খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী

যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার হলো সবচেয়ে গুরুতর, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর কাজগুলোর একটি। এই প্রক্রিয়ায় ঠগ, অপরাধী ও মাফিয়ারা অর্থ আদায় করে। তারা এ দেশের জীবনের বিনিময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানবপাচার রোধে বেশ কিছু আইন সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বেশ কিছু আইন সংশোধন করেছি। আমরা মানব পাচারের সংজ্ঞাকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করেছি, যা মানব পাচারের বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের মানবপাচার আইনের অধীনে আমরা এই ধরণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করেছি এবং অনলাইন জুয়া, পাচার এবং এ জাতীয় অবৈধ কার্যক্রমকে আমাদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনেছি। এছাড়া আরও কিছু আইন প্রবর্তন করেছি যা মানব পাচারের দিকটিও কভার করতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মানবপাচার বিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে। আর তখন থেকেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সতর্ক। কিন্তু তাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অভিযোগকারীদের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ ও অন্যান্য বিষয়াদি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

মানবপাচার আগের মতো ব্যাপক নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মানবপাচার এখন আর আগের মতো এতটা ব্যাপক নেই। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশে বেকারত্বের সংকট রয়েছে। আমরা মানুষকে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া থেকে আটকাতে পারি না।

ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে অনেকেই সেখানে অবৈধ অভিবাসী হয়ে যায় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের সহায়তাও চাইছি, কীভাবে আমরা বিদেশে যাওয়া অভিবাসী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি।

নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আমরা আপনাদের যেকোনো ভালো সুপারিশকে স্বাগত জানাই।

আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মাহদী আমিনের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
মাহদী আমিনের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে চায় সরকার : পর্যটনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে চায় সরকার : পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নদী, পাহাড়, সমুদ্র, বন, জঙ্গলসহ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্পদ রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যও বাংলাদেশের পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

তিনি বলেন, পর্যটনের সম্ভাবনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব গল্প ও পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। এখন এসব বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দেওয়াই লক্ষ্য। বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটন আকর্ষণকে নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও। অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে এটিকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাইরের পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। আর সুন্দরবনকে নিয়ে পিপিপি মডেলে কিছু করা গেলে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

পর্যটন খাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যেতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বর্তমানে পর্যটন খাতের অবদান যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকে তা আরও বাড়াতে কাজ করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ট্যুরিজম ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। এতে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০টি বুথে অংশ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

গ্যাসে গতি, শিল্পে জাগছে প্রাণ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
গ্যাসে গতি, শিল্পে জাগছে প্রাণ

প্রায় দুই মাসের তীব্র জ্বালানি সংকটের পর শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোথাও কোথাও সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দীর্ঘদিনের উৎপাদন ব্যাঘাত কাটিয়ে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে শিল্পকারখানাগুলোর সামনে।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, সংকট পুরোপুরি শেষ হয়েছে—এমনটা এখনই বলা না গেলেও সরবরাহ বৃদ্ধির এই পরিবর্তন দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর বড় স্বস্তি এনেছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানি পণ্যের সময়মতো সরবরাহ এবং উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরে সরবরাহে দৃশ্যমান অগ্রগতি
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির চিত্রটি সবচেয়ে স্পষ্ট। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, জেলার শিল্পকারখানায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের সবচেয়ে কঠিন সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছিল প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুটে। বুধবার তা বেড়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।

চাহিদার তুলনায় এখনও কিছু ঘাটতি থাকলেও সংকটের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে সরবরাহে এই বড় অগ্রগতি উৎপাদন ব্যবস্থায় গতি ফিরিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বুধবার গাজীপুরের কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি স্প্যারো ফ্যাশন, ডিবিএল গার্মেন্টস, জয়দেবপুর গ্রিড এবং তিতাসের আঞ্চলিক বিপণন কেন্দ্র ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জেও উৎপাদনে স্বস্তি
গাজীপুরের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানাতেও গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। শিল্প মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় সরবরাহ বাড়ায় উৎপাদন প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে। যদিও অঞ্চলভেদে চাপের পার্থক্য রয়েছে, সামগ্রিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি শিল্প খাতে আশাবাদ তৈরি করেছে।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, প্রায় দুই মাস পর কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। সব অঞ্চলে একই হারে সরবরাহ বাড়েনি, তবে দীর্ঘদিন পর এই উন্নতি শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।

এলএনজি সরবরাহে ফিরেছে গতি
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির এই উন্নতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুনরুদ্ধারের। গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। এর প্রভাব পড়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সংকটের আগে দেশে দৈনিক প্রায় ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে আসত প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি। সংকটের পর আগস্টে গড় সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২২৩ কোটি ঘনফুটে। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ আবার প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুটে ফিরে এসেছে। ফলে জাতীয় পর্যায়েও গ্যাস সরবরাহ সংকটপূর্ব অবস্থার কাছাকাছি এসেছে।

উৎপাদনে গতি রপ্তানিতে স্বস্তি
দীর্ঘ সংকটে নিটিং, ডাইং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কমে যায় উৎপাদন, বাড়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ব্যয় এবং শিপমেন্ট বিলম্বের ঝুঁকি। এক জরিপে প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয় এবং একই সংখ্যক প্রতিষ্ঠান শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রায় ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শিপমেন্ট বিলম্বের কথাও জানিয়েছে।

এখন গ্যাসের চাপ বাড়ায় এসব ক্ষতি ধীরে ধীরে সামলে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে শ্রমঘণ্টার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ সময়মতো পূরণ এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সহজ হবে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বুধবার সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তাঁর মতে, গত দুই মাসের অচলাবস্থা অনেকটাই কেটে যাওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তারা স্বস্তি বোধ করছেন।

স্বস্তির ধারা ধরে রাখাই এখন লক্ষ্য
বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি শিল্প খাতে আশাবাদের নতুন কারণ তৈরি করলেও উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক উন্নতি যেন সাময়িক না হয়। কারণ দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮৬ কোটি ঘনফুট। ফলে সরবরাহ সংকটপূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরলেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে।

তবে দীর্ঘ দুই মাসের অস্থিরতার পর গ্যাসের চাপ বাড়া নিঃসন্দেহে শিল্পের জন্য ইতিবাচক মোড়। কারখানায় উৎপাদন বাড়ার সুযোগ, রপ্তানি কার্যক্রমে গতি এবং উদ্যোক্তাদের আস্থায় ফেরার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখন প্রয়োজন সরবরাহের ধারাবাহিকতা।

কালের আলো/এম/এএইচ