খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক শীর্ষে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক শীর্ষে

আলো, গতি, অর্থনীতি ও সম্ভাবনার শহরগুলোর প্রতিযোগিতায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। বিশ্বের এক হাজার শহরকে পেছনে ফেলে সেরা শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মহানগর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং তৃতীয় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে’ বিশ্বের শহরগুলোর অবস্থানের এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি নিউজ।

শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি, মানবসম্পদ, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান। এসব সূচকের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বিশ্বের এক হাজার শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূচকের শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের পর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন সপ্তম, সান হোসে অষ্টম, জাপানের টোকিও নবম এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ দশম অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষ মানবসম্পদে লন্ডন এগিয়ে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষকে আকৃষ্ট করার সক্ষমতা। এর ফলে এসব শহরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রাতেও বিভিন্ন দেশের প্রভাব দেখা যায়।

মানবসম্পদের দিক থেকে সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে লন্ডন। শহরটির প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দা বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষের উপস্থিতি লন্ডনের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে মানবসম্পদের দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ শহরটির দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় প্যারিস

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে প্যারিসের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। শহরটিতে প্রায় ১৩০টি জাদুঘর রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও বিনোদনের নানা সুযোগ প্যারিসকে বৈশ্বিক শহরগুলোর মধ্যে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

সিয়াটলও শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শহরটির পরিবেশ ও বসবাসের সুযোগও সূচকে বিবেচনায় এসেছে।

পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা

শীর্ষ শহরগুলো পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। লন্ডনের কনজেশন চার্জ এবং আল্ট্রা-লো এমিশন জোন শহরের যানজট ও বায়ুদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

সান ফ্রান্সিসকোর উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে। ফলে পরিবেশগত সূচকেও শহরটি ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে।

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনও পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু-নিরপেক্ষ শহরে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শহরটি।

প্রযুক্তিতে এগিয়ে সান হোসে

শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান হোসে সিলিকন ভ্যালির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতির কারণে মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে সূচকে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকোতেও প্রযুক্তির ব্যবহার নগরজীবনে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। শহরটিতে চালকবিহীন গাড়ির ব্যবহারও এখন নগর পরিবহনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারেও কিছু শহর দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনকে এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ‘সিটিজ টু ওয়াচ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় শহরটির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে সূচকটি।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এই সূচক দেখিয়েছে, একটি শহরকে বৈশ্বিকভাবে সফল হতে শুধু শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেই হয় না। দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর শাসনব্যবস্থা, পরিবেশগত উদ্যোগ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

১১ প্রকল্পে একসঙ্গে পিডি বদল, নেপথ্যে কারা?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
১১ প্রকল্পে একসঙ্গে  পিডি বদল, নেপথ্যে কারা?

একসঙ্গে ১১ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) বদলের উদ্যোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে (ডিএই)। নতুন পিডি নিয়োগের জন্য পাঠানো তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একই সময়ে কেন নেতৃত্ব বদলের প্রয়োজন হলো, আর সুপারিশের ভিত্তিই বা কী? পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত পুরো প্রক্রিয়া থামিয়ে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তালিকাটি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এর মধ্যেই সামনে এসেছে পিডি পদকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার, বদলিবাণিজ্য এবং পছন্দের কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বসানোর নানা অভিযোগ।

  • ডিএইর তালিকা ঘিরে অসন্তোষ
  • বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম নিয়ে প্রশ্ন
  • আপাতত সবুজ সংকেত নেই মন্ত্রণালয়ের

এক ঝটকায় ১১ প্রকল্পে রদবদল
ডিএইর পাঠানো তালিকায় পার্টনার, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ, কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস, রংপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন এবং ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্টসহ ১১টি প্রকল্প রয়েছে।

একসঙ্গে এতগুলো প্রকল্পের নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এসব প্রকল্পের আর্থিক পরিসর যেমন বড়, তেমনি মাঠপর্যায়ে কৃষি উন্নয়নেও রয়েছে প্রত্যক্ষ প্রভাব।

তালিকায় বিতর্কিত নাম
ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান পিডি আব্দুল কায়ূম মজুমদারকে সরিয়ে বান্দরবনে কর্মরত অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আব্দুল গফফারকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে আর্থিক অনিয়মের কারণে তিনি শাস্তি পেয়েছিলেন।

সম্প্রতি একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আবেদনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেওয়া এবং বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে। স্মলহোল্ডার অ্যাগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পের ডিএই উইংয়ের পিডি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবুল বাসার মিয়াকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, একই প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করা মনিটরিং অফিসার ও উপপ্রকল্প পরিচালকের চেয়েও তিনি জুনিয়র। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ।

পিডি পদ ঘিরে চাপের অভিযোগ
কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা প্রকল্পের পিডি হিসেবে সুপারিশের শীর্ষে রয়েছেন মাশরুম প্রকল্পের দীর্ঘদিনের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান। সম্প্রতি রংপুরে বদলি হওয়া মো. আকলিমুজ্জামানকে আবার রংপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার প্রকল্পে আনা হয়েছে দীর্ঘদিন অন্য প্রকল্পে কর্মরত ডিপিডি এমএম আব্দুর রাজ্জাকের নাম। এসব সুপারিশ ঘিরে কর্মকর্তাদের প্রশ্ন—পিডি বাছাইয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতার পাশাপাশি আর কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না।

‘অ্যাবের চাপ’, উত্তপ্ত বৈঠক
কৃষি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) কিছু নেতা পিডি পদায়নকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অ্যাবের নাম ব্যবহার করে আগেও মন্ত্রণালয়ে একাধিক তালিকা দেওয়া হয়েছিল। এবার ডিএইর দাপ্তরিক তালিকা পাঠানোর পরও ক্ষোভ থামেনি।

নেতাদের সুপারিশের বড় অংশ তালিকায় না থাকায় ডিএই মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে অ্যাবের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লবসহ পিডি পদপ্রত্যাশী কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে মহাপরিচালকের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয় বলে বৈঠকে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মহাপরিচালক আব্দুর রহিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সামনে যোগ্যতার পরীক্ষা
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তালিকায় থাকা সব কর্মকর্তাকে একইভাবে দেখছে না মন্ত্রণালয়। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অতীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় নয়—প্রকল্প পরিচালনার সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও পেশাগত রেকর্ডের ভিত্তিতেই এবার সিদ্ধান্ত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘে পেজার তুলে ধরলেন নেতানিয়াহু, বক্তব্যের শুরুতেই ওয়াকআউট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে পেজার তুলে ধরলেন নেতানিয়াহু, বক্তব্যের শুরুতেই ওয়াকআউট

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের পেজার হামলার প্রসঙ্গ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি হাতে একটি পেজার তুলে ধরেন। তবে তার বক্তৃতা শুরুর সময়ই জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষে দেখা দেয় তীব্র প্রতিবাদ। বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ সময় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি ও প্রতিবাদের শব্দ শোনা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তব্যে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলকে একসঙ্গে সাতটি ফ্রন্টে লড়াই করতে হয়েছে। তার ভাষ্য, নিউ জার্সির সমান আয়তনের একটি দেশ কীভাবে একই সময়ে সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তবে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার আগেই অধিবেশনকক্ষের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি মঞ্চে ওঠার সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একের পর এক হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। রয়টার্সের ছবিতে অধিবেশনকক্ষের বড় অংশ খালি হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট করতে দেখা যায়।

প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, যারা তার বক্তব্য শুনতে চান না, তারা চাইলে হল ছেড়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। অধিবেশন পরিচালনাকারীকে কয়েকবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।

বক্তৃতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল ইরান ও হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ। ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহু দেশটির নেতৃত্বকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে দূরে রেখেছে। ইরানের নেতৃত্বের পতনও খুব বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর ২০২৪ সালের লেবানন পেজার হামলার প্রসঙ্গ তোলেন নেতানিয়াহু। হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত পেজারে বিস্ফোরক সংযোজন করে একযোগে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছিল। ওই হামলার সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কথা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। হামলায় হিজবুল্লাহ সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হন।

জাতিসংঘের মঞ্চে সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে একটি পেজার হাতে নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিপারগুলোর কথা মনে আছে?’ এরপর তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহও সেগুলো মনে রেখেছে। রয়টার্সের প্রকাশিত ছবিতেও বক্তৃতার সময় তার হাতে পেজার দেখা যায়।

ইরানের পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি এরদোয়ানকে আক্রমণ করে তুরস্কের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। তুরস্কের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও বক্তব্যের বড় একটি অংশে আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন। নেতানিয়াহু মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান ও তার সহযোগীদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মামদানি পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে প্রচারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বক্তৃতায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনাও করেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উপনিবেশবাদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের সমালোচনা করে তিনি এসব দেশের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও ছিল উল্লেখযোগ্য। ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জাতিসংঘের মঞ্চকে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বক্তব্যটি অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণামূলক ভাষণের রূপ নেয় এবং ইসরায়েলের ‘সাতটি ফ্রন্টে’ লড়াইয়ের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে ও চলাকালে জাতিসংঘের বাইরে নিউইয়র্কেও তার সফর ঘিরে বিক্ষোভ হয়। কয়েক শ বিক্ষোভকারী জাতিসংঘের আশপাশে জড়ো হন এবং তার সফরের প্রতিবাদ জানান। অধিবেশনকক্ষের ওয়াকআউট ও বাইরে বিক্ষোভ—দুই ঘটনাতেই এবারের জাতিসংঘ সফরে নেতানিয়াহুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিরোধিতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের মধ্যেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি নেতানিয়াহু। বরং তিনি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেন, ইসরায়েল তার নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই লড়াই চালিয়ে যাবে।

সূত্রঃ রয়টার্স

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ: ডিএমপি

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ বলে মনে করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।

এনসিপির এই নেতার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই যুগ্ম কমিশনার তোয়াফেল আহমেদ মিয়া বলেন, নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে সে এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছে। তবে অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। তা না হলে সে এই কথা কেন বলবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারব।

এর আগে গত ২১ আগস্ট রাতে রাজধানীর নেভিগলিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা তো তিনটি দাবিতে রাজপথে আছি। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার—এই দাবিগুলো সরকার মানছে না। দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ