নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর: যে হামলায় বদলে যায় বিশ্ব
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুই ভবনে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিমান আঘাত হানার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এক নতুন বৈশ্বিক অধ্যায়।
সেদিন চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে হামলা চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে আঘাতের পাশাপাশি একটি বিমান পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
হামলার জন্য আল-কায়েদা ও এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে ইরাকেও সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়।
নাইন ইলেভেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিই বদলে দেয়নি, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কেও গভীর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ ও ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণাপ্রসূত অপরাধও বেড়ে যায়।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত হেইট ক্রাইম ছিল ২৮টি। ২০০১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১-এ। এর বড় অংশই ঘটে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর।
নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া দীর্ঘ সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ আফগানিস্তান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপক প্রাণহানি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্ম দেয়। একই সময়ে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ক্ষোভও আরও গভীর হয়।
২৫ বছর পরও তাই ‘নাইন ইলেভেন’ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার নাম নয়—এটি বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ, নিরাপত্তা, ইসলামবিদ্বেষ ও যুক্তরাষ্ট্র-মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক বদলে দেওয়া এক ঐতিহাসিক বাঁক।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array