা সেই আলোচনার অংশ। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও পদত্যাগ করেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তা গৃহীত হয়।

এসব ঘটনা সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, প্রশাসনের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন একটি পদে থাকলেই সেই পদে অবস্থান স্থায়ী হয়ে যায় না; সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে কিংবা প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হলে অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

তবে সব বদলিই যে শাস্তিমূলক, তা নয়। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আকরাম হোসেনের মতে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্দেশ্য হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব আনা, দায়িত্বের ভারসাম্য তৈরি করা এবং কাজের গতি বাড়ানো। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলে শুধু বদলি বা সংযুক্তির ভিত্তিতে তাঁর কর্মদক্ষতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক নয়।

যাঁদের দায়িত্বে রদবদল
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানকে পাঠানো হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে সচিব মর্যাদায় জাতীয় প্রশাসন একাডেমির রেক্টর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ূন কবীরকে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব।

জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. কামরুজ্জামান হয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব। এ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে; এ পদে তিনি সচিব মর্যাদা পাবেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব।

এই পরিবর্তনে বাণিজ্য, নৌপরিবহন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের নেতৃত্বে নতুন বিন্যাস তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, জাতীয় প্রশাসন একাডেমি ও পরিকল্পনা কমিশনেও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হয়েছে। নতুন দায়িত্বে কর্মকর্তারা কতটা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে কী অগ্রগতি আনেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কতটা গতি ফেরাতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কি নতুন সংকেত?
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিতে সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দায়িত্ব দেওয়া এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

গত ১৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনেও দুজন অতিরিক্ত সচিবকে ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ে এমদাদুল হক চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এএসএম সালেহ আহমেদের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তও এ আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত আগস্টে সচিব ও সমমর্যাদার ৭৯ কর্মকর্তার মধ্যে ২৩ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ ওই সময় শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রায় ২৯ শতাংশই ছিলেন চুক্তিভিত্তিক। এই পরিসংখ্যান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপকতা তুলে ধরে।

পদ নয়, এবার কাজের পরীক্ষা?
ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগের মধ্য দিয়ে কর্মকর্তাদের বাস্তব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের নিয়োগকে পদোন্নতির নিশ্চয়তা কিংবা যোগ্যতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কার্যকর মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জনসেবার মান যাচাই।

পদোন্নতি ও পদায়নে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতার গুরুত্বও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বদলি করে প্রশাসনের গতি ফেরানো সম্ভব নয়; কর্মকর্তাদের কাজের ফলাফল পরিমাপের ব্যবস্থা না থাকলে রদবদলের উদ্দেশ্যও শেষ পর্যন্ত অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে।

এক দিনে ১০টি প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরকারের প্রত্যাশা ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মধ্যে নতুন করে হিসাব মেলানোর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা কতটা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারেন, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর হন এবং জনসেবায় কী ধরনের পরিবর্তন আনেন।

প্রশাসনের সামনে তাই মূল চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন পদে দায়িত্ব নেওয়া নয়, বরং সেই দায়িত্বের বাস্তব ফল দেখানো। রদবদলের পর কাজের গতি বাড়লে এবং মূল্যায়ন যদি হয় পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ভিত্তিতে, তবেই দক্ষতা ও জবাবদিহির বার্তা বাস্তবে রূপ পাবে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের এই ঝাঁকুনির সাফল্য নির্ধারিত হবে প্রজ্ঞাপনের সংখ্যায় নয়, সরকারি কাজে দৃশ্যমান পরিবর্তনে।

কালের আলো/জেএন/এএএন

জনসমর্থন ও জয়ের সক্ষমতা দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
জনসমর্থন ও জয়ের সক্ষমতা দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রার্থী বাছাই করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার আশ্বাস দিয়ে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের প্রায় সাড়ে ৪০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, যিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

সভায় উপস্থিত নেতাদের বরাতে জানা গেছে, প্রার্থী নির্বাচনে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, জনসমর্থন ও ভোটে জয়ের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিভেদ এড়িয়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনসমর্থন ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। তিনি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অপরাধ ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজেরাও কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। পরে নগরের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জেএম সেন হল ও র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলের সামনে নেতা-কর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। রাতে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, দলীয় ঐক্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, এলএনজি ও এলপিজি আমদানি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি গ্রিয়েবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, সার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ খাতের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জ্ঞান বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য আলজেরীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং সেগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি গ্রিয়েব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাকে তার সরকার যথাযথ গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্ভাবনাময় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি