খুঁজুন
                               
, ,
           

বিনিয়োগে টাকা নেই, সংসারে ঋণের ভরসা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগে টাকা নেই, সংসারে ঋণের ভরসা

ব্যবসা-বিনিয়োগে ব্যাংকঋণের চাহিদা কমছে, অথচ বাড়ছে ভোক্তাঋণ। উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোক্তারা যেখানে নতুন ঋণ নিচ্ছেন না, সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এপ্রিল-জুন—এই তিন মাসেই ভোক্তাঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এতে স্পষ্ট হচ্ছে অর্থনীতির এক অস্বস্তিকর চিত্র—উৎপাদন ও বিনিয়োগে ঋণের গতি থমকে গেলেও সংসারের ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

  • বিনিয়োগে অনীহা, ব্যয় মেটাতে ঋণনির্ভরতা
  • ৯ মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা
  • বিনিয়োগে ব্যাংকঋণের চাহিদা দুর্বল

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ভোক্তাঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ কোটি। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এ ঋণ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র নয় মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।

মূল্যস্ফীতির চাপে ঋণের আশ্রয়
ভোক্তাঋণ বাড়ার অর্থ সবটাই বিলাসী ব্যয়—এমন নয়। বরং মূল্যস্ফীতির চাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতেই অনেক পরিবার ঋণ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ভোক্তাঋণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে, অনেক পরিবার বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করছে।

মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনের মতো খরচেও ঋণ নিতে হচ্ছে। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তাঋণের মধ্যে বাড়ি বা ফ্ল্যাট, গাড়ি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ক্রেডিট কার্ডসহ নানা ধরনের ঋণ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাস শেষে অনেক পরিবারের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকছে না। ফলে বড় ব্যয় তো বটেই, কিছু ক্ষেত্রে দৈনন্দিন প্রয়োজনও ঋণের মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে।

বিনিয়োগে থমকে গেছে ব্যাংকঋণ
ভোক্তাঋণের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে। মার্চ থেকে জুন—তিন মাসে শিল্প খাতে ব্যাংকঋণ বেড়েছে মাত্র ৫৫২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে শিল্পঋণের স্থিতি ছিল ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। জুনে তা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।

নির্মাণ খাতে একই সময়ে ঋণের স্থিতি কমেছে ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। পরিবহন খাতেও কমেছে ঋণ। অর্থাৎ উৎপাদন, অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত খাতে অর্থের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্প খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি না হওয়া উদ্বেগের বিষয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের সমাধান না হলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে যাবেন না। উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন ঋণের চাহিদাও বাড়বে না।

ব্যাংকের নজর এখন খুচরা ঋণে
বড় শিল্প ও করপোরেট ঋণের বাজারে স্থবিরতার মধ্যেই ব্যাংকগুলো ঝুঁকছে রিটেইল ব্যাংকিংয়ের দিকে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসানের মতে, বড় করপোরেট ঋণে খেলাপি বাড়ায় অনেক ব্যাংক ব্যবসার কৌশল বদলাচ্ছে। ছোট ঋণ ও ভোক্তাঋণে খেলাপির হার তুলনামূলক কম হওয়ায় এ খাতে আগ্রহ বাড়ছে।

অর্থাৎ ভোক্তাঋণের বাড়তি চাহিদার সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কৌশলেরও মিল তৈরি হয়েছে। একদিকে মানুষের ব্যক্তিগত ঋণের প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে বড় ঋণের ঝুঁকি এড়িয়ে ব্যাংকগুলো খুচরা ঋণের বাজারে বিস্তার চাইছে।

এর মধ্যেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে। ব্যবসা ও বিনিয়োগে ঋণের গতি যখন এতটা কম, তখন ভোক্তাঋণের দ্রুত বৃদ্ধি অর্থনীতির ভেতরের চাপের দিকটিও সামনে আনছে।

আজকের ঋণ, কালকের দায়
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষক হেলাল আহমেদ জনির মতে, ভোক্তাঋণ বৃদ্ধিকে শুধু ব্যাংকঋণের চাহিদা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে মানুষের আয় ও ব্যয়ের সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণনির্ভরতা বাড়লে ভবিষ্যতে পরিশোধের চাপও বাড়বে।

একই আশঙ্কা ড. মাসরুর রিয়াজেরও। তাঁর মতে, স্বল্প মেয়াদে ভোক্তাঋণ পরিবারের ব্যয় সামলাতে সহায়তা করলেও আয় একই হারে না বাড়লে তা ভবিষ্যতে পরিবারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি তাই ঋণের অঙ্কে নয়, ঋণের ব্যবহারে। শিল্পে নতুন বিনিয়োগের জন্য ৫৫২ কোটি টাকার ঋণ বাড়ার বিপরীতে তিন মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। একদিকে অর্থনীতি নতুন উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য ঋণ টানছে না, অন্যদিকে পরিবারগুলো বাড়তি ব্যয় সামলাতে ঋণ নিচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের এই ফারাক কমানো না গেলে আজকের ভোক্তাঋণই আগামী দিনের পারিবারিক আর্থিক চাপের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/টিই/এমকে

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে এনইসি ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন ৮টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে ২টি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এর একটি হলো টিবি, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার প্রকল্প। অন্যটি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প।

এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং ভাঙন রোধসংক্রান্ত দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা স্থাপন প্রকল্প, রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, র‍্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প রয়েছে অনুমোদনের তালিকায়।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এরই মধ্যে অনুমোদন দেওয়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে শিক্ষা অবকাঠামো, বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্প রয়েছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইবোলা সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কঙ্গোয় নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ইবোলা সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর কঙ্গোয় নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কঙ্গোর ক্ষমতাসীন দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের বুতেম্বো শহরে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার ক্ষমতাসীন দলের এক প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নেতার নাম মারি-সেলেস্তাঁ কারোন্দওয়া। তিনি বুতেম্বোতে ক্ষমতাসীন ইউডিপিএস দলের ফেডারেল নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইবোলা নিয়ে রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন

দলটির বুতেম্বো ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারোন্দওয়া ইবোলা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি ইবোলা প্রতিরোধে করণীয় এবং ভাইরাসটির ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলেন।

রেডিও অনুষ্ঠান শেষে নিজের এলাকার বাসিন্দাদের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

পরে কারোন্দওয়ার বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হামলার কারণ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই

কারোন্দওয়ার ওপর হামলায় কারা জড়িত ছিল, কতজন এতে অংশ নিয়েছিল এবং হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুতেম্বোর মেয়রের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কারোন্দওয়ার দল জানিয়েছে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব এবং রোগটি মানুষের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করছে, সে বিষয়ে তিনি শুধু দলের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।

ইবোলা মোকাবিলায় বাড়ছে বাধা

কারোন্দওয়াকে হত্যার ঘটনাটি ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা দলগুলোর ওপর হামলার সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। এসব হামলার মধ্য দিয়ে রোগ প্রতিরোধে সরকারি সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

উত্তর কিভুর কাছের বেনি এলাকায় শনিবারও একটি হাত ধোয়ার কেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালায়। স্থানীয় একটি নাগরিক সংগঠনের দাবি, ওই ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতা তৈরি, রোগ শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ ঠেকাতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এসব কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রকাশ করে আসছে। এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত অন্যান্য দলের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব

কঙ্গোয় বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয় গত ১৫ মে। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৮ হাজার ৬৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৯০১ জন।

উত্তর কিভুর বুতেম্বো ও আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম বেশি আক্রান্ত অঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনা ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

কারোন্দওয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইবোলা প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

নিম্নচাপ স্থলভাগে, সাগরে জেলেদের সতর্কতা

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
নিম্নচাপ স্থলভাগে, সাগরে জেলেদের সতর্কতা

মিয়ানমারের স্থলভাগে উঠে গেছে গভীর নিম্নচাপ। স্থলভাগে প্রবেশের পর এটি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে পারে।

তবে নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মিয়ানমারের স্থলভাগে নিম্নচাপ

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি কিয়াইকতো এলাকার কাছ দিয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করেছে। এরপর এটি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি মিয়ানমার ও তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। ওই সময় এর অবস্থান ছিল ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৬ দশমিক ০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে স্থলভাগে উঠে দুর্বল হলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে বৈরী আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলের পাশাপাশি সাগর এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিন নম্বর সতর্ক সংকেত

নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর এবং পূর্বমধ্য ও উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

গভীর সাগরে যেতে নিষেধাজ্ঞা

উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এসব নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলেদের সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি