আত্মহত্যা প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান
আত্মহত্যা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে এটিকে সম্পূর্ণভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে সেমিনারে আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে কি-নোট বক্তব্য দেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতি বছর ৭ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। এর প্রায় ৭৭ শতাংশ ঘটনা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।
তিনি বলেন, মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিটিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলাতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং সংকটে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আত্মহত্যার চিন্তা বা অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীর মধ্যে এমন কোনো সংকেত দেখা গেলে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, পাশে থাকা এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সেমিনারের আয়োজন শেষ হয়।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array