খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকার দুই সিটিতে মুখোমুখি জামায়াত ও এনসিপি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
ঢাকার দুই সিটিতে মুখোমুখি জামায়াত ও এনসিপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মঞ্চে একই জোট। অথচ স্থানীয় নির্বাচনের মাঠে আলাদা লড়াই। ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের সামনে এখন এমনই এক দ্বৈত বাস্তবতা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরে নিজেদের শক্তিতে নির্বাচন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের শরিক দলগুলো। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেও ভোটের মাঠে একে অপরকে ছাড় দিতে চাইছে না জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি নির্বাচন এই নতুন সমীকরণের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণে দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠছে-স্থানীয় নির্বাচনে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি জোটের রাজনৈতিক ঐক্যকে দুর্বল করবে, নাকি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে দলগুলো?

সংসদের সমঝোতা সিটিতে নয়
১১-দলীয় ঐক্য মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছিল। সেই নির্বাচনী সমীকরণ স্থানীয় সরকার ভোটে হুবহু প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্তই এখন শরিকদের অবস্থানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। দলীয় প্রতীক না থাকা, প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের ভিন্ন ভিন্ন শক্তি—এসব বাস্তবতাই আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যেও বিষয়টি পরিষ্কার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ১১ দলের ঐক্য গঠিত হয়েছিল। শরিকদের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পৃথকভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপি প্রার্থী দিলে জামায়াতও নিজেদের প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। জাতীয় নির্বাচনে আসনভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে যে পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, স্থানীয় নির্বাচনে তা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। বরং প্রতিটি দল নিজেদের ভোটভিত্তি কতটা বিস্তৃত, তা যাচাই করতে চাইছে।

জামায়াত প্রার্থী চূড়ান্ত, এনসিপিও প্রস্তুত
ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী বাছাই প্রায় চূড়ান্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক-সাদিক কায়েম নামে পরিচিত-প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও যোগাযোগ শুরু করেছেন। দক্ষিণেও সাদিক কায়েমের তৎপরতা বাড়ছে।

এদিকে, এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েও দলীয় প্রস্তুতি এগোচ্ছে। ঢাকা উত্তরে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আলোচনায় রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলীয় পর্যায়ে তাঁদের প্রার্থিতা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। এখানেই স্থানীয় নির্বাচন এনসিপির জন্য আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া দলটির জন্য স্থানীয় ভোট হবে মাঠপর্যায়ে সংগঠন, প্রার্থী গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগের বাস্তব পরীক্ষা।

জামায়াতের শক্তি সংগঠন, এনসিপির ভরসা ব্যক্তি
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রচলিত নির্বাচনী হিসাবও কিছুটা বদলে যেতে পারে। এনসিপির এক শীর্ষ নেতা মনে করেন, প্রতীক না থাকায় এখানে দলের চেয়ে ব্যক্তি প্রার্থী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। ফলে জোটের শরিকদের আলাদা প্রার্থী থাকা ভোটের ওপর খুব বড় প্রভাব ফেলবে না। তবে জামায়াতের নেতাদের হিসাব তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো, মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং প্রার্থীদের স্থানীয় পরিচিতি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তাঁদের ধারণা, যোগ্যতা ও পরিচিতির বিচারে জামায়াতের প্রার্থীরাই অনেক এলাকায় এগিয়ে থাকবেন। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাতই ঢাকার ভোটকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। একদিকে প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আবেদন-দুইয়ের প্রতিযোগিতা শুধু মেয়র পদে নয়, ভবিষ্যৎ স্থানীয় রাজনীতির গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শরিকদের ছোট লড়াইয়ে বড় বার্তা
১১ দলের অন্য শরিকেরাও বসে নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন; যাচাই-বাছাই শেষে দুজনকে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। এবি পার্টিও ঢাকার দুই সিটিসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরেও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। তবে এলডিপি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। অর্থাৎ, জোটের ভেতরে শুধু দুই বড় শরিকের দ্বন্দ্ব নয়। প্রত্যেক দলই নিজেদের রাজনৈতিক পরিসর বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনকে দেখতে শুরু করেছে। এতে একদিকে জোটের ভেতরের প্রতিযোগিতা বাড়বে, অন্যদিকে শরিকদের নিজস্ব পরিচয়ও স্পষ্ট হবে।

সমঝোতার দরজা খোলা
কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো সমঝোতা হবে না। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে তাতে কেন্দ্র বাধা দেবে না। এই অবস্থান আসলে জোটের জন্য একটি ‘দুই দরজা খোলা’ কৌশল। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রত্যেকে নিজের শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। আবার স্থানীয় বাস্তবতায় ভোটের হিসাব কঠিন হলে সমঝোতার সুযোগও থাকবে। ফলে কোথাও সরাসরি লড়াই, কোথাও আবার নীরব সমর্থন-দুই ধরনের সমীকরণই দেখা যেতে পারে।

পরীক্ষায় জোটের ভবিষ্যৎ
ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন তাই কেবল মেয়র পদ দখলের প্রতিযোগিতা নয়। এটি ১১ দলের ঐক্যের ভেতরের শক্তির ভারসাম্যও সামনে আনতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের আগে যে সমঝোতা ছিল প্রয়োজননির্ভর, স্থানীয় নির্বাচনে তা কতটা টেকসই-তারও একটি বাস্তব পরীক্ষা হবে এই ভোট। শরিক নেতারা অবশ্য রাজনৈতিক ঐক্য ও যৌথ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা বলছেন। অর্থাৎ ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা থাকবে-এমন একটি মডেলেই এগোতে চাইছে জোট। তবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা যত তীব্র হবে, পারস্পরিক ভোট কাটাকাটি, স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াত ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান সেই পরীক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান আবারও মা হতে চলেছেন। ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন তিনি। কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ) ২০২৬-এর লালগালিচায় বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সুখবরটি প্রকাশ্যে আনেন এই অভিনেত্রী।

এর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশ করে মাহিরা জানিয়েছিলেন, এবারের গর্ভাবস্থা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করি…আর তারপর আসে আল্লাহর পরিকল্পনা।’

২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা

মাহিরা প্রথমবার মা হন ২০১০ সালে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে। তাঁর প্রথম সন্তান ছেলে আজলান। সন্তানের বাবা তাঁর প্রথম স্বামী আলি আসকারি।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় আলি আসকারির সঙ্গে মাহিরার পরিচয় হয়। ২০০৭ সালে ২১ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। তিন বছর পর তাঁদের সংসারে আসে আজলান। ২০১৫ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে

প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার কয়েক বছর পর মাহিরার জীবনে আসেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সেলিম করিম। ২০১৯ সালে তাঁদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সেলিমকে বিয়ে করেন মাহিরা।

বর্তমানে মাহিরার প্রথম সন্তান আজলানের বয়স ১৭ বছর। দ্বিতীয় বিয়ের তিন বছর পর আবারও মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী।

‘এই গর্ভাবস্থা পরিকল্পনায় ছিল না’

টিআইএফএফে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহিরা জানান, এবারের গর্ভাবস্থা পরিকল্পিত ছিল না। ২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনায় ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মাতৃত্ব তাঁর কাছে অনেকটাই ভিন্ন।

বয়সের কারণে এবারের গর্ভাবস্থা শারীরিকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বড় হয়ে যাওয়া সন্তানের মা হিসেবে আবার নবজাতকের মা হওয়ার জন্য তাঁকে মানসিকভাবেও নতুন করে প্রস্তুত হতে হচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না মাহিরা। তাই সুখবরটি প্রকাশ্যে আনতেও কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জীবনের নতুন এই অধ্যায়টি লুকিয়ে না রেখে উদ্‌যাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।

কেন টিআইএফএফে মাহিরা?

২০২৬ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতা বাসাম তারিকের আমন্ত্রণে অংশ নেন মাহিরা। পরিচালকের ‘ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার’ সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে হাজির হন তিনি। ছবিটিতে অস্কারজয়ী অভিনেতা মাহেরশালা আলীও অভিনয় করেছেন। টিআইএফএফে এটাই মাহিরার প্রথম উপস্থিতি।

লালগালিচায় পাকিস্তানি ঐতিহ্যবাহী জমকালো শাড়িতে দেখা যায় তাঁকে। ছিল মিনিমাল মেকআপ ও কানে লম্বা ঝুমকা।

সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পাশাপাশি উৎসবের কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামেও অংশ নেন মাহিরা। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সেখানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানি সিনেমা ও দক্ষিণ এশিয়ার গল্প তুলে ধরার সুযোগও কাজে লাগান তিনি।

সব মিলিয়ে, টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মাহিরার প্রথম লালগালিচায় উপস্থিতি হয়ে উঠেছে দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ—একদিকে সিনেমার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক, অন্যদিকে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সুখবর।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

কালের আলো/এমএসআইপি

১৫ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, প্রিয় বন্ধু আসলে সহোদর বোন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
১৫ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, প্রিয় বন্ধু আসলে সহোদর বোন!

নেদারল্যান্ডসের মিনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিসেনের বন্ধুত্বের গল্পে ছিল অদ্ভুত এক মিল। কিশোরী বয়সে প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই দুজনের চেহারা ও অঙ্গভঙ্গিতে মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন তাঁরা। দীর্ঘদিন বন্ধুত্বের পর একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর পর আবার যোগাযোগের সূত্র ধরে ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, তাঁরা আসলে দুই বোন।

মিনা ও মিনাল দুজনেরই জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে, ১৯৮০-এর দশকে। কয়েক মাস বয়সে তাঁদের মুম্বাইয়ের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে নেদারল্যান্ডসের দুটি পরিবার দত্তক নেয়।

কৈশোরে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা। তখনই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল চোখে পড়ে। মিনা বলেন, বন্ধুরা তাঁদের আয়নায় নিজেদের দেখতে বলেছিলেন। আয়নায় তাকিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁদের নাক ও হাসিতেও আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে।

দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন এবং দীর্ঘদিন চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে নেদারল্যান্ডস ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান।

২০১৭ সালে ভারত থেকে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অনুষ্ঠানে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন মিনা। তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালেও তখন কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে মিল পাননি। পরে ফোনের জায়গা খালি করতে ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটিও মুছে ফেলেন।

এরপর গত ২০ মে মিনার ফেসবুকে বার্তা পাঠান মিনাল—‘আমাকে মনে আছে?’ সেই বার্তায় পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে মিনার। তিনি আবার ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটি ইনস্টল করেন। তবে ফলাফল দেখার সময় তিনি এতটাই নার্ভাস ছিলেন যে ১০ বার ভুল পাসওয়ার্ড দেন।

অবশেষে অ্যাপটি খুলে যে তথ্য দেখলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। ডিএনএ পরীক্ষায় তাঁর সঙ্গে ১০০ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে ৪৪ বছর বয়সী মিনালের। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়, কৈশোরে যাঁকে তাঁরা প্রিয় বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন, তিনি আসলে তাঁরই সহোদর বোন।

গত আগস্টে বহু বছর পর তাঁদের দেখা হয়—এবার আর শুধু বন্ধু হিসেবে নয়, দুই বোন হিসেবে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রক্তের সম্পর্কের এই সত্য তাঁদের জীবনের গল্পকে যেন সিনেমার চেয়েও বিস্ময়কর করে তুলেছে।

কালের আলো/এসএ