খুঁজুন
                               
, ,
           

৫০ মিনিটের ব্যবধানে পূজা চেরীর দুই স্ট্যাটাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
৫০ মিনিটের ব্যবধানে পূজা চেরীর দুই স্ট্যাটাস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নিজের নানা মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরী। এবার মাত্র ৫০ মিনিটের ব্যবধানে দেওয়া দুটি স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। স্ট্যাটাস দুটির সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ছবিগুলোতে কমলা রঙের পোশাকে মোহনীয় রূপে দেখা গেছে তাকে।

প্রথম স্ট্যাটাসে পূজা চেরী নিজের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি যতটা কোমল হয়ে উঠেছেন, ততটাই নিজেকে শক্তিশালী অনুভব করেছেন। স্ট্যাটাসটির ভাষায় নিজের ভেতরের পরিবর্তন ও মানসিক দৃঢ়তার একটি বার্তা ফুটে ওঠে।

এর প্রায় ৫০ মিনিট পর আবারও একটি স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি পরিবর্তন প্রকাশ্যে ঘটে না; কিছু পরিবর্তন হাসির আড়ালেই নীরবে ঘটে যায়।’ তার এই কথাতেও নিজের ভেতরের পরিবর্তন ও অনুভূতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

দুটি স্ট্যাটাসের সঙ্গে প্রকাশ করা ছবিতেও ছিল পূজার ভিন্ন এক উপস্থিতি। কমলা রঙের পোশাকে তাকে দেখা যায় মায়াবতী ও মোহনীয় সাজে। কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, আবার কখনো অন্যদিকে দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

পূজার পরপর দেওয়া দুই স্ট্যাটাসের ভাষায় আত্মপরিবর্তন, কোমলতা ও নিজের ভেতরের শক্তির ইঙ্গিত থাকলেও এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের কথা জানাননি অভিনেত্রী। ফলে তার বক্তব্যের প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে বর্তমানে উৎসবের আমেজে সময় কাটাচ্ছেন পূজা চেরী। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে আনন্দ-উৎসব। এর মধ্যেই অভিনেত্রীর নতুন ছবি ও রহস্যময় দুই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল।

কালের আলো/এসএ

৮৩৮ কোটি, তবু ময়লার ঢাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৮৩৮ কোটি, তবু ময়লার ঢাকা

ঢাকার ময়লা সরাতে বরাদ্দ বাড়ছে, কিন্তু ময়লার স্তূপ যেন কমছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে ৮৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থের পরও নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, খোলা জায়গা ও ড্রেনের পাশে নিয়মিত জমছে বর্জ্য। কোথাও নির্ধারিত সময় পেরিয়েও ময়লা পড়ে থাকছে, কোথাও আবার সংগ্রহ করা বর্জ্যই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।

  • দুই সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতায় বিপুল বরাদ্দ
  • নগরবাসীর অভিযোগ, অর্থ বাড়লেও পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলায়নি
  • পরিচালন ব্যয়ের ভারে আটকে আধুনিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার

একদিকে বাজেটের অঙ্ক বাড়ছে, অন্যদিকে নাগরিকের অভিজ্ঞতায় কাঙ্ক্ষিত পরিচ্ছন্নতা মিলছে না—এই বৈপরীত্যই এখন ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, শুধু ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণে অর্থ ঢাললেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হয় না। উৎসে বর্জ্য আলাদা করা, দ্রুত সংগ্রহ, কার্যকর পরিবহন, পর্যাপ্ত স্থানান্তরকেন্দ্র, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তি—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দক্ষ ও সমন্বিত করতে হয়।

বাজেট বাড়ে, দৃশ্যপট বদলায় না

চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ দিয়েছে ৫১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সংস্থাটির মোট বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশই যাচ্ছে এই খাতে। বরাদ্দের দিক থেকে এটি ডিএনসিসির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা খাতে রেখেছে ৩২৭ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে কাগজে-কলমে বরাদ্দ বেড়েছে চার গুণের বেশি। দুই সিটি মিলিয়ে ৮৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকার এই বরাদ্দ নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বড় অঙ্ক হলেও প্রশ্ন থাকছে—এই অর্থের কতটা যাচ্ছে ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে, আর কতটা খরচ হচ্ছে প্রতিদিনের পরিচালন ব্যয়ে।

ময়লা সরানোর পরও কেন ময়লা?

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা শুধু অর্থের পরিমাণে নয়, ব্যবস্থার কাঠামোতেই। দুই সিটি করপোরেশনের বরাদ্দের বড় অংশ শ্রমিকের মজুরি, নর্দমা ও নিকাশি পরিষ্কার, জ্বালানি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হচ্ছে। ফলে আধুনিক গাড়ি, যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফার স্টেশন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো তৈরিতে কতটা অর্থ থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। ডিএনসিসি এলাকায় গত এপ্রিলে এক দিনে ৪ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন এবং জুনে ৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এত বিপুল বর্জ্যের প্রবাহ সামলাতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দরকার পুরো সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি। আরেকটি বড় সমস্যা বর্জ্য পৃথকীকরণে। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ ও চিকিৎসাবর্জ্য অনেক ক্ষেত্রেই একই ধারায় যাচ্ছে। ফলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণও হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত ফেলার বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে।

উৎসেই শুরু হচ্ছে সমস্যার

বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। অনেক এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় সংগঠন বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই বর্জ্য কখন, কোথায় এবং কীভাবে সিটি করপোরেশনের মূল ব্যবস্থায় যাবে, তা সব এলাকায় সমানভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা ড্রেনের মুখে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বলভাবে চলছে। এলাকা থেকে সময়মতো বর্জ্য সরানো না গেলে রাস্তায় স্তূপ তৈরি হবে এবং সেখান থেকে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হবে। জনস্বাস্থ্যের বিবেচনাতেও বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ জরুরি। তাঁর মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পিছিয়ে রয়েছে।

টাকার হিসাবের সঙ্গে চাই কাজের হিসাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়াতে শুধু বাজেট প্রকাশ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি টাকার বিপরীতে কাজের ফলাফলও প্রকাশ করা প্রয়োজন। কত টন বর্জ্য সংগ্রহ হলো, কতটি গাড়ি সচল ছিল, দিনে কতটি ট্রিপ হয়েছে, কত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং কত শতাংশ নিরাপদে নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। ঠিকাদারি কাজেও কাজের পরিমাণ ও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি, গাড়ির চলাচল, শ্রমিকের উপস্থিতি ও অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা গেলে নজরদারি ও জবাবদিহি দুটোই বাড়বে।

পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ, নতুন ডাম্প ট্রাক যুক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য সবুজ ও হলুদ রঙের ফাইবার বিন বা ঝুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাজেটের প্রতিটি টাকা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয়ের অঙ্গীকার রয়েছে। সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের কাজও চলছে।

মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস এবং তা থেকে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও বর্জ্যকে বোঝা না দেখে সম্পদে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

 

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের হত্যার বিচার হবে: রাশেদ খাঁন

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলনে শহীদদের হত্যার বিচার হবে: রাশেদ খাঁন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মোলার পাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, বিশ্বাস রাখেন, সব সমস্যার সমাধান তিনিই করবেন।’

এর আগে তিনি শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। পরে ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

সাংবাদিকদের রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিএনপি সরকার তাদের পরিবারের পাশে থাকবে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, প্রতিটি হত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা এতটুকু বিশ্বাস রাখুন, পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন।’

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করতে আসেন। তাই কবরটিতে যাওয়ার প্রধান সড়কটির টেকসই উন্নয়নে শিগগিরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উদ্যোগ নেবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা আন্দোলনে বিএনপির অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য ১৬ জুলাই আত্মাহুতি দেওয়া ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামই জবাব।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ তখন আন্দোলনের সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন। একদিকে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করেন, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন বলেন, তার সমন্বয় ছাড়া ৩৬ দিনের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফলভাবে সম্পন্ন হতো কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এর আগে সকালে চকরিয়া উপজেলায় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাশেদ খাঁন।

শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে তার বাবা শফিউল আলম, পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম, পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, গণঅধিকার পরিষদের কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রাইম কাদের, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্যসচিব আবুল কাশেম নুরী, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা হিরণ সরওয়ারসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, কঙ্গোয় ৪০১৮ মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, কঙ্গোয় ৪০১৮ মৃত্যু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

সাত প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা সংক্রমণ ইতোমধ্যে কঙ্গোর সাতটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে চলমান এই প্রাদুর্ভাবটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের আগের বড় প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বের প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিগুলোর মধ্যে কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবের চেয়ে বড় ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারি। গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়া ওই প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

কোথাও সংক্রমণ কমলেও নতুন এলাকায় ছড়াচ্ছে

কঙ্গো সরকার ও জাতিসংঘ সেপ্টেম্বর মাসে জানিয়েছিল, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ইটুরি প্রদেশের কিছু এলাকায় সংক্রমণের গতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নর্থ কিভু প্রদেশে নতুন করে সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাউথ উবাঙ্গি সেপ্টেম্বর মাসে কঙ্গোর সপ্তম প্রদেশ হিসেবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। পূর্ব কঙ্গো থেকে সেখানে যাওয়া এক ব্যক্তি ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই প্রদেশে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

চলমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়ানো, আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানুষের চলাচল, চিকিৎসা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও অর্থের ঘাটতি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ