খুঁজুন
                               
, ,
           

জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক, ডাকসুতে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক, ডাকসুতে ভাঙচুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছবিটি দেয়াল থেকে নামিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছিঁড়ে ফেলেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় এ ঘটনা ঘটে। আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী হয়েও আলোচনায় এসেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক ভিপি প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হন।

এর আগে ডাকসু সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের জিন্নাহর একটি আলোচিত ছবি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। ছবিটি সংগ্রহশালায় যুক্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তারা দ্রুত ছবিটি অপসারণের দাবি জানায়।

ছাত্রদলের দাবি, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেছিলেন, যা পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পটভূমি তৈরি করে। তাই ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে সংগঠনটি।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল ডাকসু নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে। সংগঠনটির অভিযোগ, বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও অধিকার আদায়ের মতো বিষয়গুলো সমাধানে ব্যর্থ হয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অবিলম্বে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্মারক ও ঐতিহ্যকে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চামড়া-জাহাজ শিল্পে জার্মান প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
চামড়া-জাহাজ শিল্পে জার্মান প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ চায় সরকার

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার এবং হালকা প্রকৌশলসহ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে জার্মান বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এসব খাতকে রফতানিমুখী, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে রূপ দিতে জার্মানির অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-জার্মানি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। পণ্যের বৈচিত্র্য, মূল্য সংযোজন, মানোন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমুখী করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, একই ধরনের সাফল্য চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশলসহ অন্যান্য শিল্পখাতেও অর্জন করা সম্ভব। এজন্য আন্তর্জাতিক মান, কমপ্লায়েন্স, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিপুল রফতানি সম্ভাবনা থাকলেও পরিবেশগত মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির ব্যবহার কমানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে শিল্পটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জার্মান প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।

জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার খাত প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের ইস্পাত, নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে পরিবেশ সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এ খাতের সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তি, নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে জার্মানির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার খাতে জার্মান বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অংশীদারত্বের বড় সুযোগ রয়েছে।

জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্পখাতের অগ্রগতি ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। তৈরি পোশাক শিল্পের সাফল্যকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনর্ব্যবহারসহ সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে জার্মানির আগ্রহ রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পখাতে অংশীদারত্ব এবং উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফিরছে শিল্পের গ্যাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফিরছে শিল্পের গ্যাস

শিল্প-কারখানায় চলমান গ্যাস সংকট সাময়িকভাবে কাটিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ এক-দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সমাজ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, শিল্পে গ্যাসের প্রভাব, ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • সাময়িক সংকট কাটানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০২৭ সালের মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল
  • ২০৩৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

বৈঠকের শুরুতে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দুর্ঘটনায় গ্যাস সরবরাহে ধাক্কা
বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রভাব শিল্প-কারখানাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ে।

তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে দ্রুতই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’

এই বক্তব্য শিল্প খাতের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তির বার্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি যুক্ত।

‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের জটিল সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এখানে সরকারের অবস্থান হলো, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটকে কেবল একটি তাৎক্ষণিক সরবরাহ সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। উৎপাদন সক্ষমতা, আমদানি নির্ভরতা, অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা-সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে হবে।

২০২৭ সালের মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

দ্রুত কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, তৃতীয় টার্মিনাল যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে। এতে একটি টার্মিনালে দুর্ঘটনা বা কারিগরি সমস্যার মতো ঘটনায় পুরো ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ পড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। তবে অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি আমদানি পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০৩৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি
ব্যবসায়ী সমাজের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকট রয়েছে-কিন্তু সেই সংকট মোকাবিলায় কাজও চলছে। তাই হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

গণমাধ্যমের কাছেও সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে হলে কার্যকর একটি দল প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারও সেভাবেই কাজ করছে, যাতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

একই সঙ্গে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বৈঠকে ছিলেন মন্ত্রী-উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজেএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এবং বাপা সভাপতি মাহবুব আনাম অংশ নেন।

এছাড়া গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন আলোচনায় অংশ নেন।

স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি, সামনে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা শিল্প খাতের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে এই স্বস্তি কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একটি টার্মিনালের দুর্ঘটনা যে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সাম্প্রতিক সংকট সেটিই আবার সামনে এনেছে।

তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে অন্যতম প্রধান শর্ত। ফলে মঙ্গলবার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রতিশ্রুতির পর সরকারের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে এই সরবরাহকে স্থায়ী, নির্ভরযোগ্য ও শিল্পবান্ধব ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশে ঋণখেলাপি অথচ বিদেশে সম্পদের পাহাড়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
দেশে ঋণখেলাপি অথচ বিদেশে সম্পদের পাহাড়

দেশে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করে বছরের পর বছর আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বড় ঋণখেলাপিদের অনেকে। কারও নামে থাকা সম্পদ ঋণের বিপরীতে আদায়যোগ্য পাওনার তুলনায় নগণ্য, আবার কারও খোঁজই মিলছে না দেশে। এরই মধ্যে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করে সেখানে বাড়ি, জমি, ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ব্যাংকের পাওনা আদায়ের লড়াই এবার আর শুধু দেশের আদালতে সীমাবদ্ধ থাকছে না; নজর যাচ্ছে ঋণখেলাপিদের বিদেশি সম্পদের দিকে।

২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে-এমন ৪২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদের তথ্য খুঁজতে আটটি আন্তর্জাতিক আইন ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়ামসহ ১২ দেশে চলছে অনুসন্ধান। সম্পদ পাওয়া গেলে সেটি আইনগতভাবে জব্দ ও শেষ পর্যন্ত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে এসব প্রতিষ্ঠান।

কারা নজরদারিতে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, প্রাথমিকভাবে ৪২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার বেশি। তবে এদের সবার অর্থ যে বিদেশে পাচার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া হয়নি। ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ না করা, ঋণগ্রহীতার অনুপস্থিতি এবং বিদেশে সম্পদ থাকার সম্ভাবনার মতো বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান এগোচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এসব ঋণের কিছু অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ঋণগ্রহীতাকে দেশে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোথায় খোঁজা হচ্ছে
অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে ১২টি দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব দেশে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য থাকার কারণেই নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট, ব্যাংক আমানত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকতে পারে। ফলে অনুসন্ধানে শুধু ব্যক্তির নামে থাকা সম্পদ নয়, অর্থের প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের কাঠামোও যাচাই করা হচ্ছে।

কী খুঁজছেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো
ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণখেলাপিদের আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসরণ করছে। বাড়ি, জমি, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির মালিকানা ও বিনিয়োগ-সবই রয়েছে অনুসন্ধানের তালিকায়।

দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি ও পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার ও ক্রল, ইওয়াই ও ডেন্টনস, রহমান রাভেলি ও ইন্টারপাথ, বিসিজি ও এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

তবে সম্পদের তথ্য পাওয়া এবং অর্থ উদ্ধার-দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কোনো দেশে সম্পদ শনাক্ত হওয়ার পর সেটি জব্দ করতে হলে সেই দেশের আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংকের ঝুঁকি কম, চাপ বেশি
এই উদ্যোগে পারিশ্রমিক দেওয়ার পদ্ধতিই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। সম্পদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো পারিশ্রমিক দিতে হবে না। সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলেই চুক্তি অনুযায়ী উদ্ধার করা অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পাবে তারা।

ফলে ব্যাংকের শুরুতেই বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচের প্রয়োজন হচ্ছে না। একই সঙ্গে অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্যও তৈরি হচ্ছে ফল দেখানোর চাপ। শুধু কোনো সম্পদের তথ্য তুলে দিলেই তাদের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না; চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদ উদ্ধারে আইনি সহায়তা দেওয়া।

সবচেয়ে কঠিন ধাপ টাকা দেশে ফেরানো
বিদেশে সম্পদ পাওয়া গেলেই ব্যাংকের পাওনা আদায় হয়ে যাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। সম্পদের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, আদালতের অনুমোদন, জব্দের আইনি প্রক্রিয়া, সম্পদ বিক্রি এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে একাধিক বাধা আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া কয়েক বছরও গড়াতে পারে।

এ কারণেই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থপাচারবিরোধী আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। দেশে অর্থঋণ আদালতে মামলা চললেও বিদেশি সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আদালতের ওপরই নির্ভর করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

এর আগে বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে সরকার গঠিত যৌথ তদন্ত দলের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, কাস্টমসের গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং আয়কর বিভাগের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ আদায়েও বিদেশি আইন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধান থেকে প্রত্যাবাসন
বড় খেলাপিদের বিদেশি সম্পদ অনুসন্ধানের এই উদ্যোগ তাই ব্যাংকের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এটি কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা ঋণ আদায়ে এবার দেশের আদালতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের সাফল্যের মাপকাঠি হবে বিদেশে কত সম্পদ পাওয়া গেল, তা নয়। বরং সেই সম্পদের কতটা আইনগতভাবে জব্দ করা গেল এবং কত টাকা বাস্তবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের পাওনা সমন্বয় করা সম্ভব হলো-সেখানেই নির্ধারিত হবে এই আন্তর্জাতিক অভিযানের কার্যকারিতা।

কালের আলো/এম/এএইচ