দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ই-জিপির কার্যপদ্ধতি, সুযোগ-সুবিধা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে রাজধানীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
- দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
- ই-জিপিতে দক্ষতা বাড়াতে বিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ
- সক্ষমতা উন্নয়নে বিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের মহাসচিব ড. মো. হেলাল উদ্দিন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি ই-জিপির কারিগরি ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি ক্রয়ের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইন থেকে দরপত্র—ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
র্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, দরপত্রের নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ই-জিপি কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কী এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এর কার্যকর ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়।
ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দাখিল এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-জিপির ভূমিকা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, সরকারি ক্রয়ে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।
সরকারি ক্রয়ে বাড়বে অংশগ্রহণ
বিসিআই সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবসায়ীদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিসিআইয়ের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাই ও প্রশিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার কারণে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা এবং ই-জিপির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-জিপির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আইন ও বিধিমালার জ্ঞানকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সরকারি ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিসিআই।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array