খুঁজুন
                               
, ,
           

মদিনায় পৌঁছে নবীজি যে ৪ বার্তা দিয়েছিলেন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
মদিনায় পৌঁছে নবীজি যে ৪ বার্তা দিয়েছিলেন

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত ইসলামের ইতিহাসে শুধু একটি স্থানান্তরের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল একটি নতুন মানবিক সমাজ ও আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ঐতিহাসিক সূচনা। বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের আবাসস্থল ছিল মদিনা। অন্যদিকে আউস ও খাজরাজ—শহরের প্রধান দুই গোত্র—দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত ছিল।

এমন এক সময়ে মদিনায় পৌঁছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের সামনে যে বার্তা তুলে ধরেছিলেন, তাতে ছিল শান্তি, সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক বন্ধন ও আত্মিক উন্নয়নের সমন্বয়।

মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) মদিনায় পৌঁছার পর মানুষ তাঁকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাসুল (সা.)-এর মুখের দিকে তাকিয়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়।

এরপর রাসুল (সা.) সমবেত মানুষকে উদ্দেশ করে বলেন—

“হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, সালামের প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো। তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”
—সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫

মাত্র কয়েকটি বাক্যে দেওয়া এই নির্দেশনার মধ্যে ছিল একটি আদর্শ সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ভিত্তি।

১. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান

একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের প্রথম শর্ত মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মানুষের জীবনকে অস্থির করে তোলে এবং সামাজিক অপরাধ ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

রাসুল (সা.) তাই সামাজিক দায়িত্বের শুরু করেছেন ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে। সমাজের কোনো মানুষ যেন অনাহারে না থাকে—এটি শুধু ব্যক্তিগত দানশীলতার বিষয় নয়, বরং পারস্পরিক দায়িত্ববোধেরও প্রকাশ।

অর্থাৎ একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের প্রয়োজনের দিকেও নজর দিতে হবে।

২. সালামের প্রসার

দ্বিতীয় নির্দেশ ছিল সমাজে সালামের ব্যাপক প্রচলন। ‘আসসালামু আলাইকুম’ শুধু একটি সম্ভাষণ নয়; এর মধ্য দিয়ে অন্যের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়। পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলে।

একটি সমাজে মানুষ যখন পরস্পরের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে, তখন সেখানে সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হয়।

৩. আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা

পরিবার সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আত্মীয়তার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেলে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

রাসুল (সা.) তাই আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়।

এটি শুধু পারিবারিক সৌহার্দ্যই বাড়ায় না, বরং বৃহত্তর সমাজেও পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।

৪. রাতের নামাজে আত্মিক শক্তি অর্জন

প্রথম তিনটি নির্দেশ ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও সামাজিক দায়িত্বকে কেন্দ্র করে। এর সঙ্গে রাসুল (সা.) যুক্ত করেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মিক অনুশীলন—রাতের নির্জনতায় নামাজ আদায় করা।

মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে শুধু বাহ্যিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আত্মিক শক্তি ও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। রাতের নীরবতায় নামাজ ও ইবাদত মানুষকে আত্মসমালোচনা, বিনয় ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ দেয়।

দিনের ব্যস্ততায় যে মানুষ অন্যের জন্য কাজ করে, রাতের নির্জনতায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার মাধ্যমে সে নিজের কাজের উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারে।

চার বার্তায় সমাজ ও আত্মার সমন্বয়

মদিনায় রাসুল (সা.)-এর প্রথম দিকের এই নির্দেশনাগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তিনি সমাজ নির্মাণকে শুধু আইন বা প্রশাসনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। ক্ষুধার্তের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, মানুষের মধ্যে শান্তির সম্পর্ক তৈরি করা, পরিবারকে শক্তিশালী রাখা এবং স্রষ্টার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলা—সবকিছুকেই তিনি একটি সুস্থ সমাজের অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন।

অর্থাৎ মানুষের কল্যাণ ও আত্মিক উন্নয়নকে পাশাপাশি রেখে গড়ে উঠেছিল মদিনার সমাজব্যবস্থার ভিত্তি। এই চারটি বার্তার মধ্যেই তাই ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ব ও আত্মিক উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়।

কালের আলো/এসএ

নেইমারের চোটে সান্তোসে কৌতিনহো, ফের এক ড্রেসিংরুমে দুই বন্ধু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
নেইমারের চোটে সান্তোসে কৌতিনহো, ফের এক ড্রেসিংরুমে দুই বন্ধু

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে যোগ দিয়েছেন ফেলিপে কৌতিনহো। দীর্ঘদিন পর আবারও বন্ধু নেইমার জুনিয়রের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার।

শৈশবে ভাস্কো দা গামায় বেড়ে ওঠা কৌতিনহোর সঙ্গে নেইমারের বন্ধুত্ব বহুদিনের। নেইমার যখন সান্তোসের জার্সিতে আলো ছড়িয়েছেন, তখন কৌতিনহো ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের শিবিরে। এবার সময়ের পরিক্রমায় সেই সান্তোসেই দুজনের পথ মিলেছে।

ব্রাজিলিয়ান লিগ ‘ব্রাসিলেইরাও’-এ বর্তমানে ভালো সময় পার করছে না সান্তোস। দলের পারফরম্যান্সে নতুন গতি আনতে লিভারপুল ও বার্সেলোনার সাবেক এই প্লে-মেকারকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবটি।

৩৪ বছর বয়সী কৌতিনহোর ওপর এখন সান্তোসের আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা ফেরানোর বড় দায়িত্ব। তবে তার দলে যোগ দেওয়ার পেছনে রয়েছে নেইমারের চোটও।

সান্তোসে ফিরে ক্লাবটির পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছিলেন নেইমার। কিন্তু সম্প্রতি ডান উরুর ‘রেকটাস ফেমোরিস’ পেশিতে গ্রেড-২বি মাত্রার গুরুতর চোট পেয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।

নেইমারের অনুপস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প খুঁজতে সান্তোস কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ কৌতিনহোর সঙ্গে চুক্তি করেছে। ইতালিয়ান ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সান্তোসে থাকবেন কৌতিনহো।

নেইমার এখন মাঠের বাইরে থাকলেও কৌতিনহোকে ঘিরে সান্তোস সমর্থকদের প্রত্যাশা কম নয়। মাঠে নেইমারের ফেরার পর দুই বন্ধুর একসঙ্গে খেলার সুযোগ তৈরি হলে তাদের পুরোনো বন্ধুত্বের রসায়ন সান্তোসকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা নেই শবনম ফারিয়ার

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা নেই শবনম ফারিয়ার

২০১৩ সালে আদনান আল রাজীব পরিচালিত ‘অল টাইম দৌড়ের উপর’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন শবনম ফারিয়া। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। একসময় ছোট পর্দার ব্যস্ত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের তালিকাতেও ছিলেন ফারিয়া।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না তাকে। এ নিয়ে ভক্ত-দর্শকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অভিনয়ে অনিয়মিত থাকার কারণ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শবনম ফারিয়া জানান, অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা নেই তার। জীবনের বর্তমান পর্যায়ে টানা মাসজুড়ে অভিনয় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

ফারিয়ার ভাষায়, “আমি এখন জীবনের যে পর্যায়ে আছি, সে জায়গা থেকে নিয়মিত ২২-২৩ দিন অভিনয় করা সম্ভব না। আমি অভিনয় করতে চাই। কিন্তু নিয়মিত যে কাজ, সেটা আমি আর করতে চাই না। বছরে ৫-৬টি কাজ করতে চাই।”

অভিনয়জীবনে শবনম ফারিয়া বেশ কিছু জনপ্রিয় খণ্ড নাটকে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘কালো বরফ’, ‘মাকে আমার পরে না মনে’, ‘বুক ভরা ভালোবাসা’, ‘তবু ভালোবাসি তোমায়’ ও ‘মাছ পাখি ও তুমি’।

ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে তার উল্লেখযোগ্য কাজ ‘সোনার সেকল’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, ‘বকুলপুর’ ও ‘শান্তিপুরীতে অশান্তি’।

ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন শবনম ফারিয়া। ২০১৮ সালে ‘দেবী’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।

নিয়মিত অভিনয়ের বাইরে থাকলেও অভিনয় পুরোপুরি ছাড়ছেন না ফারিয়া। বরং বছরে হাতে গোনা কয়েকটি বাছাই করা কাজের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ফিরতে চান এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

 

যেখানে কচ্ছপ দেখতে ছুটে আসেন হাজার ডলারের পর্যটকরা

ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
যেখানে কচ্ছপ দেখতে ছুটে আসেন হাজার ডলারের পর্যটকরা

ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের নিরিবিলি এক কোণে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্র বাওয়াহ রিজার্ভ। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত এই দ্বীপে বিলাসিতা, নির্জনতা আর প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। তবে অন্য অনেক বিলাসবহুল রিসোর্টের চেয়ে বাওয়াহকে আলাদা করেছে একটি বিশেষ আয়োজন—সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণ।

সন্ধ্যা নামতেই রিসোর্টের অতিথিদের ফোনে ভেসে আসে জরুরি বার্তা—সৈকতে কচ্ছপের বাচ্চা বের হয়েছে, সাগরের দিকে তাদের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

রিসোর্টের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপে ঘুরে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করেন। শিকারি প্রাণীর হাত থেকে ডিমগুলো রক্ষা করতে সেগুলো বাওয়াহর একটি নিরাপদ, ঢাকনাযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

কচ্ছপের বাচ্চাগুলোর সাগরে যাওয়ার পথটিও বিশেষভাবে তৈরি। বালুর ওপর তৈরি সরু পথটির দুপাশে ছোট দেয়াল থাকায় কচ্ছপগুলো পথ হারিয়ে অন্যদিকে চলে যেতে পারে না। শেষ পর্যন্ত সেই পথ ধরে তারা পৌঁছে যায় সমুদ্রে।

কচ্ছপের ডাকেই রাতের খাবার ফেলে ছুট

কোনো ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে—বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হওয়ার পরই অতিথিদের জানানো হয়। আর সেই বার্তা পেয়েই অনেকে রাতের খাবার ফেলে কিংবা অন্য আয়োজন বাদ দিয়ে ছুটে যান সৈকতে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে কয়েক মিনিটের এই দৃশ্য এতটাই আকর্ষণীয় যে, এর জন্য তারা হাজার হাজার ডলার খরচ করতেও প্রস্তুত।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ রয়েছে। রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি বিশাল দ্বীপমালা। বাওয়াহ রিজার্ভের মালিকানায় রয়েছে এই অঞ্চলের ছয়টি দ্বীপ। দক্ষিণ চীন সাগরের নিরিবিলি অংশে তাই গড়ে উঠেছে তাদের একান্ত অবকাশকেন্দ্র।

শুরুতেই পেরোতে হয় দীর্ঘ পথ

বাওয়াহ রিজার্ভে পৌঁছানোও কম রোমাঞ্চকর নয়। সাধারণত যাত্রা শুরু হয় সিঙ্গাপুর থেকে। সেখান থেকে গাড়িতে করে ফেরিঘাটে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ শেষে ফেরিতে পাড়ি দিতে হয় সিঙ্গাপুর প্রণালি। এরপর ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে পৌঁছে অতিথিদের নেওয়া হয় হাং নাদিম বিমানবন্দরে।

সেখানেই অপেক্ষা করে ব্যক্তিগত জলবিমান। সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী বহন করতে পারে একেকটি বিমান। বাওয়াহর জন্য রয়েছে দুটি জলবিমান—একটি নীল ও অন্যটি সবুজ।

বিমানে মালপত্রের ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর নিয়ম। প্রত্যেক অতিথি সর্বোচ্চ ১৫ কেজি মালপত্র নিতে পারেন। এমনকি বিমানে ওঠার আগে যাত্রী ও তার লাগেজের সম্মিলিত ওজনও পরীক্ষা করা হয়।

বাতাম থেকে প্রায় ৭৫ মিনিট উড়ে জলবিমানটি বাওয়াহর সরু জেটির পাশে পানিতে অবতরণ করে। সেখানে রিসোর্টের কর্মীরা অতিথিদের স্বাগত জানান ঠান্ডা তোয়ালে দিয়ে।

দ্বীপে পৌঁছেই বদলে যায় জীবন

দীর্ঘ ভ্রমণের পর বাওয়াহর সবুজ ও শান্ত পরিবেশে পৌঁছালে বাইরের পৃথিবী যেন অনেক দূরে চলে যায়। ব্যক্তিগত বাটলাররা অতিথিদের স্যুটে পৌঁছে দেন। কোথাও নেই ব্যস্ত শহরের শব্দ, নেই যানজট কিংবা মানুষের ভিড়।

দ্বীপজুড়ে ওয়াই-ফাই থাকলেও যারা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। কনসিয়ার্জের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয় সাধারণ ফোন।

এখানে থাকার খরচও সাধারণ পর্যটকের নাগালের বাইরে। সবচেয়ে সাধারণ কক্ষের ভাড়া শুরু প্রায় ১ হাজার ৯৮০ ডলার থেকে। দ্বীপে যাতায়াতের জটিলতার কারণে অতিথিদের অন্তত তিন রাত থাকতে হয়।

এই খরচের মধ্যে থাকে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার এবং একটি স্পা সেবা। চাইলে অতিরিক্ত খরচে ব্যক্তিগত সৈকতভোজের আয়োজনও করা যায়। এর খরচ প্রায় ১ হাজার ডলার।

সবচেয়ে বিলাসবহুল চার শয়নকক্ষের স্যুটে রয়েছে নিজস্ব ইনফিনিটি পুল। ভরা মৌসুমে সেখানে এক রাতের ভাড়া প্রায় ১২ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

শুধু বিশ্রাম নয়, আছে নানা আয়োজন

বাওয়াহর বিশেষত্ব শুধু বিলাসিতা নয়। সক্রিয় জীবনযাপন পছন্দ করা অতিথিদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের আয়োজন। স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, খোলা সাগরে সাঁতার, কফি সংগ্রহ ও সুগন্ধি তৈরির কর্মশালার মতো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিদিন পানির ওপর তৈরি একটি ছোট বাংলোয় যোগব্যায়ামের ক্লাস হয়। সেখানে ব্যায়ামের সরঞ্জাম ও ভারোত্তোলনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

রিসোর্টের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পল রবিনসনের ভাষায়, বাওয়াহ এমন অতিথিদের জন্য, যারা হয়তো মালদ্বীপের মতো জায়গায় ‘বিরক্ত’। অর্থাৎ যারা শুধু বিলাসবহুল বাংলোয় বসে থাকতে চান না, বরং প্রকৃতির মধ্যে সক্রিয় সময় কাটাতে চান।

বিলাসিতার সঙ্গে প্রকৃতির বন্ধুত্ব

বাওয়াহর আরেকটি বিশেষত্ব হলো স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া। স্থানীয় উপাদান ও সামুদ্রিক খাবারনির্ভর খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই রাত সমুদ্রসৈকতের রেস্তোরাঁকে ইন্দোনেশীয় খোলা বাজারের আদলে সাজানো হয়।

দ্বীপের ছোট দোকানে পুনর্ব্যবহৃত সামুদ্রিক প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়। লাইব্রেরিতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি ও স্থানীয় উদ্ভিদ নিয়ে বইয়ের পাশাপাশি গল্প ও থ্রিলারও।

অতিথিদের পছন্দও গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখেন কর্মীরা। কারও নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি থাকলে তা এড়িয়ে চলা হয়, আবার কেউ কোন পানীয় পছন্দ করেন—সেটিও খেয়াল রাখা হয়।

চেক-ইনের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই অতিথিদের ঘুমের অভ্যাস, খাবারের পছন্দ ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সাজানো হয় পুরো থাকার অভিজ্ঞতা।

শেষ পর্যন্ত যে বিলাসিতা—নির্জনতা

বাওয়াহ রিজার্ভের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়তো তার দামি স্যুট, ব্যক্তিগত সৈকত কিংবা জলবিমান নয়। বরং ব্যস্ত পৃথিবী থেকে কয়েক দিনের জন্য পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ।

এখানে বিলাসিতা মানে সোনার কল বা বড় ব্র্যান্ডের প্রদর্শন নয়। স্থানীয় কাঠের বাথটাব, সমুদ্রের বাতাস, নরম আলো, সবুজ দ্বীপ আর রাতের নীরবতাই হয়ে ওঠে বিলাসিতার অংশ।

আর সেই বিলাসিতার মাঝেই হঠাৎ ফোনে আসে একটি ছোট বার্তা—‘কচ্ছপের বাচ্চা বের হয়েছে।’

তখন হাজার হাজার ডলার খরচ করে আসা অতিথিরাও ছুটে যান সৈকতে। কয়েক মিনিটের জন্য তারা ভুলে যান বিলাসবহুল স্যুট, দামি খাবার কিংবা স্পা। চোখের সামনে দেখতে থাকেন ছোট্ট কচ্ছপের সমুদ্রের দিকে প্রথম যাত্রা।

বাওয়াহর আসল গল্পটা হয়তো এখানেই—অসাধারণ বিলাসিতার মাঝেও প্রকৃতির সবচেয়ে ছোট ও অসহায় প্রাণীর জন্য জায়গা করে দেওয়া।

কালের আলো/এসএ