খুঁজুন
                               
, ,
           

বর্ষায় বাংলাদেশের যে ১০টি জায়গা সবচেয়ে সুন্দর,যেভাবে যেতে পারবেন

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
বর্ষায় বাংলাদেশের যে ১০টি জায়গা সবচেয়ে সুন্দর,যেভাবে যেতে পারবেন

বর্ষা এলেই বদলে যায় বাংলাদেশের প্রকৃতি। সবুজ পাহাড় আরও গাঢ় হয়ে ওঠে, নদী-খাল-হাওরে জমে স্বচ্ছ জল আর ঝরনাগুলো ফিরে পায় প্রাণ। কোথাও নৌকায় ভেসে দেখা যায় পানির রাজ্য, কোথাও মেঘে ঢাকা পাহাড়। তাই বৃষ্টিকে ঘরবন্দী থাকার কারণ না বানিয়ে বর্ষায় ঘুরে দেখা যেতে পারে দেশের কয়েকটি দারুণ গন্তব্য।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বর্ষায় বাংলাদেশের ১০টি আকর্ষণীয় জায়গা তুলে ধরা হলো।

১. রাতারগুল, সিলেট

বর্ষায় রাতারগুল যেন পানির ওপর ভেসে থাকা এক বন। সিলেটের গোয়াইনঘাটের এই মিঠাপানির জলাবন বর্ষায় পানিতে ডুবে যায় এবং গাছের ফাঁক দিয়ে নৌকায় ঘোরার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডও বর্ষাকালকে রাতারগুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠার সময় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিলেট শহরে যেতে হবে। সিলেট শহর থেকে সিএনজি বা গাড়িতে গোয়াইনঘাটের কাছে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে রাতারগুলে যেতে হয়।

২. টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জ

বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে ওঠে বিশাল জলরাশি। নৌকায় করে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি ঘুরে দেখা, দূরের পাহাড় ও মেঘের দৃশ্য উপভোগ করা—সব মিলিয়ে এটি বর্ষার অন্যতম আকর্ষণ। টাঙ্গুয়ার হাওর একটি রামসার সাইটও।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাসে সুনামগঞ্জ যেতে পারেন। সুনামগঞ্জ শহর থেকে তাহিরপুর বা মধ্যনগরের দিকে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘোরা যায়। বর্ষায় নৌকাই এখানকার প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।

৩. জাফলং, সিলেট

পাহাড়, নদী আর পাথরের সমন্বয়ে জাফলংয়ের সৌন্দর্য বর্ষায় অন্য রকম হয়ে ওঠে। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ ও সবুজ প্রকৃতি ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। জাফলংকে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিলেট শহরে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি, বাস বা মাইক্রোবাসে জাফলং যেতে পারবেন। সিলেট শহর থেকে সড়কপথে জাফলং যেতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

৪. বিছনাকান্দি, সিলেট

পাথরের বিছানা, পাহাড়ি ঝরনার পানি আর চারপাশের সবুজ—বর্ষায় বিছনাকান্দির দৃশ্য বেশ মনোরম। বৃষ্টির সময় পানির প্রবাহ বাড়ায় এখানকার প্রকৃতিও আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর তালিকায় বিছনাকান্দিও রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: প্রথমে সিলেট শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি বা সিএনজিতে হাদারবাজার/রুস্তমপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় নৌকা বা অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে বিছনাকান্দি যাওয়া যায়।

৫. মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, মৌলভীবাজার

বর্ষায় জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে মাধবকুণ্ড হতে পারে ভালো গন্তব্য। বৃষ্টির পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলপ্রপাতের প্রবাহও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মাধবকুণ্ডকে সিলেট অঞ্চলের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে কুলাউড়া যেতে পারেন। কুলাউড়া থেকে গাড়ি বা সিএনজিতে বড়লেখা হয়ে মাধবকুণ্ডে যাওয়া যায়। মৌলভীবাজার বা সিলেট থেকেও সড়কপথে যাওয়া সম্ভব।

৬. লালাখাল, সিলেট

নীলচে-সবুজ পানির নদী, দুই পাশের সবুজ আর নৌভ্রমণ—লালাখাল বর্ষায় প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি জায়গা। সিলেটের পর্যটন গন্তব্যগুলোর সরকারি তালিকাতেও লালাখালের নাম রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: সিলেট শহর থেকে গাড়ি বা সিএনজিতে সারিঘাট যেতে হয়। সারিঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে লালাখালের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

৭. নীলগিরি, বান্দরবান

বর্ষায় পাহাড়ি এলাকায় মেঘ ও কুয়াশার আনাগোনা বাড়ে। বান্দরবানের নীলগিরিতে পাহাড়ের ওপর থেকে মেঘে ঢাকা চারপাশের দৃশ্য তাই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বর্ষায় বান্দরবানের পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতি নতুন রূপ পায়।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান শহরে গিয়ে সেখান থেকে জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে নীলগিরির দিকে যেতে হয়। পাহাড়ি রাস্তা হওয়ায় স্থানীয় চালক বা পরিচিত পরিবহন ব্যবহার করা ভালো।

৮. নাফাখুম, বান্দরবান

ঝরনা দেখতে যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে নাফাখুম অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষায় পাহাড়ি পানির প্রবাহ বাড়লে ঝরনার দৃশ্য আরও শক্তিশালী ও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথে যাতায়াতের কারণে এখানে যাওয়ার আগে আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বান্দরবান, এরপর রুমা হয়ে বগালেক ও থানচির দিকে যেতে হয়। থানচি থেকে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় দুর্গম পাহাড়ি পথে নাফাখুম যেতে হয়। বর্ষায় যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ও পথের বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই জেনে নিতে হবে।

৯. নিকলী হাওর, কিশোরগঞ্জ

বর্ষায় নিকলী হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি যেন এক বিশাল জলভূমিতে পরিণত হয়। পানির মধ্যে ছোট ছোট গ্রাম ও চারপাশের আকাশের দৃশ্য নৌভ্রমণকে করে তুলতে পারে বেশ উপভোগ্য। বর্ষাকালে নিকলী হাওরকে ভ্রমণের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জ যেতে পারেন। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে সড়কপথে নিকলী গিয়ে স্থানীয়ভাবে নৌকা ভাড়া করে হাওর ঘোরা যায়।

১০. লাওয়াছড়া, মৌলভীবাজার

পাহাড়ি বন, সবুজ গাছপালা আর বৃষ্টিভেজা পরিবেশ—বর্ষায় লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রকৃতি বেশ সতেজ হয়ে ওঠে। সিলেট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে লাওয়াছড়াও রয়েছে।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যাওয়া যায়।

বর্ষায় ঘুরতে গেলে সতর্কতা

বর্ষায় প্রকৃতি সুন্দর হলেও অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঝরনা এলাকায় যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত। নৌভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার এবং দুর্গম এলাকায় স্থানীয় গাইডের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

কালের আলো/এসএ

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা, পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সন্তোষ শর্মা। এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

এ সময় পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি