মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সৌদি আরবে হামলার খবর এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জল্পনা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পথে রয়েছে।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৯ দশমিক ৮০ ডলার।
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
সৌদি আরবে হামলায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে সৌদি আরবে একাধিক হামলার খবর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির একটি তেলক্ষেত্র ও বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এসব হামলার কারণে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমন খবরও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই অভিযানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহপথ ও উৎপাদনকেন্দ্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ রয়েছে।
এক বছরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৮৫ শতাংশের বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘পরাস্ত’ করেছে। একই সঙ্গে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আরও কিছুটা এগিয়ে যেতে পারে’। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহপথে হামলা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়ও বাড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং তেল উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থা কতটা স্বাভাবিক থাকে, তার ওপরই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে। সূত্র: এনডিটিভি
কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]