খুঁজুন
                               
, ,
           

সীমান্ত পেরিয়ে মাদকের স্রোত, গন্তব্য বড় শহর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
সীমান্ত পেরিয়ে মাদকের স্রোত, গন্তব্য বড় শহর

সীমান্তের ওপারে রাতের অন্ধকারে শুরু হয় যাত্রা। নদী, নৌকা কিংবা দুর্গম সীমান্তপথ পেরিয়ে মাদক ঢোকে দেশে। এরপর বদলে যায় তার চেহারা—কখনো মাছ ধরার ট্রলার, কখনো ব্যক্তিগত গাড়ি, কখনো পণ্যবাহী যান। সীমান্তের ছোট পথ থেকে মহাসড়ক ধরে সেই চালান এগিয়ে যায় বড় শহরের দিকে। কোনো কোনো চালান মাঝপথেই ধরা পড়ে, বাকিগুলো পৌঁছে যায় নির্ধারিত গন্তব্যে। এভাবেই সীমান্তের মাদক শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় দেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারগুলোতে। গত ১৭ আগস্ট কক্সবাজার থেকে তিন লাখ ইয়াবা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল একটি ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো। চট্টগ্রামে এক দিন অবস্থানের পর গাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঠে। রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে চালানটি। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত পাঁচ মাসে কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা ছয়টি বড় চালান থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি চালানের গন্তব্য ছিল ঢাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, রাজধানী থেকে এসব মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

সীমান্ত থেকে শহরে, শহর থেকে সারা দেশে
মাদক চোরাচালানের এই প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কক্সবাজার। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই জেলা ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত ১১ এপ্রিল নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক অভিযানেই বিজিবি ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করে। বিজিবির হিসাবে, এক দিনে ইয়াবা জব্দের ক্ষেত্রে এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এরপরও থামেনি বড় চালান। উখিয়া, টেকনাফ ও রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতই উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় বড় চালানের একটি অংশ ধরা পড়ছে। কিন্তু উদ্ধার হওয়া চালানের বিপরীতে যে পরিমাণ মাদক বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, কক্সবাজার থেকে মাদক চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা দিয়েও দেশে প্রবেশ করছে নানা ধরনের মাদক। এসব প্রবাহের শেষ প্রান্তে তৈরি হচ্ছে বড় শহরগুলোর বাজার।

আট মহানগরে বড় বাজার
বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যানও মাদকের এই বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরে। আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশের আট মহানগরে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন ৪৭ হাজার ৯৪৮টি। সারা দেশে এমন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৩। অর্থাৎ মোট মামলার প্রায় ২৯ শতাংশই আট মহানগরে। সবচেয়ে বেশি মামলা ঢাকা মহানগরে—২১ হাজার ৯২০টি। এরপর চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ শুধু এই দুই মহানগরেই রয়েছে ৩৬ হাজার ৯৬৪টি মামলা, যা আট মহানগরের মোট মামলার প্রায় ৭৭ শতাংশ। রাজশাহীতে ৪ হাজার ১২১, গাজীপুরে ২ হাজার ৬২৩, রংপুরে ১ হাজার ২১৮, খুলনায় ১ হাজার ১৮৭, বরিশালে ১ হাজার ২১ এবং সিলেটে ৮১৪টি গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন। এই পরিসংখ্যান বলছে, মাদকের বড় বাজার শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়। জনসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা, ভোক্তার সংখ্যা ও পরিবহন সুবিধার কারণে মহানগরগুলো হয়ে উঠছে সরবরাহ ও ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

রুটও স্পষ্ট
সীমান্ত থেকে মহানগরে মাদক পৌঁছানোর পথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোর চিত্রও বেশ পরিষ্কার। কক্সবাজারের বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলার সংখ্যা ১২ হাজার ৬০০—দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এরপর চট্টগ্রাম হয়ে কুমিল্লা, সেখান থেকে ঢাকা—এই রুটে একাধিক বড় চালান আটকের ঘটনা রয়েছে। গত ১০ এপ্রিল কক্সবাজার সীমান্ত থেকে আসা মাছ ধরার ট্রলারে পাঁচ লাখ ইয়াবা চট্টগ্রাম নগরে জব্দ হয়। আগস্টে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী তিন লাখ ইয়াবার চালান কুমিল্লায় আটক হয়। এর আগে জুনে একই জেলায় গাড়িতে পরিবহনের সময় আরও এক লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লায় বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলা ১০ হাজার ৪৬৪টি। নারায়ণগঞ্জেও রয়েছে ৭ হাজার ৪১১টি। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং নৌপথের সংযোগ থাকায় রাজধানীমুখী মাদক পরিবহনে জেলাটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার নজির রয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুরুতর মাদক মামলা ৫ হাজার ৯২৭টি, রাজশাহী জেলায় ৫ হাজার ১২৬ এবং দিনাজপুরে ৪ হাজার ১৪৮টি।

অভিযান, মামলার পরও হচ্ছে না বন্ধ
প্রশ্নটি এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে অভিযান হচ্ছে, বড় চালান জব্দ হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে, মামলা হচ্ছে—তারপরও সরবরাহ থামছে না কেন? মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের ভাষ্য, প্রায় সব মাদকই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বেশি। ফলে সেখানে বড় চালান আটকের ঘটনাও বেশি দেখা যায়। কিন্তু একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিপুল মাদকের একটি অংশ নজরদারি এড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। আরও বড় বাস্তবতা হলো, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে চোরাচালান হওয়া মাদকের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ আনুমানিক ৮০ শতাংশই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে অভিযান ও মামলা যতই হোক, সরবরাহব্যবস্থার মূল কাঠামো অক্ষত থাকলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয় না। একটি চালান ধরা পড়লে আরেকটি চালান সেই জায়গা পূরণ করে। পরিবহন রুট বদলায়, বাহন বদলায়, কৌশল বদলায়—কিন্তু প্রবাহ অব্যাহত থাকে।

ভাঙতে হবে পুরো নেটওয়ার্ক
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সীমান্তে মাদক আটকের পাশাপাশি পুরো সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা। সীমান্ত পারাপারের পর কারা পরিবহন করছে, কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, কারা সংরক্ষণ করছে এবং মহানগর থেকে কারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে—এই পুরো চেইন শনাক্ত না হলে বড় চালান জব্দের সাফল্যও দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সীমান্তে অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সীমান্ত, পরিবহন রুট, গুদাম, আর্থিক লেনদেন এবং নগরভিত্তিক বাজার—সবকিছুকে একসঙ্গে নজরদারির আওতায় আনা। কারণ বাস্তবতা হলো, সীমান্তে মাদক ধরা পড়ছে, আদালতে মামলা চলছে; কিন্তু বাজারে মাদকের সরবরাহ থামছে না। আর যতদিন চাহিদা ও সরবরাহের এই অদৃশ্য নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকবে, ততদিন সীমান্তে যত চালানই ধরা পড়ুক, মাদকের স্রোত পুরোপুরি থামানো কঠিন।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন থানায় ৫৪টি মামলা করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২১ জন, লালবাগে ৫৩, ওয়ারীতে ৫৪, মতিঝিলে ৫৫, তেজগাঁওয়ে ৮৯, মিরপুরে ৮২, গুলশানে ৩৫, উত্তরা বিভাগে ৩৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগে তিনজন রয়েছেন।

অভিযানে ৫৪ কেজি ৪৬০ গ্রাম গাঁজা, ৫২৪ পিস ইয়াবা, ১ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ ভোলায়

ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ ভোলায়

দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নির্ভরতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডের বাইরে থাকা ভোলার গ্যাসসম্পদ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় ভোলার গ্যাসের পূর্ণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা-নর্থ ও ইলিশা—এই তিন গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৪৩২ থেকে ১ দশমিক ৪৩৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। দেশে বর্তমানে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ। অর্থাৎ দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের প্রায় ১৯ শতাংশই রয়েছে ভোলায়।

বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার নয়টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অব্যবহৃত রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ভোলার গ্যাস কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মজুত থাকা গ্যাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকলে এর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে না।

দেশের বর্তমান গ্যাস পরিস্থিতিও ভোলার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি আমদানির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎসের গ্যাস বাড়ানো এবং অব্যবহৃত গ্যাসকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগও এগোচ্ছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে খুলনা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।

শুধু জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নয়, স্থানীয়ভাবেও ভোলার গ্যাস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প, শিল্পপার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে সড়ক, নদীবন্দর, বিদ্যুৎ, পানি ও দক্ষ জনশক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে শিল্পায়নের গতি বাড়তে পারে।

ভোলায় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ ও ইলিশা-১ কূপ থেকে অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাপেক্স ও রাশিয়ার গ্যাসপ্রমের অনুসন্ধানে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনসহ দক্ষিণাঞ্চলে নতুন অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসসম্পদের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোলার গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার, মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, ভোলার গ্যাসের মূল্য শুধু কত গ্যাস পাওয়া যাবে, তা দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। গ্যাসটি কোথায় ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুৎ, সার, শিল্প ও জাতীয় গ্রিড—সব বিকল্পের ব্যয় ও সুফল তুলনা করে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বড় বিনিয়োগের আগে গ্যাসের প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য মজুত নির্ধারণ জরুরি। সম্ভাব্য মজুত এবং অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস এক বিষয় নয়। অনুসন্ধান, কূপ খনন, উৎপাদন পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে হবে।

ভোলার শিল্পোদ্যোক্তারাও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকে শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান বলেন, গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভোলায় শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সড়ক, নদীবন্দর ও অন্যান্য শিল্প অবকাঠামোরও উন্নয়ন প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। জাতীয় গ্রিডে কতটা গ্যাস যাবে, স্থানীয় শিল্পে কতটা ব্যবহার হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কতটা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কী পরিমাণ সক্ষমতা রাখা হবে—এসব বিষয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নির্ধারণ করা দরকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি চাহিদার বাস্তবতায় ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করে এই গ্যাস দ্রুত কাজে লাগানো গেলে নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আগেই দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সূএ:বাসস

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

খানাখন্দে বেহাল আতাইকুলা-ডেমরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
খানাখন্দে বেহাল আতাইকুলা-ডেমরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

 

সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমরা আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও আতাইকুলা এলাকার প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন; পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এ আঞ্চলিক সড়কটি প্রায় সাত বছর আগে সর্বশেষ সংস্কার করা হয়। তখন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সংস্কারের পর কয়েক বছর সড়কটি চলাচলের উপযোগী থাকলেও গত দুই থেকে তিন বছরে আবারও বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন থানার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার যানবাহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী তেল ডিপোর গাড়ি এ সড়ক ব্যবহার করে নাটোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়। শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে ধুলাউড়ি হাটসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে। ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ায় চালকদের মেরামত খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়াতেও।

ফরিদপুরের ডেমরা এলাকার কৃষক মো. হানিফ বলেন, এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। সড়কটির মাধ্যমে বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য নিতে হয়। কিন্তু বড় বড় গর্তের কারণে পণ্যবোঝাই যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

কলেজ শিক্ষার্থী রিপন, আরমান ও তৌহিদা জামান জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে তাদের কলেজ ও পাবনা শহরে যাতায়াত করতে হয়। জেলার জেনারেল হাসপাতালেও যেতে হয় এ পথ ধরে। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বড় গর্তগুলোতে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়।

অটোরিকশাচালক বিপ্লব বলেন, কয়েক দিন আগে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে তার অটোরিকশা বিকল হয়ে যায়। পরে ঋণ নিয়ে গাড়িটি মেরামত করতে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে জানান তিনি।

সিএনজিচালকদের কয়েকজন জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে তারা সড়কটিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। আগে দুই মাসে একবার গাড়িতে গ্রিজ করতে হলেও এখন মাসে দুইবার করতে হচ্ছে। গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া গেলে সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি