সর্দি-কাশির ঘরোয়া যত্ন থেকে চিকিৎসা, জেনে নিন করণীয়
সর্দি-কাশি খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাইনোভাইরাসসহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণে এ সমস্যা দেখা দেয়। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।
অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, ইএনটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা—সর্দি-কাশির লক্ষণ, করণীয় ও প্রতিরোধ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন।
যেভাবে ছড়ায়
সর্দি-কাশির ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়াতে পারে। এ ছাড়া ভাইরাসযুক্ত কোনো বস্তু স্পর্শ করার পর অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলেও সংক্রমণ হতে পারে।
হাত মেলানো বা আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। ঠান্ডা বা ধুলাবালুযুক্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। শীত ও বর্ষাকালে এ ধরনের সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
সাধারণ লক্ষণ
সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
- নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হওয়া
- হাঁচি, বিশেষ করে সকালে
- গলাব্যথা বা গলা শুকিয়ে যাওয়া
- শুকনো কিংবা কফযুক্ত কাশি
- শরীর বা মাথাব্যথা
- মৃদু থেকে মাঝারি জ্বর
- চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কখনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও যুক্ত হতে পারে।
ঘরোয়া যত্নে যা করতে পারেন
সাধারণ সর্দি-কাশি অনেক ক্ষেত্রেই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যায়। উপসর্গের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পান করা জরুরি।
গরম পানি ও লবণ দিয়ে গার্গল করলে গলাব্যথায় সাময়িক আরাম মিলতে পারে। গরম পানির ভাপ নাক বন্ধভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। মধু বা আদা কিছু মানুষের কাশিতে আরাম দিতে পারে।
তবে যেকোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স, অ্যালার্জি ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ওষুধের ক্ষেত্রে সতর্কতা
জ্বর বা শরীরব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক বন্ধ বা সর্দির উপসর্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে ওষুধ নেওয়া উচিত।
কাশি শুকনো নাকি কফযুক্ত—তার ওপর চিকিৎসার ধরনও ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছায় একাধিক কাশির ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সর্দি-কাশির সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর এবং তা তিন দিনের বেশি থাকা
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা
- ঘন হলুদ বা সবুজ কফ
- প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি
- দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপসর্গ গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধে যা করবেন
সর্দি-কাশির সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। অপরিষ্কার হাতে খাবার খাওয়া বা চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা দরকার।
আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ শরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array