খুঁজুন
                               
, ,
           

দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ই-জিপির কার্যপদ্ধতি, সুযোগ-সুবিধা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে রাজধানীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ‘সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা এবং ই-জিপি ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

  • দরপত্রে অংশগ্রহণে আইন-বিধিমালার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
  • ই-জিপিতে দক্ষতা বাড়াতে বিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ
  • সক্ষমতা উন্নয়নে বিসিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিআইয়ের মহাসচিব ড. মো. হেলাল উদ্দিন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিসিআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি ই-জিপির কারিগরি ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারি ক্রয়ের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন থেকে দরপত্র—ব্যবহারিক জ্ঞানে জোর
র্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। প্রশিক্ষণের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ, দরপত্রের নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ই-জিপি কীভাবে কাজ করে, এর সুবিধা কী এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এর কার্যকর ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা হয়।

ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দাখিল এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-জিপির ভূমিকা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পারে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, সরকারি ক্রয়ে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগও তত বাড়বে।

সরকারি ক্রয়ে বাড়বে অংশগ্রহণ
বিসিআই সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ই-জিপি ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবসায়ীদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বিসিআইয়ের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাই ও প্রশিক্ষককে ধন্যবাদ জানান।অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রশ্নোত্তর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার কারণে সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা এবং ই-জিপির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-জিপির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।সরকারি ক্রয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আইন ও বিধিমালার জ্ঞানকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সরকারি ক্রয়ে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও আরও শক্তিশালী হবে। সেই লক্ষ্যেই ই-জিপি ব্যবস্থায় দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিসিআই।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

কুয়াকাটার লেম্বুরবন সৈকতে সমুদ্রভাঙনের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের দূষণ নতুন সংকট তৈরি করেছে। সৈকতের পাশে থাকা গাছগুলোর শিকড় ও কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ছেঁড়া জাল ও নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।

সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের টানে লেম্বুরবন সৈকতের বালু সরে যাওয়ায় অনেক গাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব শিকড়ের ফাঁকে আটকে থাকা প্লাস্টিক ও জালের স্তূপ এবং কাণ্ডে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় জেলে সোহেল মাঝি জানান, মাছ ধরার সময় জাল ছিঁড়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা সমুদ্রে থেকে যায়। আবার নৌকা থেকে ফেরার পর ছেঁড়া জাল সৈকত বা আশপাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটে। নির্দিষ্ট স্থানে জাল ও জালের বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সেখানে এসব বর্জ্য জমা দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

লেম্বুরবনের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সৈকতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যও জমছে। এর মধ্যে ছেঁড়া মাছ ধরার জালও দেখা যায়। এসব বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি করছে।

পরিবেশকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, সৈকতে ছড়িয়ে থাকা জালের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও প্লাস্টিক ও নাইলনের জাল সহজে নষ্ট হয় না। এসব জালে বন্যপ্রাণী আটকে যেতে পারে এবং পর্যটকদের জন্যও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কুয়াকাটাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর বিচ ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, পরিত্যক্ত, হারিয়ে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার সরঞ্জামকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাব্যান্ডন্ড, লস্ট অর ডিসকার্ডেড ফিশিং গিয়ার’ বা ‘ঘোস্ট গিয়ার’ বলা হয়। এসব জালে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন ও তিমিসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আটকে মারা যেতে পারে।

তার ভাষ্য, সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকা জাল প্রবাল, সি-গ্রাসসহ বিভিন্ন জলজ আবাসস্থলের ক্ষতি করে। কৃত্রিম উপাদানে তৈরি জাল সহজে পচে না; বরং সময়ের সঙ্গে ভেঙে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জাল দীর্ঘদিন পানিতে থেকে মাছ ধরতে থাকলে তাকে ‘ঘোস্ট ফিশিং’ বলা হয়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে।

বখতিয়ার রহমান বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জাল কেনা, ব্যবহার, হারিয়ে গেলে রিপোর্ট, উদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার—পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। জালে মালিক বা নৌকার পরিচয় নম্বর যুক্ত করা, পুরোনো জাল ফেরত দিলে প্রণোদনা দেওয়া এবং কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরে জাল সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, উপকূলীয় গাছগুলো মাটি ও বালু ধরে রাখার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে বালু সরে গিয়ে গাছের শিকড় উন্মুক্ত হওয়ায় সেগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। এর সঙ্গে জাল জড়িয়ে থাকলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও টিকে থাকা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে জাল অপসারণ প্রয়োজন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় জাল টেনে তুলতে না পারলে অনেক জেলে তা কেটে দেন। জালে প্যাঁচ লাগলেও কখনো কখনো জাল কেটে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের সঙ্গে এসব জাল সৈকতে চলে আসে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি মহিপুর ও আলীপুর মাছবাজারের গদি মালিকদের অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে পৌরসভাকে জানানো হবে। লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির চরে দায়িত্ব পালনের সময় জেলেদের পরিত্যক্ত জাল না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হবে। এরপরও কেউ শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং এসব জাল অপসারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৈকতে যাতে এ ধরনের বর্জ্য না ফেলা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হবে।

সমুদ্রভাঙনে উন্মুক্ত হয়ে পড়া শিকড় আর তাতে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল কুয়াকাটার উপকূলীয় বনাঞ্চলের নাজুক অবস্থারই জানান দিচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করা গেলে এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সীমানাপ্রাচীরের পাশের মাটি ধসে এ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠ সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের একাংশ এখনো অসম্পূর্ণ। প্রাচীরের পাশে বৃষ্টির পানির প্রবাহে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাঠে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটিও বেহাল। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল সরকার বলেন, ভবনের বড় কোনো সংকট না থাকলেও বিদ্যালয়ে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে সীমানাপ্রাচীরের পাশে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট করা হলে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শৌচাগারটিও ভগ্নদশায় রয়েছে। এর পাশাপাশি একমাত্র নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সংকটে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ইটালুকান্দা গ্রামের সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত মাঠ ভরাট এবং গাইডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাঠের গর্ত ভরাট, সীমানাপ্রাচীরের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ, নষ্ট নলকূপ মেরামত এবং শৌচাগার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বকেয়া বিল ও পুনর্বাসন জটিলতায় আটকে ছিল প্রকল্প, দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ

জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
বকেয়া বিল ও পুনর্বাসন জটিলতায় আটকে ছিল প্রকল্প, দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ

দীর্ঘদিনের ধীরগতি ও নানা জটিলতা কাটিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে গতি ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে।

পরিদর্শনকালে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন, ঠিকাদারের বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ ও উপসচিব আহসান সাদী পরিদর্শনে অংশ নেন। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, কারিগরি সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এখনো ১৪ থেকে ১৫টি পরিবার পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত সচিব আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব জটিলতা নিরসনের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেন।

সভায় প্রকল্পের নকশা ও কার্যপরিধি পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে আসে। ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অমরা রাজা ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধি ভেঙ্কটেশ প্রসাদ অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ৬২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর একতরফাভাবে বেশ কিছু কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় প্রকল্পের কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্ট্যাটিক ভিএআর জেনারেটর (এসভিজি) এবং দুই বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও বাদ দেওয়া হয়েছে। এসভিজি না থাকলে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরের ঘাটাইল উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া আরপিসিএলের বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সভায় জানানো হয়।

বিষয়গুলো শুনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছে, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ভারত সরকারের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় নেওয়া ঋণের অব্যবহৃত অর্থের ওপর প্রতি ছয় মাসে দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি এড়াতে দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরপিসিএল ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরুর অনুমতিও দিয়েছে।

পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে তারা পরিদর্শনে এসেছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের নিবিড় তদারকিতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগোবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে ১০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি