১৫ বছরের কম বয়সীদের অনলাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনছে ইইউ
অনলাইন জগতের নানা ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, এআই চ্যাটবট ও অনলাইন গেমিংয়ে প্রবেশাধিকার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইউরোপীয় কমিশনের একটি খসড়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটির মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল সেবার শিশুদের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন আসক্তি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দিতে নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ভাবছেন।
বয়সভেদে থাকবে আলাদা বিধিনিষেধ
ইইউর প্রস্তাবিত ‘কিডস অ্যাক্ট’-এর আওতায় শিশুদের বয়স অনুযায়ী অনলাইন ব্যবহারে আলাদা নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
খসড়া নথি অনুযায়ী—
- ৩ বছরের কম বয়সীদের অনলাইন অ্যাক্সেস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- ৩ থেকে ১২ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত নিরাপদ ও শিশুবান্ধব ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
- ১৩ ও ১৪ বছর বয়সীরা বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সীমিত যোগাযোগের সুবিধাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।
- ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা নিজস্ব স্বাধীন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
প্রযুক্তি কোম্পানির ওপরও বাড়বে দায়িত্ব
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও বেশ কিছু নতুন নিয়ম মানতে হবে। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু, ক্ষতিকর কনটেন্ট সহজে রিপোর্ট করার সুযোগ এবং আসক্তিমূলক ডিজাইন কমানোর মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা অনলাইন গেম ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আসতে পারে।
এ ছাড়া প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের তদারকি ফি দিতে হতে পারে। এই অর্থ ডিজিটাল সেবার ওপর আইনি ও নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে।
কবে কার্যকর হবে?
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনো ভির্কুনেন আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন বলে খসড়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ইইউভুক্ত দেশগুলো ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অনুমোদনের পরই প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করলেও অনলাইনে শোষণ, অপব্যবহার ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array