কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। তুরস্কের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচে চোট পাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তবে আপাতত বড় কোনো দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না রিয়াল মাদ্রিদ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ফরাসি তারকাকে।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি খেললেও চলমান ফিফা উইন্ডোতে ফ্রান্সের বাকি ম্যাচগুলোতে আর দেখা যাবে না এমবাপ্পেকে। এরই মধ্যে জাতীয় দল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।
গোল করেই মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে
শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পায় ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন এমবাপ্পে। গোল করার কিছুক্ষণ পরই তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়।
এরপর তাঁর চোট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে ফ্রান্স দল ছেড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদ্রিদে ফিরে যান তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের মেডিক্যাল বিভাগে পরীক্ষা করার পর জানা যায়, এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুর পেছনের ক্যাপসুলে হাইপার এক্সটেনশনের চোট ধরা পড়েছে।
অন্তত দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোট থেকে সেরে উঠে মাঠে ফিরতে এমবাপ্পের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এই সময়টা যদি ধরে নেওয়া হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম ম্যাচেই তাঁর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আগামী ১০ অক্টোবর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে রিয়ালের।
তবে এমবাপ্পেকে নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না স্প্যানিশ ক্লাবটি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, দ্রুত মাঠে ফেরানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ।
জাতীয় দলের আর তিন ম্যাচ
চোটের কারণে চলমান ফিফা উইন্ডোতে ফ্রান্সের হয়ে আর মাঠে নামতে পারবেন না এমবাপ্পে। এই বিরতিতে ফ্রান্সের আরও তিনটি ম্যাচ রয়েছে।
আগামীকাল বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। এরপর ২ অক্টোবর ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ এবং ৫ অক্টোবর আবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
এই ম্যাচগুলোতে এমবাপ্পেকে ছাড়াই খেলতে হবে ফ্রান্সকে।
এল ক্লাসিকো ঘিরে স্বস্তি
এমবাপ্পের চোটের খবর রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কিছুটা উদ্বেগের হলেও সামনে বড় স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর আগেই এমবাপ্পে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রিয়ালের জন্য ম্যাচটি মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ফলে এমবাপ্পেকে দ্রুত ফেরানোর চেয়ে তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলাকেই অগ্রাধিকার দিতে পারে ক্লাবটি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই এমবাপ্পের মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অন্তত দুই সপ্তাহের অনুপস্থিতির সম্ভাবনার মধ্যেও ২৫ অক্টোবরের এল ক্লাসিকোর আগে তাঁকে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী রিয়াল মাদ্রিদ।
ছোটবেলায় খেলনার বাক্স থাকে প্রায় সবারই। তবে সেই খেলনার বাক্সের ধারণাকে বাস্তবে বদলে যদি কেউ তৈরি করেন একটি বিশাল গাড়ির শোরুম, গল্পটা তখন আর সাধারণ থাকে না। ফুটবল মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিলাসবহুল জীবনযাপনও বরাবরই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এবার নিজের ব্যক্তিগত গ্যারেজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
ইনস্টাগ্রামে মাত্র দুই শব্দের ক্যাপশন—‘মাই টয়েজ’। সঙ্গে ব্যক্তিগত গ্যারেজ থেকে তোলা তিনটি ছবি। পোস্টটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পেয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি লাইক। মন্তব্যও পড়েছে প্রায় চার লাখ। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, মাঠের বাইরে রোনালদোর গাড়ির সংগ্রহও তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের মতোই দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়।
গ্যারেজে যেন এক বিলাসবহুল শোরুম
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর ব্যক্তিগত গ্যারেজকে সাধারণ কোনো পার্কিং স্পেস বলার সুযোগ নেই। কালো চকচকে মেঝে, ছাদজুড়ে সরলরেখার এলইডি আলো এবং বিশাল জায়গাজুড়ে সাজানো গাড়িগুলো মিলিয়ে এটি অনেকটা বিলাসবহুল গাড়ির শোরুমের মতো।
একসঙ্গে এক ডজনেরও বেশি গাড়ি অনায়াসে রাখা যায় সেখানে। আর প্রতিটি গাড়িই যেন আলাদা গল্প বলে—কোনোটির উৎপাদন সীমিত, কোনোটি বিশেষ সংস্করণের, আবার কোনোটি বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন সংগ্রাহকের মালিকানায় রয়েছে।
রোনালদোর গ্যারেজে এখন গাড়ির সংখ্যা আনুমানিক ৪০ থেকে ৪১টি।
এক গ্যারেজেই বুগাত্তির রাজত্ব
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর সংগ্রহের অন্যতম বড় আকর্ষণ বুগাত্তি। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে বুগাত্তি ভেরন ১৬.৪ গ্র্যান্ড স্পোর্ট ভিতেস, বিশেষভাবে তৈরি একটি বুগাত্তি শিরন এবং নতুন বুগাত্তি তুরবিইয়োঁ।
তুরবিইয়োঁর দাম প্রায় ৩২ লাখ পাউন্ড। গাড়িটির উপস্থিতিই বোঝায়, রোনালদোর সংগ্রহে শুধু পরিচিত বিলাসবহুল গাড়িই নেই, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বিশেষ ও ব্যয়বহুল গাড়িগুলোরও জায়গা রয়েছে।
তবে বুগাত্তির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত গাড়িটি সেন্তোদিয়েচি। এটিই রোনালদোর সবচেয়ে দামি গাড়ি হিসেবে পরিচিত।
১০টি তৈরি, একটির মালিক রোনালদো
ছবি<< সংগৃহীত
বুগাত্তির ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেন্তোদিয়েচি তৈরি করা হয়েছিল। গাড়িটি নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি সুপারকার ইবি ১১০-এর প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্যও।
শুরু থেকেই এটি ছিল সীমিত সংস্করণের প্রকল্প। বুগাত্তি গাড়িটি তৈরি করেছে মাত্র ১০টি। ফলে বাজারে আসার আগেই এর দুর্লভতা নিশ্চিত হয়ে যায়।
শুরুতে গাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হিসাবে এর মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
সেন্তোদিয়েচির বিশেষত্ব শুধু দাম বা গতি নয়। সীমিত উৎপাদন, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্বতন্ত্র নকশা—সব মিলিয়ে এটি গাড়ি সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
১ হাজার ৬০০ হর্সপাওয়ারের দানব
ছবি<< সংগৃহীত
বুগাত্তি সেন্তোদিয়েচির বনেটের নিচে রয়েছে ৮ লিটারের ডব্লিউ১৬ ইঞ্জিন। চারটি টার্বোচার্জারের সমন্বয়ে ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে গাড়িটির সময় লাগে মাত্র ২.৪ সেকেন্ড। এর সর্বোচ্চ গতি প্রযুক্তিগতভাবে ঘণ্টায় ৩৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
এমন একটি গাড়ি বিশ্বের যেকোনো গাড়ি সংগ্রহের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে। রোনালদোর গ্যারেজে সেটিও যেন আরও অনেক বিশেষ গাড়ির ভিড়ে একটি অংশমাত্র।
ফেরারির সংগ্রহও কম নয়
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর গাড়ির তালিকায় ফেরারির উপস্থিতিও বেশ শক্তিশালী। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ফেরারি পুরোসাংগে, দাইতোনা এসপি ৩, মনৎসা এসপি ১, কালো ৫৯৯ জিটিও এবং লাফেরারি।
এর মধ্যে লাফেরারির দাম সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর মনৎসা এসপি ১ তৈরি হয়েছে পঞ্চাশের দশকের রেসিং কারের নকশা অনুসরণ করে। গাড়িটিতে নেই কোনো প্রচলিত ছাদ কিংবা সাধারণ উইন্ডশিল্ড। এর দাম প্রায় ১৮ লাখ ডলার।
মনৎসা এসপি ১ এবং দাইতোনা এসপি ৩—দুটিই ফেরারির সীমিত সংস্করণের ‘ইকোনা’ সিরিজের গাড়ি। এগুলো সাধারণ শোরুম থেকে ইচ্ছা করলেই কেনা যায় না; বরং ফেরারি নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে গাড়িগুলো বরাদ্দ করে।
ম্যাকলারেন সেনা থেকে স্পিডটেইল
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর সংগ্রহে রয়েছে ম্যাকলারেনেরও একাধিক বিশেষ গাড়ি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ম্যাকলারেন সেনা ও স্পিডটেইল।
ম্যাকলারেন সেনা তৈরি করা হয়েছে কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রেসিং চালক আইর্তন সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। বিশ্বজুড়ে গাড়িটির মাত্র ৫০০টি তৈরি করা হয়েছে।
শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এর সময় লাগে মাত্র ২.৮ সেকেন্ড। গাড়িটির দাম প্রায় ১০ লাখ ডলার।
বুগাত্তি, ফেরারি ও ম্যাকলারেনেই অবশ্য রোনালদোর সংগ্রহ শেষ নয়। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে লাম্বরগিনি আভেন্তাদর, পোর্শে ৯১১, বেন্টলি ফ্লাইং স্পার এবং ব্রাবাসের হাতে বিশেষভাবে সাজানো একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগন।
আল নাসর ক্লাব থেকে রোনালদো ও তাঁর সতীর্থদের উপহার হিসেবে পাওয়া বিএমডব্লিউও রয়েছে তাঁর গাড়ির তালিকায়।
অন্য কারও জন্য এমন একটি গাড়ি হয়তো বিশেষ উপহার। কিন্তু রোনালদোর মতো গাড়ি সংগ্রাহকের বিশাল বহরের তুলনায় সেটি খুব বড় সংযোজন নয়।
শুধু অর্থ নয়, পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ
রোনালদো নিজেই তাঁর গাড়ির সংখ্যা নিয়ে কখনো বিশেষ রাখঢাক করেননি। কতগুলো গাড়ি রয়েছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি একবার বলেছিলেন, অনুমান করলে সংখ্যাটি ৪০ বা ৪১টি হতে পারে। বুগাত্তির গাড়ির প্রতি নিজের বিশেষ পছন্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর পুরো গাড়ি সংগ্রহের মূল্য আনুমানিক ৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রোনালদোর গ্যারেজকে শুধু বিপুল অর্থের প্রদর্শন হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। কারণ তাঁর সংগ্রহের বেশ কিছু গাড়ি এমন, যেগুলো অর্থ থাকলেই সাধারণভাবে কেনা সম্ভব নয়।
সব গাড়ি টাকা থাকলেই কেনা যায় না
ছবি<< সংগৃহীত
মনৎসা এসপি ১, দাইতোনা এসপি ৩ কিংবা মার্সিডিজ এএমজি ওয়ানের মতো গাড়ি সাধারণ কোনো শোরুম থেকে চাইলেই কেনা যায় না। এগুলোর উৎপাদন সীমিত এবং নির্দিষ্ট ক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
বিশেষ করে এএমজি ওয়ান এমন একটি গাড়ি, যার উৎপাদন সংখ্যা মাত্র ২৭৫টি। ফলে শুধু অর্থের সামর্থ্য থাকলেই গাড়িটির মালিক হওয়া যায় না।
এ কারণেই রোনালদোর গ্যারেজের গল্পটা শুধু একজন ধনী ফুটবলারের দামি গাড়ি কেনার গল্প নয়। এখানে রয়েছে বিরল গাড়ি বেছে নেওয়া, সীমিত সংস্করণের মডেল সংগ্রহ করা এবং অটোমোবাইল জগতের বিশেষ ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ।
একজন ধনী ব্যক্তি অনেক দামি জিনিস কিনতে পারেন। কিন্তু রোনালদোর গ্যারেজে থাকা গাড়িগুলোর বৈচিত্র্য, দুর্লভতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সেটিকে অন্য অনেক সংগ্রহ থেকে আলাদা করে।
ফুটবল মাঠে রোনালদোর ট্রফি ও রেকর্ড যেমন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয়, তেমনি মাঠের বাইরে তাঁর এই গাড়ির সংগ্রহও হয়ে উঠেছে তাঁর বিলাসী রুচি ও গাড়ির প্রতি গভীর আগ্রহের অন্যতম পরিচায়ক।
সংবিধানে কোনো মৌলিক সংশোধন আনা হলে তা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণমাধ্যমের মতামত জানতে বিশেষ কমিটির এটি ছিল তৃতীয় দফার বৈঠক। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান ও বক্তব্য জানতে চান গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পরিবর্তনের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে।
যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা
মুস্তাফিজ শফির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সরকারি নিয়োগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সনদে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট স্বাক্ষর করে।
জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেছিল।
প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর ওই আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার কথা ছিল।
তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর ওই সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়নি এবং দলটির সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা নাম দেয়নি।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দুই দেশ। দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। বিশেষ করে চীনের ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর দুই দেশের সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চীনা দূতাবাস সেতু হিসেবে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে চীন দৃঢ় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু।
আপনার মতামত লিখুন
Array