গত আগস্টে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ড, উত্তপ্ত সমুদ্রও
ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম মাস হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে গত আগস্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) জানিয়েছে, মাসটিতে বৈশ্বিক স্থলভাগ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
কোপার্নিকাসের ১৯৪০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় এটি ১ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো কোনো একটি মাসের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়েছিল।
রেকর্ড উষ্ণ সমুদ্র
শুধু স্থলভাগ নয়, আগস্টে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও ছিল উদ্বেগজনকভাবে বেশি। মেরু অঞ্চল বাদ দিলে বিশ্বের সমুদ্রগুলোর গড় পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা আগস্টে ২১ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এমনকি ২৪ ও ২৫ আগস্ট দৈনিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে ২১ দশমিক ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটিও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দৈনিক রেকর্ড।
বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতিও এই উষ্ণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
রেকর্ড উষ্ণ ইউরোপ
ইউরোপেও তাপমাত্রার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ।
এই সময়ে অঞ্চলটির গড় তাপমাত্রা ২১ দশমিক ৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের আগের তাপমাত্রার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে অঞ্চলটি।
কোপার্নিকাসের তত্ত্বাবধানকারী ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফরকাস্টসের সামান্থা বার্গেস এএফপিকে বলেন, মানুষ আজকের মতো উষ্ণ তাপমাত্রা আগে দেখেনি। তাঁর মতে, অন্তত গত এক লাখ বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ক্রমেই তা নিয়মিত প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে।
নেপাল ও চীনের তিব্বতে সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের মৃত্যুর পেছনেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বিশ্লেষণ করছেন বিজ্ঞানীরা।
কোপার্নিকাসের নতুন তথ্য প্রকাশের পর জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘও।
জাতিসংঘের সতর্কতা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানো না গেলে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, দাবানল এবং সমুদ্রের উষ্ণতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, ফ্রান্স২৪
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array