দিগন্তজুড়ে কাশফুল, শরতের সৌন্দর্যে মুগ্ধ কুড়িগ্রামের চর
চারদিকে ব্রহ্মপুত্রের বিপুল জলরাশি। মাঝখানে জেগে থাকা দ্বীপচর। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর চরজুড়ে দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুল। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশ আর নদীর জলরাশি মিলে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রের চরগুলোতে এখন যেন শরতের উৎসব চলছে।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে, নদীর বুকে জেগে ওঠা দ্বীপচরগুলো সেজেছে সাদা কাশফুলে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্তবর্তী চিড়াখাওয়া, নারায়ণপুর, গোয়াইলপুরী, পোড়ারচর, অষ্ট্রআশির চর, জাহাজের আলগা ও ঘুঘুমারিসহ বেশ কয়েকটি চরে দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাশফুলের শুভ্রতা।
এ ছাড়া চিলমারীর শাখাহাতি, কড়াই বরিশাল ও মনতলাসহ বিভিন্ন চরেও দেখা মিলছে বিস্তীর্ণ কাশবনের। কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী ও রৌমারীর অন্তত অর্ধশত চরে শরতের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে।
প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখতে চিলমারী, জোড়গাছ, যাত্রাপুর, আয়নালের ঘাট, মোঘলবাসা ও ফকিরের চরসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে চরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। যাত্রাপুর ঘাট থেকে শ্যালো নৌকায় প্রায় এক ঘণ্টা পথ পেরিয়ে চিড়াখাওয়া চরে পৌঁছালে দেখা যায়, ছোট একটি নালার দুই পাশে ঘন কাশবন। মাঝেমধ্যে ঢেউ খেলিয়ে চলে যাচ্ছে ডিঙি নৌকা।
স্থানীয়দের কাছে এই দৃশ্য পরিচিত হলেও শহর ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছে তা ভিন্ন এক আনন্দের উৎস। রাজারহাটের জয়কুমর গ্রাম থেকে আসা সোহাগ হোসেন বলেন, ব্রহ্মপুত্রের চরে কাশফুলের সৌন্দর্যের কথা শুনে এসেছিলেন। এসে যা দেখেছেন, তা তাঁর কাছে অপূর্ব মনে হয়েছে।
মাঝিয়ালির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এরশাদুল হক বলেন, প্রতিবছর শরৎকালে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে শহর থেকে অনেক মানুষ আসে। সময় ও খরচ বেশি হলেও সৌন্দর্যের টানে তারা ছুটে আসেন।
তবে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগছে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লিটন মিয়া বলেন, কাশফুলের পাশাপাশি চরাঞ্চলের জীবনযাপন, নানা প্রজাতির পাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে মানুষ আসে। কিন্তু পর্যটকদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় শাহজামাল মিয়া জানান, যাত্রাপুর ঘাট থেকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় ছোট নৌকা রিজার্ভ করে অনেকেই কাশফুল দেখতে চরে আসছেন। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, চরবাসীর জীবনেও এর ব্যবহার রয়েছে। পরে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে কাশের আঁটি নিয়ে যান, যা পানবরজে ব্যবহার করা হয়।
লেখক নাহিদ নলেজ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের বিরল প্রজাতির মাছ, অতিথি পাখি, গরু-মহিষের বাথানসহ নানা বৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিনের মতে, কাশফুলের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ব্রহ্মপুত্রের চরগুলোতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array