খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসির বড় পরীক্ষা ইউপি ভোটে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ইসির বড় পরীক্ষা ইউপি ভোটে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবার তৃণমূলে ভোটের পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। তবে ব্যালটের লড়াইয়ের আগেই ইসির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে মাঠের আইনশৃঙ্খলা। কারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, বিশেষ করে ইউপি ভোটে, সংঘাতের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে ভোটের বেশ আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। জানতে চেয়েছেন দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ে বাহিনীর সক্ষমতা এবং নির্বাচনের সময় কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পুলিশকে সারা দেশের জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে।

আগেভাগেই মাঠের হিসাব নিতে চায় কমিশন
গত ১৮ আগস্ট নির্বাচন ভবনে পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিইসি। সেখানে জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় এবং একটি সমন্বিত সেল গঠনের বিষয় উঠে আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে শিগগিরই ইসিকে পরিস্থিতির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এরপর ২৭ আগস্ট সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় আরও ভালো নির্বাচন করার অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে—এ বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। ইসির প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থাকে নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজে লাগানো। ১৯ আগস্ট আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ২৪ আগস্ট বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে কমিশন। নির্বাচনের সময় বাহিনীগুলো কীভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে, সে বিষয়ে তাদের মতামত ও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

ভরসা পুলিশ-বিজিবি-আনসারে
এবারের ইউপি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাখার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মাছউদের মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পুলিশ, আনসার ও বিজিবিই যথেষ্ট। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, কমিশন এখনই পরিস্থিতিকে সংকটজনক হিসেবে দেখছে না। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে চাইছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ।

অতীতের ইউপি ভোটই বড় সতর্কবার্তা
ইসির উদ্বেগের পেছনে অবশ্যই বাস্তব কারণ রয়েছে। অতীতের ইউপি নির্বাচনগুলোতে ভোটের মাঠ পরিণত হয়েছে সংঘাতের কেন্দ্রে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানি ছিল ভয়াবহ। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতার ধারাবাহিকতা থামেনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে সংঘাতে অন্তত ১১৬ জন নিহত হন। শুধু ২০২১ সালেই ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এসব নির্বাচনে সংঘাতের বড় কারণ ছিল দলীয় প্রতীক। একই দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলা বহু এলাকায় সহিংসতা বাড়িয়েছিল।

দলীয় প্রতীক না থাকায় কমতে পারে সংঘাত
এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় আগের চিত্র কিছুটা বদলাতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীমের মতে, অতীতে দলীয় প্রতীক স্থানীয় নির্বাচনকে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে পরিণত করেছিল। এবার সেই কাঠামো না থাকায় সহিংসতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি উধাও হচ্ছে না। বিশেষ করে কোনো বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থী মাঠে এলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী অংশ নিলে অন্য রাজনৈতিক পক্ষ তাদের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলেছেন তিনি। তাই প্রার্থী যাচাই থেকে শুরু করে প্রচার ও ভোটের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আসল পরীক্ষা ভোটের মাঠে
ইসি বলছে, সংঘাতমুক্ত নির্বাচনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা থাকবে মাঠের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় সরাসরি ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধে রূপ নেয়। জাতীয় নির্বাচনের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে এখানে ভোটের সঙ্গে যুক্ত থাকে স্থানীয় আধিপত্য, সামাজিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইসি কমিশনার মাছউদও স্বীকার করেছেন, সংঘাতমুক্ত নির্বাচন করতে গেলে নানা বাধা আসবে। সেসব বাধা আগেই চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে শতভাগ সংঘাতমুক্তির নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি