এআইয়ের গণিত আবিষ্কারে সাফল্য, মানবজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কম সময়ে জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারায় গণিত গবেষণায় বড় পরিবর্তন আসছে। তবে এআই মডেল দিয়ে নতুন নতুন ফলাফল পাওয়া গেলেও সেগুলোর পেছনের তত্ত্ব ও যুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন গণিতবিদেরা। এতে ভবিষ্যতে গণিতচর্চা ও মানবজ্ঞানের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফিল্ডস পদকজয়ী গণিতবিদ টেরেন্স টাও এ ধরনের প্রবণতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, মেশিনের তৈরি জটিল প্রমাণের অন্তর্নিহিত অর্থ ও তত্ত্ব মানুষ বুঝতে না পারলে গণিতের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বদলে এসব আবিষ্কারের পেছনের যুক্তি ও পদ্ধতিও প্রকাশ করবে—এমন প্রত্যাশা গণিতবিদদের।
সম্প্রতি এআইনির্ভর প্রায় ১০ হাজার এজেন্ট ব্যবহার করে নেভিয়ার–স্টোকস সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের দাবি করেছে ওপেনএআই। গণিতের অন্যতম কঠিন ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা হিসেবে এটি পরিচিত। সমস্যাটি ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সমাধানটি যাচাই হয়ে স্বীকৃতি পেলে বড় অঙ্কের পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এআই দ্রুত ও জটিল হিসাব করতে পারলেও কোনো ফলাফলের গভীর অর্থ, সৌন্দর্য ও তাত্ত্বিক গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে মানুষের সৃজনশীলতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণিত গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি মেশিনের তৈরি ফলাফল কীভাবে যাচাই, ব্যাখ্যা ও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array