খুঁজুন
                               
, ,
           

হ্যালিফ্যাক্সে টাইটানিকের ১৫০ যাত্রীর সমাধিক্ষেত্র, জাদুঘরে মিলল ইতিহাসের নিদর্শন

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
হ্যালিফ্যাক্সে টাইটানিকের ১৫০ যাত্রীর সমাধিক্ষেত্র, জাদুঘরে মিলল ইতিহাসের নিদর্শন

১৯১২ সালে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিকের সঙ্গে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যালিফ্যাক্সের রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করা বহু মরদেহ এই শহরে আনা হয়েছিল। বর্তমানে হ্যালিফ্যাক্সের তিনটি সমাধিক্ষেত্রে টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহত প্রায় ১৫০ জন যাত্রী চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল প্রথম যাত্রায় টাইটানিক দুই হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে রওনা হয়। চার দিন পর, ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতের কিছু আগে, উত্তর আটলান্টিকে একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে জাহাজটির। তিন ঘণ্টারও কম সময়ে জাহাজটি ডুবে যায়। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। পরে কার্পাথিয়া জাহাজে উদ্ধার হওয়া জীবিত যাত্রীদের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর মৃতদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হ্যালিফ্যাক্স। দুর্ঘটনাস্থলের তুলনামূলক কাছাকাছি বড় বন্দর, রেল ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগের সুবিধা থাকায় উদ্ধার করা মরদেহগুলো এই শহরে আনা হয়। হোয়াইট স্টার লাইন চারটি কানাডীয় জাহাজকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে নিয়োগ করেছিল। এর মধ্যে হ্যালিফ্যাক্স থেকে যাত্রা করা সিএস ম্যাকে-বেনেট ছিল প্রথম জাহাজ।

চারটি জাহাজ মিলে মোট ৩২৮টি মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁদের অনেককে সমুদ্রেই সমাহিত করা হয়। বাকিদের হ্যালিফ্যাক্সে আনা হয়। পোশাক, গয়না, চিঠি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে ফেয়ারভিউ লন, মাউন্ট অলিভেট ও ব্যারন হির্শে—এই তিন সমাধিক্ষেত্রে দাফন করা হয়।

টাইটানিকের স্মৃতি শুধু এসব সমাধিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। হ্যালিফ্যাক্সের মেরিটাইম মিউজিয়াম অব আটলান্টিকে রয়েছে টাইটানিকের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ। জাদুঘরের স্থায়ী প্রদর্শনী ‘টাইটানিক: দ্য আনসিঙ্কেবল শিপ অ্যান্ড হ্যালিফ্যাক্স’-এ জাহাজটির নির্মাণ, দুর্ঘটনা এবং পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে রয়েছে ৫০টির বেশি বস্তু, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও নথি। এর মধ্যে রয়েছে টাইটানিকের আসল ডেক চেয়ার, জাহাজ থেকে উদ্ধার করা কাঠের বিভিন্ন অংশ এবং অন্যান্য নিদর্শন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি ছোট চামড়ার জুতা। এটি টাইটানিকের ‘অজানা শিশু’র সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিশ্বাস করা হয়। দুর্ঘটনার পর ম্যাকে-বেনেটের নাবিকেরা যে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন, তাকে ফেয়ারভিউ লন কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে ডিএনএ গবেষণায় শিশুটিকে ১৯ মাস বয়সী সিডনি লেসলি গুডউইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জাদুঘরে রাখা জুতাজোড়াটি সেই শিশুটির বলে বিশ্বাস করা হয়।

জাদুঘরের সংগ্রহে টাইটানিক থেকে ভেসে আসা কাঠের অংশও রয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জেলে ও নাবিকেরা সমুদ্র থেকে এসব কাঠ সংগ্রহ করেছিলেন। পরে বিভিন্ন পরিবার সেগুলো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে এবং এর কিছু অংশ জাদুঘরে দান করা হয়।

প্রদর্শনীতে টাইটানিকের যাত্রীদের জীবনযাত্রার নানা দিকও তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির বিলাসবহুল যাত্রী, তৃতীয় শ্রেণির অভিবাসী এবং জাহাজের কর্মীদের জীবনচিত্রের মাধ্যমে সেই সময়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

টাইটানিকের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সঙ্গেও এই জাদুঘরের যোগ রয়েছে। ১৯৯৭ সালের জেমস ক্যামেরনের ‘Titanic’ চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় ক্যামেরন জাদুঘরের টাইটানিক-সংক্রান্ত নিদর্শন দেখেছিলেন। চলচ্চিত্রটির গবেষণাতেও জাদুঘরের সংগ্রহ ও বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লেগেছিল।

হ্যালিফ্যাক্সের তিন সমাধিক্ষেত্র ও মেরিটাইম মিউজিয়ামের নিদর্শনগুলো তাই টাইটানিক দুর্ঘটনার ইতিহাসকে শুধু বই বা সিনেমার গল্প হিসেবে নয়, বাস্তব মানুষের জীবন ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার সুযোগ দেয়।

কালের আলো/এসএ

প্রধানমন্ত্রীর বাসা থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু ১ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বাসা থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু ১ অক্টোবর

আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

মীর শাহে আলম বলেন, সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হলে সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নিজেদের উদ্যোগে এর ব্যবহার শুরু করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, হাটবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে মানুষ এর ব্যবহার সরাসরি দেখতে পারবে। এতে বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোও সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এতে প্যানেলে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তা সমাধান করবে। পাশাপাশি নেট মিটারিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করবে।

সভায় এলজিইডির কর্মকর্তাদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি স্থাপনাগুলোতে দ্রুত সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ও হাটবাজারগুলোকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিব মো. শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

এইচঅ্যান্ডএমের ফ্যাশন শোয়ে রানওয়েতে পেটার প্রতিবাদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
এইচঅ্যান্ডএমের ফ্যাশন শোয়ে রানওয়েতে পেটার প্রতিবাদ

লন্ডনের অলিম্পিয়া হলে সুইডিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের ফ্যাশন শোয়ে রানওয়েতে ঢুকে প্রতিবাদ করেছেন প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটার তিন কর্মী। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শো চলাকালে তাঁরা বারবার রানওয়েতে প্রবেশ করে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে ভেড়ার পশম ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

পেটা—পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস—১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংগঠন। পোশাক ও ফ্যাশনশিল্পে পশুর চামড়া, পশম, উলসহ প্রাণিজ উপকরণের ব্যবহার বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছে সংগঠনটি।

প্রতিবাদকারীরা রানওয়েতে প্রবেশ করলেও এইচঅ্যান্ডএমের নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের শারীরিক সংঘর্ষে জড়াননি। তাঁরা প্রতিবাদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। পরে প্রতিবাদকারীদের গায়ে হাত না দিয়ে রানওয়ে থেকে নেমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং তাঁদের অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সময় এইচঅ্যান্ডএমের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সামনের সারিতে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিবাদ চললেও ফ্যাশন শো বন্ধ হয়নি।

আলোকচিত্রী নিক নাইটের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই শোয়ে এইচঅ্যান্ডএম তাদের নতুন কালেকশন উপস্থাপন করে। এতে ঐতিহাসিক রোমান্টিক আবহে অনুপ্রাণিত পোশাক, চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত পুরুষদের পোশাক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি দৃশ্যের সমন্বয় দেখা যায়।

এর আগে নিউইয়র্কে ফ্যাশন ব্র্যান্ড কসের একটি শোতেও পেটার কর্মীরা একই ধরনের প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই ঘটনায় ফ্যাশন ডিজাইন অব আমেরিকার (সিএফডিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট স্টিভেন কোলবের সঙ্গে এক প্রতিবাদকারীর শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা আলোচনায় আসে।

লন্ডনের ঘটনায় অবশ্য নিরাপত্তাকর্মীরা সংঘর্ষ এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে প্রতিবাদের মধ্যেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এইচঅ্যান্ডএমের ফ্যাশন শো চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

সূত্র: ডব্লিউডব্লিউডি ও টাইমস

কালের আলো/এসএ

 

ইবিতে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ, লিখিত অভিযোগে অনীহা

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
ইবিতে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ, লিখিত অভিযোগে অনীহা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বহিরাগত ও বখাটেদের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসের নির্জন সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, স্থানীয় বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, পিছু নেওয়া, অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভয়, সামাজিক সংকোচ ও অভিযুক্তদের পরিচয় না জানার কারণে অনেকেই এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন না। ফলে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরসহ ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় বসবাস করায় প্রতিদিন যাতায়াতের পথে তাদের নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও বহিরাগতদের গা ঘেঁষে বসার চেষ্টা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ রয়েছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শেখপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে এবং একপর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে হাত দেন। আরেক শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের ভেতরে কয়েকজন তাঁকে পিছু নিয়ে শিস দিতে দিতে উত্ত্যক্ত করেন। ভয়ে একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান।

আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২৩ জুন পরীক্ষা শেষে মেসের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁকে জাপটে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে মেসের ম্যানেজার এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তি চলে যান। একই ব্যক্তি আরও কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের কমিউনিটি সেন্টার থেকে থানার গেট পর্যন্ত সড়কটিও নির্জন হওয়ায় সন্ধ্যার পর সেখানে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধকল্পে কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের ধরন অনুযায়ী হাইকোর্টের নীতিমালা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

তিনি জানান, কমিটির সদস্য-সচিব ইব্রাহিম খলিলের কাছ থেকে অভিযোগের ফরম সংগ্রহ করা যাবে। হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীদের ০১৯২৪৫৫২৭৫৪ ও ০১৮৭৫০৯০১২৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিযোগ করার মতো পরিবেশ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে সচেতনতা বাড়াতে নবীন শিক্ষার্থীদের নির্দেশিকা দেওয়া, বিভিন্ন ভবনে অভিযোগের প্রক্রিয়া জানিয়ে ব্যানার টানানো এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ