খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসলামের স্বর্ণযুগের অন্যতম নায়ক হারুন আল-রশিদ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
ইসলামের স্বর্ণযুগের অন্যতম নায়ক হারুন আল-রশিদ

আব্বাসীয় খিলাফতের পঞ্চম খলিফা হারুন আল-রশিদ ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত শাসক। ৭৮৬ থেকে ৮০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলকে আব্বাসীয় খিলাফতের সমৃদ্ধির অন্যতম শীর্ষ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর সময়ে বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটে।

হারুন আল-রশিদের জন্মতারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে তাঁর জন্ম ১৭ মার্চ ৭৬৩ অথবা ফেব্রুয়ারি ৭৬৬ সালে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বর্তমান ইরানের তেহরান প্রদেশের অন্তর্গত ঐতিহাসিক রে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদি এবং মা ছিলেন আল-খায়জুরান।

তরুণ বয়সেই সামরিক নেতৃত্ব

খলিফা হওয়ার আগে হারুন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দুটি সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন। ৭৮০ ও ৭৮২ সালের এসব অভিযানের দ্বিতীয়টি কনস্টান্টিনোপলের এশীয় উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

৭৮৬ সালে তরুণ বয়সেই তিনি খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দক্ষ মন্ত্রী ও প্রশাসকদের সহযোগিতায় তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের প্রশাসন শক্তিশালী হয় এবং বাগদাদ সমকালীন বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও জাঁকজমকপূর্ণ নগরীতে পরিণত হয়।

রাক্কায় সরিয়ে নেন রাজদরবার

৭৯৬ সালে হারুন তাঁর রাজদরবার ও প্রশাসনের বড় অংশ বাগদাদ থেকে ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী রাক্কায় স্থানান্তর করেন। বাইজেন্টাইন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান, নদীপথে বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৃষি ও সামরিক সুবিধার কারণে রাক্কা গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

হারুনের প্রশাসনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ আল-বারমাকি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন তাঁরা খলিফার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে পরে বারমাকিদের সঙ্গে হারুনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তাঁদের ক্ষমতা ও সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা

হারুন আল-রশিদের শাসনামল আব্বাসীয় সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এ সময় জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটে। পরবর্তী সময়ে আব্বাসীয় জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে ‘বায়তুল হিকমা’ বা জ্ঞানগৃহ।

তবে ঐতিহাসিকভাবে বায়তুল হিকমার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ বিশেষভাবে হারুনের উত্তরসূরি আল-মামুনের আমলে ঘটে বলে অনেক গবেষক মনে করেন। তাই হারুনের সময়কে এর প্রাথমিক ভিত্তি ও অনুবাদ-জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসংগত।

শার্লেমানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক

হারুন আল-রশিদের সঙ্গে ইউরোপীয় শাসক শার্লেমানের কূটনৈতিক যোগাযোগও ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। দুই পক্ষের মধ্যে দূত ও উপহার বিনিময় হয়েছিল। ৮০২ সালে হারুন শার্লেমানকে হাতি, জলঘড়ি, রেশম, সুগন্ধি ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উপহার দেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়।

হারুনের পাঠানো ‘আবুল-আব্বাস’ নামের হাতিটি ইউরোপে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। একইভাবে তাঁর জলঘড়ির যান্ত্রিক ব্যবস্থা সে সময় ইউরোপীয়দের কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর ছিল।

বাইজেন্টাইনদের সঙ্গে সংঘাত

হারুনের শাসনামলে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সঙ্গেও একাধিকবার সংঘাত হয়। ৮০২ সালে সম্রাজ্ঞী আইরিন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নাইকিফোরোস প্রথম ক্ষমতায় এসে আব্বাসীয়দের কর দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় হারুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত বাইজেন্টাইন সম্রাটকে চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেন।

এ ছাড়া তাং চীনের সঙ্গেও আব্বাসীয়দের কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল। তাং রাজবংশের নথিতে হারুনকে ‘আ-লুন’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে মৃত্যু

জীবনের শেষদিকে সামরকন্দে রাফি ইবনে আল-লাইথের নেতৃত্বে বড় ধরনের বিদ্রোহ শুরু হলে হারুন নিজেই খোরাসানের দিকে রওনা হন। বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা চলাকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

৮০৯ সালের ২৪ মার্চ তুসের কাছে সানাবাদে হারুন আল-রশিদ মারা যান। তাঁকে সেখানে সমাহিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ইমাম আল-রিদার মৃত্যুর সঙ্গে স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এবং ‘মাশহাদ’ নামটি প্রসিদ্ধ হয়।

উত্তরাধিকার ও গৃহযুদ্ধ

হারুন তাঁর সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার তাঁর দুই ছেলে আল-আমিন ও আল-মামুনের মধ্যে নির্ধারণ করেছিলেন। পরে তৃতীয় ছেলে আল-কাসিমকেও উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।

আল-আমিন ও আল-মামুনের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ আব্বাসীয় সাম্রাজ্যকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আল-মামুনের বিজয়ের মাধ্যমে ৮২৭ সালে এই সংঘাতের অবসান ঘটে।

হারুন আল-রশিদের শাসনামল তাই একদিকে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির উত্থানের প্রতীক, অন্যদিকে তাঁর উত্তরাধিকার পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে পরবর্তী রাজনৈতিক সংঘাতেরও অন্যতম ভিত্তি। তাঁর সময়ের সাংস্কৃতিক বিকাশ পরবর্তী আব্বাসীয় স্বর্ণযুগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছিল।

কালের আলো/এসএ

কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৫ বছরের অধ্যায়ের ইতি, জাতীয় দলকে বিদায় রদ্রিগেজের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৫ বছরের অধ্যায়ের ইতি, জাতীয় দলকে বিদায় রদ্রিগেজের

কলম্বিয়া জাতীয় দলের সঙ্গে ১৫ বছরের পথচলার ইতি টেনেছেন তারকা মিডফিল্ডার হামেস রদ্রিগেজ। ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

২০১১ সালে বলিভিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে জাতীয় দলে যাত্রা শুরু করেছিলেন রদ্রিগেজ। এরপর কলম্বিয়ার হয়ে ১৩১ ম্যাচে ৩১ গোল ও ৪৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার পাশাপাশি গোলসংখ্যায়ও তাঁর অবস্থান দ্বিতীয়। কলম্বিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করেছেন রাদামেল ফালকাও।

রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০১৪ বিশ্বকাপ। সেই আসরে পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। উরুগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় তাঁর করা ভলিতে গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে আছে। পরে ওই পারফরম্যান্সের পর তিনি যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে।

কলম্বিয়ার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন রদ্রিগেজ—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিই হয়ে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয় কলম্বিয়া।

জাতীয় দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরার পাশাপাশি অধিনায়কত্বও করেছেন রদ্রিগেজ। তাঁর নেতৃত্বে ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ওঠে কলম্বিয়া। তবে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেনি দলটি।

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও এখনই ফুটবল ছাড়ছেন না রদ্রিগেজ। সম্প্রতি কলম্বিয়ার ক্লাব আতলেতিকো নাসিওনালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

কালের আলো/এসএ

‘তখন জানতাম না’, পুরোনো ভিডিওর বিতর্কে দুঃখ প্রকাশ লিসার

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
‘তখন জানতাম না’, পুরোনো ভিডিওর বিতর্কে দুঃখ প্রকাশ লিসার

ব্ল্যাকপিংকের সদস্য লিসার এক দশকের বেশি পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে গত বছর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভিডিওতে কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে ব্যবহৃত একটি বর্ণবাদী শব্দ শোনা যায়। এবার সেই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন লিসা। তিনি জানিয়েছেন, তখন ওই শব্দের অর্থ ও এর বর্ণবাদী ইতিহাস সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

লিসার নতুন তথ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’য় ঘটনাটি উঠে এসেছে। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ারের পর মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। লিসা বলেন, থাইল্যান্ডে বেড়ে ওঠার কারণে ওই বিষয়ে তাঁর কোনো শিক্ষা ছিল না। তাই তখন শব্দটির অর্থ তিনি জানতেন না।

ভিডিওগুলো ধারণ করা হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, যখন লিসা ও ব্ল্যাকপিংকের অন্য সদস্যরা কিশোরী ছিলেন। তাঁরা অন্য শিল্পীদের গান অনুশীলন করছিলেন, যেসব গানের কথায় ওই বর্ণবাদী শব্দটি ছিল। ২০২৫ সালে লিসার প্রথম একক কোচেলা পরিবেশনের প্রস্তুতির সময় ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

লিসা বলেন, এখন তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছেন এবং এ নিয়ে শিক্ষা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও জানান তিনি। বিতর্কের সময় তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছিল বলেও তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অলওয়েজ লালিসা’র প্রিমিয়ার হয়। তথ্যচিত্রটিতে ব্ল্যাকপিংক থেকে দূরে থাকার সময় লিসার একক ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহ ও আইম্যাক্সে তথ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। পরে চলতি বছর ইউটিউব প্রিমিয়ামেও এটি দেখা যাবে।

লিসা, জেনি, জিসু ও রোজে বর্তমানে নিজেদের একক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন লিসা। তিনি বলেছেন, তাঁর বয়স ৫০ হলেও তিনি ব্ল্যাকপিংকের সঙ্গে কাজ করতে চান।

কালের আলো/এসএ

যে ৫ লক্ষণ বলে দেবে, সঙ্গীর সঙ্গে আপনার ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’ আছে কি না

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
যে ৫ লক্ষণ বলে দেবে, সঙ্গীর সঙ্গে আপনার ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’ আছে কি না

সম্পর্কে দুজন মানুষ একে অপরের জন্য কতটা মানানসই, তা বোঝার ক্ষেত্রে ‘ইমোশনাল কম্প্যাটিবিলিটি’ বা আবেগগত সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। দুজন মানুষই ভালো হলেও তাঁদের আবেগ, প্রয়োজন ও যোগাযোগের ধরন একে অপরের সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে। তাই সম্পর্কের আবেগগত নিরাপত্তা বোঝার জন্য কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা যেতে পারে।

কঠিন বিষয়েও সহজে কথা বলা: অর্থ, পরিবার, ঈর্ষা, ব্যক্তিগত সীমারেখা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্বস্তিকর কথাও যদি সঙ্গীর সঙ্গে স্বচ্ছন্দে বলা যায় এবং তিনি তা বোঝার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি আবেগগত সামঞ্জস্যের একটি লক্ষণ।

অনুভূতির পরিবর্তন খেয়াল রাখা: সঙ্গী মনের কথা পড়ে ফেলবেন—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে আচরণে পরিবর্তন, কখন আশ্বাস প্রয়োজন কিংবা কখন কিছুটা একা থাকতে চান—এসব সঙ্গী খেয়াল করেন কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।

মতভেদ হলেও সম্পর্ক নিরাপদ থাকা: সম্পর্কে মতবিরোধ থাকতেই পারে। দুজনের রাগ প্রকাশের ধরনও আলাদা হতে পারে। তবে ঝগড়ার সময় অপমান, হুমকি বা ইচ্ছাকৃত আঘাতের পরিবর্তে পরে আলোচনায় ফিরে এসে সমাধানের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্বলতা প্রকাশে স্বস্তি থাকা: ভয়, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা খারাপ সময়ের কথা সঙ্গীর কাছে বলতে পারা এবং এ নিয়ে বিচার বা অপমানের ভয় না থাকা আবেগগত নিরাপত্তার বড় লক্ষণ।

আবেগগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া: কারও ভালোবাসা প্রকাশের ধরন কথায়, কারও কাজে। কেউ বেশি যোগাযোগ চান, আবার কেউ ব্যক্তিগত পরিসর পছন্দ করেন। প্রয়োজন আলাদা হলেও দুজন যদি একে অপরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে মাঝামাঝি জায়গায় আসার চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনের সময়ে মানসিক সমর্থন দেন, তাহলে সম্পর্কের আবেগগত সামঞ্জস্যের ভিত্তি তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, একটি সম্পর্কের বড় স্বস্তি হলো—সঙ্গীর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিজেকে বদলে ফেলতে না হয়ে নিজের মতো করেই নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ বোধ করা।

কালের আলো/এসএ