খুঁজুন
                               
, ,
           

বর্ষায় বাংলাদেশের যে ১০টি জায়গা সবচেয়ে সুন্দর,যেভাবে যেতে পারবেন

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
বর্ষায় বাংলাদেশের যে ১০টি জায়গা সবচেয়ে সুন্দর,যেভাবে যেতে পারবেন

বর্ষা এলেই বদলে যায় বাংলাদেশের প্রকৃতি। সবুজ পাহাড় আরও গাঢ় হয়ে ওঠে, নদী-খাল-হাওরে জমে স্বচ্ছ জল আর ঝরনাগুলো ফিরে পায় প্রাণ। কোথাও নৌকায় ভেসে দেখা যায় পানির রাজ্য, কোথাও মেঘে ঢাকা পাহাড়। তাই বৃষ্টিকে ঘরবন্দী থাকার কারণ না বানিয়ে বর্ষায় ঘুরে দেখা যেতে পারে দেশের কয়েকটি দারুণ গন্তব্য।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বর্ষায় বাংলাদেশের ১০টি আকর্ষণীয় জায়গা তুলে ধরা হলো।

১. রাতারগুল, সিলেট

বর্ষায় রাতারগুল যেন পানির ওপর ভেসে থাকা এক বন। সিলেটের গোয়াইনঘাটের এই মিঠাপানির জলাবন বর্ষায় পানিতে ডুবে যায় এবং গাছের ফাঁক দিয়ে নৌকায় ঘোরার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও বর্ষাকালকে রাতারগুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠার সময় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিলেট শহরে যেতে হবে। সিলেট শহর থেকে সিএনজি বা গাড়িতে গোয়াইনঘাটের কাছে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে রাতারগুলে যেতে হয়।

২. টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জ

বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে ওঠে বিশাল জলরাশি। নৌকায় করে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ঘুরে দেখা, দূরের পাহাড় ও মেঘের দৃশ্য উপভোগ করা—সব মিলিয়ে এটি বর্ষার অন্যতম আকর্ষণ। টাঙ্গুয়ার হাওর একটি রামসার সাইটও।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাসে সুনামগঞ্জ যেতে পারেন। সুনামগঞ্জ শহর থেকে তাহিরপুর বা মধ্যনগরের দিকে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘোরা যায়। বর্ষায় নৌকাই এখানকার প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।

৩. জাফলং, সিলেট

পাহাড়, নদী আর পাথরের সমন্বয়ে জাফলংয়ের সৌন্দর্য বর্ষায় অন্য রকম হয়ে ওঠে। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ ও সবুজ প্রকৃতি ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। জাফলংকে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিলেট শহরে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি, বাস বা মাইক্রোবাসে জাফলং যেতে পারবেন। সিলেট শহর থেকে সড়কপথে জাফলং যেতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

৪. বিছনাকান্দি, সিলেট

পাথরের বিছানা, পাহাড়ি ঝরনার পানি আর চারপাশের সবুজ—বর্ষায় বিছনাকান্দির দৃশ্য বেশ মনোরম। বৃষ্টির সময় পানির প্রবাহ বাড়ায় এখানকার প্রকৃতিও আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর তালিকায় বিছনাকান্দিও রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: প্রথমে সিলেট শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি বা সিএনজিতে হাদারবাজার/রুস্তমপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় নৌকা বা অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে বিছনাকান্দি যাওয়া যায়।

৫. মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, মৌলভীবাজার

বর্ষায় জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে মাধবকুণ্ড হতে পারে ভালো গন্তব্য। বৃষ্টির পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলপ্রপাতের প্রবাহও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মাধবকুণ্ডকে সিলেট অঞ্চলের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে কুলাউড়া যেতে পারেন। কুলাউড়া থেকে গাড়ি বা সিএনজিতে বড়লেখা হয়ে মাধবকুণ্ডে যাওয়া যায়। মৌলভীবাজার বা সিলেট থেকেও সড়কপথে যাওয়া সম্ভব।

৬. লালাখাল, সিলেট

নীলচে-সবুজ পানির নদী, দুই পাশের সবুজ আর নৌভ্রমণ—লালাখাল বর্ষায় প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি জায়গা। সিলেটের পর্যটন গন্তব্যগুলোর সরকারি তালিকাতেও লালাখালের নাম রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: সিলেট শহর থেকে গাড়ি বা সিএনজিতে সারিঘাট যেতে হয়। সারিঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে লালাখালের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

৭. নীলগিরি, বান্দরবান

বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় মেঘ ও কুয়াশার আনাগোনা বাড়ে। বান্দরবানের নীলগিরিতে পাহাড়ের ওপর থেকে মেঘে ঢাকা চারপাশের দৃশ্য তাই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বর্ষায় বান্দরবানের পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতি নতুন রূপ পায়।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান শহরে গিয়ে সেখান থেকে জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে নীলগিরির দিকে যেতে হয়। পাহাড়ি রাস্তা হওয়ায় স্থানীয় চালক বা পরিচিত পরিবহন ব্যবহার করা ভালো।

৮. নাফাখুম, বান্দরবান

ঝরনা দেখতে যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে নাফাখুম অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষায় পাহাড়ি পানির প্রবাহ বাড়লে ঝরনার দৃশ্য আরও শক্তিশালী ও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথে যাতায়াতের কারণে এখানে যাওয়ার আগে আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বান্দরবান, এরপর রুমা হয়ে বগালেক ও থানচির দিকে যেতে হয়। থানচি থেকে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় দুর্গম পাহাড়ি পথে নাফাখুম যেতে হয়। বর্ষায় যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ও পথের বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই জেনে নিতে হবে।

৯. নিকলী হাওর, কিশোরগঞ্জ

বর্ষায় নিকলী হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি যেন এক বিশাল জলভূমিতে পরিণত হয়। পানির মধ্যে ছোট ছোট গ্রাম ও চারপাশের আকাশের দৃশ্য নৌভ্রমণকে করে তুলতে পারে বেশ উপভোগ্য। বর্ষাকালে নিকলী হাওরকে ভ্রমণের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জ যেতে পারেন। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে সড়কপথে নিকলী গিয়ে স্থানীয়ভাবে নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘোরা যায়।

১০. লাওয়াছড়া, মৌলভীবাজার

পাহাড়ি বন, সবুজ গাছপালা আর বৃষ্টিভেজা পরিবেশ—বর্ষায় লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রকৃতি বেশ সতেজ হয়ে ওঠে। সিলেট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে লাওয়াছড়াও রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যাওয়া যায়।

বর্ষায় ঘুরতে গেলে সতর্কতা

বর্ষায় প্রকৃতি সুন্দর হলেও অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঝরনা এলাকায় যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত। নৌভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার এবং দুর্গম এলাকায় স্থানীয় গাইডের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

কালের আলো/এসএ

যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রের তলায়?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রের তলায়?

যুদ্ধের ময়দান সব সময় চোখে দেখা যায় না। কখনও তা চলে সাইবার জগতে, কখনও আকাশের স্যাটেলাইটে। আর এবার আশঙ্কার কেন্দ্র হাজার হাজার মিটার গভীর সমুদ্র—যেখানে নীরবে ছড়িয়ে আছে বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ধমনি। আর্কটিকের বরফঢাকা জলের নিচে সেই অদৃশ্য অবকাঠামোকে ঘিরেই রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, নরওয়ের স্ভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে রাশিয়ার গভীর সমুদ্র যুদ্ধ ইউনিট জিইউজিআইয়ের তৎপরতা শনাক্ত করে ব্রিটেন, নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ, রুশ বাহিনী এমন একটি প্রযুক্তি পরীক্ষা করছিল, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতের সময় সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনও কেবল কাটা হয়নি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল মূলত প্রযুক্তি পরীক্ষার একটি মহড়া। কিন্তু সেই মহড়াই পশ্চিমা নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্ভালবার্ডের কেবল গুরুত্বপূর্ণ
সমুদ্রতলের ফাইবার-অপটিক কেবলকে সাধারণত ইন্টারনেটের অবকাঠামো হিসেবে দেখা হলেও এর গুরুত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি এসব কেবলের মাধ্যমে সামরিক তথ্য, স্যাটেলাইট-নির্ভর ডেটা এবং রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও প্রবাহিত হয়।

স্ভালবার্ডের সঙ্গে নরওয়ের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষাকারী কেবলগুলো তাই আর্কটিকের একটি কৌশলগত সম্পদ। সেখানে কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নয়, গোয়েন্দা ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই সমুদ্রের নিচের অবকাঠামো এখন ন্যাটোর কাছে স্থলভাগের সামরিক স্থাপনার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

‘চিহ্নহীন’ হামলার ভয়
এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক প্রযুক্তিটি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার গভীর সমুদ্র ইউনিট এমন সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে থাকা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব হতে পারে, অথচ হামলার উৎস শনাক্ত করা কঠিন হবে। প্রচলিত সামরিক হামলার ক্ষেত্রে আক্রমণের প্রমাণ থাকে।

কিন্তু সমুদ্রের গভীরে কোনও কেবল অচল হয়ে গেলে প্রথম মুহূর্তে বোঝাই কঠিন হতে পারে—এটি দুর্ঘটনা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা। এই ‘অস্বীকারযোগ্যতা’ই হাইব্রিড যুদ্ধের বড় অস্ত্র। সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না করেও প্রতিপক্ষের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করা যায়।

ন্যাটোর নজরদারি বাড়ছে
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ও পশ্চিমের সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে। এর মধ্যে বাল্টিক সাগর থেকে উত্তর ইউরোপীয় জলসীমা—সর্বত্র সমুদ্রতলের কেবল, গ্যাস পাইপলাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ব্রিটেন ও নরওয়ে আগেই অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার জিইউজিআই আর্কটিক ও উত্তর ইউরোপের জলসীমায় গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এবারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রও নজরদারি অভিযানে যুক্ত ছিল বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি।

নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোরে স্যান্ডভিকের বক্তব্যও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে। তাঁর ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করার যেকোনও প্রচেষ্টা শনাক্ত করা হবে এবং তার পরিণতি হবে। এই বার্তাটি শুধু রাশিয়ার উদ্দেশে নয়; সমুদ্রতলের অবকাঠামো যে এখন ন্যাটোর নিরাপত্তা কৌশলের অংশ, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে।

সামনে ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’
রাশিয়া এ ধরনের অভিযোগ নিয়মিত অস্বীকার করে এসেছে। ফলে আর্কটিকের এবারের ঘটনাকে সরাসরি নাশকতার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বড় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত—ভবিষ্যৎ সংঘাতে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার জন্য সামরিক ঘাঁটি বা শহর আক্রমণই একমাত্র পথ নাও হতে পারে। একটি কেবল বিচ্ছিন্ন হলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকিং, ইন্টারনেট, সামরিক যোগাযোগ, স্যাটেলাইট ডেটা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। আর হামলাটি যদি এমনভাবে করা যায়, যার উৎস শনাক্ত করাই কঠিন, তাহলে প্রতিক্রিয়া জানানোও হয়ে উঠবে জটিল।

এই কারণেই আর্কটিকের বরফের নিচে রুশ তৎপরতা এখন শুধু একটি সামরিক মহড়ার গল্প নয়। এটি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য নতুন মানচিত্রের ইঙ্গিত—যেখানে গোলাবারুদের শব্দ শোনা যাবে না, বিস্ফোরণের আগুন দেখা যাবে না; অথচ একদিন হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যেতে পারে একটি দেশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ধমনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
বিকল্প জ্বালানি ‘চায়ের কয়লা’

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন আর তরুণদের নানা সৃজনশীল ভাবনায় মুখর হয়ে উঠেছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

দেশীয় তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে বাজারের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেলায় ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পরিবেশবান্ধব ও নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন।

এরই মধ্যে এক তরুণ উদ্ভাবক চা বানানোর পর ফেলে দেওয়া চায়ের পাতা থেকে তৈরি করেছেন ‘চায়ের কয়লা’।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ। তরুণদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

নতুন উদ্ভাবন প্রসঙ্গে টিকোলের ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মশিয়ুর রহমান খান আসিফ বলেন, ‘আমি ফেলনা চা-পাতা বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শুকানোর মাধ্যমে কাঠকয়লার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে চা-পাতার কয়লা তৈরি করছি। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব ও গাছ রক্ষায় সহায়তা করবে, তেমনি চায়ের বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা উড চারকোল ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এর চমৎকার বিকল্প হতে পারে এই ‘টিকোল’ বা চা-পাতার কয়লা। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। তাই গাছ রক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। বারবিকিউ পার্টিতে উড চারকোলের পরিবর্তে চা-পাতার বর্জ্য থেকে তৈরি কয়লা ব্যবহার করলে তা বন সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিজ্ঞানের এই অভিনব ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ির সবজির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি অর্গানিক সার ছাদবাগানের গাছে ব্যবহার করলে গাছের বৃদ্ধি ৫০ শতাংশের বেশি হয় বলেও জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ই-জিপির কার্যপদ্ধতি, সুযোগ-সুবিধা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে রাজধানীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

  • দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
  • ই-জিপিতে দক্ষতা বাড়াতে বিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ
  • সক্ষমতা উন্নয়নে বিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের মহাসচিব ড. মো. হেলাল উদ্দিন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি ই-জিপির কারিগরি ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি ক্রয়ের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন থেকে দরপত্র—ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
র্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, দরপত্রের নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ই-জিপি কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কী এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এর কার্যকর ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়।

ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দাখিল এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-জিপির ভূমিকা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, সরকারি ক্রয়ে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।

সরকারি ক্রয়ে বাড়বে অংশগ্রহণ
বিসিআই সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবসায়ীদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিসিআইয়ের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাই ও প্রশিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার কারণে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা এবং ই-জিপির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-জিপির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আইন ও বিধিমালার জ্ঞানকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সরকারি ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিসিআই।

কালের আলো/এম/এএইচ