খুঁজুন
                               
, ,
           

মদিনায় পৌঁছে নবীজি যে ৪ বার্তা দিয়েছিলেন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
মদিনায় পৌঁছে নবীজি যে ৪ বার্তা দিয়েছিলেন

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত ইসলামের ইতিহাসে শুধু একটি স্থানান্তরের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল একটি নতুন মানবিক সমাজ ও আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ঐতিহাসিক সূচনা। বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের আবাসস্থল ছিল মদিনা। অন্যদিকে আউস ও খাজরাজ—শহরের প্রধান দুই গোত্র—দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত ছিল।

এমন এক সময়ে মদিনায় পৌঁছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের সামনে যে বার্তা তুলে ধরেছিলেন, তাতে ছিল শান্তি, সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক বন্ধন ও আত্মিক উন্নয়নের সমন্বয়।

মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) মদিনায় পৌঁছার পর মানুষ তাঁকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাসুল (সা.)-এর মুখের দিকে তাকিয়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়।

এরপর রাসুল (সা.) সমবেত মানুষকে উদ্দেশ করে বলেন—

“হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, সালামের প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো। তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”
—সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫

মাত্র কয়েকটি বাক্যে দেওয়া এই নির্দেশনার মধ্যে ছিল একটি আদর্শ সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ভিত্তি।

১. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান

একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের প্রথম শর্ত মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মানুষের জীবনকে অস্থির করে তোলে এবং সামাজিক অপরাধ ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

রাসুল (সা.) তাই সামাজিক দায়িত্বের শুরু করেছেন ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে। সমাজের কোনো মানুষ যেন অনাহারে না থাকে—এটি শুধু ব্যক্তিগত দানশীলতার বিষয় নয়, বরং পারস্পরিক দায়িত্ববোধেরও প্রকাশ।

অর্থাৎ একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের প্রয়োজনের দিকেও নজর দিতে হবে।

২. সালামের প্রসার

দ্বিতীয় নির্দেশ ছিল সমাজে সালামের ব্যাপক প্রচলন। ‘আসসালামু আলাইকুম’ শুধু একটি সম্ভাষণ নয়; এর মধ্য দিয়ে অন্যের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়। পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলে।

একটি সমাজে মানুষ যখন পরস্পরের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে, তখন সেখানে সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হয়।

৩. আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা

পরিবার সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আত্মীয়তার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেলে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

রাসুল (সা.) তাই আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়।

এটি শুধু পারিবারিক সৌহার্দ্যই বাড়ায় না, বরং বৃহত্তর সমাজেও পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।

৪. রাতের নামাজে আত্মিক শক্তি অর্জন

প্রথম তিনটি নির্দেশ ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও সামাজিক দায়িত্বকে কেন্দ্র করে। এর সঙ্গে রাসুল (সা.) যুক্ত করেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মিক অনুশীলন—রাতের নির্জনতায় নামাজ আদায় করা।

মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে শুধু বাহ্যিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আত্মিক শক্তি ও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। রাতের নীরবতায় নামাজ ও ইবাদত মানুষকে আত্মসমালোচনা, বিনয় ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ দেয়।

দিনের ব্যস্ততায় যে মানুষ অন্যের জন্য কাজ করে, রাতের নির্জনতায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার মাধ্যমে সে নিজের কাজের উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারে।

চার বার্তায় সমাজ ও আত্মার সমন্বয়

মদিনায় রাসুল (সা.)-এর প্রথম দিকের এই নির্দেশনাগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তিনি সমাজ নির্মাণকে শুধু আইন বা প্রশাসনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। ক্ষুধার্তের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, মানুষের মধ্যে শান্তির সম্পর্ক তৈরি করা, পরিবারকে শক্তিশালী রাখা এবং স্রষ্টার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলা—সবকিছুকেই তিনি একটি সুস্থ সমাজের অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন।

অর্থাৎ মানুষের কল্যাণ ও আত্মিক উন্নয়নকে পাশাপাশি রেখে গড়ে উঠেছিল মদিনার সমাজব্যবস্থার ভিত্তি। এই চারটি বার্তার মধ্যেই তাই ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ব ও আত্মিক উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়।

কালের আলো/এসএ

কঠিন সময়ের শিক্ষা নিয়ে যা বললেন বাঁধন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
কঠিন সময়ের শিক্ষা নিয়ে যা বললেন বাঁধন

জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে। সেই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু তাকে বদলে দেয়নি, জীবন ও প্রতিকূলতাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও এনেছে পরিবর্তন। এবার জীবনের সেই উপলব্ধি ও কঠিন সময় থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্টে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বাঁধন লিখেছেন, ‘যখন একটি দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখন অসংখ্য নতুন দরজা খুলে দেন সৃষ্টিকর্তা—যেগুলো অনেক সময় আমাদের কল্পনার চেয়েও সুন্দর ও অর্থবহ। আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন? আমি করি।’

শেষ নয়, কখনো কখনো নতুন শুরুর ইঙ্গিত

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঁধন জানিয়েছেন, কোনো একটি মুহূর্তকে জীবনের শেষ বলে মনে হলেও পরে সেটিই নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা হয়ে উঠতে পারে। কঠিন সময়ের মধ্যেও নতুন সম্ভাবনার ওপর বিশ্বাস রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বাঁধনের ভাষায়, ‘যখনই মনে হয়েছে জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে, তখনই নতুন সুযোগ, নতুন অভিজ্ঞতা এবং আরও বড় কিছুর ওপর বিশ্বাস রাখতে পেরেছি।’

অভিনেত্রীর উপলব্ধি, জীবনের কিছু ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে যতটা কঠিন বা শেষ বলে মনে হয়, সময়ের সঙ্গে সেগুলোর অর্থ বদলে যেতে পারে। কখনো কখনো সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই মানুষকে এমন একটি জায়গায় পৌঁছে দেয়, যা আগে কল্পনাতেও ছিল না।

অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কথাও জানালেন

বাঁধন লিখেছেন, জীবনের এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন তার সত্যিই মনে হয়েছিল সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন, সেই ঘটনাগুলোই তাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যার কথা তিনি আগে ভাবেননি।

তিনি বলেন, ‘জীবনের এমন অনেক মুহূর্তে সত্যিই মনে হয়েছিল, এটাই শেষ। কিন্তু পরে উপলব্ধি করেছি, সেসব মুহূর্ত আমাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে, যা আমি তখন পর্যন্ত ভাবিনি, হয়তো কখনো কল্পনাও করেননি।’

এখন জীবনের প্রতি আরও কৃতজ্ঞ থাকা, শান্ত থাকা এবং বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান বাঁধন। তার মতে, নিজের জীবনই তাকে বারবার দেখিয়েছে—অপ্রত্যাশিতভাবে একটি গল্পের মোড় বদলে যেতে পারে।

‘অপ্রত্যাশিত আশীর্বাদ’-এর জন্য কৃতজ্ঞতা

জীবনের এই দীর্ঘ পথচলা, নানা অভিজ্ঞতা এবং কঠিন সময় থেকে পাওয়া শিক্ষার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে সামনে এখনো লেখা বাকি থাকা সুন্দর অধ্যায়গুলোর প্রতিও আশাবাদী তিনি।

পোস্টের শেষাংশে বাঁধন লিখেছেন, ‘এই যাত্রা, জীবনের শিক্ষা, অপ্রত্যাশিত আশীর্বাদ এবং এখনো লেখা বাকি থাকা সব সুন্দর অধ্যায়ের জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’

ভেনিসের ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায়

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর আলোচনায় এসেছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে একটি পার্কে হামলার শিকার হওয়ার কথা জানান বাঁধন। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগও করেন তিনি।

সেই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর জীবনের কঠিন সময়, সেসব অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিশ্বাস নিয়ে বাঁধনের এই নতুন বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

রেস্তোরাঁয় বিক্রি কমেছে ৩০%, টিকে থাকাই দায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
রেস্তোরাঁয় বিক্রি কমেছে ৩০%, টিকে থাকাই দায়

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে রেস্তোরাঁ খাত। এর প্রভাবে দেশের রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম বাড়াতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

  • দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়ের চাপে সংকটে খাত
  • সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা দাবি

সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মশলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রম ব্যয়। কিন্তু এসব ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে খাবারের দাম বাড়াতে গেলে গ্রাহক কমে যায়। ফলে একদিকে খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমছে।

ইমরান হাসান বলেন, ‘রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। যে কারণে এখন ব্যবসায় টিকে থাকা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ শিল্পের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতি ও ব্যয় কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

নয় দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির দাবিগুলো হলো—১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে মালিকরা যেন খাবারের দাম সমন্বয় করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ৩. ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ ও উৎসে কর ২ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনতে হবে। ৫. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করতে হবে।

৬. রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন, এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। ৭. রেস্তোরাঁ খাতের চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিতে হবে।৮. ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক দলের সঙ্গে ট্যাগিং করে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৯. রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি এ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

একাধিক অনুমোদনের জটিলতা দূর করার দাবি

ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২টি অনুমোদন নিতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি—দুই ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রেও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান ইমরান হাসান। তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বলেন, ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হলেও উদ্যোক্তারা এখনো এর সুফল যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। শিল্প, চাপ সৃষ্টি, অনৈতিক সুবিধা দাবি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

এলপিজি সংকটে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়

এলপিজির সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে কঠোর বাজার তদারকির দাবি জানানো হয়।

ইমরান হাসান আরও বলেন, ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হলেও উদ্যোক্তারা এখনো এর সুফল যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং রেস্তোরাঁ খাতের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

গরুর মাংস আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে নগরভিত্তিক রেস্তোরাঁগুলোতে মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন গরুর মাংস সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ। বাজারে গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

ক্যারিবীয় সফরে দাস বাণিজ্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন চার্লস?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ক্যারিবীয় সফরে দাস বাণিজ্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন চার্লস?

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চলে সফরে যাচ্ছেন। এ সফরকে ঘিরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আটলান্টিক দাস বাণিজ্যে ভূমিকার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সফরের সময় রাজা চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দাস বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বা পুনরুদ্ধারমূলক অর্থ দেওয়ার দাবিও উঠতে পারে।

২৭ অক্টোবর রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা আট দিনের সফরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যাবেন। সফরে তারা অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বাহামাস এবং গায়ানা সফর করবেন। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক বা CHOGM-এও তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বাকিংহাম প্যালেসের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, সফরের সময় যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলো’ এড়িয়ে যাওয়া হবে না। তবে যুক্তরাজ্য সরকার রাজা চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিতে কোনো পরামর্শ দেয়নি বলে জানা গেছে।

আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা

প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চলা আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৬৬০-এর দশকে রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর ইংল্যান্ড এ বাণিজ্যে বড় পরিসরে যুক্ত হয়। ব্রিটিশ জাহাজে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে জোরপূর্বক মানুষকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের দিয়ে চিনি, তামাক, কফি ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করানো হতো।

আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় দাস পরিবহনের ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রা ইতিহাসে ‘মিডল প্যাসেজ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ এই যাত্রায় রোগ, অপুষ্টি, নির্যাতন ও অমানবিক পরিবেশের কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারান।

১৮০৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘স্লেভ ট্রেড অ্যাক্ট’ পাস করে দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে। তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাসপ্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় ১৮৩৩ সালের ‘স্লেভারি অ্যাবোলিশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে।

চার্লসের আগের বক্তব্য

রাজা তৃতীয় চার্লস এর আগেও দাসপ্রথায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকার বিষয়ে নিজের ‘ব্যক্তিগত দুঃখবোধের’ কথা জানিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র বলেন, ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যের প্রজন্মান্তরের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

তবে প্রাসাদটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়টি মূলত সরকারের দেখার বিষয়। রাজা চার্লস তার আগের বক্তব্যগুলোতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দাস বাণিজ্যকে ‘একটি নৃশংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইতিহাসে স্থায়ীভাবে কলঙ্কের দাগ রেখে গেছে।

বাকিংহাম প্যালেস আরও জানিয়েছে, আসন্ন সফরের মূল লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘প্রাণবন্ত বর্তমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ’কে সামনে তুলে ধরা।

ক্ষতিপূরণের দাবি

আটলান্টিকের দাস বাণিজ্য থেকে লাভবান দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি এরই মধ্যে আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ জানিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে জ্যামাইকার সরকার জানায়, দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে তারা রাজা চার্লসের কাছে একটি আবেদনপত্র দেবে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ জানান, ওই আবেদনে তিনটি প্রশ্ন প্রিভি কাউন্সিলের জুডিশিয়াল কমিটির কাছে পাঠানোর জন্য রাজাকে অনুরোধ করা হবে। এসব প্রশ্নের মধ্যে জ্যামাইকায় আফ্রিকানদের দাসত্বে পরিণত করার বৈধতার বিষয়টিও থাকবে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান এখনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে নয়। সেপ্টেম্বর মাসে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যকে ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, যুক্তরাজ্য দাস বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করে না।

ফলে ক্যারিবীয় সফরে রাজা চার্লস দাস বাণিজ্যের ইতিহাস নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন এবং ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণের দাবির বিষয়ে কোনো নতুন অবস্থান সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

কালের আলো/এসএ