খুঁজুন
                               
, ,
           

৪৮ ঘণ্টায় ব্যস্ত সময়, ১৪ কর্মসূচিতে মীর হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৪৮ ঘণ্টায় ব্যস্ত সময়, ১৪ কর্মসূচিতে মীর হেলাল

গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে মোট ৪৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তার কর্মসূচি শুরু হয়। পরে হাটহাজারীর কাটিরহাট বাজারে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন তিনি।

এরপর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় একটি মসজিদের ভবন ও খাগড়াছড়িতে একটি ব্রিজ উদ্বোধন করেন মীর হেলাল। পাশাপাশি জেলা পরিষদের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় অংশ নেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া গিরিপুর শিশুসদন ছাত্রাবাস, বেতছড়ি মুখ খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ, দীঘিনালার একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

পরে কংলাক পাহাড়ে ওঠার নবনির্মিত সিঁড়ি এবং সোলার প্রযুক্তির মাধ্যমে গৃহস্থালি পানি সরবরাহ ও কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধির প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

সবশেষে রাঙামাটির বনরূপায় জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলে অংশ নেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টায় মোট ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সড়কপথে যাতায়াত করেছেন মীর হেলাল। এ সময় তার সড়কযাত্রার মোট দূরত্ব দাঁড়ায় ৪৬০ কিলোমিটার।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সাত দশকের সম্পর্ক শেষ, জার্মানির গায়ে আর দেখা যাবে না অ্যাডিডাস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সাত দশকের সম্পর্ক শেষ, জার্মানির গায়ে আর দেখা যাবে না অ্যাডিডাস

জার্মান জাতীয় ফুটবল দলে চলছে পরিবর্তনের সময়। কোচিংয়ে নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি দলটির দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি সম্পর্কও এবার শেষের পথে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে জার্মান ফুটবলের সঙ্গে থাকা ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসকে বিদায় জানিয়ে ২০২৭ সাল থেকে নতুন চুক্তিতে নাইকির সঙ্গে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)।

সম্পর্কচ্ছেদের সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে নেশনস লিগের ম্যাচে। আমস্টারডামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জার্মানির ১–১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে জার্মান খেলোয়াড়দের গায়ে দেখা গেছে অ্যাডিডাসের তৈরি শেষ জাতীয় দলের জার্সি।

কালো রঙের এই জার্সিটি জার্মানির প্রচলিত সাদা জার্সির চেয়ে একেবারেই আলাদা। ভি-নেক কলারের ওপর সাদা ও সোনালি রঙের বর্ডার এবং একই রঙের কালো শর্টস—সব মিলিয়ে বিশেষ নকশায় তৈরি করা হয়েছে জার্সিটি। জার্মানির সাবেক তারকা ফিলিপ লাম ও ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানকে সামনে রেখে কিছুদিন আগে এই জার্সি উন্মোচন করেছিল অ্যাডিডাস।

তবে জার্সিটির বিশেষত্ব শুধু নকশায় নয়। এটি জার্মান জাতীয় দলের জন্য অ্যাডিডাসের তৈরি শেষ জার্সি। এরপর আর জার্মানির জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের গায়ে এই জার্মান ব্র্যান্ডের তিন দাগের লোগো দেখা যাবে না।

জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাডিডাসের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে। সেই আসরেই জার্মানি প্রথমবার অ্যাডিডাসের সঙ্গে জাতীয় দলের সরঞ্জাম নিয়ে পথচলা শুরু করে। এরপর বিশ্বকাপ, ইউরোসহ অসংখ্য বড় আসরে জার্মানির সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অ্যাডিডাসের নাম।

জাতীয় দলের সঙ্গে কোনো ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এত দীর্ঘ সম্পর্ক ফুটবল ইতিহাসে বিরল। জার্মান ফুটবলের পরিচিত সাদা জার্সি আর অ্যাডিডাসের তিন দাগ যেন দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সমার্থক হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু সেই সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএফবি। ২০২৪ সালে তারা ঘোষণা দেয়, ২০২৬ সালের পর অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না। ২০২৭ সাল থেকে জার্মান জাতীয় দলের নতুন সরঞ্জাম সরবরাহকারী হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান নাইকি।

এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ অর্থনৈতিক। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইকি বছরে প্রায় ১০ কোটি ইউরো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অ্যাডিডাসের আগের প্রস্তাবের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ। তবে দরপত্রের আর্থিক তথ্য গোপন রাখার নিয়মের কারণে ডিএফবি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিত করেনি। তারা শুধু জানিয়েছে, নাইকি ‘সেরা আর্থিক প্রস্তাব’ দিয়েছিল।

ডিএফবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইকিকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী এক দশকে জার্মান ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন চুক্তিটি ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছিল সংস্থাটি।

তবে অ্যাডিডাসের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত জার্মানিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। দেশের অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ডের সঙ্গে জাতীয় দলের দীর্ঘ সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ হতাশা প্রকাশ করেন।

তৎকালীন জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেকও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি অ্যাডিডাসের তিন দাগের লোগোর সঙ্গে জার্মান জাতীয় দলের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘থ্রি-স্ট্রাইপস’ ছাড়া জার্মানি জাতীয় দলকে কল্পনা করা তার জন্য কঠিন।

অন্যদিকে ডিএফবির যুক্তি ছিল, জাতীয় দলের সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি শুধু আবেগের বিষয় নয়; অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। নাইকির প্রস্তাব থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ জার্মান ফুটবলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অ্যাডিডাসের সঙ্গে এই সম্পর্কচ্ছেদের সময়েই জার্মানি জাতীয় দলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। দলটির দীর্ঘদিনের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার এবং ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারকে ঘিরে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। কোচিংয়েও নতুন ভাবনা সামনে এসেছে।

ফলে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু একটি নেশনস লিগের ম্যাচ হিসেবেই নয়, জার্মান ফুটবলের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যের শেষ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া অ্যাডিডাস-জার্মানি সম্পর্ক ২০২৬ সালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে জার্মান ফুটবলের নতুন দৃশ্যপটে দেখা যাবে নাইকির লোগো।

কালের আলো/এসএ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিসিইউ চালুর আশ্বাস যশোরে

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিসিইউ চালুর আশ্বাস যশোরে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যশোরবাসীর জন্য পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত যশোর জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি মূলত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সিংহভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবশিষ্ট কাজগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাসপাতালের সেবা আরও উন্নত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিসিইউ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দেশের সামগ্রিক গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে এলএনজি খালাসে বৃহস্পতিবার কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিকেলের মধ্যেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসার কথা।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল ও কমলে দেশে দ্রুত সময়ে জ্বালানির দাম সমন্বয় করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরোধ প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরোধ প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানে ধাপে ধাপে একটি সমঝোতার পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সুযোগ দেবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের আলোচকেরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরানি, আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে হরমুজ প্রণালি এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাব্য পথ হতে পারে ধাপে ধাপে একটি ব্যবস্থা নেওয়া। এর প্রথম ধাপে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে। এর পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

তবে আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হলো—দুই পক্ষই আগে নিজেদের হাতে থাকা চাপ প্রয়োগের উপায় ছেড়ে দিতে চাইছে না। ওয়াশিংটনের হাতে রয়েছে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধ, আর তেহরানের হাতে রয়েছে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর প্রভাব। ফলে দৃশ্যমান বিনিময় ছাড়া কোনো পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দুর্বল করতে আগ্রহী নয়।

এর আগে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জুলাইয়ে তা ভেঙে যায়। ফলে এবার শুধু একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি করাই নয়, দুই পক্ষের দেওয়া ছাড়গুলো দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন আলোচক ডেনিস রস নির্বাচনের আগে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত বলে মনে করছেন। তার মতে, নির্বাচনের আগে দুই পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।

হরমুজ ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের ট্রানজিট ফি আদায়ের দাবি মূল চুক্তির বাইরে আলাদা সংযুক্তিতে রাখার বিষয়ে তেহরান নমনীয় হতে পারে। কারণ এই মুহূর্তে অবরোধ প্রত্যাহার করানোই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রানজিট ফি দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর অর্থ অবশ্য হরমুজের ওপর নিজেদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে ইরান সরে যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তেহরান প্রণালিটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। ফলে অর্থ বা ট্রানজিট ফি নিয়ে আপসের সুযোগ থাকলেও হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

এদিকে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ট্রাম্পও সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ইরান আলোচনার পাশাপাশি নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতিও রাখছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক শক্তির হুমকি ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ করছে। তার মতে, কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা কম হলেও তেহরান আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না।

হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উপসাগরীয় নেতারা হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষেও জোর দিচ্ছেন।

আবুধাবিভিত্তিক এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ইবতেসাম আল-কেতবি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তার মতে, ইরান হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করছে, কিন্তু ওয়াশিংটনের পরবর্তী পরিকল্পনা এখনো পরিষ্কার নয়।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরান মার্কিন সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলকে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এদিকে হরমুজ নিয়ে আলোচনার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। প্রণালিটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশের পর তেলের বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল, যদিও ওই দিনের বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতও প্রভাব ফেলেছে।

সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের আলোচনায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—হরমুজ দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারকে কীভাবে একই সমঝোতার কাঠামোয় আনা যায়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়ে গেছে এবং আলোচনার ফলাফল নির্ভর করছে উভয় পক্ষ কতটা বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী ছাড় দিতে প্রস্তুত তার ওপর।

কালের আলো/এসএ