খুঁজুন
                               
, ,
           

সালমানের স্টুডিওতে হামলা, পাশে রাফসান

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
সালমানের স্টুডিওতে হামলা, পাশে রাফসান

চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সালমান। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান ওরফে রাফসান দ্য ছোটভাই।

সালমানের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন রাফসান। একই সঙ্গে স্টুডিওটি নিজের শ্রম, ঘাম ও ভালোবাসায় গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ করে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সালমানের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাফসান লিখেছেন, বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তিনি সালমান মুক্তাদিরকে অনুসরণ করেছেন। একজন ভক্ত হিসেবে সালমানের প্রথম ৫০ হাজার সাবস্ক্রাইবারের সময় থেকেই তাঁকে দেখেছেন তিনি।

এরপর সালমানকে দেশের অন্যতম বড় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আইকনে পরিণত হতে এবং জীবনে নানা অর্জন করতে দেখেছেন রাফসান। পরবর্তী সময়ে বাস্তব জীবনেও সালমানকে কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাফসানের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ।

‘এটা দেখে আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে’

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন রাফসান। তিনি বলেন, সালমান নিজের শ্রম, ঘাম ও ভালোবাসা দিয়ে স্টুডিওটি গড়ে তুলেছেন। পরে সেটিকে দেশের অন্যতম সেরা স্টুডিওতে পরিণত করেছেন।

রাফসান তাঁর পোস্টে সালমানের উদ্দেশে সাহস জোগাতে বলেন, এই ঘটনা তাঁর পথচলা থামিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি লেখেন, ‘ভাইয়া, এটা কিছুই না, তারা সালমান মুক্তাদিরকে চেনে না। আপনি আরও অনেক বড় হবেন, ইনশা আল্লাহ। আপনাকে কেউ থামাতে পারবে না।’

স্টুডিওতে ভাঙচুরের অভিযোগ

শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান।

ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন অংশের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি। সেখানে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ার-টেবিলসহ সরঞ্জাম

প্রকাশিত ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।

এ সময় স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকেও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। হামলার ঘটনায় স্টুডিওর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।

সহকর্মীদের সমর্থন

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। রাফসান দ্য ছোটভাইও তাঁর পোস্টের মাধ্যমে সালমানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এর আগে অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাদিয়া আয়মানও ঘটনাটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সালমানের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের পর এখন ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইউআইইউর চতুর্থ হওয়ার গল্প

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইউআইইউর চতুর্থ হওয়ার গল্প

স্রেফ একটি ধারণা আর পাঁচজন সদস্যকে নিয়ে ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ‘ইউআইইউ এরিয়াল রোবোটিকস টিম’ (ইউআরটি)। দুই বছরের ব্যবধানে সেই দলই আন্তর্জাতিক ড্রোন প্রতিযোগিতায় বড় সাফল্য পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রোবোনেশন আয়োজিত ‘স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় ৬৫১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছে ইউআইইউর শিক্ষার্থীদের দল। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার টালসায় স্কাইওয়ে রেঞ্জে ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব।

ইউআইইউর দলটির এই সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দলের জনসংযোগ ও বিপণন বিভাগের প্রধান মাইসুন জহির।

লক্ষ্য ছিল বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরা

২০২৪ সালে টি এম আল আনামসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলামের সহায়তায় ইউআরটির যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই দলের লক্ষ্য ছিল আনম্যানড এরিয়াল রোবোটিকস প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

শুরুর দিকে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিকল্পনা থেমে থাকেনি। ২০২৫ সালে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় হার্ডওয়্যার উন্নয়ন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউআইইউ ক্যাম্পাসে নিজস্ব ল্যাবরেটরির জন্য জায়গা পাওয়ার পর দলের কার্যক্রমে আসে বড় পরিবর্তন। নতুন সদস্য যুক্ত হয়ে দলটি ২২ জনের একটি শক্তিশালী দলে পরিণত হয়।

মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সফটওয়্যার অ্যান্ড নেভিগেশন, কমিউনিকেশন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) এবং জনসংযোগ ও বিপণন (পিআর অ্যান্ড মার্কেটিং)—ছয়টি উপদলে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

তৈরি হয় স্বয়ংক্রিয় ড্রোন

দলের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার টালসায় অনুষ্ঠিত রোবোনেশনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস ২০২৬’-এ অংশ নেওয়া।

অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার ভিশন, এমবেডেড সিস্টেম ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমন্বয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন তৈরি করতে মাসের পর মাস কাজ করেন ইউআইইউর শিক্ষার্থীরা।

ড্রোনটিতে যুক্ত করা হয় পূর্বনির্ধারিত মিশন রুট অনুসরণের জন্য স্বায়ত্তশাসিত নেভিগেশন ব্যবস্থা। ভৌগোলিক তথ্য ও ছবি সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয় এরিয়াল ম্যাপিং প্রযুক্তি। বস্তু শনাক্তকরণের জন্য যুক্ত করা হয় কম্পিউটার ভিশন ও ডেটাসেট মডেল। পাশাপাশি সেন্সিং সিস্টেমের মাধ্যমে বাধা শনাক্ত ও এড়িয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ল্যাবে রাত জেগে প্রস্তুতি

প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ল্যাবে কাজ করতে হয়েছে। দলের সদস্যরা দিনের পাশাপাশি রাতেও কাজ করেছেন। দলের নারী সদস্যরা বাসায় ফেরার পরও গুগল মিটে যুক্ত থেকে কাজ চালিয়ে গেছেন।

প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষকেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখোমুখি করেছেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন ঘাটতি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত আট সদস্যের একটি দলের সামনেও ইউআইইউর দলকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ পান তাঁরা।

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পেরেছিলেন পাঁচজন

১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ইউআইইউর পাঁচজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পেরেছিলেন। ভিসার নতুন নিয়মকানুনের কারণে দলের সব সদস্যের যাওয়া সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পাঁচজন হলেন কো-টিম লিড আহমেদ জুনায়েদ, মেকানিক্যাল টিমের মুক্তাদিরুল ইসলাম ও দিগন্ত কর্মকার, নেভিগেশন লিড ফাহাদ রহমান এবং কমিউনিকেশন লিড ইফতা ফয়সাল। দলের মেন্টর হিসেবে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রিয়াসাত আজিম।

তবে সশরীরে পাঁচজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও বাংলাদেশে থাকা দলের অন্য সদস্যরা প্রতিযোগিতার পুরো সময় তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রভাষক আজিজুর রহমানের দিকনির্দেশনায় সময়ের পার্থক্য সামলে গুগল মিটের মাধ্যমে তাঁরা দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

প্রতিযোগিতার আগে বড় ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও দলটিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও চাপের কারণে দলের প্রতিযোগীরা তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাননি।

এর মধ্যেই প্রতিযোগিতার কিছুক্ষণ আগে ড্রোনের ‘পেলোড ড্রপ সিস্টেমে’ ত্রুটি দেখা দেয়। প্রতিযোগিতায় এই অংশের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নম্বর নির্ভর করছিল।

আগের প্রতিযোগিতাগুলোতে ড্রোন ক্র্যাশ করার অভিজ্ঞতাও ছিল দলের। ফলে শেষ মুহূর্তের এই ত্রুটিতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ আরও বেড়ে যায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রতিযোগী সদস্য এবং বাংলাদেশে থাকা দলের অন্য সদস্যরা একটানা কাজ করে সমস্যাটি সমাধান করতে সক্ষম হন।

বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে লড়াই

এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বজুড়ে ৮৫টি দল নিবন্ধন করেছিল। সেখান থেকে বাছাই করা ১০ দেশের ৬৪টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইউআইইউ।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল। এর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ভার্জিনিয়া টেক, মোনাশ ইউনিভার্সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান।

প্রথমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইউআইইউর দলকে বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়।

ফল ঘোষণার সেই মুহূর্ত

ফল ঘোষণার সময় বাংলাদেশে তখন ভোর ৪টা ২৬ মিনিট। ইউআইইউর দলের সদস্যরা সবাই গুগল মিটে যুক্ত হয়ে ফল ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন।

একপর্যায়ে চতুর্থ স্থান হিসেবে ইউআইইউর নাম ঘোষণা করা হয়। দলের সদস্যদের কাছে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে বিশেষ স্মরণীয়।

‘মিশন ডেমোনস্ট্রেশনে’ ৬৫১ পয়েন্ট অর্জন করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করে ইউআইইউ। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই এমন ফলাফল দলটির ভবিষ্যৎ কাজের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই বছর আগে মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হওয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক দল এভাবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। ইউআইইউর শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তরুণদের আনম্যানড এরিয়াল রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলতে পারে।

কালের আলো/এসএ

এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যু সম্ভব: বিল গেটস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যু সম্ভব: বিল গেটস

এআইয়ের ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটানো সম্ভব, যার পরিণতিতে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর মতে, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এ জন্য সরকারের আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবহারের ওপর কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা কীভাবে তৈরি ও নজরদারি করা হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বেচ্ছানির্ভর নিরাপত্তায় আস্থা নয়

বিল গেটসের মতে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করবে—শুধু এমন প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। বরং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে উন্নত এআই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ে আইন করা প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি সম্মতি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের নিরাপত্তা ও নজরদারি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাজনীতিবিদদেরও আলোচনায় যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

উন্নত এআই ভুল হাতে যাওয়ার আশঙ্কা

বিল গেটস মনে করেন, এআই নিয়ন্ত্রণে আইন করা হলে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এর ফলে প্রযুক্তির উন্নয়ন থেমে যাবে না।

বরং যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে আরও উন্নত এআই প্রযুক্তি এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

প্রযুক্তি খাতেও নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও আলোচনা করছেন। ইতিমধ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক আইন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

আমোদেইয়ের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় উন্নত এআই ব্যবস্থার উন্নয়ন ধীর করতে রাজি না হলেও সরকারের নির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়ম তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চূড়ান্ত নয়

এআই নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের অভিন্ন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এর আগে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে তাড়াহুড়া করে এআই–সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিন্ন কাঠামো চূড়ান্ত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতিমধ্যে এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।

এ অবস্থায় বিল গেটসের মন্তব্য এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং সরকারি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

কোপাইলটে এবার সফটওয়্যার বানাবে এআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
কোপাইলটে এবার সফটওয়্যার বানাবে এআই

চ্যাটবট থেকে পূর্ণাঙ্গ কাজের প্ল্যাটফর্ম

প্রোগ্রামিং কোড তৈরি, সফটওয়্যার নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের সুবিধা যুক্ত করে কোপাইলট অ্যাপ নতুন করে সাজিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন সংস্করণে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টও সরাসরি কোপাইলটের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আলাদা অ্যাপ চালু না করেই নথি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা তৈরির মতো কাজ করা সম্ভব হবে।

চ্যাটভিত্তিক এআই সহকারী হিসেবে পরিচিত কোপাইলটকে আরও বিস্তৃত কাজের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব সুবিধা যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই সেবাগুলো চ্যাটের পাশাপাশি কোড তৈরি ও স্বয়ংক্রিয় কাজের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ায় কোপাইলটেও একই ধরনের সুবিধা যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন কোপাইলটের প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হোম’, ‘কোড’ ও ‘অটোপাইলট’।

এক জায়গায় চ্যাট ও কোওয়ার্ক

কোপাইলটের ‘হোম’ অংশে চ্যাট ও ‘কোওয়ার্ক’ সুবিধা এক জায়গায় রাখা হয়েছে। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, কোনো বিষয়ের খসড়া তৈরি কিংবা দ্রুত তথ্য খোঁজার মতো কাজে চ্যাট ব্যবহার করা যাবে।

অন্যদিকে একাধিক ধাপের জটিল কাজ কোওয়ার্কের মাধ্যমে কোপাইলটকে দিয়ে করানো যাবে। ফলে ব্যবহারকারীকে প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক জটিল কাজও এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রোগ্রামিং না জেনেও সফটওয়্যার

নতুন কোপাইলটের ‘কোড’ সুবিধার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান না থাকলেও সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিয়ে অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড ও বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করা যাবে।

এই সুবিধার পেছনে গিটহাব কোপাইলটে ব্যবহৃত একই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। এর ফলে কারিগরি জ্ঞান কম থাকা কর্মীরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো সফটওয়্যার কিংবা স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবেন।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রন্টিয়ার প্রোগ্রামের আওতায় ‘কোড’ সুবিধাটি ধীরে ধীরে চালু করা হবে।

ব্যবহারকারী না থাকলেও কাজ করবে অটোপাইলট

নতুন কোপাইলটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ‘অটোপাইলট’। এটি এমন একটি এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সামনে না থাকলেও নির্ধারিত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

জুন মাসে মাইক্রোসফট উন্মোচন করা ‘স্কাউট’ এআই এজেন্টের নতুন সংস্করণ হিসেবে অটোপাইলটকে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটিকে এক ধরনের ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরিতে অটোপাইলটের আলাদা পরিচয় থাকবে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও দেওয়া যাবে। কোন কোন কাজ এআই এজেন্টটি করতে পারবে, সেটি ব্যবহারকারীরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

মাইক্রোসফটের কোপাইলট বিভাগের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানি পার্ল বলেন, নিরাপত্তা, আইন মেনে চলা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট ব্যবহার করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই অটোপাইলট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপরিবেশে যাতে এ ধরনের এআই এজেন্ট ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই সুবিধাটি তৈরি করা হয়েছে।

অটোপাইলট সুবিধা চলতি মাসের শেষ দিকে ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।

কোপাইলটের মধ্যেই অফিস অ্যাপ

নতুন কোপাইলট সংস্করণে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট। ফলে ব্যবহারকারীরা কোপাইলটের ভেতর থেকেই সম্পাদনাযোগ্য নথি, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং হালনাগাদ করতে পারবেন।

এসব ফাইলে একই দলের অন্য সদস্যরাও কাজ করতে পারবেন। ব্যবহারকারীদের করা পরিবর্তনগুলো মাইক্রোসফটের সংশ্লিষ্ট অফিস অ্যাপের সঙ্গেও সমন্বিত থাকবে।

এর ফলে একটি নথি তৈরি করতে কোপাইলট থেকে আলাদা করে ওয়ার্ড, এক্সেল বা পাওয়ারপয়েন্টে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।

এআই ব্যবহারের খরচও দেখা যাবে

কোপাইলটের নতুন সংস্করণে এআই ব্যবহারের খরচ ব্যবস্থাপনার সুবিধাও যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এআই ও এআই এজেন্ট ব্যবহারের কারণে কত খরচ হচ্ছে, সে সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। এর সঙ্গে অপ্রত্যাশিত খরচও বাড়তে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতে এআই ব্যবহারের ব্যয়ের ওপর নজর রাখার এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন কোপাইলটকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা লেখা তৈরির চ্যাটভিত্তিক সহকারী হিসেবে নয়, বরং সফটওয়্যার তৈরি, নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পাদনের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলছে মাইক্রোসফট।

কালের আলো/এসএ