খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসলামী শরিয়তে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ইসলামী শরিয়তে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতি

ইসলামী শরিয়তে সম্পত্তির মালিকানা অর্জনের পাশাপাশি তা অন্যের কাছে হস্তান্তরেরও নির্দিষ্ট কিছু বিধান রয়েছে। জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যুর পর—দুই পর্যায়েই বিভিন্ন বৈধ পদ্ধতিতে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করা যায়।

ফিকহের গ্রন্থগুলোতে মালিকানা হস্তান্তরকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—জীবিত অবস্থায় মালিকানা হস্তান্তর এবং মৃত্যুর পর মালিকানা হস্তান্তর।

জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো বিক্রয়, হেবা বা দান, সদকা, ওয়াকফ, মুআওয়াজা ও সুলাহ। অন্যদিকে মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রধান দুটি মাধ্যম হলো অসিয়ত ও উত্তরাধিকার।

বিক্রয়

মূল্য বা অন্য কোনো বিনিময়ের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করাকে বিক্রয় বলা হয়। ইসলামী শরিয়তে বৈধ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বেচাকেনা বৈধ।

বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতি থাকা, চুক্তি করার আইনগত যোগ্যতা থাকা, পণ্য বৈধ হওয়া, বিক্রেতার পণ্যটির মালিকানা বা বিক্রয়ের অনুমতি থাকা এবং পণ্য ও মূল্য সম্পর্কে উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা জরুরি। পাশাপাশি পণ্য হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।

হেবা বা দান

কোনো বিনিময় ছাড়া জীবিত অবস্থায় কাউকে সম্পত্তির মালিক করে দেওয়াকে হেবা বলা হয়।

হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য দাতার প্রস্তাব ও গ্রহীতার গ্রহণ থাকা এবং দাতার সম্পত্তির ওপর বৈধ মালিকানা থাকা প্রয়োজন। দাতা আর্থিক লেনদেনের উপযুক্ত হওয়া এবং দান করা সম্পত্তির অস্তিত্ব ও আর্থিক মূল্য থাকা জরুরি।

এ ছাড়া সম্পত্তিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ও নির্দিষ্ট হতে হবে। বিশেষ করে হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য দানকৃত সম্পত্তি গ্রহীতার দখল ও নিয়ন্ত্রণে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

সদকা

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি বা অর্থ দান করাকে সদকা বলা হয়। হেবা ও সদকা উভয়ই দানের অন্তর্ভুক্ত হলেও উদ্দেশ্য ও বিধানের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে।

সদকার মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াব অর্জন। সাধারণত দরিদ্র ও অসহায়দের সদকা দেওয়া হয়। অন্যদিকে হেবা ধনী-গরিব নির্বিশেষে যে কাউকে দেওয়া যেতে পারে।

জাকাত ও সদকাতুল ফিতরের মতো কিছু সদকা শরিয়তে আবশ্যক। সদকার ক্ষেত্রে নিয়ত শুদ্ধ হওয়া এবং সম্পদ বৈধ উপায়ে অর্জিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফরজ বা ওয়াজিব সদকার ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত হকদারদের কাছে তা পৌঁছাতে হয়।

ওয়াকফ

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো সম্পত্তির মূল মালিকানা ত্যাগ করে সেটির উপকার মানুষের জন্য নির্ধারণ করাকে ওয়াকফ বলা হয়।

ওয়াকফকারীকে সম্পত্তিটির বৈধ ও পূর্ণ মালিক হতে হবে এবং তিনি আর্থিক লেনদেনের উপযুক্ত হতে হবে। ওয়াকফ করা সম্পত্তি নির্দিষ্ট, মূল্যবান ও বৈধ উপকারে ব্যবহারযোগ্য হওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ওপর অন্য কারও অধিকার থাকা যাবে না এবং সেটি এমন হতে হবে, যার মূল অক্ষুণ্ন রেখে তা থেকে উপকার নেওয়া সম্ভব।

মুআওয়াজা

একটি পণ্য বা সম্পত্তির বিনিময়ে অন্য পণ্য বা সম্পত্তি গ্রহণের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরকে মুআওয়াজা বলা হয়। এটি এক ধরনের বিনিময়ভিত্তিক লেনদেন।

মুআওয়াজা মূলত বেচাকেনারই একটি রূপ। তাই বিক্রয় চুক্তি বৈধ হওয়ার যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো মেনে মুআওয়াজাও সম্পন্ন করতে হয়।

সুলাহ

বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যে চুক্তি করা হয়, তাকে সুলাহ বলা হয়। এর মাধ্যমেও সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হতে পারে।

সুলাহকারীকে আর্থিক লেনদেনের উপযুক্ত হতে হবে। চুক্তিতে ব্যবহৃত সম্পত্তি বা বিনিময়ের বস্তু বৈধ ও মূল্যবান হওয়া এবং তার পরিমাণ ও পরিচয় স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

মৃত্যুর পর মালিকানা হস্তান্তর

মৃত্যুর পর ইসলামী শরিয়তে মূলত দুটি উপায়ে সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে যায়—অসিয়ত ও উত্তরাধিকার।

অসিয়ত

কোনো ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর পর অন্য কাউকে সম্পত্তি, ঋণ বা কোনো উপকারের মালিক করার নির্দেশ দিয়ে গেলে তাকে অসিয়ত বলা হয়।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি তাঁর সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ এমন ব্যক্তির জন্য অসিয়ত করতে পারেন, যিনি তাঁর উত্তরাধিকারী নন। অসিয়তকারীর স্বাধীন সম্মতি থাকতে হবে এবং যাঁর জন্য অসিয়ত করা হচ্ছে, তাঁর অস্তিত্ব ও পরিচয় জানা থাকতে হবে।

অসিয়তের সম্পত্তিও শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ ও মূল্যবান হতে হবে। অসিয়তকারীর কোনো বৈধ ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিশেষ বিধান রয়েছে।

উত্তরাধিকার

মৃত ব্যক্তির সঙ্গে রক্ত, বৈবাহিক বা শরিয়তস্বীকৃত আত্মীয়তার সম্পর্কের ভিত্তিতে তাঁর সম্পত্তিতে অধিকার লাভকে উত্তরাধিকার বলা হয়।

উত্তরাধিকার কার্যকর হওয়ার জন্য প্রথমে সম্পত্তির মালিকের মৃত্যু নিশ্চিত হতে হবে। তাঁর মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকারী জীবিত থাকতে হবে এবং মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার বৈধ সম্পর্ক থাকতে হবে।

ইসলামী শরিয়তে উত্তরাধিকার বণ্টনের বিস্তারিত বিধান কোরআনে নির্ধারিত হয়েছে। উত্তরাধিকার লাভের ক্ষেত্রে হত্যার মতো কিছু কারণ বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়। ধর্মীয় ভিন্নতার ক্ষেত্রেও ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে পৃথক বিধান রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইসলামী শরিয়তে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও সমাজের অধিকার, সম্পদের বৈধতা এবং লেনদেনের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিক্রয়, দান, সদকা, ওয়াকফ, অসিয়ত ও উত্তরাধিকার—প্রতিটি পদ্ধতিরই আলাদা বিধান ও শর্ত রয়েছে।

সূত্র: তুহফাতুল ফুকাহা, আল-মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ, আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, আল-মুগনি ও বাদায়িউস সানায়ি

কালের আলো/এসএ

প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করা নাসিমা খান বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশপর্বে যেসব শিল্পী নিজেদের অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তিনি খান আতা নামেও পরিচিত ছিলেন। নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন আনিস এবং নাসিমার বাবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। একসময় আনিসই নাসিমার বাবাকে মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার সম্মতি পাওয়ার পর অভিনয়জগতে পা রাখেন নাসিমা।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।

একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন নাসিমা।

চলচ্চিত্র থেকে নাটকে

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে নাসিমা খানের নাম। দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করার পর জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তাকে নাটকে বেশি দেখা গেছে।

সময় ও বয়সের পরিবর্তনে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট ছিল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদেরই একজন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিবাহী এক শিল্পীর জীবনাবসান ঘটল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

দেশের প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৫৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয় নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের একাংশকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রের অংশ এই বিক্ষোভ।

তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষও এখন তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, মানুষ বুঝতে পারছেন কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।

কঙ্গনা বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। পুলিশকে বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ এবার তাদের ধরে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। কারণ, কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযান, আটক নিয়ে বিতর্ক

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ও পুলিশের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলেও নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন কঙ্গনা। দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে যান চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আগেও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

সিজেপির আন্দোলন ঘিরে এবারই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য করলেন না কঙ্গনা। এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।

সে সময় আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, ভাষা, পোশাক ও আচরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এ নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

সৌরভ দাসের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ

সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কঙ্গনা। সৌরভের দাবি ছিল, বিজেপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলই কঙ্গনাকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, গণতন্ত্রকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কঙ্গনার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের চেয়ে বেশি।

এর জবাবে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে তাকে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সৌরভের উপদেশ দেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে কঙ্গনার মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বিজেপি সাংসদ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

কালের আলো/জেএন