ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকের করণীয় কী
২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্যের বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে সরকারি উদ্যোগ জোরদার হলেও প্রকোপ কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বাস্তবায়নে ঘাটতি থেকে যায়। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
২০১৭ সালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) একজন রোগতত্ত্ববিদ বাংলাদেশে এসে একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। সেখানে ডেঙ্গুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে দ্রুত সাড়াদানকারী দল গঠন এবং একাধিক মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
২০১৯ সালে ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাবের সময় WHO-এর জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপালও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মাধ্যমে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কারণ এডিস মশা মানুষের বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন ছোট পানির পাত্রে বংশবিস্তার করে এবং ঘরের অন্ধকার ও আর্দ্র জায়গায় অবস্থান করতে পারে।
নাগরিকের করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। শুধু নর্দমা পরিষ্কার করলেই হবে না; ছোট ছোট পানির আধারও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়া ঘরের অন্ধকার ও আর্দ্র জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পথ্য গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর হলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত অংশগ্রহণ জরুরি। সরকারি উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত সচেতনতা একসঙ্গে চললে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array