খুঁজুন
                               
, ,
           

এআই ক্যামেরার চোখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
এআই ক্যামেরার চোখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও যানজটমুক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এআই ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়কটি ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের চিত্র।

গত ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক এ নজরদারির আওতায় রয়েছে।

মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে।

প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯ মামলা

এআই ক্যামেরাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে।

মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, শুরুতে এআই ক্যামেরায় বেশি সংখ্যক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমে আসবে।

১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা

শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়াতেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এর আওতায় আরও কয়েকটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বিবেচনায় মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

পদুয়াবাজারে ওভারপাস সম্প্রসারণ

দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার পদুয়াবাজার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা। সেখানে যানজট কমাতে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ জন্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, বিদ্যমান বাজেট সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওভারপাস সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণস্বরূপ। যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনা

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার অংশকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে পরবর্তী ধাপে ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় কমে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

হংকংয়ে মেহজাবীনের নতুন ছবি, মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
হংকংয়ে মেহজাবীনের নতুন ছবি, মুগ্ধ ভক্তরা

হংকং ভ্রমণের বেশ কিছু নতুন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গতকাল রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিগুলো পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে।

হংকংয়ে তোলা ছবিগুলোর সঙ্গে মেহজাবীন লিখেছেন, ‘আচ্ছা, থাক…উমম…কিছু না।’ তাঁর এই রহস্যময় ক্যাপশনও ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।

ছবি প্রকাশের পরপরই তা নজর কেড়েছে ভক্ত-অনুসারীদের। পোস্টটিতে এরই মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছে। মন্তব্যের ঘরেও অনেকে অভিনেত্রীর নতুন ছবির প্রশংসা করেছেন।

মেহজাবীন বর্তমানে বড় পর্দার কাজেই বেশি মনোযোগী। ‘প্রিয় মালতী’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ছোট পর্দায় তাঁর কাজের সংখ্যা কমেছে। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসাও পেয়েছেন তিনি। গত বছর মুক্তি পাওয়া তাঁর আরেক সিনেমা ‘সাবা’ও দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ছোট পর্দায় মেহজাবীনকে সর্বশেষ দেখা গেছে শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাকটাস’ সিরিজে। চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতরে চরকিতে মুক্তি পাওয়া সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজেও মেহজাবীনের ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় এসেছিল। এবার হংকংয়ের ছবিগুলো নিয়েও ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

কালের আলো/এসএ

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল কোথায়, স্পেন-মরক্কোর প্রতিযোগিতা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল কোথায়, স্পেন-মরক্কোর প্রতিযোগিতা

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হবে, তা নিয়ে আয়োজক দেশ স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। তবে ফিফা এখনো ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।

২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। মরক্কো চাইছে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হোক দেশটির নির্মাণাধীন হাসান ২ স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে স্পেনের দাবি, ফাইনাল আয়োজনের যোগ্যতা তাদেরই বেশি।

মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লাকজা সম্প্রতি বলেছেন, বেনস্লিমানে শহরেই বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে এবং ম্যাচটি হবে হাসান ২ স্টেডিয়ামে। তাঁর প্রত্যাশা, ফাইনালে মরক্কোও খেলবে।

বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন হাসান ২ স্টেডিয়ামে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন। ২০২৭ সালের শেষ দিকে স্টেডিয়ামটির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণ শেষ হলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি হবে।

তবে স্পেনও ফাইনাল আয়োজনের দাবি ছাড়ছে না। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান বলেছেন, বর্তমান সময়ে ফুটবলের দিক থেকে স্পেন সেরা এবং বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অধিকারও তাদের পাওয়া উচিত।

ফাইনালের জন্য স্পেনের সম্ভাব্য ভেন্যুর মধ্যে রয়েছে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। সংস্কারের পর ক্যাম্প ন্যুতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা থাকবে। বার্নাব্যুর আসনসংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার ৩০০।

এদিকে ফিফার এক মুখপাত্র স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফইকে জানিয়েছেন, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানাবে ফিফা। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত কাসাব্লাঙ্কা, বেনস্লিমানে কিংবা স্পেনের কোনো স্টেডিয়ামকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করা হয়নি।

ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে এই টানাপোড়েনের মধ্যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মরক্কোর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ইনফান্তিনো সম্প্রতি মরক্কো সফর করেছেন। তাঁর আগামী নির্বাচনে মরক্কোর সমর্থনের বিনিময়ে দেশটিকে ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে ফিফা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে নাকি মরক্কোয়—এখনো সেই প্রশ্নের উত্তর ফিফার কাছেই।

কালের আলো/এসএ

ব্যাগে কাগজে মোড়ানো কুমিরের কাটা মাথা, বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
ব্যাগে কাগজে মোড়ানো কুমিরের কাটা মাথা, বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

ইতালির তুরিনের ক্যাসেল বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে কুমিরের শুকনো কাটা মাথা উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা। সাধারণ কাগজে মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি একটি পার্সেলের ভেতরে রাখা ছিল।

মায়ামি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ইতালিতে যাওয়া ওই যাত্রীর লাগেজ তল্লাশির সময় পার্সেলটি নজরে আসে। খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে কুমিরের একটি শুকনো মাথা।

ইতালির আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশ জানিয়েছে, সংরক্ষিত ও বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে বিমানবন্দরে যৌথ অভিযান চলছিল। এ সময় উপযুক্ত সনদ বা লাইসেন্স ছাড়া কুমিরের মাথা বহনের বিষয়টি ধরা পড়ে।

কর্তৃপক্ষ মাথাটি জব্দ করেছে এবং ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ইতালির আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার কিছু স্যুভেনির দোকানে শুকনো কুমিরের মাথা বিক্রি হয়। পর্যটকেরা অনেক সময় স্মারক হিসেবে এগুলো কিনলেও আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকলে তা আইনত অপরাধ হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইতালির আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশ

কালের আলো/এসএ