খুঁজুন
                               
, ,
           

সঞ্চয়পত্রে বিক্রির জোয়ার, সরকারের হাতে ৪৩৬ কোটি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
সঞ্চয়পত্রে বিক্রির জোয়ার,  সরকারের হাতে ৪৩৬ কোটি

দীর্ঘদিনের ঋণাত্মক ধারা পেরিয়ে আবারও ইতিবাচক অবস্থানে ফিরেছে সঞ্চয়পত্র। সদ্যঃসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৩৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরে নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই পরিবর্তনকে সঞ্চয়পত্র খাতের বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে বিক্রি বাড়লেও সরকারের নতুন ঋণ পাওয়ার পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি। কারণ নতুন করে যে অর্থ এসেছে, তার প্রায় পুরোটাই চলে গেছে আগের বিনিয়োগকারীদের মূল টাকা ফেরত দিতে।

বিক্রি ৯২ হাজার কোটি, হাতে থাকল ৪৩৬ কোটি
সদ্যঃসমাপ্ত অর্থবছরে নতুন সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের আয় হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। একই সময়ে পুরনো সঞ্চয়পত্রের আসল বাবদ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। ফলে দুই অঙ্কের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা।

অর্থাৎ বাজারে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়লেও সরকারের কোষাগারে নতুন অর্থ হিসেবে যুক্ত হয়েছে তুলনামূলক সামান্য অংশ। নতুন বিনিয়োগকারীদের অর্থের বড় অংশই পুরনো বিনিয়োগকারীদের দায় পরিশোধে ব্যয় হয়েছে।

লক্ষ্যের ধারেকাছেও নেই
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল এর চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাত থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা।

ফলে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের ওপর সরকারের নির্ভরতা আগের তুলনায় কমেছে। প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে ব্যাংকঋণ ও সরকারি সিকিউরিটিজের মতো বিকল্প উৎসের গুরুত্ব বেড়েছে।

৪২ হাজার কোটি থেকে কয়েক শ কোটি
একসময় সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের অন্যতম বড় উৎস ছিল সঞ্চয়পত্র। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এরপর ধীরে ধীরে কমেছে নতুন ঋণের পরিমাণ। সর্বশেষ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৪৩৬ কোটি টাকায়।

এর পেছনে বড় কারণ পুরনো
সঞ্চয়পত্রের মূলধন ও মুনাফা পরিশোধের চাপ। গ্রাহকদের মূল ও মুনাফা বাবদ মোট পরিশোধও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় এই পরিশোধ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ বা ১৭ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।

ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক কেন
সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির হিসাব থেকেই বোঝা যায় সরকারের প্রকৃত নতুন অর্থপ্রাপ্তির চিত্র। মোট বিক্রির অর্থ থেকে গ্রাহকদের মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধ বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে, সেটিই নিট বিক্রি।

এই হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন বিক্রির চেয়ে পুরনো বিনিয়োগকারীদের পরিশোধের পরিমাণ বেশি ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিক্রি বাড়ায় এবং পরিশোধের তুলনায় সামান্য বেশি হওয়ায় নিট বিক্রি আবার ইতিবাচক হয়েছে। তবে ইতিবাচক হলেও ৪৩৬ কোটি টাকা সরকারের জন্য বড় নতুন অর্থের উৎস হয়ে ওঠেনি।

সঞ্চয়পত্র বিক্রির ঊর্ধ্বগতি
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফেরার ইঙ্গিত দিলেও সরকারের জন্য এ খাতের ভূমিকা বদলে গেছে। একসময় সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল অঙ্কের নতুন ঋণ মিললেও এখন নতুন বিক্রির অর্থের প্রায় পুরোটাই পুরনো দায় পরিশোধে চলে যাচ্ছে। ফলে বিক্রি বাড়ার ইতিবাচক প্রবণতার পাশাপাশি সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় সঞ্চয়পত্রের সক্ষমতা কতটা বাড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এম/এএইচ

হ্যালিফ্যাক্সে টাইটানিকের ১৫০ যাত্রীর সমাধিক্ষেত্র, জাদুঘরে মিলল ইতিহাসের নিদর্শন

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
হ্যালিফ্যাক্সে টাইটানিকের ১৫০ যাত্রীর সমাধিক্ষেত্র, জাদুঘরে মিলল ইতিহাসের নিদর্শন

১৯১২ সালে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিকের সঙ্গে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যালিফ্যাক্সের রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করা বহু মরদেহ এই শহরে আনা হয়েছিল। বর্তমানে হ্যালিফ্যাক্সের তিনটি সমাধিক্ষেত্রে টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত প্রায় ১৫০ জন যাত্রী চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল প্রথম যাত্রায় টাইটানিক দুই হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে রওনা হয়। চার দিন পর, ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতের কিছু আগে, উত্তর আটলান্টিকে একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে জাহাজটির। তিন ঘণ্টারও কম সময়ে জাহাজটি ডুবে যায়। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। পরে কার্পাথিয়া জাহাজে উদ্ধার হওয়া জীবিত যাত্রীদের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হ্যালিফ্যাক্স। দুর্ঘটনাস্থলের তুলনামূলক কাছাকাছি বড় বন্দর, রেল ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগের সুবিধা থাকায় উদ্ধার করা মরদেহগুলো এই শহরে আনা হয়। হোয়াইট স্টার লাইন চারটি কানাডীয় জাহাজকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে নিয়োগ করেছিল। এর মধ্যে হ্যালিফ্যাক্স থেকে যাত্রা করা সিএস ম্যাকে-বেনেট ছিল প্রথম জাহাজ।

চারটি জাহাজ মিলে মোট ৩২৮টি মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁদের অনেককে সমুদ্রেই সমাহিত করা হয়। বাকিদের হ্যালিফ্যাক্সে আনা হয়। পোশাক, গয়না, চিঠি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে ফেয়ারভিউ লন, মাউন্ট অলিভেট ও ব্যারন হির্শে—এই তিন সমাধিক্ষেত্রে দাফন করা হয়।

টাইটানিকের স্মৃতি শুধু এসব সমাধিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। হ্যালিফ্যাক্সের মেরিটাইম মিউজিয়াম অব আটলান্টিকে রয়েছে টাইটানিকের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ। জাদুঘরের স্থায়ী প্রদর্শনী ‘টাইটানিক: দ্য আনসিঙ্কেবল শিপ অ্যান্ড হ্যালিফ্যাক্স’-এ জাহাজটির নির্মাণ, দুর্ঘটনা এবং পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে রয়েছে ৫০টির বেশি বস্তু, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও নথি। এর মধ্যে রয়েছে টাইটানিকের আসল ডেক চেয়ার, জাহাজ থেকে উদ্ধার করা কাঠের বিভিন্ন অংশ এবং অন্যান্য নিদর্শন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি ছোট চামড়ার জুতা। এটি টাইটানিকের ‘অজানা শিশু’র সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিশ্বাস করা হয়। দুর্ঘটনার পর ম্যাকে-বেনেটের নাবিকেরা যে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন, তাকে ফেয়ারভিউ লন কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে ডিএনএ গবেষণায় শিশুটিকে ১৯ মাস বয়সী সিডনি লেসলি গুডউইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জাদুঘরে রাখা জুতাজোড়াটি সেই শিশুটির বলে বিশ্বাস করা হয়।

জাদুঘরের সংগ্রহে টাইটানিক থেকে ভেসে আসা কাঠের অংশও রয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জেলে ও নাবিকেরা সমুদ্র থেকে এসব কাঠ সংগ্রহ করেছিলেন। পরে বিভিন্ন পরিবার সেগুলো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে এবং এর কিছু অংশ জাদুঘরে দান করা হয়।

প্রদর্শনীতে টাইটানিকের যাত্রীদের জীবনযাত্রার নানা দিকও তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির বিলাসবহুল যাত্রী, তৃতীয় শ্রেণির অভিবাসী এবং জাহাজের কর্মীদের জীবনচিত্রের মাধ্যমে সেই সময়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

টাইটানিকের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সঙ্গেও এই জাদুঘরের যোগ রয়েছে। ১৯৯৭ সালের জেমস ক্যামেরনের ‘Titanic’ চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় ক্যামেরন জাদুঘরের টাইটানিক-সংক্রান্ত নিদর্শন দেখেছিলেন। চলচ্চিত্রটির গবেষণাতেও জাদুঘরের সংগ্রহ ও বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লেগেছিল।

হ্যালিফ্যাক্সের তিন সমাধিক্ষেত্র ও মেরিটাইম মিউজিয়ামের নিদর্শনগুলো তাই টাইটানিক দুর্ঘটনার ইতিহাসকে শুধু বই বা সিনেমার গল্প হিসেবে নয়, বাস্তব মানুষের জীবন ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার সুযোগ দেয়।

কালের আলো/এসএ

মানবপাচার-চোরাচালানে বদলাচ্ছে আইনের চোখ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
মানবপাচার-চোরাচালানে  বদলাচ্ছে আইনের চোখ

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান—দুটিই মানুষের অনিয়মিত বিদেশযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও আইনগতভাবে এক নয়। নতুন ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এ অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক ও স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সামনে এনে এই পার্থক্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করার ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মধ্যে পার্থক্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমনে নতুন আইন ২০২৬ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেট বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে নতুন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব দিক স্পষ্ট হয়েছে—একই ঘটনায় সবাইকে একই চোখে না দেখে অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং পেছনের নেটওয়ার্ক আলাদাভাবে শনাক্ত করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় অভিবাসী চোরাচালান, ভিসা ও কাগজপত্র জালিয়াতি, অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।

‘অপরাধী’ দেখার আগে ভুক্তভোগী শনাক্তের বার্তা
সিনিয়র সচিব বিশেষভাবে বলেছেন, অনিয়মিত পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করা প্রত্যেক ব্যক্তি অপরাধী নাও হতে পারেন। প্রতারণা, শোষণ কিংবা মানবপাচারের শিকার হয়েও কেউ এমন পথে যেতে পারেন। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এই বক্তব্য নতুন আইনের প্রয়োগে মানবিক ও তদন্তগত—দুই দিকই সামনে আনে। কারণ দালাল বা অপরাধী চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত একজন ব্যক্তি এবং সেই চক্রের সক্রিয় সদস্যের ভূমিকা এক নয়। ফলে তদন্তের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সীমান্তে নয়, নজরদারি বাড়াতে হবে পুরো চক্রে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী অভিবাসী চোরাচালানকে সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। ভিসা ও কাগজপত্র জালিয়াতি, দালাল-মধ্যস্থতাকারী এবং তাদের পেছনে থাকা বৃহত্তর অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই বক্তব্যের গুরুত্ব হলো, অভিবাসী চোরাচালানকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ অপরাধী নেটওয়ার্ক হিসেবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

প্রতারণামূলক নিয়োগ থেকে শুরু করে ভুয়া ভিসা, জাল নথি, অর্থের লেনদেন এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ—সবগুলো যোগসূত্র শনাক্ত করা ছাড়া চক্রের মূল কাঠামো ভাঙা কঠিন।

আইনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ই বড় পরীক্ষা
কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান তুলে ধরেন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও তদন্তের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য সিনিয়র সচিবের নীতিগত অবস্থানকে আইনগত ও ব্যবহারিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় পুলিশ, প্রশাসন, ইমিগ্রেশন ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের বিষয়টিও উঠে আসে। নতুন আইনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু অপরাধের নতুন সংজ্ঞা কার্যকর করা নয়; বরং মাঠপর্যায়ে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের পার্থক্য সঠিকভাবে নির্ধারণ, প্রকৃত অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং একই সঙ্গে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সিনিয়র সচিবের বক্তব্য সেই সমন্বিত প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাই সামনে এনেছে।

এএইচ/এমকে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেটকারের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে উপজেলার জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) ও প্রাইভেটকারের চালক সোহেল। নিহতদের বাড়ি ঢাকার গেন্ডারিয়ায় বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামগামী নিউ বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী প্রাইভেটকারটির সংঘর্ষ হয়। প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ পাঁচজন ছিলেন। তারা মায়ামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রাইভেটকারের চালককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহত চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কালের আলো/এম/এসআইপি