খুঁজুন
                               
, ,
           

ভ্রমণে নতুন ট্রেন্ড ‘টাইনি ট্যুরিজম’, কম দেখুন বেশি অনুভব করুন

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
ভ্রমণে নতুন ট্রেন্ড ‘টাইনি ট্যুরিজম’, কম দেখুন বেশি অনুভব করুন

ভ্রমণে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সূর্যোদয় দেখা, বিখ্যাত স্থাপনার সামনে ছবি তুলতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো কিংবা এক দিনে একের পর এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়ানো—ছুটি কাটানোর এই চেনা ধারণা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছেন তরুণ প্রজন্ম।

জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের তালিকা ধরে ছুটে বেড়ানোর বদলে এখন অনেকেই একটি জায়গাকে একটু ধীরে, কাছ থেকে চেনার চেষ্টা করছেন। ভ্রমণের এই নতুন প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ‘টাইনি ট্যুরিজম’।

কী এই ‘টাইনি ট্যুরিজম’?

টাইনি ট্যুরিজম বলতে বড় ও জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণের বাইরে গিয়ে কোনো গন্তব্যের ছোট ছোট স্থানীয় ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা উপভোগ করাকে বোঝায়।

অর্থাৎ শুধু বিখ্যাত স্থাপনার সামনে ছবি তুলে ফিরে আসা নয়, বরং যে শহর বা এলাকায় যাওয়া হয়েছে, সেখানকার জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে অনুভব করাই এর মূল লক্ষ্য।

একটি শহরের ইতিহাস শুধু জাদুঘর বা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় বাজার, খাবারের দোকান, পুরোনো রাস্তা, গণপরিবহন, ছোট ব্যবসা কিংবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও লুকিয়ে থাকতে পারে সেই এলাকার গল্প।

‘কম দেখুন, বেশি অনুভব করুন’

টাইনি ট্যুরিজমের মূল ভাবনা হলো—কম জায়গা দেখা, কিন্তু প্রতিটি জায়গাকে বেশি করে অনুভব করা। এ ধারণাটি অনেকটাই ‘স্লো ট্রাভেল’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যত বেশি সম্ভব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার চাপ না নিয়ে একটি জায়গায় কিছুটা বেশি সময় কাটানোই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভ্রমণের ক্লান্তির বদলে স্থানীয় পরিবেশ ও সংস্কৃতিকে উপভোগ করার সুযোগ বাড়ে।

যেভাবে করবেন টাইনি ট্রাভেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল ভিডিও বা রিল দেখে পুরো ভ্রমণসূচি তৈরি না করে গন্তব্যে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। জানতে পারেন কোথায় ভালো স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়, কোন রাস্তা দিয়ে হাঁটলে স্থানীয় জীবন কাছ থেকে দেখা যাবে কিংবা কোন জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরোনো কোনো গল্প।

গণপরিবহন ব্যবহারও হতে পারে ভ্রমণের আকর্ষণীয় অংশ। বাস, ট্রেন, টুকটুক কিংবা স্থানীয় অন্য পরিবহনে চড়ে অনেক সময় এমন জায়গার সন্ধান পাওয়া যায়, যা প্রচলিত পর্যটন গাইডে উল্লেখ থাকে না।

ছোট ছোট অভিজ্ঞতাই বড় স্মৃতি

ভ্রমণে স্থানীয় সুপারমার্কেট বা কনভেনিয়েন্স স্টোর ঘুরে দেখাও এখন অনেকের কাছে আলাদা আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় স্ন্যাক্স, পানীয় কিংবা অচেনা কোনো পণ্যের প্যাকেটও হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের স্মরণীয় অংশ।

বিদেশে গিয়ে স্থানীয় ফার্মেসি বা ড্রাগস্টোর ঘুরে দেখা, সেখানকার ব্যবহৃত সানস্ক্রিন, বাম বা ছোটখাটো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার প্রবণতাও বাড়ছে।

একইভাবে পর্যটনকেন্দ্রের প্রচলিত স্মারকের বদলে স্থানীয় থ্রিফট শপ বা পুরোনো জিনিসের দোকান থেকে বই, গয়না কিংবা অন্য কোনো ব্যতিক্রমী জিনিস সংগ্রহ করাও হতে পারে ভ্রমণের অংশ।

কেউ সকালে স্থানীয়দের মতো হাঁটছেন, কেউ পাবলিক বাসে চড়ে অচেনা এলাকায় নেমে পড়ছেন, আবার কেউ পাড়ার চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প করছেন। অর্থাৎ ভ্রমণের সাফল্য এখন শুধু ‘কোথায় গেলাম’ দিয়ে মাপা হচ্ছে না; ‘কী অনুভব করলাম’ সেটিও হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ।

হয়তো সব দর্শনীয় স্থান দেখা হলো না। কিন্তু কোনো অচেনা শহরের ছোট একটি চায়ের দোকানে কাটানো এক ঘণ্টাই হয়ে উঠতে পারে পুরো ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ

‘লাইফ অব এম’–এর রহস্যময় অভিনেত্রী কে, জল্পনায় ন্যাটালি পোর্টম্যান

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
‘লাইফ অব এম’–এর রহস্যময় অভিনেত্রী কে, জল্পনায় ন্যাটালি পোর্টম্যান

ব্রিটিশ লেখক র‍্যাচেল কাস্কের নতুন উপন্যাস লাইফ অব এম প্রকাশের পর সাহিত্যজগতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘এম’ একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী। চরিত্রটির জীবনের সঙ্গে হলিউড অভিনেত্রী ন্যাটালি পোর্টম্যানের জীবনের বেশ কিছু মিল খুঁজে পাওয়ায় পাঠকদের একাংশের ধারণা, ‘এম’ চরিত্রটি হয়তো পোর্টম্যানকে ঘিরেই তৈরি।

কাস্ক আউটলাইন ট্রিলজি, সেকেন্ড প্লেসপ্যারেড–এর মতো প্রশংসিত বইয়ের লেখক। নতুন উপন্যাসে তিনি এমন এক অভিনেত্রীর গল্প বলেছেন, যিনি বাইরে থেকে সহজ-সরল ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও ভেতরে আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মধার্মিক।

জল্পনার শুরু মূলত ‘এম’-এর শৈশবের গল্প থেকে। উপন্যাসে বলা হয়েছে, তিনি ছোট বয়সে অভিনয়ে আসেন এবং একটি সিনেমায় অভিনয়ের পর তাঁর শৈশব কঠিন হয়ে ওঠে। পাঠকেরা এর সঙ্গে পোর্টম্যানের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে লিও: দ্য প্রফেশনাল সিনেমার জন্য নির্বাচিত হন পোর্টম্যান এবং ১৩ বছর বয়সে সিনেমাটির শুটিং করেন।

উপন্যাসের ‘এম’ আরও জানান, তাঁর বাবা-মা সিনেমাটির কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তির পর স্কুলেও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়। পোর্টম্যান তাঁর নিজের জীবনেও এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর সঙ্গেও মিল

জল্পনা আরও বাড়িয়েছে উপন্যাসের আরেকটি অংশ। সেখানে ‘এম’ এমন একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা বলেন, যেখানে এক তরুণী ব্যালে নৃত্যের জন্য নির্বাচিত হন। পাঠকদের অনেকে এটিকে পোর্টম্যান অভিনীত ব্ল্যাক সোয়ান সিনেমার সঙ্গে মিলিয়েছেন।

ব্ল্যাক সোয়ান–এ অভিনয়ের জন্য পোর্টম্যান সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন। ফলে ‘এম’ চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর জীবনের মিল নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

পোর্টম্যান কি অসন্তুষ্ট?

এসব মিলের ভিত্তিতে এমন খবরও ছড়িয়েছে যে, উপন্যাসে নিজের যে প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে, তাতে পোর্টম্যান অসন্তুষ্ট। ডেইলি মেইল-এর কাছে পোর্টম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেওয়া একটি বেনামি সূত্র এমন দাবি করেছে।

তবে পোর্টম্যান নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

কাস্কের সঙ্গে পোর্টম্যানের পুরোনো পরিচয়

জল্পনার আরেকটি কারণ তাঁদের পুরোনো পরিচয়। পোর্টম্যান আগে তাঁর অনলাইন বুক ক্লাবে কাস্কের একটি বই নির্বাচন করেছিলেন। ২০২২ সালে একটি আলোচনাতেও কাস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি।

উপন্যাসে শহরের নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও সেটিকে প্যারিস বলে মনে করছেন অনেকে। কাস্ক ও পোর্টম্যান—দুজনেরই প্যারিসে থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে কাস্ক ‘এম’ চরিত্রটি পোর্টম্যানকে ভিত্তি করে লেখা কি না, তা নিশ্চিত করেননি। নিউইয়র্ক টাইমস-কে তিনি বলেছেন, ‘এম’ কে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ট্যাবলয়েডনির্ভর আলোচনা তাঁর জন্য চাপের হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, চরিত্রটির পরিচয় নিয়ে অতিরিক্ত অনুসন্ধান করলে উপন্যাসের মূল অর্থ ও সাহিত্যিক দিক আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

ফলে ‘এম’ আদৌ ন্যাটালি পোর্টম্যান কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পরিচিত অভিনেত্রীর জীবনের সঙ্গে চরিত্রটির একাধিক মিলের কারণে লাইফ অব এম ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

প্রাইম ব্যাংকে সিনিয়র ম্যানেজার নিয়োগ, বেতন ১ লাখ ১০ হাজার

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রাইম ব্যাংকে সিনিয়র ম্যানেজার নিয়োগ, বেতন ১ লাখ ১০ হাজার

বেসরকারি ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ‘কার্ডস, কনজ্যুমার ও এসএমই ব্যাংকিং’ বিভাগে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিনিয়র ম্যানেজার পদে আবেদন করতে প্রার্থীর ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ) ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩২ বছর হতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীকে মাসিক ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। কর্মস্থল হবে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

পদের তথ্য

  • পদের নাম: সিনিয়র ম্যানেজার (কার্ডস, কনজ্যুমার ও এসএমই ব্যাংকিং)
  • পদসংখ্যা:
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ)
  • অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৫ বছর, ব্যাংকিং খাতে
  • বয়স: কমপক্ষে ৩২ বছর
  • বেতন: মাসিক ১,১০,০০০ টাকা
  • কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থান
  • আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রার্থীদের প্রাইম ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

দেনমোহর কি শুধু কাবিনে লেখার অঙ্ক, নাকি স্বামীর ওপর ঋণ?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
দেনমোহর কি শুধু কাবিনে লেখার অঙ্ক, নাকি স্বামীর ওপর ঋণ?

বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ নিয়ে অনেক সময় সামাজিক মর্যাদা ও আভিজাত্য প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যায়। কনেপক্ষ লাখ লাখ বা কোটি টাকা দেনমোহর দাবি করে, আবার বরপক্ষও অনেক ক্ষেত্রে মনে করে, কাবিনে বড় অঙ্ক লেখা হলেও তা বাস্তবে পরিশোধ করতে হবে না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর কি নিছক আনুষ্ঠানিকতা, নাকি এটি স্বামীর ওপর বাধ্যতামূলক আর্থিক দায়?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, দেনমোহর স্ত্রীর একান্ত অধিকার। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর ফরজ দায়িত্ব হিসেবে প্রদান করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৪)

দেনমোহরের অর্থ পুরোপুরি স্ত্রীর সম্পত্তি। তাঁর বাবা-মা, অভিভাবক বা অন্য কোনো আত্মীয়ের এই অর্থের ওপর অধিকার নেই। স্ত্রী নিজের ইচ্ছায়, কোনো ধরনের চাপ ছাড়া দেনমোহরের কোনো অংশ ক্ষমা করলে তবেই স্বামী সেই অংশের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন।

কাবিনে স্বাক্ষরের পর দায় থাকে

অনেকের ধারণা, সামাজিক মর্যাদা দেখানোর জন্য কাবিনে বড় অঙ্কের দেনমোহর লেখা হলে সেটি বাস্তবে পরিশোধের প্রয়োজন নেই। ইসলামি ফিকহের আলোচনায় এমন ধারণাকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয় না।

বিবাহচুক্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের দেনমোহরে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করলে তা স্বামীর ওপর আর্থিক দায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধু ‘লোকদেখানোর জন্য লেখা হয়েছিল’—এমন দাবি করে দায় এড়ানো যায় না।

ইসলামি সূত্রে দেনমোহরকে স্বামীর ওপর ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে কাবিনে বড় অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করার আগে তা পরিশোধের সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশোধের নিয়ত না থাকলে কী হবে?

দেনমোহর পরিশোধের কোনো ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বড় অঙ্কে সম্মতি দিয়ে বিয়ে করা প্রতারণার শামিল বলে ইসলামি হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদের একটি হাদিসে এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে, যে নারীকে দেনমোহর দেওয়ার অঙ্গীকার করে কিন্তু মনে মনে তা পরিশোধের নিয়ত রাখে না এবং দেনমোহর না দিয়েই মারা যায়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৮৯৩৩)

বাকি দেনমোহরও পরিশোধযোগ্য

দেনমোহরের পুরো অর্থ বিয়ের সময় পরিশোধ করা সম্ভব না হলে এর একটি অংশ পরে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা যায়। তবে বাকি রাখার অর্থ দেনমোহর মাফ হয়ে যাওয়া নয়।

স্ত্রী পরবর্তী সময়ে তাঁর বকেয়া দেনমোহর দাবি করতে পারেন। স্বামী জীবদ্দশায় তা পরিশোধ না করলে তাঁর মৃত্যুর পরও এই পাওনা বহাল থাকে। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের আগে তাঁর দেনমোহরের মতো ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

বড় অঙ্ক নয়, সহজ দেনমোহরের তাগিদ

ইসলামে দেনমোহরকে স্ত্রীর অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলেও অযথা বড় অঙ্ক নির্ধারণে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। বরং বিয়েকে সহজ ও সহনীয় রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় সহজ ও কম ব্যয়ের বিয়েকে বরকতময় বলা হয়েছে। তাই সামাজিক মর্যাদা বা লোকদেখানোর জন্য এমন অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করা উচিত নয়, যা বাস্তবে পরিশোধ করা কঠিন।

দেনমোহর তাই কেবল কাবিননামায় লেখা একটি সংখ্যা নয়। এটি স্ত্রীর অধিকার এবং স্বামীর ওপর আর্থিক দায়। সে কারণে দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সামাজিক প্রদর্শনীর বদলে বাস্তব সক্ষমতা, পারস্পরিক সম্মতি এবং ইসলামি বিধানের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ