খুঁজুন
                               
, ,
           

ঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি উধাও, ভাঙছে সাদ-মুসা গ্রুপের অর্থজাল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
ঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি উধাও, ভাঙছে সাদ-মুসা গ্রুপের অর্থজাল

চট্টগ্রামের বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী সাদ-মুসা গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাংকঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এখন পর্যন্ত সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেশের ১২টি ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া ও অর্থ সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর ঋণখেলাপির ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। দুদকের অনুসন্ধান ও ইতোমধ্যে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অভিযোগে যে পদ্ধতির কথা উঠে এসেছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে ব্যাংকঋণ অনুমোদন ও তদারকির কাঠামো নিয়েও। এক প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়ার পর তা অন্য প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে দেওয়া, পুরনো ঋণ সমন্বয়, কাগুজে বিল-এলসির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন এবং একই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্থ ঘোরানোর অভিযোগ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি জটিল ঋণচক্রের চিত্র।

শুরু ১২০ কোটি থেকে, ঋণ ছাড়াল দুই হাজার কোটি
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে সাদ-মুসা গ্রুপের ব্যবসায়িক সম্পর্ক শুরু হয় ১২০ কোটি টাকার কম্পোজিট ঋণসীমার মাধ্যমে। কয়েক দফা বাড়িয়ে এই সীমা দাঁড়ায় ৯৫৯ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে সাদ-মুসা হোমটেক্স অ্যান্ড ক্লথিং লিমিটেডের নামে অনুমোদন করা হয় ৪১৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের একটি অংশ প্রকৃত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও অনুসন্ধানে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে খোলা হিসাব ভুয়া বিল লেনদেনে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। দুদকের হিসাবে, সাদ-মুসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নামে-বেনামে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওনা ছিল ১ হাজার ১৮০ কোটি টাকার বেশি।

চারটি ঘটনায় উঠে আসছে একই কৌশল
সাদ-মুসা গ্রুপের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যেসব মামলার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি অভিন্ন পদ্ধতির অভিযোগ দেখা যায়। ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় অভিযোগ—ঋণের অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ মোহসিনসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। আসামিদের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রাইম ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলি রোড শাখার ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঘটনায়ও অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাইয়ের ঘাটতি। ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণের মধ্যে ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পূবালী ব্যাংকের প্রায় ৯৫ কোটি টাকার ঘটনায় আবার সামনে এসেছে কাগুজে বিল ও লোকাল এলসির ব্যবহার। এমএ রহমান ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ঋণ নিয়ে ২৫টি লোকাল এলসির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ মোহসিন, তার স্ত্রী এবং ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও অভিযোগের কাঠামোতে মিল—ঋণ নেওয়া, অর্থের গতিপথ বদলানো এবং কাগুজে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া।

করোনার প্রণোদনার ৪০৪ কোটি নিয়েও অভিযোগ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অধ্যায় করোনাকালীন প্রণোদনা ঋণ। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সরকার যে বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছিল, সাদ-মুসা গ্রুপ সেই অর্থেরও অপব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ দুদকের। ২০২৫ সালের মে মাসে ৪০৪ কোটি টাকা উত্তোলন, আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মোহাম্মদ মোহসিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, ভুয়া কাগজপত্র ও অনুমোদনবিহীন প্রক্রিয়ায় ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন যাচাই না করেই ঋণ অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ। পরে অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর, ফ্লোর কেনা, পুরনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এখানেই প্রশ্নটি আরও বড়—যে অর্থ সংকটে থাকা প্রকৃত ব্যবসা ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেটি যদি পুরনো দায় মেটানো বা অন্য কাজে চলে যায়, তাহলে প্রণোদনা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হলো?

ব্যাংকের ভেতরের ভূমিকা কতটা?
এই কেলেঙ্কারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—অভিযোগ শুধু ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে নয়। বিভিন্ন মামলায় ব্যাংকের পরিচালক ও কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদনের সময় গ্রাহকের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার নগদ প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পারস্পরিক লেনদেন কতটা যাচাই করা হয়েছিল? একই গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকলে ব্যাংকের নজরদারি ব্যবস্থায় তা শনাক্ত হওয়ার কথা। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, একই ধরনের লেনদেন বিভিন্ন পর্যায়ে চলেছে। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি কাঠামো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জামানত কতটা নিরাপদ?
বিএফআইইউর অনুসন্ধানেও সাদ-মুসা গ্রুপের ঋণের বিপরীতে থাকা সম্পদ, কারখানা ও শিল্পপার্কের জমি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাদ-মুসা শিল্পপার্কে প্রায় ২০০ বিঘা জমির কথা উঠে এলেও বিপুল ঋণের তুলনায় এসব সম্পদের জামানত মূল্য যথেষ্ট কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ঋণ খেলাপি হলে কাগজে থাকা সম্পদ আর বাস্তবে দ্রুত উদ্ধারযোগ্য অর্থ—দুটি এক বিষয় নয়। সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য, মালিকানা, দায় এবং আইনি জটিলতা ঋণ আদায়ের সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাদ-মুসা গ্রুপের বাইরেও যে প্রশ্ন
দুদকের অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। ফলে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার এই অঙ্কই চূড়ান্ত নয়। আরও প্রতিষ্ঠান, আরও ঋণ এবং অর্থের আরও গতিপথ সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে যে চিত্রটি স্পষ্ট, তা হলো—এটি শুধু একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নয়; একই সঙ্গে এটি ব্যাংকিং খাতে ঋণ অনুমোদন, গ্রাহক যাচাই, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বড় পরীক্ষাও। তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে সাদ-মুসা গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদন ব্যবস্থার দুর্বলতাও নতুন করে সামনে আসবে। আর অর্থ উদ্ধার না হলে প্রশ্নটি আরও কঠিন হবে—সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার দায় শেষ পর্যন্ত বহন করবে কে? শেষ পর্যন্ত তাই সাদ-মুসা গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির আসল গল্প শুধু ‘কত টাকা নেওয়া হয়েছে’ তা নয়; বরং কীভাবে এত টাকা নেওয়া সম্ভব হলো, কোথায় গেল সেই অর্থ এবং এতদিন তা ঠেকানো গেল না কেন—উত্তর খুঁজতে হবে এই তিন প্রশ্নের মধ্যেই।

কালের আলো/এম/এএইচ

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আফগান কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি পৃথক স্থানেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভূখণ্ডে আন্তসীমান্ত হামলা চালাচ্ছে।

তবে তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে নতুন করে হামলার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর আবারও চাপ তৈরি করতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন দিনে একদিন জমা পানি অপসারণের আহ্বান

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন দিনে একদিন জমা পানি অপসারণের আহ্বান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এ অভ্যাস নগরবাসীর প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মেয়র বলেন, নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মেয়র জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামও চালানো হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের একক কার্যক্রমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন মাসব্যাপী পরিকল্পনার আওতায় নগরের প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

মেয়র নগরবাসীকে বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে বলেন।

চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিষয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহারের পাশাপাশি লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।

প্রতিটি ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ চলছে জানিয়ে মেয়র বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারক করছেন। এ কার্যক্রমে বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়ে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রোমে জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব শাখার এক সমাবেশে এসব প্রস্তাবের কথা জানান মেলোনি। আগামী ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিষয়গুলো ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মেলোনি বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে ‘গুরুতর সমস্যা’ রয়েছে, তাদের জন্য ইতালীয় ভাষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হবে।

রোমে আয়োজিত ‘জিওভেন্তু নাজিওনালে’ জাতীয় উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি বলেন, যারা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের দেশটির ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং স্থানীয় নিয়মকানুনকে সম্মান করতে হবে।

প্রস্তাব কার্যকর করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন

সরকার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো অনুমোদন করলেও সেগুলো আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার। তবে ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

এরই মধ্যে ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) নামে আরও ডানপন্থি একটি দল স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। জুলাইয়ে দলটি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

বোরকা-নিকাব নিয়ে ইতালির বর্তমান আইন

বোরকা এমন একটি পোশাক, যাতে নারীর পুরো শরীর ও মুখ ঢাকা থাকে। সাধারণত চোখের সামনে জালের মতো কাপড় থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকলেও চোখ দেখা যায়।

ইতালিতে বর্তমানে বোরকা বা নিকাব সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের একটি আইনি সিদ্ধান্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়। সেখানে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরার সুযোগ রাখা হলেও পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে মেলোনির ক্ষমতাসীন জোটের অংশ লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুতে মুখ ঢাকা পোশাক নিয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধের একটি বিল জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে খেলাধুলার অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে এমন হেলমেট বা পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়েও নতুন প্রস্তাব

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর আইনি সীমা আরোপের কথাও জানিয়েছেন মেলোনি।

তবে ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। একটি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সীমা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে মেলোনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী। ফলে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও একীভূতকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সংসদে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসএ