খুঁজুন
                               
, ,
           

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় নতুন নিয়মের প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় নতুন নিয়মের প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় থাকা বিদেশিদের জন্য নতুন নিয়মের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য বর্তমানে থাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ আর থাকবে না। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসাসহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

কী বদলাবে

বর্তমানে চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার জন্য বিদেশি কর্মীরা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পান। ২০১৭ সাল থেকে এই সুবিধা চালু রয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে কর্মীরা নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার পাশাপাশি ভিসার বৈধতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। একই সঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে বাসাবাড়ি বিক্রি, সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান।

ডিএইচএসের প্রস্তাব কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর এই অতিরিক্ত সময় আর পাওয়া যাবে না। তবে কোনো কর্মী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর নতুন নিয়োগকর্তা তাঁর পক্ষে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ভিসার জন্য আবার আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব এইচ-১বি কর্মীদের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এইচ-১বি ভিসার। ১৯৯০ সালে চালু হওয়া এই ভিসার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল।

ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো প্রতিষ্ঠান বড় এইচ-১বি স্পনসরদের মধ্যে রয়েছে।

ডিএইচএসের মতে, নতুন নিয়মে কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে এর ফলে একই যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের এসব পদে নিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানো বা চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের হাতে সময় অনেক কমে যাবে। বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।

শুধু এইচ-১বি নয়

প্রস্তাবিত পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি ভিসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ই-১ ও ই-২ ভিসা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য এল-১ ভিসা এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতার অধিকারীদের ও-১ ভিসাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া টিএন পেশাজীবী কর্মীদের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও চিলির নাগরিকদের জন্য এইচ-১বি১ এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মীদের জন্য ই-৩ ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আসতে পারে।

এখনই কার্যকর হচ্ছে না

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিতের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে চাকরি হারানোর পর অবস্থানের সময় কমানোর প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রায় দুই মাস জনমত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এ সময়ে প্রস্তাবটির বিষয়ে মতামত জানাতে পারবে।

জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত পর্যালোচনার পর প্রশাসন নিয়মটি চূড়ান্ত করবে। তাই আপাতত এইচ-১বি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বহাল থাকছে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, আপত্তিকর ভিডিওতে অর্থ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, আপত্তিকর ভিডিওতে অর্থ আদায়

রাজধানীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিত্তবান পুরুষদের হানিট্র্যাপে ফেলার মাধ্যমে অর্থ আদায় করছিল একটি প্রতারক চক্র। চক্রটির সদস্যরা ভুক্তভোগীদের হোটেল বা নির্ধারিত বাসায় ডেকে জিম্মি করতেন। পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। একপর্যায়ে কৌশলে তাঁদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে চক্রের অন্য সদস্যরা ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন।

ডিবিপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দেওয়া হতো। এভাবে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত চক্রটি। একবার অর্থ নেওয়ার পরও ব্ল্যাকমেইল করে পুনরায় টাকা দাবি করা হতো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটির সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। পাশাপাশি ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ডিবিপ্রধান। প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রাজধানীর তুরাগ এলাকায় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণায় জড়িত একটি চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য সামনে আসে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

জন্মদিন মানেই কেক কাটা, শুভেচ্ছা আর আনুষ্ঠানিকতা—প্রচলিত এই ছবির বাইরে গিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে জন্মদিন উদ্‌যাপনে যুক্ত হলো মানবিকতার ভিন্ন এক গল্প। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনকে উপলক্ষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাযাত্রা সহজ করা, পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানো এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে প্রাধান্য পেয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানুষের কল্যাণ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় গোলাপি রঙের বাইসাইকেল। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পেয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ। অন্যদিকে, শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত হয় চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। আয়োজকদের হিসাবে, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

  • মীর শাহে আলমের উদ্যোগে ৫৪৮ মেধাবী ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার
  • দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষের চক্ষুসেবায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

জন্মদিনের আনন্দকে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও অসহায় মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত করার এ আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে নারীশিক্ষায় উৎসাহ জোগানো এবং চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা কর্মসূচিটিকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। শুধু তাই নয়—শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েও বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে তোলা যায় এই বিষয়টিকে মোটা দাগে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গোলাপি সাইকেলে শিক্ষার পথে নতুন গতি
একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের বাহন নয়। গ্রামীণ এলাকার অনেক ছাত্রীর জন্য এটি হতে পারে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর সহজ উপায়, সময় বাঁচানোর মাধ্যম এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বাড়তি অনুপ্রেরণা। বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব কমানো সম্ভব না হলেও যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়া হয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ।

সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নারীশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে মেয়েদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

উপহারের আনন্দে যুক্ত হলো দেড় হাজার শিক্ষার্থী
সাইকেলের পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আনন্দে যুক্ত করা হয়েছে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে। উপহারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটির স্মারক হয়ে থাকার পাশাপাশি তাদের মধ্যে উৎসাহ ও সম্পৃক্ততার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এমন উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আগ্রহ ও সহযোগিতা প্রকাশ পেলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরি হতে পারে।

চক্ষুসেবায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের পাশে
জন্মদিনের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। রোববার দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো এ সেবা পরিচালিত হয়।

আয়োজকরা জানায়, প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়। দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সেবার আওতায় আনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি বিস্তৃত হয়েছে। চোখের সমস্যা শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছানি অপারেশনের সুযোগ তৈরি করা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মোকামতলা ও শিবগঞ্জের যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো, চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে এ কার্যক্রমের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

জন্মদিনের আয়োজন ঘিরে মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আগের বছরগুলোতেও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি
চক্ষুচিকিৎসা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তবে দিনের মূল আয়োজনের অন্যতম দিক ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সাইকেল বিতরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মীর লাবণী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রজ্ঞার স্তরে থাকবে না কোনো প্রতীক
এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে থাকা জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তরের নাম আগের মতোই থাকবে। তবে প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহৃত প্রতীকগুলো বাদ দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রজ্ঞার স্তরে থাকা দাঁড়িপাল্লার ছবিটি আর রাখা হচ্ছে না।

এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

ছাপানো বইয়ে যুক্ত হবে সংশোধিত পৃষ্ঠা
ইতিমধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের বড় একটি অংশ ছাপানো হয়ে গেছে। ফলে পুরো বই নতুন করে ছাপানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর জ্ঞানের পিরামিড থাকা পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে। এতে পুরো বই পরিবর্তন না করেই বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো বই পুনরায় ছাপাতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হতো। তাই আপাতত শুধু সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগেই বন্ধ করা হয়েছিল ছাপার কাজ
দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে তখন দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন প্রেস মালিকও এ প্রক্রিয়ায় সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।

জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তর
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে রয়েছে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর।

আগের নকশায় উপাত্তের স্তরে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। নতুন সিদ্ধান্তে এসব প্রতীকের কোনোটিই আর থাকবে না।

আগের বইয়েও ছিল দাঁড়িপাল্লা
প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি বুঝতে আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের দিকে তাকানো প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি বই
এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। অন্যদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর কার্যক্রমের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় সংশোধনী যুক্ত করে বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা আরও পরিমার্জনের কথাও জানিয়েছে এনসিটিবি।

কালের আলো/এসএ/আরআইকে