বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বিচারিক সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কাজ করছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের উদ্যোগ
আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, সংস্কারের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি সময়োপযোগী ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী।
প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর এ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সালমান। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান ওরফে রাফসান দ্য ছোটভাই।
সালমানের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন রাফসান। একই সঙ্গে স্টুডিওটি নিজের শ্রম, ঘাম ও ভালোবাসায় গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ করে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সালমানের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাফসান লিখেছেন, বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তিনি সালমান মুক্তাদিরকে অনুসরণ করেছেন। একজন ভক্ত হিসেবে সালমানের প্রথম ৫০ হাজার সাবস্ক্রাইবারের সময় থেকেই তাঁকে দেখেছেন তিনি।
এরপর সালমানকে দেশের অন্যতম বড় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আইকনে পরিণত হতে এবং জীবনে নানা অর্জন করতে দেখেছেন রাফসান। পরবর্তী সময়ে বাস্তব জীবনেও সালমানকে কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাফসানের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ।
‘এটা দেখে আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে’
সালমানের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন রাফসান। তিনি বলেন, সালমান নিজের শ্রম, ঘাম ও ভালোবাসা দিয়ে স্টুডিওটি গড়ে তুলেছেন। পরে সেটিকে দেশের অন্যতম সেরা স্টুডিওতে পরিণত করেছেন।
রাফসান তাঁর পোস্টে সালমানের উদ্দেশে সাহস জোগাতে বলেন, এই ঘটনা তাঁর পথচলা থামিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি লেখেন, ‘ভাইয়া, এটা কিছুই না, তারা সালমান মুক্তাদিরকে চেনে না। আপনি আরও অনেক বড় হবেন, ইনশা আল্লাহ। আপনাকে কেউ থামাতে পারবে না।’
স্টুডিওতে ভাঙচুরের অভিযোগ
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান।
ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন অংশের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি। সেখানে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’
ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ার-টেবিলসহ সরঞ্জাম
প্রকাশিত ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
এ সময় স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকেও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। হামলার ঘটনায় স্টুডিওর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।
সহকর্মীদের সমর্থন
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। রাফসান দ্য ছোটভাইও তাঁর পোস্টের মাধ্যমে সালমানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এর আগে অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাদিয়া আয়মানও ঘটনাটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সালমানের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের পর এখন ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সালমান।
ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সালমানের স্টুডিওতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ ও ‘মেনে নেওয়ার মতো নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘এমন আচরণের মোটেও প্রাপ্য নন’
আজ ভোররাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাদিয়া আয়মান সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সমর্থন জানান। একই সঙ্গে স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সাদিয়া লিখেছেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাঁর ভাষ্য, সালমানের মতো একজন মানুষ এ ধরনের আচরণের মোটেও প্রাপ্য নন।
পোস্টে সাদিয়া চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা ভালো কিছু সহ্য করতে পারে না। ঘটনাটিকে তিনি লজ্জাজনক ও দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
সাদিয়ার ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১২ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া এবং এক হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে।
মন্তব্যের ঘরে অনেকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে সাদিয়ার পোস্ট এবং সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে সমালোচনাও করেছেন অনেকে।
এসব মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন সাদিয়া আয়মান।
সমালোচনার জবাব সাদিয়ার
মন্তব্যের ঘরে দেওয়া এক জবাবে সাদিয়া আয়মান সমালোচকদের উদ্দেশে আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মন্তব্যকারীদের একাংশকে ‘ফ্রাস্ট্রেটেড’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর পোস্টের উদ্দেশ্য নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন।
সাদিয়া বলেন, যাদের উদ্দেশে তাঁর পোস্ট, তাদের কেউ কেউ মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্যগুলো ভবিষ্যতেও থেকে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তাঁর ওই মন্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্টুডিওতে কী ঘটেছিল
সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে তাঁর স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। চাঁদাবাজির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সালমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।
চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা গেছে। স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকেও সেখানে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়।
এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং হামলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
ছোটবেলায় খেলনার বাক্স থাকে প্রায় সবারই। তবে সেই খেলনার বাক্সের ধারণাকে বাস্তবে বদলে যদি কেউ তৈরি করেন একটি বিশাল গাড়ির শোরুম, গল্পটা তখন আর সাধারণ থাকে না। ফুটবল মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিলাসবহুল জীবনযাপনও বরাবরই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এবার নিজের ব্যক্তিগত গ্যারেজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
ইনস্টাগ্রামে মাত্র দুই শব্দের ক্যাপশন—‘মাই টয়েজ’। সঙ্গে ব্যক্তিগত গ্যারেজ থেকে তোলা তিনটি ছবি। পোস্টটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পেয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি লাইক। মন্তব্যও পড়েছে প্রায় চার লাখ। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, মাঠের বাইরে রোনালদোর গাড়ির সংগ্রহও তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের মতোই দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়।
গ্যারেজে যেন এক বিলাসবহুল শোরুম
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর ব্যক্তিগত গ্যারেজকে সাধারণ কোনো পার্কিং স্পেস বলার সুযোগ নেই। কালো চকচকে মেঝে, ছাদজুড়ে সরলরেখার এলইডি আলো এবং বিশাল জায়গাজুড়ে সাজানো গাড়িগুলো মিলিয়ে এটি অনেকটা বিলাসবহুল গাড়ির শোরুমের মতো।
একসঙ্গে এক ডজনেরও বেশি গাড়ি অনায়াসে রাখা যায় সেখানে। আর প্রতিটি গাড়িই যেন আলাদা গল্প বলে—কোনোটির উৎপাদন সীমিত, কোনোটি বিশেষ সংস্করণের, আবার কোনোটি বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন সংগ্রাহকের মালিকানায় রয়েছে।
রোনালদোর গ্যারেজে এখন গাড়ির সংখ্যা আনুমানিক ৪০ থেকে ৪১টি।
এক গ্যারেজেই বুগাত্তির রাজত্ব
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর সংগ্রহের অন্যতম বড় আকর্ষণ বুগাত্তি। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে বুগাত্তি ভেরন ১৬.৪ গ্র্যান্ড স্পোর্ট ভিতেস, বিশেষভাবে তৈরি একটি বুগাত্তি শিরন এবং নতুন বুগাত্তি তুরবিইয়োঁ।
তুরবিইয়োঁর দাম প্রায় ৩২ লাখ পাউন্ড। গাড়িটির উপস্থিতিই বোঝায়, রোনালদোর সংগ্রহে শুধু পরিচিত বিলাসবহুল গাড়িই নেই, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বিশেষ ও ব্যয়বহুল গাড়িগুলোরও জায়গা রয়েছে।
তবে বুগাত্তির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত গাড়িটি সেন্তোদিয়েচি। এটিই রোনালদোর সবচেয়ে দামি গাড়ি হিসেবে পরিচিত।
১০টি তৈরি, একটির মালিক রোনালদো
ছবি<< সংগৃহীত
বুগাত্তির ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেন্তোদিয়েচি তৈরি করা হয়েছিল। গাড়িটি নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি সুপারকার ইবি ১১০-এর প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্যও।
শুরু থেকেই এটি ছিল সীমিত সংস্করণের প্রকল্প। বুগাত্তি গাড়িটি তৈরি করেছে মাত্র ১০টি। ফলে বাজারে আসার আগেই এর দুর্লভতা নিশ্চিত হয়ে যায়।
শুরুতে গাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হিসাবে এর মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
সেন্তোদিয়েচির বিশেষত্ব শুধু দাম বা গতি নয়। সীমিত উৎপাদন, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্বতন্ত্র নকশা—সব মিলিয়ে এটি গাড়ি সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
১ হাজার ৬০০ হর্সপাওয়ারের দানব
ছবি<< সংগৃহীত
বুগাত্তি সেন্তোদিয়েচির বনেটের নিচে রয়েছে ৮ লিটারের ডব্লিউ১৬ ইঞ্জিন। চারটি টার্বোচার্জারের সমন্বয়ে ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে গাড়িটির সময় লাগে মাত্র ২.৪ সেকেন্ড। এর সর্বোচ্চ গতি প্রযুক্তিগতভাবে ঘণ্টায় ৩৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
এমন একটি গাড়ি বিশ্বের যেকোনো গাড়ি সংগ্রহের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে। রোনালদোর গ্যারেজে সেটিও যেন আরও অনেক বিশেষ গাড়ির ভিড়ে একটি অংশমাত্র।
ফেরারির সংগ্রহও কম নয়
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর গাড়ির তালিকায় ফেরারির উপস্থিতিও বেশ শক্তিশালী। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ফেরারি পুরোসাংগে, দাইতোনা এসপি ৩, মনৎসা এসপি ১, কালো ৫৯৯ জিটিও এবং লাফেরারি।
এর মধ্যে লাফেরারির দাম সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর মনৎসা এসপি ১ তৈরি হয়েছে পঞ্চাশের দশকের রেসিং কারের নকশা অনুসরণ করে। গাড়িটিতে নেই কোনো প্রচলিত ছাদ কিংবা সাধারণ উইন্ডশিল্ড। এর দাম প্রায় ১৮ লাখ ডলার।
মনৎসা এসপি ১ এবং দাইতোনা এসপি ৩—দুটিই ফেরারির সীমিত সংস্করণের ‘ইকোনা’ সিরিজের গাড়ি। এগুলো সাধারণ শোরুম থেকে ইচ্ছা করলেই কেনা যায় না; বরং ফেরারি নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে গাড়িগুলো বরাদ্দ করে।
ম্যাকলারেন সেনা থেকে স্পিডটেইল
ছবি<< সংগৃহীত
রোনালদোর সংগ্রহে রয়েছে ম্যাকলারেনেরও একাধিক বিশেষ গাড়ি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ম্যাকলারেন সেনা ও স্পিডটেইল।
ম্যাকলারেন সেনা তৈরি করা হয়েছে কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রেসিং চালক আইর্তন সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। বিশ্বজুড়ে গাড়িটির মাত্র ৫০০টি তৈরি করা হয়েছে।
শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এর সময় লাগে মাত্র ২.৮ সেকেন্ড। গাড়িটির দাম প্রায় ১০ লাখ ডলার।
বুগাত্তি, ফেরারি ও ম্যাকলারেনেই অবশ্য রোনালদোর সংগ্রহ শেষ নয়। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে লাম্বরগিনি আভেন্তাদর, পোর্শে ৯১১, বেন্টলি ফ্লাইং স্পার এবং ব্রাবাসের হাতে বিশেষভাবে সাজানো একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগন।
আল নাসর ক্লাব থেকে রোনালদো ও তাঁর সতীর্থদের উপহার হিসেবে পাওয়া বিএমডব্লিউও রয়েছে তাঁর গাড়ির তালিকায়।
অন্য কারও জন্য এমন একটি গাড়ি হয়তো বিশেষ উপহার। কিন্তু রোনালদোর মতো গাড়ি সংগ্রাহকের বিশাল বহরের তুলনায় সেটি খুব বড় সংযোজন নয়।
শুধু অর্থ নয়, পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ
রোনালদো নিজেই তাঁর গাড়ির সংখ্যা নিয়ে কখনো বিশেষ রাখঢাক করেননি। কতগুলো গাড়ি রয়েছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি একবার বলেছিলেন, অনুমান করলে সংখ্যাটি ৪০ বা ৪১টি হতে পারে। বুগাত্তির গাড়ির প্রতি নিজের বিশেষ পছন্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর পুরো গাড়ি সংগ্রহের মূল্য আনুমানিক ৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রোনালদোর গ্যারেজকে শুধু বিপুল অর্থের প্রদর্শন হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। কারণ তাঁর সংগ্রহের বেশ কিছু গাড়ি এমন, যেগুলো অর্থ থাকলেই সাধারণভাবে কেনা সম্ভব নয়।
সব গাড়ি টাকা থাকলেই কেনা যায় না
ছবি<< সংগৃহীত
মনৎসা এসপি ১, দাইতোনা এসপি ৩ কিংবা মার্সিডিজ এএমজি ওয়ানের মতো গাড়ি সাধারণ কোনো শোরুম থেকে চাইলেই কেনা যায় না। এগুলোর উৎপাদন সীমিত এবং নির্দিষ্ট ক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
বিশেষ করে এএমজি ওয়ান এমন একটি গাড়ি, যার উৎপাদন সংখ্যা মাত্র ২৭৫টি। ফলে শুধু অর্থের সামর্থ্য থাকলেই গাড়িটির মালিক হওয়া যায় না।
এ কারণেই রোনালদোর গ্যারেজের গল্পটা শুধু একজন ধনী ফুটবলারের দামি গাড়ি কেনার গল্প নয়। এখানে রয়েছে বিরল গাড়ি বেছে নেওয়া, সীমিত সংস্করণের মডেল সংগ্রহ করা এবং অটোমোবাইল জগতের বিশেষ ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ।
একজন ধনী ব্যক্তি অনেক দামি জিনিস কিনতে পারেন। কিন্তু রোনালদোর গ্যারেজে থাকা গাড়িগুলোর বৈচিত্র্য, দুর্লভতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সেটিকে অন্য অনেক সংগ্রহ থেকে আলাদা করে।
ফুটবল মাঠে রোনালদোর ট্রফি ও রেকর্ড যেমন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয়, তেমনি মাঠের বাইরে তাঁর এই গাড়ির সংগ্রহও হয়ে উঠেছে তাঁর বিলাসী রুচি ও গাড়ির প্রতি গভীর আগ্রহের অন্যতম পরিচায়ক।
আপনার মতামত লিখুন
Array