খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা, বাড়ছে বেকারত্ব

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা, বাড়ছে বেকারত্ব

চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, ডাইং ও স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। চলমান গ্যাস সংকটে উৎপাদন ধরে রাখতে অস্বাভাবিকভাবে খরচ বাড়ছে। বাড়তি ওভারটাইম দেওয়া ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে টেক্সটাইল-পোশাক খাত মিলিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার উৎপাদন ব্যাহত ও ক্ষতি হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

একইরকমভাবে ধুঁকছে সিরামিক এবং স্টিল শিল্পখাত। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যুৎ ও ডিজেল দিয়ে রোলিং মিল অপারেশনে রাখতে প্রতি টন স্টিল উৎপাদনে বাড়তি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মইনুল ইসলাম সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভাটিতে হঠাৎ করে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নামলে প্রতিদিন পঁচে নষ্ট হওয়া কাঁচামাল ও উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকার ওপর। এই ক্ষতির মুখোমুখি এখন সিরামিক শিল্প।

গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুত উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে, যা পরিবহন খাতেও প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সংকটে বন্ধ হচ্ছে কারখানা। বাড়ছে বেকারত্ব। বাড়ছে অথনৈতিক ঝুঁকি।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-এর জুন থেকে ২০২৬-এর জুন—এই দুই বছরে মোট ৪৫৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০টি বস্ত্র/পোশাক শিল্প, বাকি ২৮৭টি পোশাকখাত বহির্ভূত। এতে কমবেশি ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জুলাই ২০২৬-এর ভয়াবহ গ্যাস সংকটের প্রভাব। ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো বলছে, বর্তমান সংকটে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০০ শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, সময়মতো শিপমেন্ট না হলে ক্রয়াদেশ বাতিল, জরিমানা, বাজার হারানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক পরিবারকে গভীর রাতে রান্না করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ এলপিজির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ গ্যাস না পেলেও আবাসিক গ্রাহকদের বিল দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ আরও বাড়তে পারে। ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন ঋণ বিতরণও বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু শিল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে আর্থিক খাতেও ছড়িয়ে পড়বে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও দুর্বল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার হিসাব বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। অথচ স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায় গড়ে প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিনই প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকে।

তবে গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। ফলে, তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজিসহ সব ধরনের গ্রাহকের জন্য গ্যাসের স্বল্পচাপের সংকটটা তীব্র হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমবে, এটি বহু বছর ধরেই জানা ছিল। কিন্তু সেই ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খনন করা হয়নি। এখন আমরা সেই সিদ্ধান্তহীনতার মূল্য দিচ্ছি।’

কালের আলো/এম/এএইচ

বাব আল-মানদেব হুতিদের নিয়ন্ত্রণে, বাড়ছে বিশ্ববাণিজ্যের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
বাব আল-মানদেব হুতিদের নিয়ন্ত্রণে, বাড়ছে বিশ্ববাণিজ্যের ঝুঁকি

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরোটা এখন হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। বন্দরনগর মোখা ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন (পেরিম) দ্বীপ দখলের পর বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।

আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে হুতি বাহিনী। এরই মধ্যে ইয়েমেন থেকে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজারের বেশি ইয়েমেনি জিবুতিতে পৌঁছেছেন।

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। তেল ও এলএনজির বড় একটি অংশও এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে কেপ অব গুড হোপ দিয়ে জাহাজ চালাচ্ছে। এতে একটি যাত্রায় ২০ দিনের বেশি সময় বাড়ছে এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিসর। সুয়েজ খালের টোল দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে খালের আয় থেকে মিসর প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।

এদিকে হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজর বাড়ায় হর্ন অব আফ্রিকার উপকূলে নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতার পুনরুত্থানের আশঙ্কাও করছেন।

ফলে ইয়েমেনে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়ছে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, বিশ্ববাণিজ্য, সুয়েজ খাল এবং আফ্রিকার উপকূলীয় নিরাপত্তার ওপরও।

কালের আলো/এসএ

৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান আবারও মা হতে চলেছেন। ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন তিনি। কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ) ২০২৬-এর লালগালিচায় বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সুখবরটি প্রকাশ্যে আনেন এই অভিনেত্রী।

এর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশ করে মাহিরা জানিয়েছিলেন, এবারের গর্ভাবস্থা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করি…আর তারপর আসে আল্লাহর পরিকল্পনা।’

২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা

মাহিরা প্রথমবার মা হন ২০১০ সালে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে। তাঁর প্রথম সন্তান ছেলে আজলান। সন্তানের বাবা তাঁর প্রথম স্বামী আলি আসকারি।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় আলি আসকারির সঙ্গে মাহিরার পরিচয় হয়। ২০০৭ সালে ২১ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। তিন বছর পর তাঁদের সংসারে আসে আজলান। ২০১৫ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে

প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার কয়েক বছর পর মাহিরার জীবনে আসেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সেলিম করিম। ২০১৯ সালে তাঁদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সেলিমকে বিয়ে করেন মাহিরা।

বর্তমানে মাহিরার প্রথম সন্তান আজলানের বয়স ১৭ বছর। দ্বিতীয় বিয়ের তিন বছর পর আবারও মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী।

‘এই গর্ভাবস্থা পরিকল্পনায় ছিল না’

টিআইএফএফে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহিরা জানান, এবারের গর্ভাবস্থা পরিকল্পিত ছিল না। ২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনায় ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মাতৃত্ব তাঁর কাছে অনেকটাই ভিন্ন।

বয়সের কারণে এবারের গর্ভাবস্থা শারীরিকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বড় হয়ে যাওয়া সন্তানের মা হিসেবে আবার নবজাতকের মা হওয়ার জন্য তাঁকে মানসিকভাবেও নতুন করে প্রস্তুত হতে হচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না মাহিরা। তাই সুখবরটি প্রকাশ্যে আনতেও কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জীবনের নতুন এই অধ্যায়টি লুকিয়ে না রেখে উদ্‌যাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।

কেন টিআইএফএফে মাহিরা?

২০২৬ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতা বাসাম তারিকের আমন্ত্রণে অংশ নেন মাহিরা। পরিচালকের ‘ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার’ সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে হাজির হন তিনি। ছবিটিতে অস্কারজয়ী অভিনেতা মাহেরশালা আলীও অভিনয় করেছেন। টিআইএফএফে এটাই মাহিরার প্রথম উপস্থিতি।

লালগালিচায় পাকিস্তানি ঐতিহ্যবাহী জমকালো শাড়িতে দেখা যায় তাঁকে। ছিল মিনিমাল মেকআপ ও কানে লম্বা ঝুমকা।

সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পাশাপাশি উৎসবের কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামেও অংশ নেন মাহিরা। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সেখানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানি সিনেমা ও দক্ষিণ এশিয়ার গল্প তুলে ধরার সুযোগও কাজে লাগান তিনি।

সব মিলিয়ে, টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মাহিরার প্রথম লালগালিচায় উপস্থিতি হয়ে উঠেছে দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ—একদিকে সিনেমার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক, অন্যদিকে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সুখবর।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

কালের আলো/এমএসআইপি