খুঁজুন
                               
, ,
           

অভিজ্ঞতার নোঙর, প্রত্যাশার পাল—কোস্টগার্ডের নতুন কাণ্ডারি মঈনুল হাসান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
অভিজ্ঞতার নোঙর, প্রত্যাশার পাল—কোস্টগার্ডের নতুন কাণ্ডারি মঈনুল হাসান

একটি করভেটের কমান্ড থেকে শুরু করে অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট ও মিসাইল বোটের নেতৃত্ব; উত্তাল সমুদ্রে নেভিগেশন থেকে নৌ এভিয়েশনের বিকাশ কিংবা নৌবহরের নেতৃত্ব থেকে কৌশলগত পরিকল্পনা এবং দেশের জলসীমা থেকে হাজার মাইল দূরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন—দীর্ঘ সামরিক জীবনের প্রতিটি বাঁকে অভিজ্ঞতার নতুন অধ্যায় লিখেছেন রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। তিন দশকের বেশি সময়ের সেই বর্ণাঢ্য পথচলার পর এবার তাঁর হাতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্ব। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এই অভিজ্ঞ নৌ কর্মকর্তা। তিনি আগের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

অবশ্য সমুদ্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তাই নতুন নয়। বরং বলা যায়, তাঁর সামরিক জীবনের বড় একটি অংশই কেটেছে সমুদ্র, নৌযান, নেভিগেশন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ সেই সামরিক অভিজ্ঞতাই এখন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে বাহিনীতে যেমন নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে কোস্টগার্ডের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়েও তৈরি হয়েছে আশাবাদ।

  • কমান্ডে অভিজ্ঞ, নেতৃত্বে পরীক্ষিত
  • তিন দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
  • আস্থার নতুন অধ্যায়, সম্ভাবনার হাতছানি

জানা যায়, সমুদ্রের বিস্তীর্ণ নীল জলরেখা থেকে দেশের প্রত্যন্ত নদীপথ—নিরাপত্তার এই দীর্ঘ সীমানাজুড়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দায়িত্ব যতটা বিস্তৃত, চ্যালেঞ্জও ততটাই বহুমাত্রিক। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, জলদস্যুতা দমন, সমুদ্র ও উপকূলের নিরাপত্তা, নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। এসব দিক বিবেচনা করেই সরকার কোস্টগার্ডের ডিজি হিসেবে বেছে নিয়েছে তাকে। তাঁর অভিজ্ঞতা, কৌশলগত জ্ঞান ও নেতৃত্বের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সামনের দিনগুলোতে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করেন অনেকেই।

সমুদ্রই যাঁর কর্মজীবনের বড় পাঠশালা
রিয়ার এডমিরাল মঈনুল হাসানের সামরিক ক্যারিয়ার শুরু ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীর এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন পাওয়ার পর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন সমুদ্র, নৌবহর, প্রশিক্ষণ, নেভিগেশন, নৌ এভিয়েশন, পরিকল্পনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে। তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত সমুদ্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা। দক্ষ নেভিগেটর হিসেবে তিনি একটি করভেট, দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, তিনটি মিডিয়াম ও স্মল ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট এবং একটি মিসাইল বোটের অধিনায়কত্ব করেছেন।

অর্থাৎ সমুদ্র নিরাপত্তা তাঁর কাছে কেবল নীতিনির্ধারণের বিষয় নয়; জাহাজের কমান্ড, নেভিগেশন, অপারেশন এবং বাস্তব ঝুঁকি মোকাবিলার মধ্য দিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতারও নাম। কোস্টগার্ডের মতো সমুদ্র ও নদীকেন্দ্রিক একটি বাহিনীর নেতৃত্বে এই অভিজ্ঞতা বেশ বড় এক সম্পদ। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বাংলাদেশ নেভাল ফ্লিট হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রথম কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণভিত্তিক দক্ষতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

নৌ এভিয়েশনেও রেখেছেন দক্ষতার স্বাক্ষর
সমুদ্রের পাশাপাশি আকাশপথেও রয়েছে তাঁর বিস্তর অভিজ্ঞতা। কমান্ডিং অফিসার, ফ্লাইং উইং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে কমোডর নেভাল এভিয়েশন এবং নৌ সদর দপ্তরে নৌ এভিয়েশনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান সময়ে সমুদ্র নিরাপত্তা কেবল জাহাজনির্ভর নয়। নজরদারি বিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন, স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য এবং আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা সমুদ্র নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। নৌ এভিয়েশনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাই কোস্টগার্ডকে ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন অনেকেই।

দেশ-বিদেশের উচ্চতর শিক্ষা
সামরিক কমান্ডের পাশাপাশি উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণেও নিজেকে প্রস্তুত করেছেন রিয়ার এডমিরাল মঈনুল হাসান। মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও ভারতের ওয়েলিংটনের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজের কৃতি গ্র্যাজুয়েট তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজ, রোড আইল্যান্ড থেকে নেভাল কমান্ড কলেজ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে এমএসসি এবং ভারতের তামিলনাড়ু ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সাভারের বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার থেকেও সিনিয়র স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে পিএইচডি করছেন। এই একাডেমিক ও পেশাগত প্রস্তুতি তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতাকে কৌশলগত চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে বাহিনীর তাৎক্ষণিক অপারেশন থেকে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা—দুই দিকেই তাঁর নেতৃত্বের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যে বাহিনীর নেতৃত্বে, সেটিকেও চেনেন ভেতর থেকে
মঈনুল হাসানের নতুন দায়িত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশ কোস্টগার্ড তাঁর কাছে অপরিচিত নয় মোটেও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের উপমহাপরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌ সদর দপ্তরে নৌ পরিকল্পনা ও নৌ এভিয়েশনের পরিচালক এবং নেভাল সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নীতিনির্ধারণ, প্রশাসন ও অপারেশন—তিন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে। এ কারণে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো ও কার্যক্রম বুঝতে তাঁকে নতুন করে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে না। বরং বিদ্যমান সক্ষমতাকে কীভাবে অধিকতর কার্যকর করা যায়, সেদিকে দ্রুত মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মিশনে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা
২০০৭–২০০৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইন আইভরি কোস্টে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মঈনুল হাসান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া, সম্মেলন ও সেমিনারেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বহুজাতিক পরিবেশে সমন্বয়, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিয়েছে।

পদক ও স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল কর্মজীবন
দীর্ঘ সামরিক জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’, ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক অর্জন করেছেন। এসব স্বীকৃতি তাঁর দায়িত্ব পালনের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও অবদানেরই প্রতিফলন।

কোস্টগার্ডের সামনে খুলতে পারে নতুন সম্ভাবনার পথ
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ডিজি হিসেবে রিয়ার এডমিরাল মঈনুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ তাই কেবল একটি পদে নতুন একজন কর্মকর্তার আগমন নয়; বরং সমুদ্রকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত নেতৃত্বে খুলতে পারে নতুন সম্ভাবনার পথ। আরও আধুনিক প্রযুক্তি, আরও শক্তিশালী অপারেশন, দেশের সমুদ্র, উপকূল ও নদীপথের নিরাপত্তায় আরও দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরা। সামনে চ্যালেঞ্জ হয়তো অনেক, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তাঁর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারও যে কম নয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

এআই ক্যামেরার চোখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
এআই ক্যামেরার চোখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও যানজটমুক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এআই ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়কটি ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের চিত্র।

গত ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক এ নজরদারির আওতায় রয়েছে।

মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে।

প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯ মামলা

এআই ক্যামেরাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে।

মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, শুরুতে এআই ক্যামেরায় বেশি সংখ্যক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমে আসবে।

১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা

শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়াতেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এর আওতায় আরও কয়েকটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বিবেচনায় মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

পদুয়াবাজারে ওভারপাস সম্প্রসারণ

দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার পদুয়াবাজার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা। সেখানে যানজট কমাতে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ জন্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, বিদ্যমান বাজেট সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওভারপাস সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণস্বরূপ। যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনা

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার অংশকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে পরবর্তী ধাপে ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় কমে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ব্যাগে কাগজে মোড়ানো কুমিরের কাটা মাথা, বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
ব্যাগে কাগজে মোড়ানো কুমিরের কাটা মাথা, বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

ইতালির তুরিনের ক্যাসেল বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে কুমিরের শুকনো কাটা মাথা উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা। সাধারণ কাগজে মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি একটি পার্সেলের ভেতরে রাখা ছিল।

মায়ামি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ইতালিতে যাওয়া ওই যাত্রীর লাগেজ তল্লাশির সময় পার্সেলটি নজরে আসে। খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে কুমিরের একটি শুকনো মাথা।

ইতালির আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশ জানিয়েছে, সংরক্ষিত ও বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে বিমানবন্দরে যৌথ অভিযান চলছিল। এ সময় উপযুক্ত সনদ বা লাইসেন্স ছাড়া কুমিরের মাথা বহনের বিষয়টি ধরা পড়ে।

কর্তৃপক্ষ মাথাটি জব্দ করেছে এবং ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ইতালির আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার কিছু স্যুভেনির দোকানে শুকনো কুমিরের মাথা বিক্রি হয়। পর্যটকেরা অনেক সময় স্মারক হিসেবে এগুলো কিনলেও আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকলে তা আইনত অপরাধ হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইতালির আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশ

কালের আলো/এসএ

সীমান্ত পেরিয়ে মাদকের স্রোত, গন্তব্য বড় শহর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
সীমান্ত পেরিয়ে মাদকের স্রোত, গন্তব্য বড় শহর

সীমান্তের ওপারে রাতের অন্ধকারে শুরু হয় যাত্রা। নদী, নৌকা কিংবা দুর্গম সীমান্তপথ পেরিয়ে মাদক ঢোকে দেশে। এরপর বদলে যায় তার চেহারা—কখনো মাছ ধরার ট্রলার, কখনো ব্যক্তিগত গাড়ি, কখনো পণ্যবাহী যান। সীমান্তের ছোট পথ থেকে মহাসড়ক ধরে সেই চালান এগিয়ে যায় বড় শহরের দিকে। কোনো কোনো চালান মাঝপথেই ধরা পড়ে, বাকিগুলো পৌঁছে যায় নির্ধারিত গন্তব্যে। এভাবেই সীমান্তের মাদক শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় দেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারগুলোতে। গত ১৭ আগস্ট কক্সবাজার থেকে তিন লাখ ইয়াবা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল একটি ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো। চট্টগ্রামে এক দিন অবস্থানের পর গাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঠে। রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে চালানটি। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত পাঁচ মাসে কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা ছয়টি বড় চালান থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি চালানের গন্তব্য ছিল ঢাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, রাজধানী থেকে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

সীমান্ত থেকে শহরে, শহর থেকে সারা দেশে
মাদক চোরাচালানের এই প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কক্সবাজার। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই জেলা ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত ১১ এপ্রিল নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক অভিযানেই বিজিবি ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করে। বিজিবির হিসাবে, এক দিনে ইয়াবা জব্দের ক্ষেত্রে এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এরপরও থামেনি বড় চালান। উখিয়া, টেকনাফ ও রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতই উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় বড় চালানের একটি অংশ ধরা পড়ছে। কিন্তু উদ্ধার হওয়া চালানের বিপরীতে যে পরিমাণ মাদক বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, কক্সবাজার থেকে মাদক চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা দিয়েও দেশে প্রবেশ করছে নানা ধরনের মাদক। এসব প্রবাহের শেষ প্রান্তে তৈরি হচ্ছে বড় শহরগুলোর বাজার।

আট মহানগরে বড় বাজার
বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যানও মাদকের এই বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরে। আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশের আট মহানগরে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন ৪৭ হাজার ৯৪৮টি। সারা দেশে এমন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৩। অর্থাৎ মোট মামলার প্রায় ২৯ শতাংশই আট মহানগরে। সবচেয়ে বেশি মামলা ঢাকা মহানগরে—২১ হাজার ৯২০টি। এরপর চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ শুধু এই দুই মহানগরেই রয়েছে ৩৬ হাজার ৯৬৪টি মামলা, যা আট মহানগরের মোট মামলার প্রায় ৭৭ শতাংশ। রাজশাহীতে ৪ হাজার ১২১, গাজীপুরে ২ হাজার ৬২৩, রংপুরে ১ হাজার ২১৮, খুলনায় ১ হাজার ১৮৭, বরিশালে ১ হাজার ২১ এবং সিলেটে ৮১৪টি গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন। এই পরিসংখ্যান বলছে, মাদকের বড় বাজার শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়। জনসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা, ভোক্তার সংখ্যা ও পরিবহন সুবিধার কারণে মহানগরগুলো হয়ে উঠছে সরবরাহ ও ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

রুটও স্পষ্ট
সীমান্ত থেকে মহানগরে মাদক পৌঁছানোর পথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোর চিত্রও বেশ পরিষ্কার। কক্সবাজারের বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলার সংখ্যা ১২ হাজার ৬০০—দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এরপর চট্টগ্রাম হয়ে কুমিল্লা, সেখান থেকে ঢাকা—এই রুটে একাধিক বড় চালান আটকের ঘটনা রয়েছে। গত ১০ এপ্রিল কক্সবাজার সীমান্ত থেকে আসা মাছ ধরার ট্রলারে পাঁচ লাখ ইয়াবা চট্টগ্রাম নগরে জব্দ হয়। আগস্টে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী তিন লাখ ইয়াবার চালান কুমিল্লায় আটক হয়। এর আগে জুনে একই জেলায় গাড়িতে পরিবহনের সময় আরও এক লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লায় বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলা ১০ হাজার ৪৬৪টি। নারায়ণগঞ্জেও রয়েছে ৭ হাজার ৪১১টি। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং নৌপথের সংযোগ থাকায় রাজধানীমুখী মাদক পরিবহনে জেলাটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার নজির রয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুরুতর মাদক মামলা ৫ হাজার ৯২৭টি, রাজশাহী জেলায় ৫ হাজার ১২৬ এবং দিনাজপুরে ৪ হাজার ১৪৮টি।

অভিযান, মামলার পরও হচ্ছে না বন্ধ
প্রশ্নটি এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে অভিযান হচ্ছে, বড় চালান জব্দ হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে, মামলা হচ্ছে—তারপরও সরবরাহ থামছে না কেন? মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের ভাষ্য, প্রায় সব মাদকই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বেশি। ফলে সেখানে বড় চালান আটকের ঘটনাও বেশি দেখা যায়। কিন্তু একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিপুল মাদকের একটি অংশ নজরদারি এড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। আরও বড় বাস্তবতা হলো, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে চোরাচালান হওয়া মাদকের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ আনুমানিক ৮০ শতাংশই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে অভিযান ও মামলা যতই হোক, সরবরাহব্যবস্থার মূল কাঠামো অক্ষত থাকলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয় না। একটি চালান ধরা পড়লে আরেকটি চালান সেই জায়গা পূরণ করে। পরিবহন রুট বদলায়, বাহন বদলায়, কৌশল বদলায়—কিন্তু প্রবাহ অব্যাহত থাকে।

ভাঙতে হবে পুরো নেটওয়ার্ক
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সীমান্তে মাদক আটকের পাশাপাশি পুরো সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা। সীমান্ত পারাপারের পর কারা পরিবহন করছে, কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, কারা সংরক্ষণ করছে এবং মহানগর থেকে কারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে—এই পুরো চেইন শনাক্ত না হলে বড় চালান জব্দের সাফল্যও দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সীমান্তে অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সীমান্ত, পরিবহন রুট, গুদাম, আর্থিক লেনদেন এবং নগরভিত্তিক বাজার—সবকিছুকে একসঙ্গে নজরদারির আওতায় আনা। কারণ বাস্তবতা হলো, সীমান্তে মাদক ধরা পড়ছে, আদালতে মামলা চলছে; কিন্তু বাজারে মাদকের সরবরাহ থামছে না। আর যতদিন চাহিদা ও সরবরাহের এই অদৃশ্য নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকবে, ততদিন সীমান্তে যত চালানই ধরা পড়ুক, মাদকের স্রোত পুরোপুরি থামানো কঠিন।

কালের আলো/এম/এএইচ