এমবাপ্পে-মেসি-ইয়ামাল, ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কার কী হিসাব
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এবারের বিশ্বকাপের প্রভাব স্পষ্ট। ৩ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে হবে পুরস্কার বিতরণী। এর আগে আলোচনায় থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ও দলীয় সাফল্য মিলিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
বিশ্বকাপের আলোয় রদ্রি
স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে রদ্রি খেলেছেন দলের আটটি ম্যাচেই। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বলও উঠেছে তাঁর হাতে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অবশ্য মৌসুমটি তাঁর জন্য ছিল চোটপ্রবণ। ৩৩ ম্যাচে করেছেন দুটি গোল এবং সিটির হয়ে বড় কোনো দলীয় শিরোপাও জিততে পারেননি।
তবে রদ্রির গুরুত্ব শুধু গোল-অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং ও আক্রমণ গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপেও পাসিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
প্রধান সাফল্য: বিশ্বকাপ, গোল্ডেন বল
লামিনে ইয়ামালের উত্থান
বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় ১৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন লামিনে ইয়ামাল। দলকে লিগ শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি পেয়েছেন লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ১০ ম্যাচে করেছেন ছয় গোল ও চার অ্যাসিস্ট।
স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ইয়ামাল। ফাইনালেও পুরো ১২০ মিনিট মাঠে ছিলেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যের কারণে তাঁর নামও ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় জোরালোভাবে রয়েছে।
প্রধান সাফল্য: লা লিগা, বিশ্বকাপ
গোলের বন্যায় এমবাপ্পে
ব্যক্তিগত গোলের হিসাবে কিলিয়ান এমবাপ্পের মৌসুম ছিল দুর্দান্ত। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল। লা লিগায় ২৫ গোল করে জিতেছেন পিচিচি ট্রফি, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিশ্বকাপেও ছিলেন দুর্দান্ত। ফ্রান্স চতুর্থ হলেও ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন এমবাপ্পে। মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি।
তবে দলীয় সাফল্যের জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। রিয়াল লা লিগায় রানার্সআপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে।
প্রধান পরিসংখ্যান: লা লিগায় ২৫ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল, বিশ্বকাপে ১০ গোল
গোল ও ট্রফিতে কেইন
হ্যারি কেইনের পরিসংখ্যানও নজরকাড়া। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।
বায়ার্ন মিউনিখকে বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও সুপার কাপ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। বিশ্বকাপে ছয় গোল করে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানে তুলেছেন কেইন।
প্রধান সাফল্য: বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ, সুপার কাপ
দেম্বেলে-কাভারাস্কেইয়ার দাবিও আলোচনায়
বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পিএসজি টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরা হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে দেম্বেলের গোলসংখ্যা আট।
একই দলের খিচা কাভারাস্কেইয়া চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ১০ গোল। তবে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে দুজনের অবস্থান আলাদা। ফ্রান্সের হয়ে দেম্বেলের বিশ্বকাপ প্রত্যাশামতো যায়নি, আর কাভারাস্কেইয়ার জর্জিয়া বিশ্বকাপে অংশই নেয়নি।
মেসির শেষ বিশ্বকাপেও আলো
৩৯ বছর বয়সে শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন লিওনেল মেসি। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন দুর্দান্ত। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে আর্জেন্টিনা শিরোপা না পেলেও মেসি জিতেছেন সিলভার বল ও সিলভার বুট।
ইন্টার মায়ামির হয়েও গোল ও অ্যাসিস্টে বড় অবদান রেখেছেন তিনি। তবে ব্যালন ডি’অরের হিসাবের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের দলীয় ফলাফলসহ পুরো সময়ের পারফরম্যান্সই বিবেচনায় আসবে।
প্রধান পরিসংখ্যান: ৪৯ ম্যাচে ৭৫ গোল-অ্যাসিস্ট, মৌসুমে ৪৪ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট
আলোচনায় আরও যারা
ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের তালিকায় আরও আছেন আর্লিং হলান্ড, জুড বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। হলান্ড প্রিমিয়ার লিগে ২৭ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুসও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তবে এবার ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ। ফলে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে কে কতটা প্রভাব ফেলেছেন এবং দলকে কতদূর নিয়ে গেছেন—সেটিও খেলোয়াড়দের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের অনুষ্ঠানে জানা যাবে, শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array