খুঁজুন
                               
, ,
           

ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, কঙ্গোয় ৪০১৮ মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, কঙ্গোয় ৪০১৮ মৃত্যু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

সাত প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা সংক্রমণ ইতোমধ্যে কঙ্গোর সাতটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে চলমান এই প্রাদুর্ভাবটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের আগের বড় প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বের প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিগুলোর মধ্যে কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবের চেয়ে বড় ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারি। গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়া ওই প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

কোথাও সংক্রমণ কমলেও নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে

কঙ্গো সরকার ও জাতিসংঘ সেপ্টেম্বর মাসে জানিয়েছিল, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ইটুরি প্রদেশের কিছু এলাকায় সংক্রমণের গতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নর্থ কিভু প্রদেশে নতুন করে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাউথ উবাঙ্গি সেপ্টেম্বর মাসে কঙ্গোর সপ্তম প্রদেশ হিসেবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। পূর্ব কঙ্গো থেকে সেখানে যাওয়া এক ব্যক্তি ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই প্রদেশে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

চলমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়ানো, আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানুষের চলাচল, চিকিৎসা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও অর্থের ঘাটতি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ

ইলন মাস্ক ও শিভন জিলিসের সম্পর্কে বিচ্ছেদ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
ইলন মাস্ক ও শিভন জিলিসের সম্পর্কে বিচ্ছেদ

ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন তার ব্যবসায়িক সহযোগী ও চার সন্তানের মা শিভন জিলিস। তবে বিচ্ছেদের পরও মাস্কের সঙ্গে ভালো বন্ধু ও সহ-অভিভাবক হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তনের কথা জানান জিলিস। সেখানে তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পর্কের এত বড় পরিবর্তন মেনে নেওয়া তার জন্য কঠিন ছিল। তবে মাস্ককে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং তাদের চার সন্তান তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে উল্লেখ করেন।

জিলিস জানান, মাস্ককে ভালোভাবে বোঝা, তার যত্ন নেওয়া এবং তাকে ভালোবাসা ও মানসিক শান্তি দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। মাস্কের ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ জীবনে তাদের পরিবার একটি নিরাপদ ও শান্তির জায়গা হয়ে উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মাস্কের মন খারাপের সময় তার মুখে হাসি ফোটাতে পারতেন—এমন কথাও নিজের পোস্টে জানিয়েছেন জিলিস।

গোপন ছিল সম্পর্ক

মাস্ক ও জিলিসের সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে আসেনি। ২০২১ সালে তাদের যমজ সন্তান জন্ম নেয়। পরে ২০২২ সালে ‘বিজনেস ইনসাইডার’-এর এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাদের দুই সন্তানের বাবা-মা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এরপর জিলিসের আরও দুই সন্তান হয়। সব মিলিয়ে মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তান রয়েছে। জিলিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মাস্ক তাকে আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার জন্য নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর পরের বছর গোপনে তাদের যমজ সন্তান জন্ম নেয়।

চার সন্তানকে জিলিস তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের জন্য তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন।

ব্যবসায়িক সহযোগীও জিলিস

মাস্কের একাধিক প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন শিভন জিলিস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসা ও অন্যান্য বিভিন্ন আয়োজনে মাস্কের পাশে তাকে একাধিকবার দেখা গেছে।

মে মাসে ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে মাস্কের আইনি বিরোধসংক্রান্ত শুনানিতেও সাক্ষ্য দেন জিলিস।

নিজের পোস্টে মাস্ককে ‘ই’ নামে উল্লেখ করে জিলিস বলেন, তিনি এখনো মাস্কের জন্য গভীরভাবে ভাবেন এবং তার সুখ কামনা করেন। একই সঙ্গে সন্তানদের স্বার্থে দুজন ভালো বন্ধু ও সহ-অভিভাবক হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনে এর আগেও একাধিক সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সম্পর্ক থেকে তার অন্তত এক ডজন সন্তান রয়েছে। সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়েও তার একাধিক আইনি বিরোধ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের মাথার খুলি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের মাথার খুলি

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোইকে হত্যা করে দেহ খণ্ডিত করার ঘটনায় ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। এবার সেই হত্যা মামলার বিচার চলাকালে আদালতে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ কিছু তথ্য। প্রসিকিউশনের দাবি, গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে পাওয়া গিয়েছিল অ্যাবির মাথার খুলি।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগ

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় থাকা একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে অ্যাবি চোইকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে আদালতে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। ২৮ বছর বয়সী অ্যাবি ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবিকে হত্যার পর তার দেহ খণ্ডিত করার জন্য ওই বাসাটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান থেকে মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক করাতসহ বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করে পুলিশ। বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ।

মামলার শুরুতে প্রসিকিউটর শার্লট ড্রেকট স্ক আদালতকে জানান, কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ওই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি।

৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলারের সম্পত্তি

আদালতে বলা হয়, ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি প্রায় ৬ কোটি হংকং ডলার দিয়ে সেটি কিনেছিলেন। সন্তানদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে রাখার সুবিধার জন্যই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, পরবর্তী সময়ে সম্পত্তিটি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে অ্যাবি তার সাবেক শ্বশুরকে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। আদালতে বলা হয়, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল হলেও কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল।

স্যুপের পাত্রে খুলি, ফ্রিজে দুই পা

আদালতে অ্যাবির দেহ উদ্ধারের ঘটনাটিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজর ও অন্যান্য সবজি থাকা একটি বড় পাত্রে অ্যাবির মাথার খুলি পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় ওই ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজ থেকে।

আদালতে আরও জানানো হয়, কথিত হত্যার পরিকল্পনায় তিন আসামির আলাদা ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে একটি বাসা ভাড়া নেওয়া এবং অ্যাবিকে গাড়িতে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ও ছিল বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রক্তের দাগ এড়াতে অভিযুক্তরা বাসাটির দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় সুরক্ষার জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোট ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।

অ্যাবির দেহের কিছু অংশ এখনো পাওয়া যায়নি বলে এর আগে জানিয়েছিল পুলিশ। মামলার শুনানি আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।

ফ্যাশন জগতেও পরিচিত ছিলেন অ্যাবি

অ্যাবি চোই ধনী পরিবারে বেড়ে ওঠেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও অ্যালেক্সের পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নিজের ফ্যাশন শো, ফটোশুট এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ করতেন তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি।

তাকে হত্যার পর দেহ খণ্ডিত করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এখন বিচার চলাকালে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদা, ছবিতে কূটনীতির নতুন দৃশ্য

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদা, ছবিতে কূটনীতির নতুন দৃশ্য

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে তাঁর ও স্ত্রী জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের ছবি। শনিবার (০৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছবিটি প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী একটি গণমাধ্যমকে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে পাওয়া।

  • ভাষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে উপস্থিতি
  • বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে ঢাকার নতুন বার্তা

গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিশ্বনেতা ও তাঁদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্মানে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ওই নৈশভোজের আয়োজন করেন। ছবিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ, নজর কূটনৈতিক যোগাযোগে

জাতিসংঘের অধিবেশনকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের এমন সমাবেশ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের একই ছবিতে উপস্থিতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি দৃশ্যমান মুহূর্ত। নৈশভোজটি ছিল বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কূটনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে পুনর্গঠনের বার্তা

গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণে দেশের পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই তিন ভিত্তির ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন তিনি। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এ জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেলানিয়ার আয়োজনে জুবাইদার অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মেলানিয়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। সেখানে শিশুদের কল্যাণে তাঁর উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ তুলে ধরা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফলে তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরে একদিকে যেমন উঠে এসেছে দেশের পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান, অন্যদিকে তেমনি দৃশ্যমান হয়েছে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের পরিসর। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিটি সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে